শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

শান্তির কুমিল্লাকে অশান্ত করতে দেওয়া হবে না : এমপি বাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৩, ৫:১০ পিএম
শান্তির কুমিল্লাকে অশান্ত করতে দেওয়া হবে না : এমপি বাহার
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে ২৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ১৪ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। তিনি হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম নয়,বাঙালি জাতিরকে মুক্তি দিয়েছেন। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশের গড়াই ছিল বঙ্গবন্ধু লক্ষ্য। আমি বঙ্গবন্ধুর কর্মী, শেখ হাসিনার কর্মী। সামপ্রদায়িক চেতনা নিয়ে কেউ আওয়ামী লীগ করতে পারেন না। আমি বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র সবার,ধর্ম যার যার। দীর্য ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে কুমিল্লার মানুষের জন্য কাজ করেছি। গত ৪ অক্টোবর কুমিল্লা জেলা প্রশাসক পূজা উদযাপন নিয়ে একটি সভা ডেকেছিল। আমি সেই সভায় বলেছিলাম, মাদকমুক্ত পূজা চাই। মদ খেয়ে পূজা মণ্ডপে কেউ আসতে পারবে না। আমি মাদকমুক্ত শুধু পূজা নয়, সেদিন আমি আরও বলেছিলাম, আমি মাদকমুক্ত কুমিল্লা মহানগর গড়তে চাই। চাঁদাবাজমুক্ত কুমিল্লা গড়তে চাই। ইভটিজিং মুক্ত কুমিল্লা গড়তে চাই। সন্ত্রাসমুক্ত কুমিল্লা গড়তে চাই। মদ নিষিদ্ধ করার কথা বলায় নাকি হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। তারা বলছে আমি নাকি সাম্প্রদায়িক। যারা হিন্দু সম্পতি দখল করে খেয়েছে, শংকরের মাথা কেটে নিয়েছে তারা আজকে হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের সাথে মিলে কুমিল্লার নতুন করে চক্রান্তে নেমেছে। কোন রকম ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রবীর কে হত্যা করা হয়েছিল পূজা মণ্ডপে। তাই পূজা মণ্ডপের সম্মান রক্ষায় মদ মুক্ত পূজার কথা বলেছিলাম।

৫০ বছরের রাজনীতিতে অনেক জানাজার পাশাপাশি দাহতেও গিয়েছি। কুমিল্লার একজন মুসলমান মারা গেলে যেমন জানাযায় গিয়েছি। হিন্দুদের দাহতে গিয়েছি। সকল পূজায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করেছি। বাবরী মসজিদ নিয়ে যখন গন্ডগোল হয় সেদিন নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে মন্দির পাহারা দিয়েছি। টিক্কাচরে কবরস্থান ও শশ্মানের জায়গা নিয়ে সমস্যা ছিল তা সমাধান করে দিয়েছি। এমপি হওয়ার পর কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে টিক্কাচর শশ্মানের উন্নয়ন করেছি। ঠাকুরপাড়ায় শ্মশানে আমাকে গুলি করা হয়েছিল। যখন শ্যামল চন্দ্রের বাবা ননী চন্দ্রের রক্তের প্রয়োজন হয়েছিল আমার গায়ের রক্ত দিয়ে দিয়ে তাকে বাঁচিয়েছিলাম। মারা যাওয়ার পর তার লাশ কাঁধে নিয়ে শশ্মানে গিয়েছি। সেদিন হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের কাউকে দেখেনি। ১৩ তারিখ নাকি তারা কুমিল্লায় কর্মসূচি দিয়েছে। কুমিল্লার হিন্দুরা যদি কর্মসূচি পালন করেন কোন আপত্তি নেই। কিন্তু বাহির হইতে ভাড়া করে লোক আনলে প্রতিহত করা হবে। ছাড় দেওয়া হবে না। শান্তির কুমিল্লাকে অশান্ত করতে দেওয়া হবে না। কুমিল্লার হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ উপমহাদেশের নেতা মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি বিজড়িত অভয় আশ্রম বিক্রি করে দিতে ছেয়েছিল। আমি বাঁধা দেওয়ায় বিক্রি করতে পারেনি। তারাই আমার অংশবিশেষ বক্তব্য বিকৃত করে চক্রান্ত করছে।

গতকাল বুধবার (১১অক্টোবর) রাতে নগরীর শুভপুর ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত কুমিল্লা মহানগর ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার এমপি এসব কথা বলেন।

হাজী বাহার এমপি আরও বলেন,
শেখ হাসিনা আমাদের জাতির মাথা উঁচু করে দিয়েছেন। আমরা এখন আর মিসকিনের জাতি নয়। বরং যাদের কাছ থেকে আমরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি সেই পাকিস্তান আজ অকার্যকর মিশকিন জাতিতে পরিণত হয়েছে। সৌদি আরবের মানুষ এক সময় বাঙালীদের মিসকিন বলতো, আর এখন বলে সাদিক (বন্ধু)।

আমেরিকার ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আমরা আমেরিকা যাবোনা। আমাদের নেত্রী বলেছেন, আমাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। পৃথিবীর অনেক দেশ আছে, প্রয়োজনে আমরা আমেরিকা যাবোনা। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা পৃথিবীর প্রভাবশালী নেতা। শেখ হাসিনা যা বলেন তা করে দেখান। শেখ হাসিনা এদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে গরীব মানুষ থাকবেনা। তিনি চট্টগ্রামের মিরসরাই সীতাকুণ্ড বঙ্গবন্ধুর নামে ইপিজেড তৈরি করছেন যেখানে ৩০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তিনি ৫৫ লক্ষ অসহায় ভূমিহীন মানুষকে ঘর সহ জায়গা দিয়েছেন। সুবিধাবণ্চিত ১০ কোটি ৬১ লাখ মানুষ কে তিনি সরকারি সুবিধার আওতায় এনেছেন। ২ কোটি ৬৫ লাখ মানুষকে তিনি খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন।

ড. মোঃ ইউনুছ প্রসঙ্গে এমপি বাহার বলেন, দেশতে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এখন নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। শ্রমিকদের অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য আদালতে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। ১৯৭১ সালে তার কোন ভূমিকা ছিলোনা। করোনা মহামারির সময়েও তাকে দেশ ও জনগণের পাশে দাড়াতে বা ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। তিনি এদেশের টাকা বিদেশে পাচার করে দিয়েছেন। তার কর্মকাণ্ড বিতর্কিত। সেই সুদখোর ষড়যন্ত্র করছে।

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. তাহসিন বাহার সূচনা ও কৃষি ও সমবায় সম্পাদক সাদেকুর রহমান রানার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক সাবেক কাউন্সিল হাজী জাহাঙ্গীর আলমের এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু চিত্তরঞ্জন ভৌমিক।

সম্মেলনে সাবেক কাউন্সিলর হাজী জাহাঙ্গীর আলম কে সভাপতি ও কাজী হাসান ইমাম সাগরকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ৬৯ সদস্যের নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার এমপি। সম্মেলনে বিপুল সংখ্যা নারী সহ এলাকায় বিভিন্ন পেশার কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাতকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহত জান্নাতুল তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। জান্নাত নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

যেভাবে নির্জন এলাকায় নেওয়ার অভিযোগ

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন জান্নাত। চালক সুমন মিয়ার সঙ্গে ৩০০ টাকায় ভাড়া ঠিক হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাপথে জান্নাত চালককে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনেন। পরে সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক তাঁকে নির্ধারিত পথ থেকে অন্যদিকে নিয়ে যান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে একটি নির্জন এলাকায় পৌঁছান সুমন।

সেখানে অটোরিকশা থামানোর পর জান্নাত জায়গাটি সম্পর্কে জানতে চান। এটি বাসায় ফেরার পথ নয় বুঝতে পেরে তিনি ভয় পেয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ জানায়, এ সময় জান্নাতকে আটকে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থের চেষ্টা করা হলে তিনি চিৎকার করেন। পরে অভিযুক্ত তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জান্নাত দুর্বল হয়ে পড়েন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ পুলিশের

 

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জান্নাতকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।

তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

 

আইফোন নিয়ে পালানোর অভিযোগ

Oplus_131072

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘটনার পর জান্নাতের হাতব্যাগ থেকে তাঁর ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন অভিযুক্ত। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন তিনি।

এরপর ভাড়ায় চালিত আরেকটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান বলে পুলিশের ভাষ্য।

 

চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার, উদ্ধার আইফোন

 

পুলিশ জানায়, ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে জান্নাতের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুমিল্লায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মামলার তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

Oplus_131072

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত, নাকি অন্য কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সুমন গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তার চলাচলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে ওই শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাকে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরে সড়কের দিকে চলে যাওয়ার পর আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে মেয়ে তাকে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

একটি মসজিদ, অসংখ্য স্মৃতি, আর দীর্ঘ ৩২ বছরের এক আত্মিক বন্ধন—বিদায়বেলায় আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আঃ রব সাহেব। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কণ্ঠে আজান, নামাজে ইমামতি, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি মসজিদপ্রাঙ্গণে রেখে গেল এক আবেগঘন অধ্যায়।

তাঁর দীর্ঘদিনের সেবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আয়োজন করা হয় বিদায়ী সংবর্ধনার। এ সময় একই সঙ্গে থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের নতুন ইমাম হিসেবে মাওলানা সাইফুল ইসলামকে বরণ করে নেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ, মার্কেট ও মাদ্রাসা উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিউর রহমান রাজিব, কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আব্দুস সালাম মাসুক, সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান রাব্বু, কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্য এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।

দীর্ঘ ৩২ বছরের ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে মাওলানা আঃ রব সাহেবের বিদায় কেবল একজন ইমামের বিদায় নয়; এটি একটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে সাময়িক বিচ্ছেদের মুহূর্ত। তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতি স্থানীয় মুসল্লিদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

অন্যদিকে, নতুন ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলামের আগমনে মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত মুসল্লি ও কমিটির সদস্যরা। বিদায়ী ইমামের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নতুন ইমামের দায়িত্ব পালনে মহান আল্লাহর রহমত ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

×