শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

নয়াপল্টনেই অনড় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২, ৬:৪৪ পিএম
নয়াপল্টনেই অনড় বিএনপি
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

১০ই ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশ করবে বিএনপি। সমাবেশের স্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়াচ্ছে উত্তাপ। বিএনপি চাচ্ছে নয়াপল্টন। অন্যদিকে নানা শর্ত দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসমাবেশের অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে অনড় বিএনপি। যেকোনে মূল্যে নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে চায় তারা। এমনকি অনুমতি না মিললেও। ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন দলটির নেতারা। দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন-সরকার নয়াপল্টনে অনুমতি না দিলেও নির্দিষ্ট দিনে, নির্ধারিত স্থানে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

­

তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার বিষয়টিকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে দেখছেন তারা। এদিকে ১০ই ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশের স্থান নিয়ে আলোচনা করেছে স্থায়ী কমিটি। অনুমতি পাওয়ার একদিন আগেই এ বিষয়ে বৈঠক করেন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। সেখানে নয়াপল্টনকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এদিকে গত মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ করার জন্য চিঠি পায় বিএনপি। সেই বিষয়টিকেও আমলে রাখছেন দলের শীর্ষ নেতারা। এনিয়ে স্থায়ী কমিটির আগামী বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা করে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা দেয়া হবেও বলে জানিয়েছেন স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য।
বিএনপির ঢাকার সমাবেশ নয়াপল্টনেই হবে জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা সাফ জানিয়ে দিয়েছি নয়াপল্টনেই সমাবেশ হবে। আমরা জনগণকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করব। তাদের ভাত ও ভোটের অধিকার ফেরত দিতে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করছি। যে আন্দোলনে আপনারা অযথা যেভাবে অন্যায়-অত্যাচার করছেন, সেই কাজগুলো গণতন্ত্রের জন্য ভালো না। আপনাদের জন্য ভালো না, রাষ্ট্রের জন্য ভালো না। তিনি বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই-আমরা একমাস আগে পার্টির তরফ থেকে বলে দিয়েছি যে, আমরা নয়াপল্টনে বিভাগীয় সমাবেশ করতে চাই। এর আগেও আটটি সমাবেশ হয়েছে, মহাসমাবেশ হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নয়াপল্টনে সমাবেশ করেছেন। কোনো দিন সমস্যা হয়নি। সুতরাং ঘোষণা দিয়েছি সমাবেশ করব। বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন-বিএনপি ২ মাস আগে থেকেই নয়াপল্টনে গণসমাবেশ করার কথা বলে আসছে। এ লক্ষ্যে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। আমরা নয়াপল্টনে গণসমাবেশ করতে ২ বার করে ডিএমপিকে চিঠি দিয়েছি। চিঠিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আমরা উল্লেখ করিনি। আমরা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছি নয়াপল্টনেই সমাবেশ করবে বিএনপি। অনুমতি দেয়া না দেয়া সরকারের ব্যাপার।

নয়াপল্টনে অনুমতি না দেয়ার কোনে যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। কারণ বিএনপি অসংখ্য বার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেছে। আগে সমাবেশের অনুমতি দিলে এখন কেন দিবে না? নাকি সরকারের অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নয়াপল্টনেই সমাবেশ করতে চাই। ডিএমপিকে দেয়া চিঠিতে শুধুমাত্র নয়াপল্টন উল্লেখ ছিল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনুমতির বিষয়টি নিয়ে স্থায়ী কমিটি বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন। এখন পর্যন্ত আমাদের গণসমাবেশের স্থান নয়াপল্টনই। এদিকে ১০ই ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশে কী হবে এনিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতির মাঠ। প্রভাব পড়েছে বিরোধী শিবিরেও। যদিও একেক পক্ষ বিভিন্ন রকমের বার্তা দিয়ে আসছে। বিএনপি’র নেতারা বলছেন- নয়াপল্টনের সমাবেশ থেকে এক দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের সূচনা করতে চান তারা। শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রামের রূপরেখা ঘোষণা হবে এমনটাও বলছেন কেউ কেউ। যদিও এই সমাবেশ থেকে দলটির হাইকমান্ড কী বার্তা দিবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা বলছেন- আগামী ৫ই ডিসেম্বরের মধ্যে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম কর্মসূচি চূড়ান্ত করবে। সে অনুযায়ী বাস্তবায়ন করবেন নেতাকর্মীরা। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা না করে হুট করেই হার্ডলাইনে যাবে না তারা। অনেকেই বলছেন- ১০ই ডিসেম্বর নয়াপল্টন থেকে সরকারকে হুঁশিয়ারি বার্তা দেয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি-দাওয়া না মানলে যুগপৎভাবে আন্দোলন বাস্তবায়ন করা হবে। সমমনা দলগুলো নিয়ে সরকার পতনের অংশ হিসেবে রাজপথ বেছে নিবেন তারা। এদিকে, নয়াপল্টনের সমাবেশ সফল করতে বিষয়ভিত্তিক সেল গঠন করেছেন দলটির নেতারা। ধর্মঘট, সরকারের দলীয় বাধাবিপত্তির বিষয়টিও আমলে রাখছেন তারা। কোনো ধরনের বাধাবিপত্তি না থাকলে ১০ তারিখ সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত গণসমাবেশ করবেন তারা। দায়িত্বে থাকা নেতারা বলছেন, সরকার কোনো বাধা না দিলে সমাবেশ হবে একদিনের। অন্যদিকে ধর্মঘট কিংবা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে বিকল্প চিন্তা রয়েছে। এক্ষেত্রে সমাবেশ সফল করতে দু’একদিন আগেই ঢাকায় অবস্থান নিবে দলটির নেতাকর্মীরা। প্রচার প্রচারণায়ও জোর দিয়েছে দলটি। বিএনপি’র এই সমাবেশ ঘিরে কোনো পক্ষ যেন জনগণকে বিভ্রান্তি করতে না পারে কিংবা কোনো ভুল বার্তা না ছড়ায় তার জন্য বিএনপি’র শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে দায়িত্বে রাখা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, ঢাকার সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। অন্যথায় একদফার আন্দোলন শুরু হবে। সেই আন্দোলন সফলে রক্ত দেয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। রাজপথে বুকের তাজারক্ত দেব, তবু শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। সরকার ও সরকারি দলের নেতা-মন্ত্রীরা ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ ঘিরে পরিবহন ধর্মঘট হবে না বলে আসলেও তাদের সমালোচনা করে আমান বলেন, সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের মুখে এ কথা বললেও তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। ঢাকার সমাবেশ বানচাল করার জন্য অতীতের ন্যায় তারা ফের রাস্তায় গাড়িতে আগুন দিয়ে বিএনপি’র ওপর দায় চাপানোর পরিকল্পনা করছে। কিন্তু বিএনপি কোনো ফাঁদে পা দেবে না। অন্য বিভাগীয় গণসমাবেশগুলোর মতো ঢাকার সমাবেশও শান্তিপূর্ণ হবে। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ১০ই ডিসেম্বর ঢাকায় নয়াপল্টনেই গণসমাবেশ হবে।

জনস্বার্থে কর্মসূচি আসবে। তবে ১০ তারিখই সরকার পরিবর্তনের তারিখ নয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে ঢাকার সমাবেশ থেকে দিকনির্দেশনা দেয়া হবে। ঢাকার গণসমাবেশে সর্বোচ্চ লোকসমাগম ঘটাতে চায় বিএনপি। এজন্য ঢাকা বিভাগের সব কয়টি জেলার নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে একাধিকবার বৈঠক করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যেকোনো মূল্যে গণসমাবেশ সফল করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। সরকারের বিভিন্ন বাধার বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতেও বার্তা দিয়েছেন তিনি। হাইকমান্ডের নির্দেশনা পেয়ে কর্মচাঞ্চল্য হয়ে উঠেছেন বিভিন্নস্তরের নেতারা। বড় শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছেন ঢাকা মহানগর বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। ঢাকার এই গণসমাবেশে সারা দেশ থেকে বিএনপি’র নেতাকর্মীরাও অংশ নিবেন বলে জানা গেছে। গণসমাবেশ সফল করতে ৭টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×