শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

চান্দিনায় বসতবাড়ির চলাচলের পথ আটকে বাঁশের বেড়া, অবরুদ্ধ পরিবার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম
চান্দিনায় বসতবাড়ির চলাচলের পথ আটকে বাঁশের বেড়া, অবরুদ্ধ পরিবার
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার চান্দিনায় বসতবাড়ির উঠান ও যাতায়াতের মূল পথ আটকে বাঁশের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাহীন মৈশান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে একটি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। চলাচলের পথ বন্ধের প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের মাইজখার গ্রামের মৈশান বাড়িতে। ভুক্তভোগী মোহন মৈশান মৃত কোরবান আলীর ছেলে। অভিযুক্ত শাহীন মৈশান একই এলাকার শামছুল হকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মোহন মৈশানদের দুই ভাই ও পাঁচ বোনের নামে মোট ৯০ শতাংশ পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। কয়েক বছর আগে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে জমি বণ্টন করা হয়। ওই সময় মোহনের ভাই মতিন মৈশান নিজের ও এক বোনের অংশসহ ৩০ শতাংশ জমি মেপে বুঝে নেন। পরে তিনি ওই জমি শাহীন মৈশানের কাছে বিক্রি করেন।

পরিবারটির দাবি, জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ ও দখল বুঝে নেওয়ার পর কয়েক বছর কোনো সমস্যা হয়নি। সম্প্রতি শাহীন দাবি করেন, বিক্রেতা মতিন মৈশানের কাছ থেকে তিনি আরও জমি পাওনা রয়েছেন। তবে সেই জমি দাবি করতে গিয়ে তিনি মোহন মৈশানের বসতভিটার অংশে বাঁশের বেড়া দিয়ে দেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, মোহনের দুটি বসতঘরের মাঝের উঠান ও যাতায়াতের প্রধান পথে বাঁশের বেড়া দেওয়ায় ঘর থেকে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে পরিবারটি নিজ বাড়িতেই কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী মোহন মৈশান বলেন, “শাহীন আমার ভাই মতিনের কাছ থেকে জমি কিনে মেপে বুঝে নিয়েছিলেন। এখন কয়েক বছর পর এসে গায়ের জোরে আমার বসতবাড়ির সীমানায় ঢুকে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। আমার বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকারকে ঘর ছেড়ে চলে যেতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে । আমরা এখন নিজ বাড়িতেই বন্দি জীবন কাটাচ্ছি।”
পূর্বে জোরপূর্বক ভাবে আমার বাড়ির কেয়ারটেকারের বাথরুম ভেঙ্গে ফেলে এবং পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে যায়।
মোহনের দুই বোন জাহানারা ও হোসনেয়ারা বেগম বলেন, “মতিনের জমি মেপে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মতিনের সঙ্গে শাহীনের জমি নিয়ে কোনো হিসাব বাকি থাকলে তিনি মতিনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। কিন্তু তা না করে আমাদের বাড়ির যাতায়াতের পথ আটকে বেড়া দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক ও আবুল কালাম জানান, সালিশি বৈঠকে সবার উপস্থিতিতে সীমানা মেপে শাহীনকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি সন্তুষ্ট হয়েই জমি বুঝে নেন। এখন মতিনের কাছে জমি পাওনার অজুহাত দেখিয়ে মোহনের জায়গা দখল করা এবং পথ বন্ধ করা সম্পূর্ণ অন্যায়।

বাড়ির কেয়ারটেকার নাছিমা বেগম বলেন, “গত তিন দিন ধরে আমি এই ঘরে অবরুদ্ধ। ঘরের দরজা খুললেই বাঁশের বেড়া। আমাকেও বারবার ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহীন মৈশান। তিনি বলেন, “আমি ২৬ শতাংশ জমি কিনেছি। আরও ৪ শতাংশের ওপর দিয়ে গ্যাসলাইন যাওয়ায় তা কিনিনি, তবে মতিন আমাকে ভোগ করতে বলেছেন। কিন্তু আমি এখনো ২৬ শতাংশ জমি পুরোপুরি বুঝে পাইনি। মতিন আমাকে জানিয়েছেন, উত্তরের দিকে আমার জমি পাওনা আছে। সে হিসাব অনুযায়ী মোহনের দিকেই আমার জায়গা রয়ে গেছে। তাই আমি বেড়া দিয়েছি। ঝামেলা মিটমাট না হওয়া পর্যন্ত বেড়া সরবে না।”

এদিকে খবর পেয়ে চান্দিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রিয়াজ উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেয়। এসআই মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মূল বিক্রেতা মতিন মৈশানকে ডেকে এনে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

তবে পুলিশের উপস্থিতির পরও বাঁশের বেড়া না সরানোয় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি এবং চলাচলের পথ উন্মুক্ত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চাইলে (ইউনো) জানান ঘটনাটি আমরা শুনেছি লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

Oplus_131072

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত, নাকি অন্য কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সুমন গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তার চলাচলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে ওই শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাকে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরে সড়কের দিকে চলে যাওয়ার পর আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে মেয়ে তাকে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

একটি মসজিদ, অসংখ্য স্মৃতি, আর দীর্ঘ ৩২ বছরের এক আত্মিক বন্ধন—বিদায়বেলায় আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আঃ রব সাহেব। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কণ্ঠে আজান, নামাজে ইমামতি, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি মসজিদপ্রাঙ্গণে রেখে গেল এক আবেগঘন অধ্যায়।

তাঁর দীর্ঘদিনের সেবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আয়োজন করা হয় বিদায়ী সংবর্ধনার। এ সময় একই সঙ্গে থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের নতুন ইমাম হিসেবে মাওলানা সাইফুল ইসলামকে বরণ করে নেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ, মার্কেট ও মাদ্রাসা উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিউর রহমান রাজিব, কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আব্দুস সালাম মাসুক, সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান রাব্বু, কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্য এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।

দীর্ঘ ৩২ বছরের ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে মাওলানা আঃ রব সাহেবের বিদায় কেবল একজন ইমামের বিদায় নয়; এটি একটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে সাময়িক বিচ্ছেদের মুহূর্ত। তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতি স্থানীয় মুসল্লিদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

অন্যদিকে, নতুন ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলামের আগমনে মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত মুসল্লি ও কমিটির সদস্যরা। বিদায়ী ইমামের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নতুন ইমামের দায়িত্ব পালনে মহান আল্লাহর রহমত ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

নানিকে দেখতে এসে সড়কে মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেলেন আরমান

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
নানিকে দেখতে এসে সড়কে মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেলেন আরমান

নানিকে দেখতে সুদূর সিলেট থেকে কুমিল্লার দেবিদ্বারে এসেছিলেন ২৪ বছর বয়সী আরমান হোসেন। ট্রেন থেকে নেমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে রওনা হয়েছিলেন নানাবাড়ির উদ্দেশে। কিন্তু প্রিয় নানির কাছে পৌঁছানো হলো না তাঁর। গন্তব্যে যাওয়ার আগেই দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় সড়কে ঝরে গেল তরুণ এই প্রাণ। নাতির মরদেহের পাশে বসে ৭০ বছর বয়সী নানি রাবেয়া খাতুনের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে দুর্ঘটনাস্থলের পরিবেশ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন অটো ব্রিকস ফিল্ডের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জগামী যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে কুমিল্লামুখী একটি দ্রুতগতির ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি সড়কে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আরমান। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকও আহত হন।

নিহত আরমান হোসেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের ফখরুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন মোটরসাইকেল মেকানিক। তাঁর নানাবাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি গ্রামে।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, স্বামী ও ছেলেকে হারানোর পর দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় নাতি আরমানই ছিলেন বৃদ্ধা রাবেয়া খাতুনের প্রধান ভরসা। নানির ভরণপোষণের দায়িত্বও পালন করতেন তিনি। নাতিকে হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন ৭০ বছর বয়সী এই নারী।

আরমানের পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর তিন বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে, নাম আরিয়ান। স্ত্রী স্বপ্না সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, ছোট সন্তান ও অনাগত শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

এদিকে দুর্ঘটনার পর কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে সকাল ১০টার দিকে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে আরমানের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নানিকে দেখতে এসে আরমানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবারের স্বজনদের মধ্যে। পেছনে রয়ে গেলেন অসহায় নানি, স্ত্রী, ছোট্ট সন্তান ও পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় থাকা আরেকটি প্রাণ।

×