সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

শীর্ষপদ ভাগিয়ে নিতে লবিং-তদবিরে ব্যস্ত ডজনখানিক নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৩, ১:৫৪ পিএম
শীর্ষপদ ভাগিয়ে নিতে লবিং-তদবিরে ব্যস্ত ডজনখানিক নেতা
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

বিতর্কিতরা এগিয়ে

আছেন মামলার আসামী, বহিষ্কৃত, বয়স উত্তীর্ণ নেতা

কুবি ছাত্রলীগের কমিটি

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখার কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চলছে শেষ সময়ের লবিং-তদবির। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের শীর্ষপদ দু’টি পদ ভাগিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বয়স উত্তীর্ণ, হত্যা মামলার আসামী, অনিয়মিত ছাত্র, বহিষ্কৃতসহ নানা বির্তকে জড়িত ডজনখানিক ছাত্রলীগ নেতা। এদিকে যাচাই বাছাই করেই কমিটি গঠন করার কথা জানান কেন্দ্রীয় নেতারা।
জানা গেছে, গত ৬ মার্চ কুবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির পর গত ৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়, এতে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর জীবনবৃত্তান্ত নেওয়া হয়। যেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি দেওয়ার কথা জাননো হয়। এরমধ্যে শীর্ষপদ দু’টিতে জায়গা করে নিতে ডজনের বেশী নেতা ক্যাম্পাস ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের দেখা পেতে তাদের বাসা ও হলের গেইট, মধুর ক্যান্টিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, টিএসসিসহ বিভিন্ন স্থানে অপেক্ষা করছেন তারা। এদিকে বহুদিন পর কুবি কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগ কর্মী উচ্ছ্বাস থাকলে শঙ্কা জাগছে বির্তকিতদের এগিয়ে থাকা নিয়ে। এছাড়া কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারাও ক্যাম্পাসকে দখলে রাখতে সমর্থন দিচ্ছে ছাত্রনেতাদের। এতে প্রশ্ন উঠেছে শীর্ষপদে আসছেন স্থানীয়রাই?
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সভাপতি পদপ্রার্থী রেজা-ই-এলাহীর (২০১৭ সালে বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক) বিরুদ্ধে বয়স উত্তীর্ণ হওয়া, ছাত্রত্ব না থাকা, ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যা মামলার অভিযোগ থাকলেও তিনি এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে ২০১৬ সালে স্নাতক পাস করে, শিক্ষাগত সনদ অনুযায়ী বর্তমান বয়স ৩১। তার বিরুদ্ধে ২০২০ সালে বরুড়ায় এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা, ভাঙচুর, জালিয়াতির একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৬ সালে পহেলা আগস্ট কাজী নজরুল ইসলাম হলের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ হত্যা মামলারও এজাহারভুক্ত আসামি রেজা। এছাড়াও তিনি সাংবাদিক হেনস্তাসহ নানা বির্তকে জড়িয়েছেন। তবে শুরু থেকে বিষয়গুলো অস্বীকার করে আসছেন রেজা-এলাহী। বয়স না থাকাসহ অন্যান্য অভিযোগ কেন্দ্র বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি।
শীর্ষপদপ্রার্থী স্বজন বরণ বিশ্বাস খালেদ সাইফুল্লাহ হত্যার চার্জশিটভুক্ত আসামি। এছাড়া ২০১৮ সালে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি নিয়মিত ছাত্রও নয়। আরেক পদপ্রত্যাশী আবু সাদাৎ মো. সায়েম রাজাকারের নাতি বলে অভিযোগ উঠেছে। সায়েম বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের আব্দুল জাব্বারের নাতি। জাব্বার মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর হয়ে কাজ করেছেন ও শান্তি বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে সায়েমের দাবি তার দাদা রাজাকার ছিলেন কিনা তিনি জানেন না। তিনি নিজেও রাজাকার পরিবারের কেউ নেতৃত্বে আসুক সেটা চান না।
এদিকে পদপ্রত্যাশী মেজবাউল হক শান্ত ও ইসরাত জাহান জেরিনের বিরুদ্ধে বিয়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে দাবি ইসরাত জাহানের। তিনি বলেন, এই বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কেন বা কারা এ ধরনের ভ্রান্ত গুজব ছড়ায় আমার জানা নাই। মনগড়া কথা বলে আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা হচ্ছে। এদিকে আরেক পদপ্রত্যাশী এনায়েত উল্ল্যাহর বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় একটি মামলার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, ২০১৪ সালে দুই গ্রামের মারামারিকে কেন্দ্র একটি মামলা হয় সেখানে আমার নাম দেওয়া হয়। আমি তখন দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। এখন সেটিকে নিয়ে কারা রাজনৈতিক মেরুকরণ করছে আমি জানি না, এটি ভিত্তিহীন একটি অভিযোগ। এছাড়া এনায়েত ও আরেক পদপ্রত্যাশী সালমান চৌধুরীকে প্রক্টরিয়াল বডির কর্তব্য পালনে বাধা, শিক্ষককে হেনস্তা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আরেক শীর্ষ পদপ্রত্যাশী নাজমুল হাসান পলাশের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। ইকবাল খান, রকিবুল হাসান রকি, মেহেদী হাসান হৃদয়, ইমরান হোসাইন কেউই নিয়মিত ছাত্র না হলেও শীর্ষপদপ্রত্যাশী। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এরমধ্যে রকিবুল ইসলাম, ইমরান হোসাইন সন্ধ্যাকালীন কোর্সে ভর্তি রয়েছেন।
এছাড়া ইকবাল খান কুবি ছাত্রলীগের সাথে কখনো সম্পৃক্ত ছিলেন না। তবে তার পিতা ফজল খান কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। জানা গেছে তার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত। গেল বছরের ১ অক্টোবর ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এবিষয়ে কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মীর সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তারা বলেন, যারা ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল করবে না এবং শিক্ষার সঠিক পরিবেশ বজায় রাখতে পারবে তারাই নেতৃত্বে আসুক। নেতৃত্বে তারাই আসুক যারা আওয়ামী পরিবারের সন্তান এবং জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনার জন্য কাজ করতে পারবে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় হোক বাইরের হোক যোগ্য ও দক্ষরাই কমিটিতে আসুক, সেটাই প্রত্যাশা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু ইউনুছ বলেন, কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সাংগঠনিক যে প্রক্রিয়াগুলো রয়েছে ইতিমধ্যে আমরা সেগুলো সম্পন্ন করেছি। আমরা কর্মীসভা করেছি এবং জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেছি। সেগুলো যাচাই বাছাই করে, দ্রুত সময়ের মধ্যে কুবি শিক্ষার্থীরা যে ধরণের নেতৃত্ব চায় সেভাবে কমিটি গঠন করা হবে।
কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কোহিনূর আকতার রাখি বলেন, আমরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মীসভা করেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথেও কথা বলেছি। যারা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখবে এবং শেখ হাসিনার জন্য কাজ করবে তারাই নেতৃত্বে আসবে। তিনি আরও বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি হয়ে যাবে, নির্বাচনের আগে কমিটি হওয়ার সম্ভবনা বেশী।
কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

×