শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

কুমিল্লায় জামাই রনিসহ ১৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৭:৪৬ পিএম
কুমিল্লায় জামাই রনিসহ ১৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের দিন কুমিল্লা শহরের তালপুকুর পাড়ে সশস্ত্র হামলা ও গুলিতে আহত হওয়ার ঘটনায় সাইফুল আলম রনিকে প্রধান আসামী করে অন্তত ১১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কুমিল্লার রামঘাটের ওয়াজি উল্লাহর ছেলে মো: মানিক বাদি হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন। ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ও অফিসার (তদন্ত) শিবেন বিশ্বাস। কোতয়ালী মডেল থানার এসআই নুরুল হাকিমকে মামলাটি তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৫ আগস্ট বিকাল অনুমান সাড়ে ৫টায় কুমিল্লার কোতয়ালী মডেল থানাধীন কুসিক ১০নং ওয়ার্ডস্থ তালপুকুর পশ্চিম পাড় পাকা রাস্তার উপর পৌছামাত্র ০১ নং আসামী সাইফুল আলম রনির নির্দেশে অপরাপর আসামীরা বেআইনী জনতাবদ্ধে দলবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়া গুলি করে ০১ নং সাক্ষী ফাহিম ইসলাম রুমান এর পিঠের ডান পার্শ্বে গুলিবিদ্ধ গুরুতর জখম করে। ০৩ নং বিবাদী তৌফিক কিবরিয়া সেতু হত্যার উদ্দেশ্যে রুমান এর গলা টিপিয়া ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করে। আসামীরা তাদের হাতে থাকা ককটেল বিস্ফোরন ঘটাইয়া ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়া এলোপাথারী গুলি বর্ষন করে জনমনে ত্রাস ও আতংক সৃষ্টি করে হত্যার ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। তখন আশপাশের লোকজন ওখান উপস্থিত হলে আসামীরা দিক বেদিকে দ্রুত দৌড়াইয়া পলায়ন করে।

 

মামলায় যাদের আসামী করা হয় তারা হলেন-

১। সাইফুল আলম রনি(৪৮), পিতা-মৃত-আব্দুল হালিম, ২। সুজন দত্ত (৩২), পিতা-চন্দন দত্ত, তা তৌফিক কিবরিয়া প্র: সেতু(৩৪), পিতা-সাবের  কাদরীয়া হিদ, ৪। শাকিল (৩২), পিতা-দুলাল, ৫।  সৈকত (৩০), পিতা-দুলাল, ৬। সুজন @ ছোট । সুজন(৩০), পিতা-অজ্ঞাত, ৭। অজয়(৩০), পিতা- বলোয়ার, ৮। অতুল দত্ত (২৩), পিতা-চয়ন দত্ত, ৯। বিশাল দত্ত (২১), পিতা-চয়ন দত্ত, সর্ব সাং- তালপুকুর পাড়, ১০। অহি(৩০), ১১। আকিব(৩২), উভয় পিতা-জমির উদ্দিন খান জম্পি, সাং-স বাগিচাগাও, ১২। সঞ্জীত কর(৪০), পিতা- পন্তুষ কর, সাং-বাগিচাগাও, সর্ব থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা, ১৩। সালেহ আহম্মদ রাসেল(৪৫), পিতা-মৃত সেকান্দার মাষ্টার, সাং-জামিরা, থানা- লালমাই, জেলা-কুমিল্লা, ১৪। এম ডি রাজিব (৩৮), ১৫। সুমন (৪২), উভয় পিতা-মৃত এম.ডি মুরাদ, সাং-মোগলটুলি (শাহসুজা মসজিদ গলি), ১৬। মুজাহিদ (২১), পিতা-আমির হোসেন, সাং-সাতরা চম্পক নগর, ১৭। চয়ন দত্ত(৫২), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-সাতরা চম্পক নগর, ১৮। জমির উদ্দিন খান জম্পি(৫৫), পিতা-চান মিয়া, সাং-বাগিচাঁগাও, ১৯। শুভ দত্ত(৩০), পিতা-চয়ন দত্ত, সাং-বাগিচাগাও, ২০। শাওন (৩০), পিতা-ঝন্টু, সাং-বাগিচাঁগাও, ২১। সোহেল টেইলার(৪০), পিতা-রফিক, সাং- বাগিচাগাও, ২২। মঞ্জু(৪৮), পিতা-আবুল কাশেম, সাং-বাগিচাঁগাও, ২৩। আলী মনসুর ফারুক(৫৭), পিতা-মৃত আলী আকবর, সাং-ঠাকুরপাড়া, ২৪। পিচ্চি জালাল (৩৮), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-দৌলতপুর পশ্চিমপাড়া, ২৫। উদিত(৩১), পিতা-অজ্ঞাত, সাং- ঠাকুরপাড়া (মদিনা মসজিদ রোড), ২৬। রুদ্র দাস(৩০), পিতা-স্বপন দাস, সাং-রামঘাট (আওয়ামীলীগ পার্টি অফিস সংলগ্ন), ২৭। ইমরান নাজির আবির (২৮), পিতা-আলমগীর, সাং- দৌলতপুর (ছায়াবিজ্ঞান), সর্ব থানা- কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা ২৮। মোস্তাফা (৫০), পিতা- আদম আলী, সাং-মধ্যম আশ্রাফপুর, থানা-সদর দক্ষিন মডেল, জেলা-কুমিল্লা, ২৯। সাদেকুর রহমান পিয়াস (৩৮), পিতা-জালু মিয়া, সাং- ঝাউতলা, থানা- কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা, ৩০। মোশারফ হোসেন মুন (৩২)-মহানগর ছাত্রলীগ এর সাধারন সম্পাদক, পিতা-হাজী আদম আলী, সাং-ইপিজেড রোড, ২১নং ওয়ার্ড, থানা- সদর দক্ষিন মডেল, জেলা-কুমিল্লা, ৩১। শাহ আলম (৪৮), পিতা-মৃত- সিদ্দিকুর রহমান, সাং- দৌলতপুর ৩২। প্রিতম দে(২৬), পিতা-নুপুর চন্দ্র দে, সাং-তেলিকোনা সাহাপাড়া, কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা, ৩৩। মারুফ ইসলাম, পিতা-নবীউল্লাহ সাং-কংশনগর, থানা- বুড়িচং, জেলা-কুমিল্লা, ৩৪। কৃষেন্দ্র রায় সানি(২৮), পিতা-কানু, সাং-দৌলতপুর ৩৫। রানা(৩০), পিতা- অজ্ঞাত, সাং-ছোটরা, ৩৬। নয়ন দত্ত(৩৫), পিতা- শ্যামল দত্ত, সাং-ঠাকুরপাড়া (মদিনা মসজিদ), ৩৭। শহিদুল ইসলাম চপল(৪৭), পিতা-রফিকুল ইসলাম, সাং-ধর্মপুর, ৩৮। জহিরুল ইসলাম (৪৪), পিতা মৃত-আব্দুল বারেক, সাং-ধর্মপুর, ৩৯। মোঃ রাপ্তি (৩০), পিতা-মৃত মনির খান, সাং-পশ্চিম বাগিচাঁগাও ৪০। মোঃ এনাম (৩০), পিতা-খোকন, সাং-পশ্চিম বাগিচাঁগাও, ৪১। রাকিব (৩০), পিতা- আব্দুল সালাম আজাদ, সাং-পূর্ব চানপুর, ৪২। ইউসুফ (৩৮), পিতা-মৃত আব্দুল হাকিম @ মেরা  মিয়া, সাং-শুভপুর, ৪৩। সুমন (৩৮), পিতা-শুনু মিয়া, সাং-পূর্ব চানপুর, ৪৪। জুয়েল(৩৬), পিতা- মাশুক মিয়া, সাং-পূর্ব চানপুর, ৪৫। জুয়েল মিয়া (৪০), পিতা-মালা মিয়া, সাং-থিরা পুকুর পাড়, ৪৬। কাউছার (৪৫), পিতা- কাদর মিয়া, সাং-থিরা পুকর পাড় ৪৭। কবির আহম্মেদ (৪২) পিতা-মৃত জাহাঙ্গীর আলম, সাং-গোবিন্দপুর খলিফা বাড়ী ৪৮। মোঃ আবু ইউসুফ ইফতেখার দিপু (৪০), পিতা- মৃত মহিউদ্দিন ফুল, সাং-গোবিন্দপুর খলিফা বাড়ী ৪৯। আমিনুল হক চেয়ারম্যান (৬৫) পিতা- মৃত আব্দুল লতিফ প্রকাশ লাল মিয়া, সাং-ধর্মপুর পশ্চিম চৌমুহনী ৫০। মোঃ শাহআলম (৪৫) পিতা-আব্দুর রব, সাং-ছোটরা, ৫১। মোঃ ফখরুল আবেদীন হৃদয়(৩০), পিতা-জয়নাল আবেদীন, সাং-২য় মুরাদপুর, ৫২। মাসুদুর রহমান মাসুদ- সাবেক কাউন্সিলর (৪৭), পিতা-মৃত আব্দুল আজিজ, সাং-ছোটরা, ৫৩। শাহআলম খান কাউন্সিলর(৬৫), পিতা-মৃত মজিব খান, সাং- অশোকতলা, ৫৪। নয়ন ওরফে কালা (৪০), পিতা- ইউসুফ মিয়া, সাং-অশোকতলা, সর্বথানা- কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা, ৫৫। হোসেন মিয়া(৪৫), পিতা-আব্দুল হাকিম, সাং-নেউরা, ৫৬। আলাউদ্দিন প্রকাশ জুনাল (৩০), পিতা-জালাল উদ্দিন, সাং-রাজাপাড়া, ৫৭। রুবেল (৩৪) পিতা- বিল্লাল মিয়া, সাং-রাজাপাড়া, ৫৮। আলমগীর হোসেন(৪৫), পিতা-মৃত ফজলু মিয়া, সাং-রাজাপাড়া, সর্ব থানা-সদর দক্ষিন মডেল, জেলা- কুমিল্লা, ৫৯। ফখরুল ইসলাম রুবেল(৪৩), পিতা- মৃত আবুল বারেক, সাং-ধর্মপুর, ৬০। ইব্রাহিম খলিল জনি(৩৮), পিতা-মৃত হোসেন ড্রাইভার, সাং- ধর্মপুর, ৬১। সালাউদ্দিন কানু(৩৯), পিতা-মৃত মোসলেম মিয়া, সাং-কালিকাপুর, ৬২। আশিকুল আলম আশিক (৩২), পিতা-আলমগীর হোসেন, সাং-ধর্মপুর, ৬৩। সোহেল (৩৫), পিতা- মোস্তফা মিয়া, সাং-ধর্মপুর, ৬৪। সাব্বির (৩৫), পিতা-মৃত মেহের আলী, সাং-ধর্মপুর, ৬৫। শাহজাহান ওরফে শামু(৪৮), পিতা-মৃত আবেদ আলী, সাং-ধর্মপুর, কলেজ রোড, ৬৬। কাইয়ুম (৪০), পিতা-মৃত শফিক মিয়া, সাং-ধর্মপুর(গাজী বাড়ী), ৬৭। বাবুল(৩৫), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-ধর্মপুর, সর্দার বাড়ী, ৬৮। মোঃ হুমায়ন (৩৮), পিতা-মৃত আব্দুল মতিন, সাং-খেতাসার, ৬৯। মোঃ হান্নান (৩২), পিতা-মৃত আব্দুল মতীন, সাং-খেতাসার, ৭০। আমির হোসেন(৩৭), পিতা-রফিকুল ইসলাম, সাং- খেতাসার, সর্ব থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা- কুমিল্লা, ৭১। মামুন (৩৫), পিতা-ফরিদ মিয়া, সাং- নেউরা, থানা-সদর দক্ষিন মডেল, জেলা-কুমিল্লা, ৭২। নাজমুল হাসান চৌধুরী ওরফে কামাল (৩৫), পিতা-মৃত বারু চৌধুরী, সাং-ডুমুরিয়া চানপুর, থানা- কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা, ৭৩। শ্বেত লিটন ওরফে বোমা লিটন (৪২), পিতা-আব্দুল কাদের, সাং-ডুলিপাড়া, থানা-সদর দক্ষিন মডেল, জেলা- কুমিল্লা, ৭৪। মীর কাসেম (৪৫), পিতা-মৃত নাসির উদ্দিন, সাং-নেউরা, থানা-সদর দক্ষিন মডেল, জেলা-কুমিল্লা, ৭৫। ইকরামুল ইসলাম ওরফে রুবেল (৪৫), পিতা-ঝারু মিয়া, সাং-ছোটরা মধ্যপাড়া, ৭৬। মোঃ রফিকুল ইসলাম (৩৯), পিতা- নুরুল ইসলাম, সাং-ছোটরা পশ্চিমপাড়া, ৭৭। মোঃ শাহীন মিয়া (৪৫), পিতা-আব্দুল করিম, সাং-ছোটরা পশ্চিমপাড়া, ৭৮। মোঃ উজ্জল মিয়া(৩৯), পিতা- মোঃ মোতাহের, সাং-ছোটরা পশ্চিমপাড়া, পুরাতন ডিসি রোড, ৭৯। মোঃ তানভীর হোসেন অন্তর(২২), পিতা-মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সাং- ছোটরা পশ্চিমপাড়া, ৮০। মোঃ শাহ কামাল উদ্দিন সামি(২২),পিতা-মোঃ শাহজাহান, সাং- ছোটরা, সাজেদা ভিলা, ৬০৯/১০, সর্ব থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা, ৮১। শাহজাহান মঞ্জু(৫৫), পিতা-আব্দুল মতীন, সাং-ধনাইতরী, ৮২। আবু আহাদ মঞ্জু(৩৮), পিতা-আব্দুল মতিন মঞ্জু, সাং- ধনাইতরী, ৮৩। মামুন মজুমদার (৫৫), পিতা-মৃত জয়নাল আবদীন, সাং-ঢুলিপাড়া, ৮৪। আকবর হোসেন(৪৪), পিতা-তাজুল ইসলাম, সাং-নেউরা, ৮৫। এনামুল হক টিপু(৪৫), পিতা-খালেক, সাং- নেউরা, ৮৬। প্রফেসর মহসিন (৫৫), পিতা-মৃত আব্দুল কাশেম, সাং-ঢুলিপাড়া, সর্ব থানা-সদর দক্ষিন মডেল, জেলা-কুমিল্লা, ৮৭। কাবিল মেম্বার(৪৮), পিতা-মুশু খান, সাং-গোলাবাড়ী, পাচথুবী ইউপি, ৮৮। মোখলেছ (৪৫), পিতা- অজ্ঞাত, সাং-মোগলটুলী, ৮৯। এ.এস.এম খাইরুল মামুন(৪৮), পিতা-মৃত আব্দুল বাতেন, সাং- টমছমব্রীজ, ৯০। মৃদল দাস (২৮), পিতা-মৃত । সুকুমার চন্দ্র দাস, সাং-ঠাকুরপাড়া, ৯১। গোলাম হোসেন তপন (৩৫)-সাবেক জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি, পিতা-ফজল মিয়া, সাং-ভাটপাড়া, ৯২। জামাল মিয়া(৩৮), পিতা-মৃত কাসেম মিয়া, সাং- বদরপুর, ৯৩। রিপন মিয়া(৪২), পিতা-মৃত অহিদ মিয়া, সাং-বদরপুর, ৯৪। স্বপ্নীল (৩৫), পিতা-মনির, সাং- কাপ্তান বাজার, ৯৫। মনির (৪২) শ্রমিক লীগের সভাপতি, পিতা-মৃত মহারাজ, সাং- বাগিচাঁগাও, ৯৬। রিদা(২৪), পিতা-মৃত মনির খান, সাং-বাগিচাঁগাও, ৯৭। আলমগীর হোসেন (৬০), পিতা-মৃত চান মিয়া, সাং-সৈয়দপুর ৯৮। মোঃ ফরহাদ হোসেন (৫০), পিতা-আব্দুল করিম, সাং- সৈয়দপুর, ৯৯। মোঃ জসিম উদ্দিন মুহুরী(৪৫), পিতা-অলি আহম্মেদ, সাং-সৈয়দপুর ১০০। মোঃ রাসেল মেম্বার(৪০), পিতা-আব্দুল করিম, সাং- সৈয়দপুর, ১০১। ইউনুস মিয়া মোহাম্মাদ(৩৮), । পিতা-আব্দুল খালেক, সাং-সৈয়দপুর ভূঁইয়া বাড়ী, ১০২। মোঃ আব্দুল করিম (৪০), পিতা-আব্দুল খালেক, সাং-সৈয়দপুর ভূঁইয়া বাড়ী, ১০৩। মোঃ মনিরুল ইসলাম (৪১), পিতা-আনোয়ার হোসেন, সাং-ছোটরা, পুরাতন ডিসি রোড, ১০৪। মাইনুল ইসলাম(৩৬), পিতা-সাইদুর রহমান, সাং-ছোটরা, পুরাতন ডিসি রোড, ১০৫। জয়নাল আবেদীন (৪০), পিতা-নুরুল ইসলাম নুরু, সাং-ধনুয়াখোলা, ১০৬। কাইয়ুম কাশেম (২৭), পিতা-আবুল কাসেম, সাং- সাতরা মধ্যপাড়া, সর্ব থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা, ১০৭। নোহেল রহমান (২৮), পিতা- সিদ্দিকুর রহমান সুরুজ, সাং-উনাইসার, থানা- সদর দক্ষিন মডেল, জেলা-কুমিল্লা, ১০৮। বাহারউদ্দিন রেজা ওরফে পিস্তল বাহার(৬৪), পিতা-মৃত জুরা মিয়া, সাং-তালুপুকর পশ্চিম পাড়, ১০৯। বিশাল(২৭), পিতা-বাহার উদ্দিন রেজা, সাং- তালপুকুর পাড় পশ্চিম পাড়, ১১০। মোঃ । রিমন (২৫), পিতা-মৃত ওহাব আলী, সাং-ঝাউতলা, ১১১। মোঃ সাইফুল (২৫), পিতা-আক্তার মোল্লা, সাং-ঝাউতলা, ১১২। সফিকুর রহমান মাষ্টার (৪৭), পিতা-মৃত লাল মিয়া, সাং-সৈয়দপুর, বেজবাড়ী, সর্ব থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লাসহ অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন।

মামলার বিবরণ: যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী মোঃ মানিক। থানায় হাজির হয়ে এই মর্মে উপরোক্ত আসামীগনসহ অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করছি যে, ০১ নং জখমী সাক্ষী ফাহিম ইসলাম রুমান আমার চাচাতো ভাই। সে ইন্টার ১ম বর্ষের ছাত্র। উপরোক্ত বিবাদীরা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, দাঙ্গাবাজ, টেন্ডারবাজ, জুলমকারী, উচ্ছৃংখল ও বখাটে প্রকৃতির লোক। তারা কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে থাকে। গত ০৫/০৮/২০২৪খ্রিঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১ দফা দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পতনের পর আনন্দ মিছিল বের হয়। তখন আমার চাচাতো ভাই রুমান ও মহিন নিজ বাড়ী হতে কুমিল্লা কান্দিরপাড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে একই তারিখ বিকাল অনুমান ০৫.৩০ ঘটিকার সময় রানীর বাজার আশ্রমের পাশের গলির রাস্তার উপর পৌছামাত্র ০১ নং আসামী সাইফুল আলম রনির নির্দেশে অপরাপর আসামীরা বেআইনী জনতাবদ্ধে দলবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্রসহ শসস্ত্র প্রদর্শন করিয়া দাঙ্গার সৃষ্টি করতঃ ক্রমিক নং- ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২নং আসামীগন সাথী রুমান ৩. মহিনদ্বয়কে উক্তস্থানে গতিরোধ করতঃ টানা হেছড়া করে ঘটনাস্থল কোতয়ালী মডেল থানাধীন কুসিক ১০নং ওয়ার্ডস্থ তালপুকুর পশ্চিম পাড় সাকিনের পাকা রাস্তার উপর নিয়ে ০২নং বিবাদী সুজন দত্ত হত্যার উদ্দেশ্যে তার সাথে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়া গুলি করে ০১ নং সাক্ষী ফাহিম ইসলাম রুমান এর পিঠের ডান পার্শ্বে গুলিবিদ্ধ গুরুতর জখম করে। ০৩নং বিবাদী তৌফিক কিবরিয়া সেতু হত্যার উদ্দেশ্যে রুমান এর গলা টিপে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করে। ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২নং আসামীগন লাঠিসোটা দিয়া এলোপাথারী কিল, ঘুষি, লাথি মেরে সাক্ষী রুমানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফুলা জখম করে। ক্রমিক নং-১৩ হইতে ১১২নং আসামীগনসহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা তাদের হাতে থাকা ককটেল বিস্ফোরন ঘটিয়ে ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী গুলি বর্ষন করে জনমনে ত্রাস ও আতংক সৃষ্টি করে হত্যার ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। তখন আশপাশের লোকজন ওখান উপস্থিত হলে আসামীরা দিক বেদিকে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়। ০২নং সাক্ষী মহিন পথচারী লোকজনদের সহায়তায় ০১নং সাক্ষী রুমানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়া গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থা আশংকাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিলে আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে ভর্তি করি।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×