শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

পুলিশ-জামায়াত সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২২, ৬:৩৫ পিএম
পুলিশ-জামায়াত সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

বিএনপি’র সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে পূর্ব-ঘোষিত কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের নেতাকর্মীরা রাজধানীর মালিবাগ এলাকাসহ পৃথকস্থানে গণমিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশ জামায়াতের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। তারা হলেন- আব্দুস সোবহান (৭০) ও আল-আমিন (৩০)। বাকিদের নাম জানা যায়নি। পরে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ধরতে পুলিশ আশপাশের সড়কে ও গলিতে অভিযান চালায়। এতে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

পুলিশ দাবি করেছে, জামায়াত পুলিশের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করেছে। এতে ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তাদের রাজারবাগ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে জামায়াত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, পুলিশ সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল করার জন্য গতকাল পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু, পুলিশ তাদের আবেদন খারিজ করে দেয়। অনুমতি না পাওয়ায় তারা সেখান থেকেই মিছিল করতে পারে বলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা ছিল।

জামায়াত মিছিল বের করতে পারে এমন আশঙ্কায় সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট, পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা, বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। ওই এলাকায় প্রায় ৭ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করে। এমনকি গলিতেও পুলিশের সাদা পোশাকে তল্লাশি টিম অবস্থান করে। সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে গতকাল বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে পূর্বঘোষিত ‘গণমিছিল’ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। প্রায় কাছাকাছি সময়ে জামায়াতও ‘গণমিছিল’ করে, যেখানে দলটির আমীরের মুক্তি, দেশে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা’সহ ১০ দফা দাবি জানানো হয়।

বায়তুল মোকাররমে তারা মিছিল না করে রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় মিছিল বের করে। জুমার নামাজের পরেই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা মালিবাগের হোসাফ টাওয়ারের পাশের মসজিদ থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি কিছুদূর এগিয়ে গেলে পুলিশ দলটির ব্যানার ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু, পরে দলটির নেতাকর্মীরা পুলিশের কাছে ব্যানারটি ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হন। ব্যানার ছিনিয়ে নিতে আসা পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুনরায় ব্যানার নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা মৌচাকের দিকে এগিয়ে যায়। ওই মিছিলটি কিছুদূর যাওয়ার পরেই ফ্লাইওভারের পাশে দাঁড়ানো পুলিশের সদস্যরা তাদের ব্যানার কেড়ে নেয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ টিয়ার সেল ও রাবাব বুলেট মেরে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে ওই এলাকা থেকে চলে যান দলটির নেতাকর্মীরা।

মিছিল চলাকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে যে ১০ দফা দাবি করা হয়েছে সেই ১০ দফা জনগণের দফা। এই সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে। তারা জামায়াতের ওপর জুলুম- নির্যাতন চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে তারা জামায়াতে ইসলামীর আমীরকে গ্রেপ্তার করেছে। অবিলম্বে তাদের ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে এবং কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন দিতে হবে। নইলে জনগণ কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের বিদায় নিতে বাধ্য করবে।

ঘটনাস্থলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ডিসি) শাহেন শাহ মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, রাজধানী ঢাকায় জামায়াতের কোনো মিছিল করার অনুমতি ছিল না। কিন্তু, তারা মালিবাগ মোড়ে হোসাফ টাওয়ারের সঙ্গের মসজিদে নামাজ শেষে জামায়াতের ব্যানারে দলটির নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে, প্রায় একই সময় মালিবাগের রেলগেট এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত আরেকটি মিছিল বের করে। মিছিলটি খিলগাঁও তালতলায় গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এদেশের জনগণের ভোট ও ভাতের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের জনগণের সকল অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সামনের কাতারে থেকে জামায়াত জনগণকে সাথে নিয়ে দেশে ঘোষিত ১০ দফা বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ। জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে অবিলম্বে দেশে একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করে, জনগণের সমর্থন ও প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা ভেবেছিল জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দিলে, মামলা-হামলা করে জামায়াতকে শেষ করে দিবে। অথচ এতো বাধা ও প্রতিকূলতার মাঝেও জনগণ জামায়াতকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। জামায়াত বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক সংগঠন। অথচ সরকার জামায়াতকে স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দিচ্ছে না। কর্মসূচি পালনের জন্য বারবার আবেদন করার পরও প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুযোগ বা পরিবেশ না দেয়া চরম মানবাধিকার ও আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন বলে বিশ্বের সচেতন মহল মনে করে। গণমিছিল থেকে আমরা আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমীর আ. ন. ম. শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহ-সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কারাবন্দি সকল সম্মানিত আলেম-ওলামাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

গণমিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন, ড. মোবারক হোসাইন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান প্রমুখ।

এদিকে, গতকাল দুপুরে পুরানাপল্টন এলাকায় সুরমা টাওয়ারের পাশে ব্যানার ছাড়াই কিছু লোকজন একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সেখান থেকে ৩ জনকে আটক করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন পল্টন থানার ওসি সালাউদ্দিন মিয়া।

অপরদিকে, নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জামায়াত গতকাল গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠিয়েছে। বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্র ঘোষিত ৩০শে ডিসেম্বরের গণমিছিল শান্তিপূর্ণভাবে সফল করায় আমি নগরবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ পৃথক পৃথকভাবে গণমিছিলের আয়োজন করে। পূর্ব ঘোষিত শান্তিপূর্ণ এই মিছিলে সরকার বাধা দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুরু থেকে বলে আসছি, জামায়াত নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশ্বাসী। আমরা লক্ষ্য করেছি, জামায়াতের শান্তিপূর্ণ মিছিল শুরু হওয়ার পর কিছু অতি উৎসাহী পুলিশ বাধা দেয় এবং মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের উস্কানি সত্ত্বেও জামায়াত শান্তিপূর্ণভাবে গণমিছিলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ হলো জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা। কিন্তু, তা না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে এবং সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করছে এবং জামায়াত হামলা করেছে বলে মিথ্যা অপবাদ রচনা করছে। জামায়াত কখনো হামলা সংঘাতের রাজনীতি করে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, জামায়াত একটি বৈধ গণতান্ত্রিক-নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ ব্যতীত প্রত্যেক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত অংশগ্রহণ করে এবং প্রত্যেক সংসদেই জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব ছিল। প্রত্যেক আসনেই জামায়াত প্রার্থীগণ লক্ষাধিক ভোট পেয়েছেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিকেরই সভা-সমাবেশ ও মিছিল করার অধিকার আছে। এই অধিকারে হস্তক্ষেপ করে আপনারা জনগণ ও সংবিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। তিনি অবিলম্বে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ গ্রেপ্তারকৃত সকল নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। সেই সাথে জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত ১০ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×