শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আইন ও সাংবাদিকতাঃ মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র

মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৯ এএম
আইন ও সাংবাদিকতাঃ মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

আইন ও সাংবাদিকতার মধ্যে রয়েছে অবিচ্ছেদ্য এক সমন্বয়। একজন মূলধারার পেশাজীবী সাংবাদিক তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে আপোষহীন থাকবেন—এটাই সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি। অন্ধকারের প্রাচীর ভেঙে সত্যের সন্ধানে আলোর দিশারী হওয়াই সাংবাদিকতার মূল দর্শন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—প্রকৃত ঘটনা কোনটি? বিষয় কি ঘটনাকে সৃষ্টি করে, নাকি ঘটনাই বিষয় নির্ধারণ করে? এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটাতে প্রয়োজন হয় আইনের।
আইনের কাঠামোর ভেতর থেকেই সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহ, যাচাই ও প্রকাশ করেন। সংবাদ বহু ধরনের হতে পারে—রাজনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেবা, ব্যক্তি, অপরাধ, ধর্ম, অর্থনীতি কিংবা দেশসংক্রান্ত নানা বিষয়। ইংরেজি শব্দ NEWS–এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে সংবাদ의 ব্যাপ্তি—
N (North), E (East), W (West), S (South)
অর্থাৎ উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম—চার দিকের ঘটনাপ্রবাহ মিলেই সংবাদ।
তথ্য অধিকার আইনের ভিত্তিতে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা বিধিবদ্ধ ও দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশ করেন। একজন পেশাজীবী সাংবাদিক তার অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও নৈতিক দায়বদ্ধতার আলোকে সংবাদ তৈরি করেন। তবে সাংবাদিকতার পেশায় যুক্ত হতে হলে একটি পত্রিকার অবশ্যই সম্পাদকীয় নীতি নিরপেক্ষ ও অনুমোদিত হতে হয়—এটাই বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি।
একজন সাংবাদিককে অনেক সময় জীবন বাজি রেখে কাজ করতে হয়। গণমিছিলের মাঝখানে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে, সংঘটিত অপরাধের সময় কিংবা অপরাধস্থলে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সংগ্রহ করাই তার পেশাগত দায়িত্ব। এটাই সাংবাদিকতা। এর অর্থ এই নয় যে সাংবাদিক কারো ব্যক্তিগত এজেন্ট—বরং সাংবাদিকতা একটি স্বাধীন ও জনস্বার্থনির্ভর পেশা।
ভাবুন তো—যদি সাংবাদিক ও গণমাধ্যম না থাকত, তাহলে দেশ জানত কীভাবে?
কোন জেলায় কী হচ্ছে, কোথায় কী ঘটছে, কারা ঘটাচ্ছে, কী উদ্দেশ্যে ঘটাচ্ছে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সমাজ পেত কীভাবে? এই সবকিছুর সমন্বয়েই একজন সাংবাদিক তৈরি হন, তৈরি হন একজন সংবাদপত্রকর্মী।
যদি আজ দেশের প্রতিটি সংবাদপত্র প্রতিনিধি নিজ নিজ স্থান থেকে কলম বিরতি নেন, তবে কে পৌঁছে দেবে খবর? কে জানাবে সত্য? তাই আইন মেনে সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করেন। তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে ডকুমেন্টারি সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকতারই অংশ। এতে ব্যক্তিগত জবাবদিহির প্রশ্ন নেই—বরং আছে পেশাগত দায়বদ্ধতা।
সাংবাদিকতার সঙ্গে ব্যক্তিগত এজেন্টবাদ কিংবা অপ-রাজনীতির সমন্বয় ঘটিয়ে সাংবাদিকদের ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত করা মানেই পেশাগত অধিকারের ওপর আঘাত হানা। একজন সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মী রাষ্ট্রের একজন সংগ্রামী মানুষ। কারণ দেশের যে কোনো সংকট, অরাজকতা, মিছিল-মিটিং কিংবা আলোচনা সভায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাকে প্রাণঝুঁকি ও সম্মানহানির আশঙ্কা নিয়ে কাজ করতে হয়।
এর মানে এই নয় যে সাংবাদিকরা সম্মানহীন—বরং তারা অবশ্যই সম্মানিত। দেশ, রাষ্ট্র ও সরকারের কাছে বিনীত নিবেদন—সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য বেতন, ভাতা ও সম্মানির ন্যায্য ব্যবস্থা করা হোক। সাংবাদিকরা দেশ ও রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, সুশীল ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সাংবাদিক কলম ধরবে, সংবাদ লিখবে—এটাই স্বাভাবিক। গঠনমূলক ও সত্যনিষ্ঠ সংবাদ করতে গেলে সবার মন রক্ষা করা সম্ভব নয়। অপরাধী ও অপরাধের কাছে সাংবাদিক কখনো আপোষ করে না, মাথাও নত করে না। তাই কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের অপ-রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ও ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সাংবাদিকদের হয়রানি, জেল-জুলুম ও নিপীড়নের যে প্রবণতা—তা বন্ধ হতেই হবে।
এই অন্যায় রুখতে সবাইকে একই সুতোয় আবদ্ধ হতে হবে। সাংবাদিক স্বাধীন, এবং স্বাধীনভাবেই সংবাদ প্রকাশ করবে। কোনো রক্তচক্ষু কোনো সাংবাদিকের কলম কেড়ে নিতে পারবে না। বরং জনগণসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষদের উচিত তথ্য দিয়ে, সহযোগিতা করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে পাশে থাকা।
একজন সাংবাদিক মানেই একজন মেধাবী ও দায়িত্বশীল মানুষ। সাংবাদিকদের ধ্বংস করা যাবে না, হবেও না। বরং সাংবাদিকরা সমাজের কোন কোন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন—তা তুলে ধরেন জনগণ, সরকার ও রাষ্ট্রের সামনে।
সাংবাদিক সমাজ আজ আগের চেয়ে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ। একই প্ল্যাটফর্মে মিলিত হয়ে তারা দৃঢ় প্রত্যয়ে আপোষহীন সংবাদনীতির বাস্তবায়নে শক্তির বলয়ে আবদ্ধ।
সাংবাদিকতা টিকে থাকবে—সত্য, সাহস ও নৈতিকতার শক্তিতে।

মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র

সাংবাদিক ও কলামিস্ট

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

Oplus_131072

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত, নাকি অন্য কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সুমন গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তার চলাচলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে ওই শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাকে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরে সড়কের দিকে চলে যাওয়ার পর আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে মেয়ে তাকে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

একটি মসজিদ, অসংখ্য স্মৃতি, আর দীর্ঘ ৩২ বছরের এক আত্মিক বন্ধন—বিদায়বেলায় আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আঃ রব সাহেব। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কণ্ঠে আজান, নামাজে ইমামতি, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি মসজিদপ্রাঙ্গণে রেখে গেল এক আবেগঘন অধ্যায়।

তাঁর দীর্ঘদিনের সেবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আয়োজন করা হয় বিদায়ী সংবর্ধনার। এ সময় একই সঙ্গে থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের নতুন ইমাম হিসেবে মাওলানা সাইফুল ইসলামকে বরণ করে নেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ, মার্কেট ও মাদ্রাসা উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিউর রহমান রাজিব, কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আব্দুস সালাম মাসুক, সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান রাব্বু, কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্য এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।

দীর্ঘ ৩২ বছরের ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে মাওলানা আঃ রব সাহেবের বিদায় কেবল একজন ইমামের বিদায় নয়; এটি একটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে সাময়িক বিচ্ছেদের মুহূর্ত। তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতি স্থানীয় মুসল্লিদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

অন্যদিকে, নতুন ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলামের আগমনে মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত মুসল্লি ও কমিটির সদস্যরা। বিদায়ী ইমামের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নতুন ইমামের দায়িত্ব পালনে মহান আল্লাহর রহমত ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

নানিকে দেখতে এসে সড়কে মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেলেন আরমান

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
নানিকে দেখতে এসে সড়কে মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেলেন আরমান

নানিকে দেখতে সুদূর সিলেট থেকে কুমিল্লার দেবিদ্বারে এসেছিলেন ২৪ বছর বয়সী আরমান হোসেন। ট্রেন থেকে নেমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে রওনা হয়েছিলেন নানাবাড়ির উদ্দেশে। কিন্তু প্রিয় নানির কাছে পৌঁছানো হলো না তাঁর। গন্তব্যে যাওয়ার আগেই দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় সড়কে ঝরে গেল তরুণ এই প্রাণ। নাতির মরদেহের পাশে বসে ৭০ বছর বয়সী নানি রাবেয়া খাতুনের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে দুর্ঘটনাস্থলের পরিবেশ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন অটো ব্রিকস ফিল্ডের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জগামী যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে কুমিল্লামুখী একটি দ্রুতগতির ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি সড়কে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আরমান। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকও আহত হন।

নিহত আরমান হোসেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের ফখরুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন মোটরসাইকেল মেকানিক। তাঁর নানাবাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি গ্রামে।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, স্বামী ও ছেলেকে হারানোর পর দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় নাতি আরমানই ছিলেন বৃদ্ধা রাবেয়া খাতুনের প্রধান ভরসা। নানির ভরণপোষণের দায়িত্বও পালন করতেন তিনি। নাতিকে হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন ৭০ বছর বয়সী এই নারী।

আরমানের পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর তিন বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে, নাম আরিয়ান। স্ত্রী স্বপ্না সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, ছোট সন্তান ও অনাগত শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

এদিকে দুর্ঘটনার পর কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে সকাল ১০টার দিকে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে আরমানের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নানিকে দেখতে এসে আরমানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবারের স্বজনদের মধ্যে। পেছনে রয়ে গেলেন অসহায় নানি, স্ত্রী, ছোট্ট সন্তান ও পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় থাকা আরেকটি প্রাণ।

×