রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

কুমিল্লায় পতিতা, মাদক ও জুয়াসহ অপরাধীদের অভয়ারণ্য আবাসিকগুলো

বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২২, ৯:১৮ এএম
কুমিল্লায় পতিতা, মাদক ও জুয়াসহ অপরাধীদের অভয়ারণ্য আবাসিকগুলো
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কে না খায়? নেতা, প্রশাসন, সাং*বাদিক সবারে ম্যানেজ করেই ব্যবসা করি, মাসে ১২ লাখ মান্তি দেই❞- জনৈক আবাসিক হোটেল মালিক।

কুমিল্লা সেনানীবাসের অদুরে জেলা সদরের আমতলী থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক আবাসিক হোটেল নামের পতিতালয়, জুয়া ও মাদকের আখড়া। প্রকাশ্যে দিনরাত ২৪ঘন্টা মহাসড়কের পাশে মাদক জুয়া ও অনৈতিক দেহব্যবসাসহ নানা অপকর্মের এসব আখড়া এখন ওপেন সিক্রেট। নামে আবাসিক হোটেল হলেও এসব প্রতিষ্ঠান মুলত অপরাধীদের আখড়া।

প্রাশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্থানীয় নেতা, বখাটে রংবাজ ও কতিপয় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে প্রকাশ্যেই চলছে নানা অপকর্ম। করনাকালে বা তার আগে পরে জেলা প্রশাসন, ‌র‌্যাব, পুলিশ ও ডিবির অভিযানে বিভিন্ন সময় এসব আখড়ায় অভিযান পরিচালানা করেছে। সেসব অভিযানে পতিতা, খদ্দের, বিপুল পরিমাণ মাদক ও জুয়ার টাকা সহ আটকও করা হয়েছে অনেককে। তবে অদৃশ্য কারনে দীর্ঘদিন ধরেই নির্বিঘ্নে অবলিলায় বুক ফুলিয়ে মহাসড়কের পাশে অপকর্মের আখড়া, পতিতালয় চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।

অবশ্য এসব অপকর্মের হোতা হোটেল মালিকদের দাবি ভিন্ন, পরচয় গোপন করে তাদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় সেসব তথ্যও। তাদের দাবী, একেবারে মাগনা এসব ব্যবসা করেন না তারা, প্রতি মাসে প্রতিটি আখড়া বা কথিত আবাসিক হোটেল চালাতে মাসোহারা দিতে হয়, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় অসাধু সদস্য, পাতিনেতা, জনপ্রতিনিধি, রংবাজসহ কথিত সাংবাদিক সহ বিশেষ শ্রেনীর লোকজনকে । আলেখারচর ও ঝাগুজুলি এলাকার এক আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ীর কাছে জানতে চাইলে তার ভাষ্য, ❝মাগনা করি না ব্যবসা, কারে না দেই টাকা, কেডায় না খায়? একটা হোটেল চালাইতে সব মিলাইয়া মাসে ১০/১২ লাখ টাকা মান্তি (মাসোহারা) দেই। এলাকার পোলাপান, মেম্বার, নেতা, প্রশাসন, সাং*বাদিক কত জনরে দেওয়া লাগে খবর লন গিয়া। নিউজ করবেন, করে দেখেন, নিউজ করলে কিছু হয়না মিয়া, আইসা চা খাইয়া যাইয়েন❞

কুমিল্লা সেনানীবাসের ২০০গজ পূ্র্ব থেকে শুরু করে তিন কিলোমিটারের মধ্যেই গড়ে উঠেছে ৮থেকে১০টি আবাসিক হোটেল নামের এসব পতিতালয়। পুলিশি অভিযানের ভয় বা প্রশাসনিক ঝামেলা না হওয়ার মোটামুটি নিশ্চয়তা থাকায় মহাসড়কের পাশের আবাসিক হোটেল নামের পতিতালয়গুলো একপ্রকারে হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী, ডাকাত, জুয়ারি, পতিতা ও মাদক কারবারিদের অভয়ারণ্য। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ সহ নানা কারনে এসব হোটেলে রাত্রীযাপনের জন্য সাধারণত কেউ যাতায়াত করে না।

এছাড়াও বেশকিছু গুরতর অভিযোগের কথাও জানা যায় অনুসন্ধানে, হোটেলের নির্দিষ্ট দালালচক্রের মাধ্যমে পতিতাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নানা ভাবে ফুসলিয়ে দরিদ্র নারী ও মেয়েদের ভালো চাকরি ও ইনকামের প্রলোভনে ফেলে, কিংবা বিয়ের প্রলোভনে অসহায়, বিপদগ্রস্ত নাবালিকা কিশোরী ও নারীদের এনে এসব হোটেলে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করে। এসব আবাসিকে গিয়ে ব্যবসায়ী চাকুরীজীবি, শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নাগরিকদের অনকেই নানা ভাবে ব্লাকমেইলিং এর শিকার হয়ে হারিয়েছেন সর্বস্ব। এলাকাবাসীর অভিযোগ শুধু পতিতা মাদক কারবার বা জুয়ার আসরই নয়, এসব হোটেলে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীসহ শিশু কিশোরদেরও যাতায়াত করতে দেখা যায়। তাদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসনেরও এসব অজানা নয়। প্রতিবাদ করলে উল্টো মামলা হামলা হয়রানির ভয় রয়েছে। অবৈধ টাকার জোরে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট তাদের হয়ে কাজ করে। এছাড়াও প্রতিবাদ করলে উল্টো মিথ্যা নারী নির্যাতন, ধর্ষণের মামলা এবং মাদক দিয়ে ফাঁসানোর ভয়ে কেউ সরাসরি তাদের বাঁধা দেয়ার সাহস করে না। প্রশাসনিক প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে কিভাবে এমন অপরাধ করে বহাল তবিয়তে রয়েছে সেবিষয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। আশপাশের এলাকার যুব ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে জানিয়ে, এসব অপকর্ম বন্ধে স্থানীয় এলাকাবাসী সদর আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র‌্যাব ও ডিবি সহ সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তারা ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় বিগত দুবছর ধরে কোন অভিযান না হওয়ায় অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এসব আখড়াগুলো। এর আগে হোটেল বৈশাখী, রাজধানী, অভী, কুমিল্লা হাইওয়ে সহ প্রায় প্রতিটি আবাসিক হোটেলেই অভিযান চালিয়ে অনৈতিক ব্যবসাসহ গুরুতর অপরাধ নজরে আসায় “সীলগালা” করা হয়। আটক করা হয় পতিতা, খদ্দের, মাদক কারবারি সহ আখড়ার কর্মচারীদের, জব্দ করা হয় মাদক ও যৌন উত্তেজক ঔষধ সহ বিভিন্ন মালামাল । তবে মুল হোতা হোটেল মালিক ম্যানেজাররা ধরা ছোঁয়র বাইরে থাকায় স্বল্প সময়ে আটককৃতদের জামিনে ছাড়িয়ে এনে আবারো পুরোদমে শুরুকরে অপরাধ বাণিজ্য! সীলগালা করা এসব অবৈধ হোটেলের তালাও খুলে যায় খুব অল্প সময়ে!

অনৈতিক দেহ ব্যবসাই শুধু নয়, কুমিল্লা মহারসড়ক এলাকার ডাকাত, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয় এসব আবাসিক হোটেল। তথ্য রয়েছে প্রশাসনিক অভিযান নেই অভয় দিয়ে এসব আবাসিকের কক্ষে নিয়মিত বসে জুয়া ও মাদকের আসর। অনতিবিলম্বে অবৈধ ও অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনার নিরাপদ আশ্রয়স্থল এসব আবাসিক হোটেলে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা, মুল হোতাদের গ্রেফতার ও অবৈধ ব্যবসা বন্ধে উদ্যোগ নেয়ার দাবী সচেতন নাগরিক সমাজের।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার এম এ মান্নান (বিপিএম বার) জানান, ইতিমধ্যেই এসব বিষয়ে জেনেছি এবং খুব শীঘ্রই পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাদকসহ কোন প্রকার অবৈধ ব্যবসা ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করার কোন সুযোগ নেই। ডিসি মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে এসকল অনৈতিক কর্মকান্ড ও অবৈধ ব্যবসা বন্ধে উদ্যোগ নেয়া হবে। পুলিশ বাহিনীর কেউ এসবে জড়িত থাকার কোন সুযোগ নেই, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে৷

হোমনায় এম কে আনোয়ারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মোঃ তারিকুল ইসলাম (তারেক)। প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
হোমনায় এম কে আনোয়ারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

এম কে আনোয়ার ছিলেন রাজনীতির তারকা পুরুষ, তাঁর অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করব-মো. সেলিম ভুঁইয়া এমপি

কুমিল্লার হোমনায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং হোমনা-তিতাস আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মরহুম এম কে আনোয়ারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে এ উপলক্ষে মরহুমের কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া।

মরহুম এম কে আনোয়ারের জ্যেষ্ঠ সন্তান মাহমুদ আনোয়ার কাইজার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন। পরে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়ায় অংশ নেন।

স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া এমপি বলেন, এম কে আনোয়ার শুধু হোমনা কিংবা কুমিল্লার ছিলেন না, তিনি ছিলেন জাতীয় রাজনীতির একজন তারকা পুরুষ। সততা, দৃঢ়তা ও আপসহীন নেতৃত্বের কারণে তিনি রাজনীতিতে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তাঁর মতো অভিজ্ঞ, সৎ ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ দেশের সম্পদ।

তিনি বলেন, এম কে আনোয়ার হোমনা, তিতাসসহ বৃহত্তর এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর হাত ধরে এ অঞ্চলের উন্নয়নের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা এগিয়ে নেওয়া বর্তমান নেতৃত্বের দায়িত্ব। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তাঁর রেখে যাওয়া উন্নয়ন-ভাবনা ও অসমাপ্ত কাজগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সেলিম ভুঁইয়া এমপি আরও বলেন, এম কে আনোয়ারের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে তাঁর সততা, দেশপ্রেম ও জনকল্যাণের রাজনীতি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি এলাকার মানুষের জন্য যে কাজ করে গেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। হোমনা-তিতাসের উন্নয়নে তাঁর যেসব স্বপ্ন ও কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আমি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাব।

এ সময় তিনি মরহুমের রাজনৈতিক জীবন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়ায় অংশ নেন।

মরহুম এম কে আনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতি ও প্রশাসনের এক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।

হোমনা-তিতাস ও মেঘনা অঞ্চলের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সাংগঠনিক ভূমিকার সমন্বয়ে তিনি দেশের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা ঘটনা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা তাঁকে হোমনার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহফুজুল ইসলাম, হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক (ভিপি মুকুল), সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, সহসভাপতি মো. শাহ আলম হিমেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা (চেয়ারম্যান) ও মো. সাইফুল ইসলাম (ভিপি রাজা)।

পৌর বিএনপির সভাপতি ছানাউল্লাহ সরকার, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আলহাজ আবদুল লতিফ, উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য মো. আলমগীর সরকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও হোমনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. অহিদুজ্জামান মোল্লা এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাইজুদ্দিন (শাজু)।

এ ছাড়া মরহুমের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×