নারী দিয়ে প্রবাসী কে ফাঁসানোর অভিযোগ ইউপি সদস্যের অফিস ভাংচুর আহত ৪
কুমিল্লার দাউদকান্দি নারীর সঙ্গে যুবকের দেখা করার ঘটনায় ইউপি সদস্যর অফিসে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অফিস ভাংচুর ও হামলাকারীদের মধ্যে ৪জন আহত হয়েছে।
আহতরা হচ্ছে, চান্দিনা উপজেলার ১নং শুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের শুহিলপুর গ্ৰামের মোঃ তারেক বাশার এর ছেলে মোঃ ওযায়ের আহমেদ আকাশ (১৮), আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মোঃ সাইদুর রহমান (২০), মোঃ আব্দুল বাতেন এর ছেলে মোঃ ফেরদৌস (১৬), শাহ্ আলম সরকারে’র ছেলে মোঃ সাইদুল ইসলাম সাহেদ (১৬)। তাদের কে স্থানীয় ইলিয়টগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুন) সকাল ১১.৩০ মিনিটের সময় চান্দিনা উপজেলার ২নং বাতাঘাসী ইউনিয়ন পরিষদের সব্দুলপুর গ্ৰামের ১নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ মাইনুদ্দিন স্বর্ণকার এর অফিস কার্যালয় উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ পূর্ব বাজার এঘটনা ঘটে।
এবিষয়ে আহত আকাশ বলেন, আমি একজন মৎস্য ব্যবসায়ী তারেক বাশার নামে আমার একটি মৎস্য আড়ৎ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মুরাদনগর রাস্তার মাথায় সিএনজি স্টেশনে আমার পরিচিত মোঃ আরিফ (২৫) নামে এক যুবককে মহিলার সঙ্গে তর্কবিতর্ক করতে দেখে এগিয়ে জানতে চাই সমস্যা কি নিয়ে? এসময় মাইনুদ্দিন মেম্বার এর কিছু পোলাপান বলেন এসম্পর্কে মাইনুদ্দিন মেম্বার জানেন, ‘তার অফিসে নিয়ে যেতে বলেছে । তাঁরা আরিফ ও মহিলাকে অফিসে নিয়ে যাওয়ার সময় পিছুনিয়ে অফিসে যাই। জানতে চাই আরিফকে কি কারনে এখানে নিয়ে এলেন? মেম্বার উত্তেজিত হয়ে বলেন তুই কে এখানে তোর কি? বলে আমাকে চর থাপ্পর মারে। এসময় আমার সাথে আসা সাইদুর রহমান সহপাঠীদের ফোন করে বিষয়টি জানালে তারা ঘটনাস্থল আসলে সাথে সাথে সাটার নামিয়ে আটকিয়ে আমার সঙ্গে তাদেরকেও মারধর শুরু করে এবং আমার সঙ্গে থাকা তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় মেম্বারসহ তার ভাগীনা।
এঘটনায় আরিফুর রহমান বলেন, আমি সৌদি প্রবাসী সৌদি আরব থাকাকালীন সময়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মুরাদনগর উপজেলার দাররা গ্ৰামের ওই নারীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেশে ফেরার পর ঐ নারীর সঙ্গে চিটাগাং দেখা করতে গেলে আমার সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ফিটিং বাজরা নিয়ে যায়। সোমবার সকালে নিয়ে যাওয়া ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ফেরত দেয়ার কথা বলে ঐ নারী ফোন করে ডেকে আনে। ইলিয়টগঞ্জ মুরাদনগর রাস্তার মাথায় সিএনজি স্টেশনে দেখা হলে পুনঃ রায় ফিটিং দেয়ার উদ্দেশ্যে নারীর সঙ্গে আরও ৪-৫জন যুবক এসে আমাকে জোরপূর্বক ভাবে মাইনুদ্দিন মেম্বার অফিসে নিয়ে যায়। আমাকে উদ্ধার করতে আশা আকাশ ও তার বন্ধুদের কে ভিতরে আটকিয়ে মারধর করে। ঘটনার পরপরই ওই নারীকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে মাইনুদ্দিন মেম্বার।
গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুন) সরেজমিনে গেলে নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকেই জানান, মাইনুদ্দিন মেম্বার ও তার পালিত পোলাপান তাদের কে আটকিয়ে মারধর করেছে শুনে উদ্ধার করতে আশা সহপাঠী বন্ধুরা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালিয়ে অফিস ভাংচুর করে। এসময় দু পক্ষের পালাটা আক্রমণে হামলাকারীদের মধ্যে ৪জন আহত হয়। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও জানান, মাইনুদ্দিন স্বর্ণকার মেম্বার হওয়ার পূর্বেও তার বিরুদ্ধে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে পার্কিংয়ে রাখা গাড়ি থেকে রাত ও দিনের বেলা তার পালিত কিশোর ছেলেগুলো দিয়ে চুরি ছিনতাই করায়। শুধু তাই নয় বিভিন্ন জায়গা থেকে এ এলাকায় ঘুরতে আশা ছেলে মেয়ে সহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা লোকদের কে ফিটিং এ ফেলে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। মূলত ৮ থেকে ১০ জন কিশোর ও তরুণের একটি চক্র দিয়ে ছিনতাই চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপকর্মের তৎপরতা চালায়। সে মেম্বার হওয়ার পর থেকেই যেন তার এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড দিন দিন বেড়েই চলেছে। মাইনুদ্দিন মেম্বারে’র শ্বশুর ডাকাত মনু এক জন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী তার বিরুদ্ধে নানা অপকর্ম সহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলায় রয়েছে। ডাকাত মনু মেয়ের জামাই হিসেবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় বলে মাইনুদ্দিন মেম্বার কে এ এলাকার অপকর্মের প্রতিবাদ কেউ করতে সাহস পায় না।

ইলিয়টগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তার এখন সম্পর্ণ বিপদ মুক্ত।
এবিষয়ে জানতে ২নং বাতাঘাসী ইউনিয়ন পরিষদের সব্দুলপুর গ্রামের ১নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোঃ মাইনুদ্দিন স্বর্ণকার এর কাছে গেলে এ সম্পর্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অনিহা প্রকাশ করেন।













