শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

কুমিল্লা সিটি

জজকোর্ট রোডে ড্রেন দখল করে সড়ক সংকোচনের অভিযোগ, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:০০ পিএম
জজকোর্ট রোডে ড্রেন দখল করে সড়ক সংকোচনের অভিযোগ, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ জজকোর্ট রোডে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ড্রেন ও সড়কের জায়গা দখল করে চলাচলের পথ সংকুচিত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্নের পাশাপাশি পথচারী ও যাত্রীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, জজকোর্ট রোডের গায়ক আসিফ আকবরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ড্রেনের জায়গা ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত ব্যবহারের আওতায় নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে ড্রেনের ওপর জায়গা ব্যবহার করা হলেও পরবর্তীতে স্থাপনা ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের অংশ সড়কের দিকে সম্প্রসারিত হওয়ায় মূল সড়কের চলাচলযোগ্য অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে সড়কের প্রায় ১২ ফুট জায়গা দখলের কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে জজকোর্ট রোড কুমিল্লার অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলা থেকে প্রতিদিন বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অসংখ্য মানুষ মামলা পরিচালনা ও আদালতের বিভিন্ন কাজে এই সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হওয়ায় যানজট ও জনদুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ড্রেন ও সড়কের জায়গা ব্যক্তিগত ব্যবহারে চলে যাওয়ার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো? সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ১২২ অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের কোনো রাস্তা, নর্দমা, ভূমি, বাড়ি, গলি বা পার্কে করপোরেশনের অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে পদার্পণ করা নিষিদ্ধ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের অবৈধ দখল বা ব্যবহার করলে করপোরেশন নোটিশ দিয়ে তা বন্ধের নির্দেশ দিতে পারে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

এ ছাড়া একই আইনে নগরীর রাস্তা, নর্দমা ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ও ক্ষমতার বিধান রয়েছে। ফলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত, ড্রেন, সড়কের জায়গা কিংবা সরকারি জমি দখল করে ব্যক্তিগত স্থাপনা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে ধীরে ধীরে সড়কের স্বাভাবিক প্রশস্ততা কমে যাচ্ছে এবং নগরবাসীর চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে।

তাদের দাবি, জজকোর্ট রোডের বিষয়টি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে সিটি করপোরেশনের ড্রেন ও সড়কের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী দখলমুক্ত করে সড়কের স্বাভাবিক প্রশস্ততা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নিরাপদ যানবাহন ও পথচারী চলাচল নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্থানীয়রা আরও বলেন, কুমিল্লার ১৭টি উপজেলা থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ আদালতের কাজে এই এলাকায় আসেন। তাই জজকোর্ট রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কোনো ধরনের দখল বা অবৈধ স্থাপনা শুধু স্থানীয় মানুষের সমস্যা নয়; এটি বৃহত্তর জনস্বার্থ ও নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা আরও গুরুতর জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে গায়ক আসিফ আকবর এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

Oplus_131072

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত, নাকি অন্য কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সুমন গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তার চলাচলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে ওই শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাকে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরে সড়কের দিকে চলে যাওয়ার পর আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে মেয়ে তাকে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

একটি মসজিদ, অসংখ্য স্মৃতি, আর দীর্ঘ ৩২ বছরের এক আত্মিক বন্ধন—বিদায়বেলায় আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আঃ রব সাহেব। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কণ্ঠে আজান, নামাজে ইমামতি, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি মসজিদপ্রাঙ্গণে রেখে গেল এক আবেগঘন অধ্যায়।

তাঁর দীর্ঘদিনের সেবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আয়োজন করা হয় বিদায়ী সংবর্ধনার। এ সময় একই সঙ্গে থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের নতুন ইমাম হিসেবে মাওলানা সাইফুল ইসলামকে বরণ করে নেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ, মার্কেট ও মাদ্রাসা উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিউর রহমান রাজিব, কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আব্দুস সালাম মাসুক, সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান রাব্বু, কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্য এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।

দীর্ঘ ৩২ বছরের ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে মাওলানা আঃ রব সাহেবের বিদায় কেবল একজন ইমামের বিদায় নয়; এটি একটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে সাময়িক বিচ্ছেদের মুহূর্ত। তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতি স্থানীয় মুসল্লিদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

অন্যদিকে, নতুন ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলামের আগমনে মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত মুসল্লি ও কমিটির সদস্যরা। বিদায়ী ইমামের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নতুন ইমামের দায়িত্ব পালনে মহান আল্লাহর রহমত ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

নানিকে দেখতে এসে সড়কে মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেলেন আরমান

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
নানিকে দেখতে এসে সড়কে মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেলেন আরমান

নানিকে দেখতে সুদূর সিলেট থেকে কুমিল্লার দেবিদ্বারে এসেছিলেন ২৪ বছর বয়সী আরমান হোসেন। ট্রেন থেকে নেমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে রওনা হয়েছিলেন নানাবাড়ির উদ্দেশে। কিন্তু প্রিয় নানির কাছে পৌঁছানো হলো না তাঁর। গন্তব্যে যাওয়ার আগেই দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় সড়কে ঝরে গেল তরুণ এই প্রাণ। নাতির মরদেহের পাশে বসে ৭০ বছর বয়সী নানি রাবেয়া খাতুনের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে দুর্ঘটনাস্থলের পরিবেশ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন অটো ব্রিকস ফিল্ডের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জগামী যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে কুমিল্লামুখী একটি দ্রুতগতির ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি সড়কে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আরমান। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকও আহত হন।

নিহত আরমান হোসেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের ফখরুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন মোটরসাইকেল মেকানিক। তাঁর নানাবাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি গ্রামে।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, স্বামী ও ছেলেকে হারানোর পর দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় নাতি আরমানই ছিলেন বৃদ্ধা রাবেয়া খাতুনের প্রধান ভরসা। নানির ভরণপোষণের দায়িত্বও পালন করতেন তিনি। নাতিকে হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন ৭০ বছর বয়সী এই নারী।

আরমানের পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর তিন বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে, নাম আরিয়ান। স্ত্রী স্বপ্না সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, ছোট সন্তান ও অনাগত শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

এদিকে দুর্ঘটনার পর কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে সকাল ১০টার দিকে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে আরমানের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নানিকে দেখতে এসে আরমানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবারের স্বজনদের মধ্যে। পেছনে রয়ে গেলেন অসহায় নানি, স্ত্রী, ছোট্ট সন্তান ও পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় থাকা আরেকটি প্রাণ।

×