থানা, রাজনীতি, আদালত—সব জায়গায় প্রভাব! কে রক্ষা করছে ভুয়া ডিবি বিল্লালকে?
Oplus_0
কুমিল্লাসহ সারাদেশে দীর্ঘ তিন দশক ধরে পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি ডিবির সোর্স হিসেবে পরিচিত মোঃ দুলাল মিয়া সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা মোঃ সফিকুর রহমানের পুত্র। যিনি মূলত ‘বিল্লাল’ নামে কুখ্যাত। নিজেকে কখনো ডিবি অফিসার, কখনো এসআই, আবার কখনো রাজনৈতিক দলের নেতার ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী প্রতারণা-চক্র।
অসহায় মানুষদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মাদক কিংবা অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। রয়েছে একাধিক মাদক ও প্রতারণার মামলা। তবে প্রতিটি মামলার পরও রহস্যজনকভাবে থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতারণার অভিযোগে বিভিন্ন সময় জনরোষের মুখে গণধোলাইয়ের শিকারও হয়েছেন তিনি। তারপরও তাঁর ‘পাবলিক কানেকশন’ এতটাই শক্তিশালী যে, কেউ মুখ খুললেই তাকে সারাদেশব্যাপী মামলার আসামি করার হুমকি দেন এই প্রতারক।
রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধাও ছিল তাঁর প্রতারণার ঢাল। বিএনপি সরকারের সময় নিজেকে বিএনপির কর্মী দাবি করলেও, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার পর নিজেকে উপস্থাপন করেন লোটাস কামালের অনুসারী হিসেবে। এমনকি শহরে তিনি পরিচিত ছিলেন এমপি বাহারের আশীর্বাদপুষ্ট হিসেবে। স্থানীয় রাজনীতিক কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ সহিদের আত্মীয়তার দাবিও ব্যবহার করেছেন রাজনৈতিক ছত্রছায়া নিশ্চিত করতে।
সর্বশেষ সোমবার (২৩ জুন), কুমিল্লা জেলা জজকোর্টের বার সভাপতি অ্যাডভোকেট শহিদুল্লাহ প্রতারক বিল্লালকে আদালত চত্বরে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তাঁকে কোর্ট ইন্সপেক্টর সাদেকুর রহমানের জিম্মায় দেওয়া হয়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে কিছুক্ষণের মধ্যে বিল্লাল ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কোর্ট ইন্সপেক্টরকে ‘ম্যানেজ’ করেই পালিয়ে যান।
এই খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গণমাধ্যমকর্মীরা যোগাযোগ করলে শুরুতে বিল্লাল পুলিশের হেফাজতেই ছিলেন বলে জানানো হয়, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই নিশ্চিত হওয়া যায় প্রতারক পালিয়েছেন!
জনসাধারণ প্রশ্ন তুলছে: দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে যাওয়া এই ব্যক্তির পেছনে কারা আছেন? প্রশাসনের ছায়া বা রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া কি একজন প্রতারকের পক্ষে এমন দুঃসাহসী অপকর্ম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব?
















