হাজীগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পোস্টার, বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের পোস্টারিং এবং রাজনৈতিক প্রচারণা ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশ থেকে অর্থ পাঠিয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও সরকারবিরোধী তৎপরতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগপন্থী ব্যক্তিদের পোস্টারিং ও রাজনৈতিক প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও বৈদ্যুতিক খুঁটিতে পোস্টার লাগানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের কয়েকজনের দাবি, এসব পোস্টারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী আড়ালে থেকে এসব তৎপরতা পরিচালনা করছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন নেতার কাছ থেকে অর্থ আসছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম চালাতে তা ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে অর্থ লেনদেনের এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে বালিয়া এলাকার মোতালেব হোসেন ও মেহেদী হাসান তন্ময়ের নাম উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে আসা অর্থ বিতরণ ও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রাখার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোতালেব হোসেন ও মেহেদী হাসান তন্ময়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ না করায় তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হাজীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাউসার আলম ভূঁইয়া বলেন, নাশকতা ঠেকাতে পুলিশের বিশেষ দল মাঠে কাজ করছে। কারা এসব পোস্টার লাগিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পোস্টারিংয়ের ঘটনা এবং অর্থায়ন ও সরকারবিরোধী তৎপরতার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।














