মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

চৌদ্দগ্রামে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কিশোর গ্যাং এর হামলায় আহত ২

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৮ এএম
চৌদ্দগ্রামে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কিশোর গ্যাং এর হামলায় আহত ২
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক সেবন ও অপরাধমূলক কর্মকান্ডে বাধা দেওয়ায় কিশোর গ্যাং এর হামলায় মো. মোস্তফা (৬৫) এবং শাহআলম (৫০) নামের দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের নোয়াগ্রাম সওদাগর বাড়িতে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি মো. মোস্তফা বাদী হয়ে স্থানীয় মো. আলীর ছেলে মো. কাইয়ুম (২২), মীর হোসেনের ছেলে মো. নাঈম (২৪) এবং একই এলাকার মৃত আনা মিয়ার ছেলে মো. আলীর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনের নামে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের নোয়াগ্রামের সওদাগর বাড়ির অভ্যন্তরের একটি পুকুর পাড়ে দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্য মো. কাইয়ুম এর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধভাবে মাদক সেবন, কেরাম খেলা সহ উচ্চ শব্দে অশালীন গান-বাজনা বাজিয়ে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে আসছে। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ করায় তারা আশেপাশের বাড়ির লোকজনকে দেখে নেওয়ার হুমকি-ধমকি অব্যাহত রাখে। ঘটনার দিন গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত অনুমান সাড়ে এগারোটায় প্রধান অভিযুক্ত কাইয়ুম তার অপর বন্ধুদের নিয়ে মাদক সেবন করা সহ উচ্চ শব্দে অশালীন গান-বাজনা চালিয়ে আশেপাশের মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে তাদেরকে কয়েকবার নিষেধ করলেও তারা গান-বাজনা বন্ধ না করায় ওই বাড়ীর মুরুব্বি মোস্তফা ও অন্যান্য লোকজন তাদেরকে পুনরায় বাধা-নিষেধ করেন। এ সময় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দেশিয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে মোস্তফা ও তার ভাই শাহআলমের উপর হামলা করে। হামলায় মোস্তফা ও শাহআলমের মাথায় রক্তাক্ত জখম সহ তারা উভয়ে গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক আশেপাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা কৌশলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শাহআলম এর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখনো তিনি সেখানে চিকিৎসাধিন রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে চরম শঙ্কা। অবিলম্বে অভিযুক্ত মো. কাইয়ুম সহ অপরাপর অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগির পরিবার সহ সচেতন এলাকাবাসী। এক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) পুলিশি হয়রানি আতঙ্কে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় নবী নেওয়াজসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।
মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

পদত্যাগের খবর অসত্য’—যা বললেন ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ পিএম
পদত্যাগের খবর অসত্য’—যা বললেন ইশরাক

Oplus_131072

ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশের খবর, ভেরিফায়েড পেজে প্রতিবাদ প্রতিমন্ত্রীর

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন খবর প্রকাশ করেছে কয়েকটি গণমাধ্যম। তবে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পদত্যাগসংক্রান্ত খবরকে অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে এ নিয়ে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত আজকের পত্রিকা ও বার্তা২৪.কম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। আজকের পত্রিকা সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করে। তবে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করে।

অন্যদিকে, ইশরাক হোসেন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে পদত্যাগসংক্রান্ত খবরকে সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন এবং তাঁকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযানের সময় তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এবং আজকের পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযানের সময় অস্ত্র প্রদর্শন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধাওয়া এবং তাঁদের আটকের দৃশ্য উঠে আসে। এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, একজন প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের অভিযানে অংশ নেওয়া এবং অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে চলাচলের আইনগত দিক কী।

আত্মরক্ষার কথা বললেন ইশরাক

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, অভিযানের সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার জন্য অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়দের অভিযোগ এবং আগে থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কয়েকটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ এবং ছয়জন সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকটি গণমাধ্যম ঘটনার খণ্ডিত দৃশ্য ও তথ্য প্রকাশ করে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে তুলে ধরেনি। তাঁর মতে, এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন।

অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ

এদিকে, অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার ও আজকের পত্রিকা-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

অর্থাৎ, অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তদন্তের তথ্য প্রকাশিত হলেও পদত্যাগের নির্দেশসংক্রান্ত খবরের পক্ষে কোনো প্রকাশ্য সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

পদত্যাগের খবরের সত্যতা নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

১৮ অক্টোবর প্রকাশিত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনের কয়েকটিতে নাম প্রকাশ না করা সরকারি সূত্রের বরাত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ইশরাক হোসেনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ খবর অস্বীকার করা হয়েছে।

এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঘোষণা কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

সুতরাং, ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন সংবাদ প্রকাশিত হলেও নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত সরকারি তথ্য দিয়ে এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও পুলিশের তদন্তের তথ্য বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান জরুরি।

হাজীগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টার, বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৪ পিএম
হাজীগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টার, বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের পোস্টারিং এবং রাজনৈতিক প্রচারণা ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশ থেকে অর্থ পাঠিয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও সরকারবিরোধী তৎপরতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগপন্থী ব্যক্তিদের পোস্টারিং ও রাজনৈতিক প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও বৈদ্যুতিক খুঁটিতে পোস্টার লাগানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

Oplus_131072

স্থানীয়দের কয়েকজনের দাবি, এসব পোস্টারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী আড়ালে থেকে এসব তৎপরতা পরিচালনা করছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন নেতার কাছ থেকে অর্থ আসছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম চালাতে তা ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে অর্থ লেনদেনের এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে বালিয়া এলাকার মোতালেব হোসেন ও মেহেদী হাসান তন্ময়ের নাম উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে আসা অর্থ বিতরণ ও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রাখার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোতালেব হোসেন ও মেহেদী হাসান তন্ময়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ না করায় তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

হাজীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাউসার আলম ভূঁইয়া বলেন, নাশকতা ঠেকাতে পুলিশের বিশেষ দল মাঠে কাজ করছে। কারা এসব পোস্টার লাগিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পোস্টারিংয়ের ঘটনা এবং অর্থায়ন ও সরকারবিরোধী তৎপরতার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

×