শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান হার বৃদ্ধি করতে পারলেই জাতিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব-ফয়েজ আহমাদ তৈয়্যব

ইমরান হোসেন, মনোহরগঞ্জ: প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:১৯ পিএম
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান হার বৃদ্ধি করতে পারলেই জাতিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব-ফয়েজ আহমাদ তৈয়্যব
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে
আত্মকর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মাঝে সেলাই মেশিন ও অটোরিকশা বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (২৭নভেম্বর)সকাল ১০টায় মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমাদ তৈয়্যব।
এসময় তিনি বলেন, মনোহরগঞ্জ উপজেলা একটি পিছিয়ে পড়া উপজেলা।আমরা ক্রমান্বয়ে সকল দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছি।আর এ এগিয়ে যাওয়ার মিশনকে আরো গতিশীল করতে সরকারের পাশাপাশি মনোহরগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামের আভির্ভাব।
তিনি বলেন –শিক্ষা ও কর্মসংস্থান হার বৃদ্ধি করতে পারলেই দেশ এবং জাতিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। মানুষের কল্যাণ ও সমাজ সেবায় মনোহরগঞ্জ উন্নয়ন ফোরাম ইতিপূর্বে সুখ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। কাতার প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী উদ্যোক্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সিআইপি এর যোগ্য নেতৃত্বে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবীদের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে মনোহরগঞ্জ উন্নয়ন ফোরাম এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন- আমাদের সন্তানদের শিক্ষা ও নৈতিকতা শিখাতে হবে। পাশাপাশি তাদেরকে কর্মমূখী শিক্ষার দিকে দাবিত করতে হবে। বিদেশ গামীদের দক্ষ করে পাঠাতে হবে। কেননা দিনদিন কায়িক শ্রমের পরিসর কমে যাচ্ছে।
তিনি বলেন-বাল্য বিবাহ থেকে মেয়েদের বিরত রাখতে হবে। বাল্য বিবাহের কারনে মেয়েরা পুষ্টি সংকটসহ নানা সমস্যায় ভুগছে।পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরু টলারেন্সে থাকতে হবে।স্ব স্ব এলাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে হবে।

মনোহরগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সিআইপি এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা জজকোর্ট আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১এর পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মুহাম্মদ বদিউল আলম সুজন,চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড.মঞ্জুর মোরশেদ, মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)শাহিনুর ইসলাম, র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের উপ-পরিচালক হুমায়ুন কবির, সুরক্ষা সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামান ভুট্টু, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আশ্রাফুজ্জামান মোল্লা, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক ডাইরেক্টর আবদুল খালেক মোল্লা,বাংলাদেশ নির্বাচন সংস্কার কমিটির সদস্য সাদিক আর রহমান, কুমিল্লা টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড.আবুল কাশেম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম,বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিধ মাওলানা আবদুজ জাহের,মনোহরগঞ্জ ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জিন্নত আলী,মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল মতিন প্রমুখ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন  মনোহরগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামের সহ সভাপতি শওকত হোসেন বিপ্লব,সহ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান শামীম,সাধারণ সম্পাদক মাইন উদ্দিন সোহাগ,নির্বাহী সদস্য এইচ এম আরিফুর রহমান প্রমুখ।
পরে আত্মকর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২শত জনের মাঝে সেলাই মেশিন এবং ৫জনের মাঝে অটোরিকশা তুলে দেওয়া হয়।

ইউএনওর খামখেয়ালিপনায় রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধার!

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ এএম
ইউএনওর খামখেয়ালিপনায় রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধার!

Oplus_131072

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় রাষ্ট্রীয় সম্মান বা গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের (৭৮) দাফন সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষীপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আব্দুস সাত্তারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই তার দাফন সম্পন্ন হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ঢাকায় ছেলের বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আব্দুস সাত্তার। সেখানে প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মহালক্ষীপাড়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে ৫টা পেরিয়ে যায়।

এ ঘটনায় আক্ষেপ প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের ভাই শাহজাহান বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম আমার ভাইকে শেষ সম্মানটুকু জানিয়ে চিরবিদায় দিতে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। আমরা আজ লজ্জিত, যে মানুষটি ৯ মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করল, সে তার প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেল না।”

স্থানীয় আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিষয়টি বেদনাদায়ক। সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া না গেলেও অন্তত প্রশাসনের লোক এসে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে যেতে পারত। কিন্তু তাও করা হয়নি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সহযোদ্ধার এমন অমর্যাদা সহ্য করার মতো নয়।”

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের জন্য তারা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের জানান, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়ার নিয়ম নেই।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, “আমরা গার্ড অব অনারের জন্য পুরো এক পিকআপ পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পুলিশ লাইন থেকেও বিউগলের সুর বাজানোর জন্য দল এসেছিল। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত না থাকায় পুলিশ একা গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। তবে আমরা জানাজায় অংশ নিয়েছি।”

অন্যদিকে, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নী ইসলাম বলেন, “সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া হয় না। তারপরও আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু ঢাকা থেকে লাশ আনা নিয়ে দ্বিধা ছিল। মাগরিবের পর কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, তাই দেওয়া সম্ভব হয়নি।”

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে প্রশাসন ও পুলিশের প্রস্তুতি থাকার কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত কেন গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হলো না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

হোমনায় চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন পেতে মকবুল হোসেনের গণসংযোগ

মোঃ তারিকুল ইসলাম (তারেক)। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
হোমনায় চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন পেতে মকবুল হোসেনের গণসংযোগ

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ২নং ঘাগুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির দলীয় সমর্থন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. মকবুল হোসেন গণসংযোগ শুরু করেছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তিনি গণসংযোগ শুরু করেন। এ সময় শতাধিক অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে তাঁর সমর্থকরা প্রচারণায় অংশ নেন। ছাদখোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে এলাকাবাসীর উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। সড়কের দুই পাশে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ তাঁকে অভিবাদন জানান।

পরে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মকবুল হোসেন। এ সময় তাঁর সমর্থকদের বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের ভালোবাসার প্রাণপুরুষ মরহুম আবদুল মতিন চেয়ারম্যানের যোগ্য সন্তানকে আমরা বিজয়ী করব।’

মকবুল হোসেন হোমনার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম আবদুল মতিনের ছেলে। বাবার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচিতিকে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইউনিয়নবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানান তাঁর সমর্থকরা।

গণসংযোগকালে মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার বাবার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার মর্যাদা রক্ষায় আমাদের পরিবার সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে। মানুষের ভালোবাসা নিয়েই আমরা বেঁচে আছি। এই ভালোবাসার মূল্য আজীবন দিয়ে যেতে চাই। আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের সমর্থন।’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। হোমনা-তিতাসের সংসদ সদস্যের হাতকে শক্তিশালী করে এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করে মকবুল হোসেন বলেন, দলের নেতাকর্মী ও তৃণমূলের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে বিএনপি তাঁকে চেয়ারম্যান পদে সমর্থন দেবে বলে তিনি আশাবাদী।

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১১ পিএম
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বিষয়ে তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বলেছেন, নানা আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসেননি। তবে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে ভারত থেকে তাঁকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে দুই দেশের আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।

শেখ হাসিনা জানান, দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, কারাবাসসহ বিভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা সম্পর্কে তিনি অবগত। তারপরও দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। ৫ নভেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান, তাঁকে সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার মাধ্যমে দেশে আনার পরিকল্পনা সরকারের নেই। বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের আদেশ রয়েছে। এ কারণে প্রচলিত আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

অন্যদিকে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলার কথা জানানো হয়েছে। তবে তাঁকে কবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। শেখ হাসিনা ওই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর ঘোষিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরা সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করছে তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আইনি পরিস্থিতির ওপর।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

×