শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৩, ৭:৪৩ এএম
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

দেবীদ্বারে ইফতার বিতরণ নিয়ে সংঘর্ষের ২০ জন আহত

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ইফতার বিতরণ নিয়ে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।

আর এ ঘটনায় আহতদের ছবি তুলতে হাসপাতালে গেলে দেবীদ্বার সদরের মৃত: আবুল হোসেন চেয়ারম্যানের ছেলে বাবুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা কালবেলা ও দৈনিক কুমিল্লার কাগজের সাংবাদিক শাহীন আলমের উপর হামলা চালিয়ে তাকে মারাত্মকভাবে আহত করে। এ সময় দৈনিক বাংলার আলোড়ন পত্রিকার আরেক সাংবাদিকও হামলায় আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৭ এপ্রিল) দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি দক্ষিণ পাড়ার ‘বায়তুল আমান জামে মসজিদ’র ইফতার বিতরণকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে।

কালবেলার স্থানীয় প্রতিনিধি ও দৈনিক কুমিল্লার কাগজের স্টাফ রিপোটার শাহীন আলমকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়েছে।

অপরদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা আহতদের উপর পুনরায় হামলার দৃশ্য ভিডিও ধারন করতে গেলে আব্দুল আলীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়, পরে ওই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেবীদ্বারের ‘বায়তুল আমান জামে মসজিদ’র ইফতার বিতরণকালে ইফতার কম পড়ায় বাচ্চু মিয়ার ছেলে দুলাল (৩৫) ভিংলাবাড়ি গ্রামের শাহআলম মিয়ার ছেলে বাবু (১০) কে মারধর করেন। ওই ঘটনায় মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ শাহ আলম হামলার শিকার বাবুকে মারধর করার ঘটনায় মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলামের কাছে তার ভাতিজা দুলালের বিচার দাবী করেন। তাজুল ইসলাম মাগরিবের নামাজ শেষে ঘটনার বিচার করার আশ্বাস দেন। নামাজ শেষে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম, মসজিদের কোষাধ্যক্ষ শাহ আলম, তাহের মিয়ার ছেলে সম্রাটসহ মসজিদের বাইরে অন্যান্য মুসুল্লিদের নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এসময় মারামারির সংবাদ পেয়ে শহিদ মিয়ার ছেলে হাবিবুল্লাহ একটি লাঠি নিয়ে এসে আচমকা পেছন দিক থেকে মসজিদের কোষাধ্যক্ষ মো. শাহআলমের মাথায় আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, তাকে উদ্ধার করতে আসা তাহের মিয়ার ছেলে সম্রাট (১৮)’র মাথায় আঘাত করে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারিতে আরো বেশ কিছু লোকজন আহত হন। শাহআলম, সম্রাট, নুরুল ইসলাম, দুলাল, আহতদের দ্রুত দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসা করান।

এ সময় চিকিৎসকের একটি স্লিপ নিয়ে শাহ আলমের ছেলে সাগর (২৪) ও হাসান (১৭) বাইরে থেকে ঔষধ আনতে যাওয়ার সময় হাসপাতাল গেইটে ভিংলাবাড়ি গ্রামের ছাত্রলীগ ২ নং ওয়ার্ড সহ-সভাপতি হাসান (১৮)’র নেতুত্বে দেবীদ্বার সদরের কিছু ছেলে তাদের উপর হামলা চালায়। এসময় পুরো এলাকা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রাণভয়ে লোকজন নিরাপদে আশ্রয় নেয়। ঘটনার তথ্য সংগ্রহে যাওয়া আব্দুল আলীম মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারন করতে গেলে তাকে দৌড়ে আটকে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। পরে পুলিশ আসার সংবাদে মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে চলে যায়। এসময় সংবাদ পেয়ে কালবেলা ও দৈনিক কুমিল্লার কাগজের স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক শাহীন আলম সংবাদ সংগ্রহে ঘটনাস্থলে আসলে বাবু ও হাসানের নেতৃত্বে শাহীনকে বেধরক পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে।

ঘটনার পর সাংবাদিক শাহীন আলম, আব্দুল কাদের’র ছেলে শাহ আলম (৫০), আবু তাহের’র ছেলে সম্রাট (১৮), বাচ্চু মিয়ার ছেলে দুলালসহ ৪ জনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অপর এক আহত আবু তাহের’র ছেলে সেলিম (৩৫) কে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বাকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে বাড়ি চলে যায়। সাংবাদিক শাহীন আলমের মাথার সিটি স্কেন করা হয়েছে। তিনি বমি করছিলেন।

এ ব্যপারে ‘বায়তুল আমান জামে মসজিদ’ কমিটির সাধারন সম্পাদক ও এশিয়ান টিভি দেবীদ্বার প্রতিনিধি নেছার উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, হামলার ঘটনা শুনেছি, আমি মুরাদনগর একটি ইফতার মাহফিলে থাকায় ঘটনাস্থল পুলিশ পাঠাই। অপরদিকে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোনে বিস্তারিত জানালে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শুনেছি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এব্যাপারে সোমবার রাত সোয়া ১১টায় দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ কমল কৃষ্ণ ধর জানান, আমি নোয়াখালীতে স্বাক্ষ্য দিয়ে দেবীদ্বারের উদ্দেশ্যে আসতেছি। তবে শোনেছি ইফতার বিতরণ নিয়ে মারামারি হয়েছে দেবীদ্বার সদরের মৃত: আবুল হোসেন চেয়ারম্যানের ছেলে বাবু সাংবাদিক শাহীন আলমের উপর হামলা করেছে। অপরাধী যেই হোক আইনের আওতায় আনতে আমি ওসি তদন্তকে নির্দেশ দিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাতকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহত জান্নাতুল তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। জান্নাত নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

যেভাবে নির্জন এলাকায় নেওয়ার অভিযোগ

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন জান্নাত। চালক সুমন মিয়ার সঙ্গে ৩০০ টাকায় ভাড়া ঠিক হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাপথে জান্নাত চালককে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনেন। পরে সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক তাঁকে নির্ধারিত পথ থেকে অন্যদিকে নিয়ে যান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে একটি নির্জন এলাকায় পৌঁছান সুমন।

সেখানে অটোরিকশা থামানোর পর জান্নাত জায়গাটি সম্পর্কে জানতে চান। এটি বাসায় ফেরার পথ নয় বুঝতে পেরে তিনি ভয় পেয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ জানায়, এ সময় জান্নাতকে আটকে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থের চেষ্টা করা হলে তিনি চিৎকার করেন। পরে অভিযুক্ত তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জান্নাত দুর্বল হয়ে পড়েন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ পুলিশের

 

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জান্নাতকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।

তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

 

আইফোন নিয়ে পালানোর অভিযোগ

Oplus_131072

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘটনার পর জান্নাতের হাতব্যাগ থেকে তাঁর ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন অভিযুক্ত। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন তিনি।

এরপর ভাড়ায় চালিত আরেকটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান বলে পুলিশের ভাষ্য।

 

চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার, উদ্ধার আইফোন

 

পুলিশ জানায়, ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে জান্নাতের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুমিল্লায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মামলার তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

Oplus_131072

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত, নাকি অন্য কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সুমন গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তার চলাচলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে ওই শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাকে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরে সড়কের দিকে চলে যাওয়ার পর আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে মেয়ে তাকে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

একটি মসজিদ, অসংখ্য স্মৃতি, আর দীর্ঘ ৩২ বছরের এক আত্মিক বন্ধন—বিদায়বেলায় আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আঃ রব সাহেব। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কণ্ঠে আজান, নামাজে ইমামতি, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি মসজিদপ্রাঙ্গণে রেখে গেল এক আবেগঘন অধ্যায়।

তাঁর দীর্ঘদিনের সেবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আয়োজন করা হয় বিদায়ী সংবর্ধনার। এ সময় একই সঙ্গে থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের নতুন ইমাম হিসেবে মাওলানা সাইফুল ইসলামকে বরণ করে নেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ, মার্কেট ও মাদ্রাসা উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিউর রহমান রাজিব, কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আব্দুস সালাম মাসুক, সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান রাব্বু, কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্য এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।

দীর্ঘ ৩২ বছরের ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে মাওলানা আঃ রব সাহেবের বিদায় কেবল একজন ইমামের বিদায় নয়; এটি একটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে সাময়িক বিচ্ছেদের মুহূর্ত। তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতি স্থানীয় মুসল্লিদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

অন্যদিকে, নতুন ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলামের আগমনে মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত মুসল্লি ও কমিটির সদস্যরা। বিদায়ী ইমামের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নতুন ইমামের দায়িত্ব পালনে মহান আল্লাহর রহমত ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

×