মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

হোমনায় ট্রান্সফরমার চুরি: স্থানীয়দের হাতে চোর আটক, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

তানভীর ইসলাম আলিফ, হোমনা প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:৩২ পিএম
হোমনায় ট্রান্সফরমার চুরি: স্থানীয়দের হাতে চোর আটক, তদন্তে নেমেছে পুলিশ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

 

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–৩ এর একটি ১৫ কেভিএ ট্রান্সফরমার চুরির সময় স্থানীয়রা মোঃ এনামুল হক ইতি (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছে। পরে পল্লী বিদ্যুৎ হোমনা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মৃণাল কান্তি চৌধুরী বাদী হয়ে হোমনা থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৭ নভেম্বর রাত ২টা ৩০ মিনিটে ফতেরকান্দি গ্রামে রাস্তার পাশ থেকে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার অজ্ঞাত একদল ব্যক্তি খুলে নিচ্ছে—এমন খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এসময় এনামুল হক ইতিকে চুরি করা ট্রান্সফরমারসহ আটক করা হয়, তবে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে জোনাল অফিসের লাইন টেকনিশিয়ান বেলাল হোসেন ও জসিম সরকার ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রান্সফরমারটি উদ্ধার করেন। ট্রান্সফরমারের সিরিয়াল নম্বর ২০১৬-১৫-১৫৬৯৭-টি.ভি এবং আনুমানিক মূল্য ৮৪ হাজার ৯৪১ টাকা বলে নিশ্চিত করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে এনামুল হক ইতি চুরির বিষয়টি স্বীকার করলেও তার সহযোগীদের পরিচয় প্রকাশ করেননি। আটক হওয়ার সময় ধস্তাধস্তিতে তিনি সামান্য আহত হলে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হোমনা থানার ওসি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় মূল চোরকে হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হয়েছি। তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। সহযোগীদের শনাক্ত ও চক্রটি গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মৃণাল কান্তি চৌধুরী বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষায় স্থানীয়দের ভূমিকা প্রশংসনীয়। গত এক মাসে পাঁচটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে—এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন, জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

মনোহরগঞ্জ ইউএনও’র সঙ্গে উন্নয়ন ফোরামের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষা

ইমরান হোসেন, মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৭ পিএম
মনোহরগঞ্জ ইউএনও’র সঙ্গে উন্নয়ন ফোরামের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষা

CIP জসীমউদ্দীন উন্নয়ন ফোরামের প্রেসিডেন্টের নির্দেশে মনোহরগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত জাহানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উন্নয়ন ফোরামের নেতৃবৃন্দ সংগঠনের বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তারা বলেন, উন্নয়ন ফোরাম একটি অলাভজনক ও মানবিক সংগঠন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজের অসহায়, হতদরিদ্র, নিম্নআয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই উন্নয়ন ফোরামের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি কিংবা যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে সংগঠনটি কাজ করছে।

তারা আরও বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে CIP জসীমউদ্দীন উন্নয়ন ফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছে। অসহায় মানুষের সহায়তা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবীরা ভূমিকা রেখে আসছেন।

নেতৃবৃন্দ জানান, করোনাকালীন (কোভিড-১৯) সংকটের সময়ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। অনেক নিম্নআয়ের ও অসহায় পরিবার কর্মহীন হয়ে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে পড়ে। ওই সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সহযোগিতা করা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উন্নয়ন ফোরামও মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে সংকটাপন্ন মানুষের পাশে থাকার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ যখন চরম দুর্ভোগ ও অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েন, তখন উন্নয়ন ফোরামের পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হয়। বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে খাদ্য, ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে থাকার সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, শুধু দুর্যোগের সময় নয়, স্বাভাবিক সময়েও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সচেতনতা, মানবিক সহায়তা এবং অসহায় মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উন্নয়ন ফোরামের নেতৃবৃন্দ মনোহরগঞ্জের সার্বিক সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও মানবিক কার্যক্রমে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামের সহ-সভাপতি প্রফেসর আশরাফুজ্জামান মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের, প্রচার ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মিজি, দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাফি, শ্রম ও কর্মসংস্থান সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ আলম এবং আনোয়ার হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

দৈনিক ইনকিলাবের সাংবাদিক মুন্সি কামাল আতাতুর্ক মিশেল আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৬ এএম
দৈনিক ইনকিলাবের সাংবাদিক মুন্সি কামাল আতাতুর্ক মিশেল আর নেই

Oplus_131072

দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সাংবাদিক মুন্সি কামাল আতাতুর্ক মিশেল আর নেই। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে ঢাকার ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে স্ট্রোকজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুম মুন্সি কামাল আতাতুর্ক মিশেলের জানাজা নামাজ বাদ আছর তাঁর নিজ বাড়ি ইলিয়টগঞ্জ বাজারে অনুষ্ঠিত হবে।

তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজ ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত মুন্সি কামাল আতাতুর্ক মিশেলের মৃত্যুতে তাঁর সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বজনরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

 

দৈনিক কুমিল্লার ডাক পরিবারের শোক

সাংবাদিক মুন্সি কামাল আতাতুর্ক মিশেলের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে দৈনিক কুমিল্লার ডাক পরিবার।

 

এক শোকবার্তায় দৈনিক কুমিল্লার ডাকের সম্পাদক ও প্রকাশক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় বলা হয়, একজন সাংবাদিক ও সহকর্মী হিসেবে মুন্সি কামাল আতাতুর্ক মিশেলের মৃত্যু সাংবাদিকতা অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি। মহান আল্লাহ তাঁর জীবনের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন—আমিন।

ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

কুমিল্লায় ‘রোহিঙ্গাকে’ জন্মনিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগে নতুন মোড়, অনুসন্ধানে মিলল ভিন্ন তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪০ এএম
কুমিল্লায় ‘রোহিঙ্গাকে’ জন্মনিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগে নতুন মোড়, অনুসন্ধানে মিলল ভিন্ন তথ্য

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। জন্মনিবন্ধন নিয়ে তদন্ত হওয়া তিন ব্যক্তি—মুবিনা খাতুন, হাফিছা ও সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ—রোহিঙ্গা নন; তারা জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি ও তাদের স্বজনরা।

 

এ ঘটনায় একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হলেও অনুসন্ধানে ওই প্রতিবেদনটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে ওই তিন ব্যক্তির ইউনিয়নে স্থায়ী বসবাসের তথ্য না পাওয়ায় তৎকালীন ইউপি সচিব মো. নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, ফতেহাবাদ ইউনিয়ন থেকে জন্মনিবন্ধন নেওয়া ওই তিন ব্যক্তিকে রোহিঙ্গা হিসেবে প্রচারের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক—এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

 

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মুবিনা খাতুন, হাফিছা ও সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ ছাড়াও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি বয়স বা নাম সংশোধনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু হেনা সিদ্দিকী ইশমাম, জুনাইরা আফরিন আঁখি, নূর মামিন ও মাজেদ।

 

মুবিনা খাতুনের জন্মনিবন্ধন সনদে তার স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজারের টেকনাফ সদর উল্লেখ রয়েছে। তার জন্মনিবন্ধন নম্বর ১৯৭৮১৯১৪০৪৭১৩০১০১। বাবার মৃত্যু সনদে তাকে শনাক্ত করা না গেলেও তার মায়ের ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, মা নুরজাহান বেগম কক্সবাজার সদর উপজেলার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা।

মুবিনা খাতুনের মা নুরজাহান বেগম বলেন, তার সাবেক স্বামী আবুল কাশেম অনেক বছর আগে মারা গেছেন। তার মেয়ে মুবিনাও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তিনি দাবি করেন, তারা মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নন। তার জন্ম কক্সবাজার সদরে এবং তার বাবা, ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশের নাগরিক। মুবিনাও জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক।

অন্যদিকে, হাফিছার জন্মনিবন্ধন সনদে তার স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড উল্লেখ রয়েছে। তার জন্মনিবন্ধন নম্বর ২০০৫১৯১৪০৪৭১৩০১২। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন এবং সেখানেই বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।

 

ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল আমিন কাজল বলেন, হাফিছা, আবু হেনা সিদ্দিকী ইশমাম ও জুনাইরা আফরিন আঁখি তার প্রতিবেশী এবং তারা তার ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা। চেয়ারম্যান না থাকায় এলাকায় সাধারণ নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে অন্য এলাকা থেকে নাগরিক সনদ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে সমস্যার সমাধান করছেন।

 

তৃতীয় ব্যক্তি সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদের জন্মনিবন্ধন সনদে তার স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পোয়ানক ইউনিয়নের রছুয়ারগুনা গ্রাম উল্লেখ রয়েছে। তার জন্মনিবন্ধন নম্বর ১৯৯৮১৯১৪০৪৭১৩০১০৫। বর্তমানে তিনি আবুধাবিতে প্রবাসে রয়েছেন।

 

সাইমুনের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, তার ছেলে বর্তমানে আবুধাবিতে থাকেন। জরুরি প্রয়োজনে ডিজিটাল জন্মসনদের প্রয়োজন হওয়ায় পরিচিত একজনের মাধ্যমে তিনি জন্মসনদ তৈরি করেন। তাদের পরিবার মিয়ানমারের নাগরিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, তাদের পূর্বপুরুষরা জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক।

 

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নতুন করে জন্মনিবন্ধন নেওয়া অনেকের নিজ নিজ এলাকায় আগের জন্মনিবন্ধন থাকলেও বয়স সংশোধনসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় দালালের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে নতুন জন্মনিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও তাদের জন্মনিবন্ধন তৈরি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল সেন্টারের সাবেক উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান রাজিব তাকে জিম্মি করে জোরপূর্বক কাজ করিয়ে নিতেন। তিনি ছুটিতে থাকা অবস্থায় রাজিব নাগরিকদের সমস্যার কথা বলে বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে OTP নিয়ে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের জন্মসনদ দিয়েছেন, যা পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি আইন অনুযায়ী দায়ীদের শাস্তির দাবি করেন।

 

সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করলেও জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পান ২০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে। অথচ আলোচিত জন্মনিবন্ধনগুলো তৈরি হয়েছে ৪ জানুয়ারি ২০২৫। অর্থাৎ তিনি ইউজার এক্সেস পাওয়ার আগেই সনদগুলো তৈরি করা হয়েছে। কারা, কীভাবে এবং কোন আইডি ব্যবহার করে এসব জন্মনিবন্ধন তৈরি করেছে, তা তার জানা নেই।

 

এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইস্যু করা জন্মনিবন্ধন সনদ কোনো রোহিঙ্গাকে দেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্ত চলছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×