বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

নির্বাচন প্রশ্নে সংকট আছে, সংকট নেই সমাধান কোথায়, কী বলছেন নেতারা

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৮:০৪ পিএম
নির্বাচন প্রশ্নে সংকট আছে, সংকট নেই সমাধান কোথায়, কী বলছেন নেতারা
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে। ঘণ্টা বাজছে ভোটের। আগামী ১০-১১ মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে সংসদ নির্বাচন। এ নিয়ে এরইমধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-বিতর্ক। কী পদ্ধতিতে হবে নির্বাচন? দলীয় নাকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে? দুই পক্ষই অনড়। শাসক দলের নেতাদের সাফ কথা, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপি ও সমমনারা বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন নয়। এই পরিস্থিতিতে সমাধান কোথায়? কী বলছেন রাজনীতিবিদরা। আমাদের রিপোর্টার নূরে আলম জিকু এবং মো. আল-আমিন কথা বলেছেন মন্ত্রিসভার সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে।

আনিসুল হক
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিএনপি’র সঙ্গে কোনো সংলাপের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। বাংলাদেশের একটি সংবিধান আছে।

 

জাতীয় নির্বাচন কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে তা সম্পূর্ণভাবে সংবিধানে লেখা আছে। তাই সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপিসহ অন্য দলগুলোকে সংবিধান মেনেই নির্বাচন করতে হবে। আমরা আশা করছি এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশে যে নির্বাচন ব্যবস্থার সংকট চলছে এটা এখন স্পষ্ট। এটার সমাধান অবশ্যই আছে। ১০ দফায় আমরা সেটা উল্লেখ করেছি। দেশের মানুষের কাছে তা পরিষ্কার। সরকার পদত্যাগ করে, সংসদ বাতিল করে একটা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেই এই সংকট নিরসন সম্ভব। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে।

মুজিবুল হক চুন্নু
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করার মূল দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনের। তারা যদি আমাদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা চায়, তাহলে নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে আমরা কথা বলবো। এখনো আমাদের কোনো পরিকল্পনা নেই।

রাশেদ খান মেনন
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, দেশে রাজনৈতিক সংকট তো আছেই। তবে অসমাধানযোগ্য সংকট দেখছি না। বিএনপি এর আগেও বলেছিল অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। কিন্তু তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। আমার ধারণা এবারো তারা নির্বাচনে অংশ নেবে। এখন সংলাপের কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করছি না। সংলাপ কখন, কার সঙ্গে হবে সেটি পরিবেশ পরিস্থিতি বলে দিবে।

হাসানুল হক ইনু
সংবিধানের বিদ্যমান ধারাতেই আগামী নির্বাচন হবে জানিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ এর সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া এ ইস্যুতে বিএনপি’র সঙ্গে আলোচনায় বসতেও রাজি না। এমনকি বিএনপি থেকে সাংবিধানিক ধারা বানচাল করার চেষ্টা চালানো হলেও সরকার তা কঠোর হাতে প্রতিহত করবে এবং যথাসময়ে নির্বাচন করবে বলেও জানান তিনি। সংলাপের বিষয়ে তিনি বলেন, সংলাপ শুধু প্রকৃত গণতান্ত্রিক দলের সঙ্গে চলে। আগুন-সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের সঙ্গে সংলাপ হতে পারে না। যারা সংকট তৈরি করার চেষ্টায় লিপ্ত তাদের সঙ্গে সংলাপ হতে পারে না। সংবিধানের ধারার মধ্যে কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু খেয়াল করেছি এই আলোচনা করার ইচ্ছা কারও নেই। আসলে তারা আগে ক্ষমতা দখল করতে চায়, পরে অন্যকিছু। এটা ক্ষমতা দখলের খেলা চলছে, নির্বাচনের না।

শেখ শহীদুল ইসলাম
জাতীয় পার্টি-জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, আমি বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক সংকট দেখছি না। এজন্য দেখছি না যে, একটি রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন দাবি থাকতেই পারে। গতবারও তাদের দাবি ছিল। কিন্তু তারা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নির্বাচনে এসেছিল। আমি মনে করি নির্বাচনের আগে উভয় দলই সমঝোতায় আসবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। বিএনপি তো ইতিমধ্যেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করছে। একটা দল নির্বাচনে না আসলে কিছু যায় আসে না জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মওলানা ভাসানী অংশ নেননি। এতে তো ১৯৭০ সালের নির্বাচন অবৈধ হয়ে যায়নি। তারা যদি এটাকে ব্যাপকতর করতে পারে যে আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না, তাহলে সংকট তৈরি হবে। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক সংলাপ না হলেও অনানুষ্ঠানিক সংলাপ চলছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বিএনপি ও অন্য দলের নেতাদের সংলাপ চলছে। আমরা যতদূর জানি তারা সমঝোতায় প্রায় পৌঁছে গিয়েছে।

রুহিন হোসেন প্রিন্স
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দেশে রাজনৈতিক সংকট রয়েছে। এই সংকট নিরসনে দরকার ভালো নির্বাচন। আর ভালো নির্বাচন আয়োজন করতে দরকার নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা। বাংলাদেশের নির্বাচন পদ্ধতিতে ভালো নির্বাচন আশা করা যায় না। অতীত ও বর্তমানে প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, কমিউনিস্ট পার্টি বা অন্য দল ক্ষমতায় থাকলে তাদের অধীনে ভালো নির্বাচন আশা করা যায় না। কারণ, আমাদের দেশে ওই ধরনের প্রতিষ্ঠানই গড়ে ওঠেনি। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে নির্বাচনকালীন সময়ে একটি নির্দলীয় তদারকি সরকার জরুরি। এই বিষয়ে সকল দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা দরকার।

রেদোয়ান আহমেদ
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার গত ১৫ বছরে প্রতিটি সেক্টরে তার নিজস্ব কাঠোমা তৈরি করেছে। অনেক কালাকানুন তৈরি করেছে। এখন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলে ওই সমস্ত কালাকানুন থেকে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের মুক্ত রাখতে পারবে। যার কারণে সরকার নিরপেক্ষ হলে, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেও অনেক সংকটাপন্ন পরিস্থিতি রয়ে যাবে। তারপরেও দেশের মানুষ অন্ততপক্ষে ভোট দিতে পারবে।

মাহমুদুর রহমান মান্না
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নির্বাচনী সংকট সরকার সৃষ্টি করেছে। তাদেরকেই এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে। একটু সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সেই বার্তা সরকারকে দিয়ে আসছি।

আন্দালিব রহমান পার্থ
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে আগে সবাইকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার অনুধাবন করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনোভাবেই দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না।

নুরুল হক নুর
গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেন, গত ৫০ বছরে আমরা একটা বিতর্কবিহীন নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি। একটা স্বাধীন জাতি হিসেবে এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য এবং লজ্জার। বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে তুলে দিয়ে একটা সংকট তৈরি করেছে। এখন বিরোধী দলগুলো বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে পারে আমাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠু নির্বাচন। সংকট উত্তরণে এটা একটা উত্তম পন্থা। কিন্তু দেশের যে বর্তমান সংকট সেটা শুধুমাত্র রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনীতিক, সামাজিক, ভূরাজনৈতিক সবমিলিয়ে এটা চরম সংকট আছে। এখান থেকে উত্তরণে আমরা মনে করি জাতীয় সরকার হতে পারে। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে অন্তত ১-২ বছরের জন্য একটা জাতীয় সরকার কাজ করলে সংকট নিরসন সম্ভব হবে। জাতীয় সরকারের কাজ হচ্ছে রাষ্ট্রের যে ভঙ্গুর অবস্থা, এটাকে টেনে তোলা। কারণ আমাদের অর্থনীতি এখন খাদের কিনারে। ভূরাজনীতিতে বিভিন্ন দেশ এখন আমাদের দেশে আসছে, কথা বলছে। আমরা এটাকে কাজে লাগাতে পারি।

মাওলানা ইউনুছ আহমাদ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ মানবজমিনকে বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের মাঝে চরম আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী যে ব্যবস্থা বা সুশাসনের যে ব্যবস্থা- এটা কিন্তু ধসে গেছে। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনার অধীনে যে নির্বাচন হচ্ছে, তার প্রতি মানুষের আর এক বিন্দু আস্থা নেই। কারণ বিগত নির্বাচনগুলোতে মানুষ ভোট দিতে গিয়ে ভোট দিতে পারেনি। তো মানুষের ভেতরে এই বোধটা কাজ করছে যে, আমি ভোট দিতে যাব কিসের জন্য- আমাকে তো ভোট দিতে দেয়া হবে না। এই সংকট সমাধানে জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে সকল দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করা জনদাবিতে পরিণত হয়েছে। এই জাতীয় সরকার সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করবে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সাজিয়ে অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

মুহাম্মদ ইবরাহিম
কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন একেবারে অসম্ভব ব্যাপার। গত ১৪ বছরে রাজনীতিতে দূষণের মাত্রা এত বেশি হয়েছেন যে, এটাকে ২/৩ মাসের একটা কেয়ারটেকার সরকার দিয়ে শুদ্ধ করা প্রায় অসম্ভব। তারপরেও আমাদের বিশ্বাস যদি ক্ষমতাসীন দলসহ সকলেই মিলে সহযোগিতা করে তাহলে কিছুটা সুষ্ঠু, কিছুটা স্বচ্ছ একটা নির্বাচন সম্ভব। তিনি বলেন, এখন যারা নির্বাচন পরিচালনা করছেন তারা বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের আজ্ঞাবহ এবং সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তি। জনগণের আজ্ঞাবহ, জনগণের সুবিধাপ্রাপ্ত বা জনগণকে ভালোবাসে এমন লোক খুবই কম। সেজন্য তারা বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারকে ক্ষমতায় রাখার পক্ষে কাজ করছেন। এবং এজন্য যা করার তারা তা করবে। আর এই সরকারও সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের এত বেশি সুবিধা দিয়েছেন যে, বিশেষ করে যারা জ্যেষ্ঠ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বেশি সুবিধা দিয়েছেন। এজন্য তারা ও বর্তমান সরকারকে যেকোনো মূল্যে টিকিয়ে রাখতে চায়। কতিপয় ব্যতিক্রম ছাড়া বেশির ভাগই সরকারের পক্ষে কাজ করছেন। এজন্য বর্তমান সরকারে অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। বর্তমান নির্বাচন কমিশনটিও অনেক ক্ষেত্রে সরকারের আজ্ঞাবহ। সুতরাং বর্তমান সরকার পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

মোস্তফা জালাল হায়দার
জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনোভাবেই নির্বাচন করা সম্ভব না। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব না। এজন্য আমরা যুগপৎ আন্দোলন করে আসছি। আমাদের দাবিগুলো অনেক আগে থেকেই জানিয়ে আসছি। দেশকে রক্ষা ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে কেয়ারটেকার সরকারের বিকল্প নেই। চলমান সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন।

জোনায়েদ সাকি
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। সরকারের পদত্যাগের মধ্যেই সমাধান আছে। এই সরকার পদত্যাগ করলে একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া সম্ভব। এজন্য বাংলাদেশে রাষ্ট্র ক্ষমতার রূপান্তর লাগবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার লাগবে। তখনই জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা হবে।

মতিউর রহমান আকন্দ
জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের সংকট রয়েছে। সংকট সমাধানের জন্য প্রয়োজন কেয়ারটেকার সরকার। কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠায় সংবিধান বাধা হবে না।

আহমদ আবদুল কাদের
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে দেশে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এই দেশের মানুষ একটু সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। তবে এই সরকারের অধীনে তা সম্ভব নয়। আমরা আগে থেকেই বলে আসছি- নির্বাচনের ৩ মাস আগে বর্তমান সরকারকে বিদায় নিতে হবে। নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। অতীতের মতো সরকারের কলাকৌশল আর টালবাহানার নির্বাচন জনগণ চায় না।

সূত্র : মানবজমিন 

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×