সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

শান্তির কুমিল্লাকে অশান্ত করতে দেওয়া হবে না : এমপি বাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৩, ৫:১০ পিএম
শান্তির কুমিল্লাকে অশান্ত করতে দেওয়া হবে না : এমপি বাহার
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে ২৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ১৪ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। তিনি হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম নয়,বাঙালি জাতিরকে মুক্তি দিয়েছেন। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশের গড়াই ছিল বঙ্গবন্ধু লক্ষ্য। আমি বঙ্গবন্ধুর কর্মী, শেখ হাসিনার কর্মী। সামপ্রদায়িক চেতনা নিয়ে কেউ আওয়ামী লীগ করতে পারেন না। আমি বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র সবার,ধর্ম যার যার। দীর্য ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে দলমত ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে কুমিল্লার মানুষের জন্য কাজ করেছি। গত ৪ অক্টোবর কুমিল্লা জেলা প্রশাসক পূজা উদযাপন নিয়ে একটি সভা ডেকেছিল। আমি সেই সভায় বলেছিলাম, মাদকমুক্ত পূজা চাই। মদ খেয়ে পূজা মণ্ডপে কেউ আসতে পারবে না। আমি মাদকমুক্ত শুধু পূজা নয়, সেদিন আমি আরও বলেছিলাম, আমি মাদকমুক্ত কুমিল্লা মহানগর গড়তে চাই। চাঁদাবাজমুক্ত কুমিল্লা গড়তে চাই। ইভটিজিং মুক্ত কুমিল্লা গড়তে চাই। সন্ত্রাসমুক্ত কুমিল্লা গড়তে চাই। মদ নিষিদ্ধ করার কথা বলায় নাকি হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। তারা বলছে আমি নাকি সাম্প্রদায়িক। যারা হিন্দু সম্পতি দখল করে খেয়েছে, শংকরের মাথা কেটে নিয়েছে তারা আজকে হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের সাথে মিলে কুমিল্লার নতুন করে চক্রান্তে নেমেছে। কোন রকম ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রবীর কে হত্যা করা হয়েছিল পূজা মণ্ডপে। তাই পূজা মণ্ডপের সম্মান রক্ষায় মদ মুক্ত পূজার কথা বলেছিলাম।

৫০ বছরের রাজনীতিতে অনেক জানাজার পাশাপাশি দাহতেও গিয়েছি। কুমিল্লার একজন মুসলমান মারা গেলে যেমন জানাযায় গিয়েছি। হিন্দুদের দাহতে গিয়েছি। সকল পূজায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করেছি। বাবরী মসজিদ নিয়ে যখন গন্ডগোল হয় সেদিন নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে মন্দির পাহারা দিয়েছি। টিক্কাচরে কবরস্থান ও শশ্মানের জায়গা নিয়ে সমস্যা ছিল তা সমাধান করে দিয়েছি। এমপি হওয়ার পর কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে টিক্কাচর শশ্মানের উন্নয়ন করেছি। ঠাকুরপাড়ায় শ্মশানে আমাকে গুলি করা হয়েছিল। যখন শ্যামল চন্দ্রের বাবা ননী চন্দ্রের রক্তের প্রয়োজন হয়েছিল আমার গায়ের রক্ত দিয়ে দিয়ে তাকে বাঁচিয়েছিলাম। মারা যাওয়ার পর তার লাশ কাঁধে নিয়ে শশ্মানে গিয়েছি। সেদিন হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের কাউকে দেখেনি। ১৩ তারিখ নাকি তারা কুমিল্লায় কর্মসূচি দিয়েছে। কুমিল্লার হিন্দুরা যদি কর্মসূচি পালন করেন কোন আপত্তি নেই। কিন্তু বাহির হইতে ভাড়া করে লোক আনলে প্রতিহত করা হবে। ছাড় দেওয়া হবে না। শান্তির কুমিল্লাকে অশান্ত করতে দেওয়া হবে না। কুমিল্লার হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ উপমহাদেশের নেতা মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি বিজড়িত অভয় আশ্রম বিক্রি করে দিতে ছেয়েছিল। আমি বাঁধা দেওয়ায় বিক্রি করতে পারেনি। তারাই আমার অংশবিশেষ বক্তব্য বিকৃত করে চক্রান্ত করছে।

গতকাল বুধবার (১১অক্টোবর) রাতে নগরীর শুভপুর ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত কুমিল্লা মহানগর ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার এমপি এসব কথা বলেন।

হাজী বাহার এমপি আরও বলেন,
শেখ হাসিনা আমাদের জাতির মাথা উঁচু করে দিয়েছেন। আমরা এখন আর মিসকিনের জাতি নয়। বরং যাদের কাছ থেকে আমরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি সেই পাকিস্তান আজ অকার্যকর মিশকিন জাতিতে পরিণত হয়েছে। সৌদি আরবের মানুষ এক সময় বাঙালীদের মিসকিন বলতো, আর এখন বলে সাদিক (বন্ধু)।

আমেরিকার ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আমরা আমেরিকা যাবোনা। আমাদের নেত্রী বলেছেন, আমাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। পৃথিবীর অনেক দেশ আছে, প্রয়োজনে আমরা আমেরিকা যাবোনা। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা পৃথিবীর প্রভাবশালী নেতা। শেখ হাসিনা যা বলেন তা করে দেখান। শেখ হাসিনা এদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে গরীব মানুষ থাকবেনা। তিনি চট্টগ্রামের মিরসরাই সীতাকুণ্ড বঙ্গবন্ধুর নামে ইপিজেড তৈরি করছেন যেখানে ৩০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তিনি ৫৫ লক্ষ অসহায় ভূমিহীন মানুষকে ঘর সহ জায়গা দিয়েছেন। সুবিধাবণ্চিত ১০ কোটি ৬১ লাখ মানুষ কে তিনি সরকারি সুবিধার আওতায় এনেছেন। ২ কোটি ৬৫ লাখ মানুষকে তিনি খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন।

ড. মোঃ ইউনুছ প্রসঙ্গে এমপি বাহার বলেন, দেশতে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এখন নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। শ্রমিকদের অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য আদালতে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। ১৯৭১ সালে তার কোন ভূমিকা ছিলোনা। করোনা মহামারির সময়েও তাকে দেশ ও জনগণের পাশে দাড়াতে বা ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। তিনি এদেশের টাকা বিদেশে পাচার করে দিয়েছেন। তার কর্মকাণ্ড বিতর্কিত। সেই সুদখোর ষড়যন্ত্র করছে।

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. তাহসিন বাহার সূচনা ও কৃষি ও সমবায় সম্পাদক সাদেকুর রহমান রানার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক সাবেক কাউন্সিল হাজী জাহাঙ্গীর আলমের এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু চিত্তরঞ্জন ভৌমিক।

সম্মেলনে সাবেক কাউন্সিলর হাজী জাহাঙ্গীর আলম কে সভাপতি ও কাজী হাসান ইমাম সাগরকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ৬৯ সদস্যের নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার এমপি। সম্মেলনে বিপুল সংখ্যা নারী সহ এলাকায় বিভিন্ন পেশার কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

×