লাঙ্গলকোট পৌর আ’লীগের সভাপতি রাজাকার পুত্র কালু হতাশ নেতা-কর্মীরা
কানে দিয়েছি তুলো, পিঠে বেঁধেছি কুলো- তোরা যতো পারিস কিলো!
নাঙ্গলকোটে আত্ম স্বীকৃত রাজাকার পুত্র উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন কালু নব-নির্বাচিত পৌরসভার সভাপতি হওয়ায় আওয়ামী পরিবারের মাঝে তুমুল তুলকালাম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, নাঙ্গলকোটের আওয়ামী পরিবার দীর্ঘদিন একটি অনুপ্রবেশকারী চক্রের কাছে জিম্মি। কোন ভাবেই সেই কুলোচিত থাবা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না দলটি। কখনো ইউনিয়ন, কখনো উপজেলা, কখনো পৌরসভায় চক্রটি সক্রিয়। তার অন্যতম শামসুদ্দিন কালু। তার বাবা যে রাজাকার ছিলেন, তা আর বলার অবকাশ রাখে না, সেটা কালু নিজ মুখেই স্বীকার করেছে। আত্ম স্বীকৃত রাজাকার পুত্র উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন কালুকে বিভিন্ন পদ-পদবী থাকা স্বর্তেও পুনরায় পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি করা খুবই দুঃখজনক।
যদিও দলীয় নিয়মনীতি অনুযায়ী কোন অনুপ্রবেশকারী কিংবা রাজাকার পুত্র পদ-পদবী পাবে না, কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে দীর্ঘ লেখালেখির পরেও কালুর পদ বহাল থাকে। শুধু তাই নয়, নিত্যনতুন পুরুষ্কার হিসেবে পাচ্ছে বিভিন্ন পদ-পদবী।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের জের ধরে তৃণমূল নেতাকর্মীসহ দীর্ঘ অনুসন্ধানে আমরা জানতে পারি কে এই শামসুদ্দিন কালু? কি ছিলো তার পরিচয় কিবা বর্তমান!
যুদ্ধাপরাধীর সন্তান কালু আওয়ামী লীগের কাঁধে চড়ে অনেক সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন !
১৯৮১ সালে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি’র রাজনীতি শুরু করেই সামসুদ্দিন কালু নাঙ্গলকোট উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
করেছেন স্বৈরাচারী ভিত্তিক রাজনীতি। আওয়ামী পরিবারের নেতাকর্মী হত্যার নীলনকশা অঙ্কিত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এরশাদের পতনের পর বিএনপি’তে যোগ দিতে ছেয়েছিলো, কিন্তু সুবিধা করতে পারেনি। ফলে জাতীয় পার্টিতেই রয়ে গেছেন।
১৯৯৭ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। নানা রকম কৌশল অবলম্বন করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই তিনি আওয়ামী লীগের কাঁধে চড়েই দলের দোহাইয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
নির্বাচিত হয়ে পদের দোহাইতে পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন আদায় করে নেন।
আবার মেয়র রানিং থাকা অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদের মনোনয়নও ভাগিয়ে নেন।
একই কৌশলে ২য় দফায়ও উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালিক হয়েছেন শতশত কোটি টাকার।
রয়েছে নানান দূর্নীতির অভিযোগও।
যুদ্ধাপরাধী ও শান্তি কমিটির সদস্যের সন্তান হয়ে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠনের কাঁধে চড়ে একটানা ১২বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী, পদের দোহাইতে একদফা মেয়র, দুই দফা নৌকা প্রতীকের মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ও নতুন প্রজন্মের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলে অনেকেই ব্যক্ত করেন।
এছাড়া তারা আরো বলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মাও কষ্ট পায়। তাই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার কষ্ট দূর করতে এবং নাঙ্গলকোটকে যুদ্ধাপরাধী কলঙ্কমুক্ত করতে এলাকার জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের ও নতুন প্রজন্মের একটাই দাবী এই চিহিৃত যুদ্ধাপরাধী ও শান্তি কমিটির সন্তানের কাছ থেকে আওয়ামী লীগকে মুক্ত করতে চান।
অতঃপর সকলের মন্তব্য থেকে যাহা ফুটে ওঠে- কালুর এতএত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার লাগামহীন দৌরাত্ম বেড়েই চলেছে, তার খুঁটির জোর কোথায়?
এমনটা নয় তো- কানে দিয়েছি তুলো, পিঠে বেঁধেছি কুলো- তোরা যতো পারিস কিলো।


















