শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

ওয়াহেদপুর আমার গ্রাম, আমি গ্রামকেই ভালোবাসি

মোঃ আবদুল আউয়াল সরকার : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৩, ১২:৪২ পিএম
ওয়াহেদপুর আমার গ্রাম, আমি গ্রামকেই ভালোবাসি
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

শহরে ভোগ-বিলাসী জীবনযাপনের প্রধান উপাদানগুলোই আসে গ্রাম থেকে। গ্রামের মাছ, মুরগি, ডিম, হাঁস, কবুতর, গবাদি পশু, শাকসবজি, ধান-চাল থেকে শুরু করে জীবন ধারণের অন্যতম উপাদানগুলোর উৎসই হচ্ছে আমাদের গ্রাম। সেই গ্রামকে অবহেলা করে, গ্রামের উন্নয়নকে উপেক্ষা করে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের আধুনিক শহুরে সভ্যতায় পালিত পিঠা মেলা, বৈশাখী উৎসব, লোকজ উৎসব এবং মেলাগুলো কিন্তু প্রাচীন ও চিরায়ত গ্রামীণ ঐতিহ্য।

কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ৪ নং সুবিল ইউনিয়নের একটি গ্রাম ওয়াহেদপুর। আমি এই গ্রামের ছেলে। সবুজ শ্যামল এই গ্রামটির পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে গেছে গোমতী নদী। এই নদীর কারণে গ্রামটি যেন এক অপরূপ সৌন্দর্য্য।

আমার গ্রামে রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ওয়াহেদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়), একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা (ওয়াহেদপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা) ছেলেমেয়েদের সুস্থ শারীরিক বিকাশের জন্য রয়েছে একটি খেলার মাঠ, একটি ঐতিহ্যবাহী কালাই শাহ’র মাজার, হাফেজী মাদরাসা, মসজিদ ও মন্দির। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ বহুকাল ধরে এখানে মিলেমিশে সুসম্পর্কের সঙ্গে বসবাস করে আসছে।

প্রতিবছর চৈত্র মাসে গ্রামে মেলা বসে,ছোটবেলায় এই মেলা দেখতে যেতাম। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসত এই মেলা দেখতে। মেলায় গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতি ফুটে উঠত। এখনও এই মেলা প্রতিবছর বসে।

কৃষি সম্মৃদ্ধ একটি গ্রাম। বিভিন্ন ধরণের ফসল উৎপাদনই যেখানে অনেকের জীবন ধারণ বা জীবিকার উৎস। গ্রামটি উপজেলা কাছাকাছি হওয়ায় নাগরিক সুযোগ–সুবিধা বেশ ভালো পাওয়া যায় আর সে কারণেই এখন অনেক এগিয়ে গিয়েছে গ্রামের মানুষজনের জীবন যাত্রার মান।

শিক্ষায় পিছনে নেই এই গ্রামটি। বর্তমানে এই গ্রামের অনেক ছেলে মেয়েরা দেশ–বিদেশে পড়াশোনা করছে। আমার গ্রাম অনেক সুন্দর। এই গ্রামের বাসিন্দা হিসাবে আমি গর্বিত।এখানে আমি হাঁটি, ঘুরি।
সবুজের সমারোহ। ভালোবাসি নিজের মাটি। চলতে চলতে থেমে যাই। আপনারা ঘুরতে আসবেন নাকি আমার গ্রামে ?
সুন্দর গ্রামের মানুষ আমি। আপনারা এলে খুব খুশি হবো-
আমার বারান্দার পাশে- প্রাণের দোয়েল। উৎসাহিত হওয়ার মতো ছবি-ফেসবুক বন্ধ দেখে ক্ষুব্ধ।

গ্রামের সেই আঁকাবাঁকা মেঠো পথ একেবারে হারিয়ে না গেলেও উন্নয়নের ছোঁয়ায় প্রধান সড়কগুলো এখন পাকা। বাজারের পাশ দিয়ে সেই পিচঢালা পথ দিয়ে এগোতে থাকলে চোখে পড়বে ৪ নং সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়। পাশেই আছে পুকুর ও দিঘি।

গ্রীষ্মে আম, জাম, কাঠাল, লিচুসহ হরেক রকম ফলের মৌ মৌ গন্ধ, বর্ষায় টিনের চালে ঝুম বৃষ্টি, জোৎস্না মাখা রাত, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, সন্ধ্যাবেলায় জোনাকির ছড়াছড়ি হৃদয়ে এনে দেয় অন্যরকম অনুভূতি।
আমি আমার নিজের শৈশব সম্পর্কে এটুকূ গর্ব করে বলতে পারি বেশ মজার ছিল আমার শৈশব। কারণ আমি আমার শৈশব কাটিয়েছি গ্রামের পথে-প্রান্তরে,মাঠে-ঘাটে,গাছে-বাঁশে।আমার বাড়ীর এমন কোন গাছ ছিল না যেটাতে আমি উঠিনি। আর আমাদের গ্রামের একটা মজার ব্যপার ছিল সব কিছুতেই ভিন্ন ভিন্ন খেলা। সব কিছু মিলে বেশ হৈ-হুল্লুড করে শৈশব কাটিয়েছি।সেখানে কোন অপ্রাপ্তি কিংবা অপরিপূর্ণতা ছিল না। কানায় কানায় পরিপূর্ণতা আর অসীম প্রাপ্তির সমন্বয়ে আমার শৈশব। তখন যদিও এসবের তেমন মূল্যবোধ বুঝতাম না। কিন্তু জীবনের এই সময়টাতে এসে পেছনে ফেলে আসা স্মৃতি মনে করতেই অকপটে ভেসে উঠে শৈশবের সময়টা। গ্রামের সবুজ পল্লীতে যার শৈশব কাটিয়েছেন সেই ব্যক্তি যত বড়ই হোক না কেন,তার অবস্থান যেখানেই হোক সে বারেবারে চাইবে তার গ্রামের সবুজ প্রকৃতিতে ফিরে যেতে।

আশার কথা হচ্ছে, গ্রামেও এখন অর্থপ্রবাহ বেড়েছে। গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট প্রভৃতি সুবিধা ক্রমেই বদলে দিচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির চেহারা।

লেখক : চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ,শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া

মোঃ তারিকুল ইসলাম (তারেক), স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া

কুমিল্লা-২ আসন থেকে সংসদে গিয়ে এবার শিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে শিক্ষক নেতা।
জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিসহ ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কণ্ঠভোটে প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হিসেবে সেলিম ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ মোট নয়জন সদস্য রয়েছেন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সংসদীয় নজরদারির আওতায় রাখার ক্ষেত্রে কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষকতা থেকে সংসদ, এবার শিক্ষা খাতের নীতিনির্ধারণে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচিত তাঁর শিক্ষক পরিচয়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন, বাড়িভাড়া, অবসর সুবিধা, উৎসব ভাতা এবং চাকরি জাতীয়করণের মতো বিষয় নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন।

শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই এখন তাঁর নতুন দায়িত্বের অন্যতম বড় সম্পদ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষক সমাজের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন সেলিম ভূঁইয়া। শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি ও আন্দোলনে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁকে শিক্ষক নেতার পরিচিতি এনে দেয়। রাজনৈতিক ও শিক্ষক আন্দোলনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময়ে মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগ করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসন—হোমনা ও তিতাস—থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।

সংসদ সদস্য হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। একই সঙ্গে যে খাতের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি যুক্ত, সেই শিক্ষা খাতের সংসদীয় নজরদারির দায়িত্বও এখন তাঁর কাঁধে।

হোমনা-তিতাসে প্রত্যাশা
সেলিম ভূঁইয়ার নতুন দায়িত্বকে হোমনা-তিতাসের মানুষও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শিক্ষকতা ও শিক্ষক আন্দোলনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষক-কর্মচারীদের সমস্যা সমাধান এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা, শিক্ষক সংকট, শিক্ষার মান, বেসরকারি শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সংসদীয় কমিটির আলোচনায় গুরুত্ব পাবে—এমন প্রত্যাশা শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলের।

কুমিল্লা-২ আসনের একজন শিক্ষক নেতা হিসেবে সংসদে যাত্রা শুরু করে এবার দেশের শিক্ষা খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেলেন অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। ফলে তাঁর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—দীর্ঘ শিক্ষকতা ও আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে কীভাবে সংসদীয় দায়িত্বে কাজে লাগিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা যায়।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন’র সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১০ পিএম
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন’র সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন এর মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নতুন সদস্য অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি বেশ গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করার পাশাপাশি সৃষ্ট যেকোনো সমস্যা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করে দেশ ও জাতির কল্যাণে শিক্ষাখাতে নিরলসভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ একটি হলরুমে এ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন এর আহবায়ক মো. আমির হোসাইন এর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সাংবাদিক মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন এর যুগ্ম আহবায়ক কাজী এমদাদুল হক মাছুম, আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. আবুল খায়ের, মো. ফখরুল ইসলাম মজুমদার, মো. আলমগীর হোসেন, মো. সাইফুল ইসলাম, অ্যাসোসিয়েশন এর সদস্য মাওলানা মো. হাসান, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মো. আব্দুল গণি, মো. আনোয়ার হোসেন, শাহিনুর আক্তার, মো. আহসান উল্যাহ, মো. এনামুল হক, মো. মীর হোসেন, কাজী নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

সভায় সরকারি বিধি-মোতাবেক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ব্যাপারে উপস্থিত সদস্যরা দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন প্রাপ্তির লক্ষ্যে বিধি-মোতাবেক প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সংযুক্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন আবেদন করার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেন সকলে। নিবন্ধন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন কাজে সার্বিক সহযোগিতা সহ সকলে যাতে একযোগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই অ্যাসোসিয়েশন এর যুগ্ম আহবায়ক মো. ওয়াছিম উদ্দিনকে আহবায়ক ও সদস্য সচিব সাংবাদিক মুহা. ফখরুদ্দীন ইমনকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন; মো. আবুল খায়ের, মো. ফখরুল ইসলাম মজুমদার, মো. সাইফুল ইসলাম।

এছাড়াও সভায় অবিলম্বে প্রতিটি ইউনিয়ন কমিটি গঠন সহ অ্যাসোসিয়েশন এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন, অ্যাসোসিয়েশনে অন্তর্ভূক্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ালেখার মানোন্নয়ন, অ্যাসোসিয়েশন মেধা উন্নয়ন বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬ মানসম্মত পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সহ অ্যাসোসিয়েশন সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন বাস্তবধর্মী আলোচ্য বিষয়ের উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন উপস্থিত সদস্যবৃন্দ। আলোচনা সাপেক্ষে সকলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে গৃহিত সিদ্ধান্ত সমূহ শীঘ্রই বাস্তবায়নের জন্য সকলে আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

ফলোআপ

১৫ লাখ টাকায় আপস, বাদী খুশি—একাধিক গুরুতর অভিযোগের পরও বহাল চিকিৎসক!

শাহনাজ বেগম এ্যানি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম
১৫ লাখ টাকায় আপস, বাদী খুশি—একাধিক গুরুতর অভিযোগের পরও বহাল চিকিৎসক!

Oplus_131072

কুমিল্লায় প্রসূতি রোগীর পেটে গজ/কাপড় রেখে সেলাই করার অভিযোগে করা মামলায় বাদী পক্ষ ১৫ লাখ টাকা গ্রহণের পর আপস করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে একই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অতীতেও চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল গ্রুপের রক্ত প্রয়োগ ও নবজাতকের মৃত্যুসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও মামলা থাকার তথ্য সামনে এসেছে। এসব ঘটনার পরও অভিযুক্ত চিকিৎসক বহাল থাকায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে।

২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার রামঘাটলা মিডল্যান্ড হসপিটালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কটপাড়া গ্রামের মজুমদার বাড়ির প্রসূতি মাকসুদা আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় তার পেটে গজ/কাপড় রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। একই সময়ে তার জরায়ু অপসারণ করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

অপারেশনের পর মাকসুদা আক্তার কয়েক মাস ধরে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন। একপর্যায়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তার সমস্যাটি শনাক্ত হয়। পরে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে গজ/কাপড় বের করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

ঘটনার পর মাকসুদার বাবা মো. এনামুল হক মজুমদার বাদী হয়ে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটি সি.আর. ৬৭৩/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলায় চিকিৎসক ডা. নাজনীন জাহান লুবনার বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা ও মেয়ের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগ এনে বিচার দাবি করা হয়।

মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত কুমিল্লার সিভিল সার্জনকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রসূতি রোগীর পেটে গজ/কাপড় রেখে সেলাই করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে চিকিৎসক ডা. নাজনীন জাহান লুবনা ও সংশ্লিষ্ট মিডল্যান্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত অভিযুক্ত চিকিৎসককে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

১৫ লাখ টাকায় আপস

 

এদিকে মামলার বাদী মো. এনামুল হক মজুমদার ১৫ লাখ টাকা গ্রহণের পর অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে আপস করেছেন বলে জানা গেছে। এর ফলে মামলাটি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পথে এগিয়েছে।

অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে বাদী এনামুল হক মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আদালত থেকে তথ্য নেওয়ার কথা বলেন। পরে ব্যস্ততার কথা জানিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন না বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

পুরোনো মামলাতেও আপসের তথ্য

 

অনুসন্ধানে ডা. নাজনীন জাহান লুবনার বিরুদ্ধে অতীতেও চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব মামলার কয়েকটিও পরবর্তীতে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে আপস করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২০২৩ সালের মার্চ মাসে একই মিডল্যান্ড হাসপাতালে রোগীকে ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ার একটি গুরুতর অভিযোগও ওঠে।

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পাঁচথুবী গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হাসিনা আক্তার জরায়ুর সমস্যার চিকিৎসার জন্য মিডল্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তার রক্তের গ্রুপ ছিল ‘ও পজিটিভ’। কিন্তু অস্ত্রোপচারের সময় ভুলবশত তাকে ‘বি পজিটিভ’ রক্ত দেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, ভুল গ্রুপের রক্ত শরীরে প্রবেশের পর হাসিনা আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ৩০ মার্চ হাসিনা আক্তারের স্বামী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ডা. নাজনীন জাহান লুবনাসহ মিডল্যান্ড হাসপাতালের মোট আটজনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

বক্তব্য পাওয়া যায়নি চিকিৎসকের

 

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডা. নাজনীন জাহান লুবনার চেম্বারে একাধিকবার গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তার অবস্থান জানাতে রাজি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে তার মোবাইল ফোনে কয়েক দিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

‘বিএমডিসি ব্যবস্থা নেয়’

 

একাধিক চিকিৎসা-সংক্রান্ত অভিযোগ ও মামলা থাকা সত্ত্বেও সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. জহিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

তিনি জানান, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সাধারণত বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। তবে তিনি কুমিল্লায় নতুন যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। সবকিছু জেনে তিনি জানাবেন বলেও জানান।

প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে

একটি ঘটনায় আদালতের নির্দেশে করা তদন্তে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করার তথ্য, অন্যদিকে অতীতের একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও মামলা—সব মিলিয়ে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রশাসনিক বা পেশাগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

১৫ লাখ টাকার আপসের মাধ্যমে বর্তমান মামলার বিরোধ মিটে গেলেও চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসকের জবাবদিহি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্নগুলো থেকেই যাচ্ছে।

×