শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ঢাকায় বিরোধীদের গণমিছিল আজ, আসছে নতুন কর্মসূচি

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২২, ৬:২৮ পিএম
ঢাকায় বিরোধীদের গণমিছিল আজ, আসছে নতুন কর্মসূচি
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

রাজধানীতে সরকারবিরোধী দলগুলোর গণমিছিল আজ। বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ গণমিছিল করবে বিএনপিসহ সমমনা দল ও জোটগুলো। এই কর্মসূচিতে লাখো মানুষের সমাগম ঘটিয়ে বড় শোডাউনের প্রস্তুতি রয়েছে দলগুলোর। এনিয়ে বিএনপি নেতারা দলীয় ও সমমনা দল এবং জোটগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। যেকোনো মূল্যে শান্তিপূর্ণ বড় শোডাউনের মধ্যদিয়ে যুগপৎ আন্দোলনে গতি ফেরাতে চান দলগুলোর নেতারা। ঢাকার এই গণমিছিল থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এনিয়ে গতকাল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে। সেখানে আগামীদিনের কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিএনপি’র একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলন করলেও আপাতত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে চাইছে।

 

দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা কারাবন্দি থাকায় আপাতত বড় কোনো কর্মসূচি দিচ্ছে না বিএনপি। ছোট ছোট কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ১০ দফার যুগপৎ আন্দোলন অগ্রসর ও বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের বিষয়বস্তুগুলো দেশের সকল জণগণের কাছে পৌঁছাতে চায় দলটি। সূত্র আরো জানায়, আজকের গণমিছিল থেকে ১১ই জানুয়ারি সারা দেশে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে।
এদিকে আজ দুপুর ২টায় রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় জড়ো হবেন বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দুপুর আড়াই টার দিকে শুরু হবে গণমিছিলের আনুষ্ঠানিকতা। এসময় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখানে ট্রাকের উপর অস্থায়ী মঞ্চ করে বক্তব্য রাখবেন, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। সার্বিক সহযোগিতা ও সমন্বয় করবেন ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বেনজীর আহমেদ টিটো, তাইফুল ইসলাম টিপু, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, নবী উল্লাহ নবী, রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, হাবিবুর রশীদ হাবিব, বেলাল আহমেদ, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, হায়দার আলী লেলিন, খান রবিউল ইসলাম রবি, এডভোকেট শামসুজ্জামান সুরুজ, এডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক-সদস্য সচিবরা।

এ ছাড়া ১২টি স্থানে অবস্থান নেবেন বিএনপি’র নেতারা। বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ১২টি স্পট থেকে গণমিছিল শুরু করবেন। গণমিছিলটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে মগবাজার মোড় ঘুরে ফের নয়াপল্টনে গিয়ে শেষ হবে। গণমিছিলের সামনে থাকবে মহিলা দল। নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে মহিলা দল গণমিছিল শুরু করবে। সেখানে নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র বিলকিস জাহান শিরিন, শিরিন সুলতানা, শামা ওবায়েদ, সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, রেহেনা আক্তার রানু, রাশেদা বেগম হীরা, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, নেওয়াজ হালিমা আরলী, শাম্মি আক্তার, নিলোফার চৌধুরী মনি, রাবেয়া সিরাজ, জাহানারা বেগম, অর্পনা রায় দাস। সাবেক মহিলা এমপিরাসহ সমন্বয় করবেন আহমেদ আজম খান এবং হাবিবুর রশীদ হাবিব।

এ ছাড়া একইস্থানে থাকবেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। মিছিলে থাকবেন, আমান উল্লাহ আমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মিজানুর রহমান মিনু, জয়নাল আবেদীন ফারুক, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, আমিনুল হক, নাজিম উদ্দিন আলম, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, তাবিথ আউয়াল, রফিক সিকদার, কাজী রফিক, বজলুল বাসিত আঞ্জু। সমন্বয় করবেন আমিনুল হক, হায়দার আলী লেলিন। ঢাকা ব্যাংকের সামনে থাকবে ছাত্রদল। সেখানে থাকবেন, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আজিজুল বারী হেলাল, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, আকরামুল হাসান, আবু সাঈদ, বালুল করিম চৌধুরী আবেদ, ফজলুর রহমান খোকন। সমন্বয় করবেন ইকবাল হোসেন শ্যামল। আনন্দ ভবনের সামনে থাকবে কৃষকদল। নেতৃত্বে থাকবেন শামসুজ্জামান দুদু, হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, ওয়ারেস আলী মামুন, একরামুল হক বিপ্লব, হায়দার আলী লেলিন, আব্দুল মতিন, ওবায়দুল হক নাসির, শেখ শামীম, দুলাল হোসেন, মোশাররফ হোসেন। সমন্বয় করবেন দুলাল হোসেন। হকস বে’র সামনে থাকবে স্বেচ্ছাসেবক দল। নেতৃত্বে থাকবেন হাবিব উন-নবী খান সোহেল, মীর শরাফত আলী সপু, মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল। সমন্বয় করবেন ওমর ফারুক শাফিন। ভিক্টরি হোটেল সামনে পেশাজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা দল। নেতৃত্বে থাকবেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এডভোকেট জায়নাল আবেদীন, এডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, এডভোকেট ফজলুর রহমান, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ডা. আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক সুকমল বড়ুয়া, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ডা. রফিকুল ইসলাম, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁঁইয়া, এডভোকেট জয়নাল আবেদীন মেজবা, কাদের গনি চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। সমন্বয় করবেন রবিউল ইসলাম রবি। নয়াপল্টন পার্টি অফিসের সামনে থাকবেন আফরোজা খান রীতা, মনিরুল হক চৌধুরী। সমন্বয় করবেন এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বেনজীর আহমেদ। কড়াই গোস্ত রেস্তোরাঁর সামনে থাকবে যুবদল। নেতৃত্বে থাকবেন বরকত উল্লাহ বুলু, এডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাইফুল আলম নিরব, মীর নেওয়াজ আলী। সমন্বয় করবেন বেলাল আহমেদ। চায়না মার্কেটের সামনে থাকবেন ঢাকা জেলা বিএনপি- আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বেনজির আহমেদ টিটো, খন্দকার মাশুকুর রহমান, ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন। সমন্বয় করবেন মশিউর রহমান বিপ্লব। জোনাকি হলের সামনে শ্রমিক দল। নেতৃত্বে থাকবেন মোহাম্মদ শাহজাহান, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরিফুল আলম, মাহাবুবুল হক নান্নু, হুমায়ুন কবির খান, ফিরোজ আহমেদ মামুন মোল্লা। সমন্বয় করবেন সালাউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির। পল্টন থানার উল্টো দিকে মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল ও জাসাস। নেতৃত্বে থাকবেন, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আব্দুল বারী ড্যানী, আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, আব্দুল মালেক, সালাউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, মশিউর রহমান বিপ্লব, দেবাশীষ রায় মধু। সমন্বয় করবেন আমিরুজ্জামান খান শিমুল। ফকিরাপুল দৈনিক বাংলা সড়কে ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ)। নেতৃত্বে থাকবেন এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, এডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, হারুন অর রশীদ, সালাউদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, নবী উল্লাহ নবী, রফিকুল আলম মজনু, কাজী আবুল বাশার, কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, ইঞ্জিনিয়ার ইসরাক হোসেন, আ ক ম মোজাম্মেল হক। সমন্বয় করবেন কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু।

এদিকে বিএনপি’র সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের ১০ দফা দাবি মিল রেখে পৃথকভাবে ঢাকা মহানগরীতে গণমিছিল করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল গণমিছিলের অনুমতি নিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুমতি চেয়েছেন দলটির নেতারা। ডিএমপি জানিয়েছে তাদের মিছিল করতে অনুমতি দেয়া হয়নি। রাতে জামায়াতের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনের অনুমতির অপেক্ষায় আছেন তারা।

১০ দফা ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে গণমিছিল করার কথা রয়েছে। এলডিপি এফডিসি সংলগ্ন অফিসের সামনে থেকে বেলা ৩টায় গণমিছিল নিয়ে মালিবাগ মোড়ে যাবে। এদিকে গণতন্ত্র মঞ্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল ১১ টায় সমাবেশ করে, গণমিছিল নিয়ে দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে ফের প্রেস ক্লাবের সামনে আসার কথা রয়েছে। বিএনপি’র সমমনা ১২ দলীয় জোটের নেতারা বেলা ৩টায় বিজয় নগর পানির ট্যাংকির সামনে থেকে শুরু করে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত গণমিছিল করবেন। ১১ দলীয় জোট বেলা ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব সামনে থেকে শুরু করে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত গণমিছিল করবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

এর আগে গত ১০ই ডিসেম্বর ঢাকার গোলাপবাগে বিএনপি’র বিভাগীয় সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। গত ২৪শে ডিসেম্বর বিএনপিসহ জোটের দলগুলো সব বিভাগীয় ও জেলা সদরে গণমিছিল করেছে। ঢাকাতেও ওইদিন গণমিছিল করার কথা ছিল। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের কারণে ওইদিনের ঢাকার কর্মসূচি পিছিয়ে ৩০শে ডিসেম্বর করা হয়। সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনসহ ১০ দফা দাবিতে বিএনপিসহ সমমনা ৩০টি রাজনৈতিক দল যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকায় এ গণমিছিল করছে।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×