বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বিষয়ে তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বলেছেন, নানা আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসেননি। তবে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে ভারত থেকে তাঁকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে দুই দেশের আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।
শেখ হাসিনা জানান, দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, কারাবাসসহ বিভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা সম্পর্কে তিনি অবগত। তারপরও দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। ৫ নভেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান, তাঁকে সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার মাধ্যমে দেশে আনার পরিকল্পনা সরকারের নেই। বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের আদেশ রয়েছে। এ কারণে প্রচলিত আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।
অন্যদিকে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলার কথা জানানো হয়েছে। তবে তাঁকে কবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। শেখ হাসিনা ওই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর ঘোষিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরা সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করছে তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আইনি পরিস্থিতির ওপর।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।