শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্বের এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের নাম তারেক রহমান

বরুড়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:৩৩ পিএম
প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্বের এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের নাম তারেক রহমান
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্বের এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের নাম তারেক রহমান

লেখক- সাংবাদিক
ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হাসান, লন্ডন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রযুক্তির ব্যবহারকে কেবল আধুনিক কৌশল নয়, বরং নেতৃত্বের অন্যতম শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডনে অবস্থান করেও তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। নিষেধাজ্ঞা, সরকারি বাধা কিংবা প্রচলিত গণমাধ্যমের দরজা বন্ধ থাকলেও প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে তিনি দলের কর্মী-সমর্থক ও প্রবাসীদের একত্রিত করেছেন। এভাবেই লন্ডন থেকে গড়ে উঠেছে প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্বের এক যুগান্তকারী অধ্যায়।

২০১৫ সালে হাইকোর্ট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য, বিবৃতি ও কর্মকাণ্ডের প্রচার ও প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সরকারের ধারণা ছিল—তাঁর বার্তা সীমিত রাখা গেলে রাজনৈতিক প্রভাবও কমবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে তার উল্টো। লন্ডন থেকে তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গণআন্দোলনের আহ্বান ও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরতে থাকেন। তাঁর এই উদ্যোগ সরকারের পরিকল্পিত চাপ ও বাধাকে ব্যর্থ প্রমাণ করে।

সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নানা ধরনের বাধা, জটিল নিয়মকানুন ও কৌশল ব্যবহার করে তারেক রহমানের বার্তা সীমিত করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু তিনি এসব প্রতিবন্ধকতার বিষয় আগে থেকেই ভেবে এগিয়ে গিয়েছিলেন। সরকারি চেষ্টার পরও তাঁর নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি জনগণের কাছে পৌঁছে যায়—যা প্রমাণ করে, প্রকৃত নেতৃত্ব কোনো ভৌগোলিক বা প্রশাসনিক বাধায় থেমে থাকে না।

২০১৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার মূলধারার গণমাধ্যমগুলোকে কঠোরভাবে তারেক রহমানের সংবাদ প্রচার থেকে বিরত রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশি মিডিয়াতেও সেই চাপের প্রভাব পড়ে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুক্তরাজ্যে তাঁর তথ্যপ্রযুক্তি টিমের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজস্ব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তারেক রহমানের সরাসরি পরামর্শে এর নামকরণ করা হয় “ইউএনএন অনলাইন টিভি”, আর স্লোগান নির্ধারণ করা হয়—“গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার কথা বলে।”

২০১৪ সালে তারেক রহমানের পরামর্শে তাঁর তথ্যপ্রযুক্তি টিম নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপের উদ্যোগ নেয়। তখনো ফেসবুক, ইউটিউব বা টিকটকের মতো লাইভ স্ট্রিমিং সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছেনি। প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও “ইউএনএন অ্যাপ” চালু করে লন্ডন থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পথ তৈরি করা হয়। এটি ছিল শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নয়; বরং দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইতালিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের চুক্তি করে, লন্ডন থেকেই অনলাইন টিভির প্ল্যাটফর্ম এবং অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপ তৈরি করা হয়—যা ছিল যুগান্তকারী ও সাহসী পদক্ষেপ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৪ সালের আগে কোনো বাংলাদেশি চ্যানেল অ্যাপল অ্যাপস্টোরে ডাউনলোডের সুযোগ পায়নি। সেই সময় অ্যাপল অ্যাপে লাইভ স্ট্রিমিং চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্লেয়ার কোড নিয়ে দেশে কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ করত না। ফলে ইউএনএন টিভির আইওএস সংস্করণের জন্য লাইভ স্ট্রিমিং প্লেয়ার কোড বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয় অনলাইন ভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের এক আইটি বিশেষজ্ঞ। তাঁদের সহায়তায় প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান সম্ভব হয় এবং লন্ডন থেকে সরাসরি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় লাইভ সম্প্রচার নিশ্চিত করা যায়।

হাসিনা সরকারের চাপ ও বাধা উপেক্ষা করে দেশের জনগণের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে লন্ডনে তারেক রহমানের একটি টিম বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। কিংস্টনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন—ক্যামেরা কেনা, রেকর্ডিং স্টুডিও ও নিউজরুম স্থাপন করা এবং বাংলাদেশ থেকে সংযোগ স্থাপনের কৌশল নির্ধারণ করা।

পরবর্তীতে ব্রিকলেনে একটি অফিস ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়। সরকারি দলের নজর এড়িয়ে সেই অফিস থেকে নিউজরুম, রেকর্ডিং স্টুডিও এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর মাধ্যমে লন্ডন থেকে সরাসরি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যে বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মীসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তারেক রহমান। পুরো অনুষ্ঠানটি ইউএনএন অনলাইন টিভি সম্প্রচার করেছিল, যদিও স্থানীয় কোনো মিডিয়া সেই সময় কভার করতে আসে নি।

পরবর্তীতে এই আর্কাইভ ভিডিওটি বিএনপির প্রচারণায় অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়। এছাড়াও, যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত আরও অনেক অনুষ্ঠান সরাসরি অনলাইনে সম্প্রচার করা হয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘরে বসেই দেখতে পেরেছেন।

দেশের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে লন্ডন থেকে তারেক রহমানের সমাবেশের বক্তব্য অনলাইন টিভির স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইটিভিতে সম্প্রচারিত করা হয়েছিল। এটি আওয়ামী সরকারের চোখে কাঁটার মতো ছিল, ফলে বাংলাদেশে ইটিভি হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এই বাধা-বিপত্তি তাকে থামাতে পারেনি, বরং বিএনপির কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

তারেক রহমানের এই ডিজিটাল কৌশল কেবল দলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করেনি, প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যেও নতুন রাজনৈতিক চেতনা সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে। তিনি অদৃশ্য এক সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন, যা ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে ঐক্যের স্রোত বইয়ে দেয়।

তারেক রহমানের পরামর্শে লন্ডনে আরও একটি অনলাইন মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম চালু হয়, যার নাম এটিভি। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিদিনের সংবাদ, টকশো এবং নানা ধরণের অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়। অত্যাধুনিক ডিভাইস ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ বিশ্বের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় এটিভি(আন্দোলন টিভি)। শুধু সংবাদ প্রচারেই নয়, যুক্তরাজ্যে বিএনপির বিভিন্ন সমাবেশ, আলোচনা সভা এবং কর্মসূচি সরাসরি সম্প্রচার করতে শুরু করে এই প্ল্যাটফর্ম। ফলে লন্ডন থেকে আয়োজিত রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে পৌঁছে যেতে থাকে।

 

মেটা ও ইউটিউব লাইভ চালু হওয়ার পর তাঁর এই বৈশ্বিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হয়। প্রতিটি সভা, সমাবেশ ও আলোচনা তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালনা করেন। তাঁর নেতৃত্ব প্রমাণ করে—যেখানে প্রচলিত গণমাধ্যমের দরজা বন্ধ, সেখানে বিকল্প পথ খুঁজে নেওয়ার সাহসই প্রকৃত নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য।

আজও তিনি জুমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দলের কেন্দ্রীয় ও প্রবাসী নেতৃত্বকে সক্রিয় রাখছেন। প্রযুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগিয়ে তিনি শুধু রাজনীতি পরিচালনা করছেন না, নতুন প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করছেন—যে কোনো পরিস্থিতিতে দেশ ও দলের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা সম্ভব।

তারেক রহমান শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বেই নয়, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের ক্ষেত্রেও দূরদর্শী পরিকল্পনাকারী। ২০০১–২০০৫ সালের বিএনপি সরকারের সময় তিনি দেশের প্রযুক্তি উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে শক্তিশালী করার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফরে তিনি মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান, যা দেশের প্রযুক্তি খাতের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে ওঠে।

বিল গেটসের সেই সফর বাংলাদেশের জন্য ছিল এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। বিল গেটস বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মকে আইসিটি শিক্ষায় অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দেন এবং বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

তারেক রহমানের এই দূরদর্শী উদ্যোগ প্রমাণ করে, তিনি শুধু রাজনীতির ময়দানে সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং প্রযুক্তি, আধুনিকায়ন ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের কথা ভেবেছিলেন। আজকের বাংলাদেশে প্রযুক্তি খাত যেভাবে বিকশিত হচ্ছে, তার মূল প্রেরণা নিহিত রয়েছে সেই সময়কার পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ভেতরে।

২০০৪ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি অনলাইন কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামোগত উন্নয়নকে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করা। এ আয়োজনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান।

এই কনফারেন্সটি আয়োজন করেছিল ওয়েবভিত্তিক সংগঠন “কবিতা ও গান ডটকম”। তারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রথম অনলাইন বৈঠকের ব্যবস্থা করে। নিউইয়র্কে বসে সংগঠনটির পক্ষ থেকে নানা প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করা হয় তারেক রহমানকে, আর তিনি বনানীতে চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে সরাসরি প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তৎকালীন বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বার্তা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তখনো সোশ্যাল মিডিয়া, জুম কিংবা ইউটিউবের মতো আধুনিক প্ল্যাটফর্মগুলো চালু হয়নি। সুতরাং, সেই সময়ের এই উদ্যোগ ছিল নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা প্রমাণ করে—তারেক রহমান সবসময় সময়ের চেয়ে এগিয়ে ভাবতে পারতেন।

২০০৫ সালে জেলা পর্যায়ে প্রোগ্রামারদের উৎসাহিত করতে এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে প্রসারিত করতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হলো “মাই পাবনা ডটকম”, যা ছিল পাবনা জেলার একটি অনলাইন সংবাদ ও তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট।

 

এটি বাংলাদেশের প্রাথমিক অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর একটি, যার মাধ্যমে জেলা পর্যায়ের খবর, তথ্য ও স্থানীয় প্রোগ্রামারদের কাজ তুলে ধরা হতো। তারেক রহমানের অনুপ্রেরণা এবং প্রযুক্তি-সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি এই ধরনের উদ্যোগকে গতিশীল করেছিল। ফলে, ডিজিটাল গণমাধ্যমের চর্চা শুধু রাজধানী নির্ভর না থেকে ধীরে ধীরে জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে , শুধু তাই নয়, তারেক রহমান নিজে উপস্থিত হয়ে মাই পাবনা ডট কম এর উদ্বোধন করেন, যা স্থানীয় যুব সমাজকে অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ ও ডিজিটাল প্রজন্মের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।

লন্ডন থেকে প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্ব দিয়ে তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন, প্রকৃত নেতৃত্ব কোনো ভৌগোলিক সীমারেখায় আবদ্ধ থাকে না। তিনি বিএনপিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের একত্রিত করছেন এবং তরুণদের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে উদ্বুদ্ধ করছেন। নিঃসন্দেহে, তারেক রহমানের এই দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া বিশ্লেষকরা মনে করেন, লন্ডন থেকে প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে তারেক রহমান যে উদাহরণ স্থাপন করেছেন, তা ভবিষ্যতের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া

মোঃ তারিকুল ইসলাম (তারেক), স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া

কুমিল্লা-২ আসন থেকে সংসদে গিয়ে এবার শিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে শিক্ষক নেতা।
জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিসহ ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কণ্ঠভোটে প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হিসেবে সেলিম ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ মোট নয়জন সদস্য রয়েছেন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সংসদীয় নজরদারির আওতায় রাখার ক্ষেত্রে কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষকতা থেকে সংসদ, এবার শিক্ষা খাতের নীতিনির্ধারণে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচিত তাঁর শিক্ষক পরিচয়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন, বাড়িভাড়া, অবসর সুবিধা, উৎসব ভাতা এবং চাকরি জাতীয়করণের মতো বিষয় নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন।

শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই এখন তাঁর নতুন দায়িত্বের অন্যতম বড় সম্পদ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষক সমাজের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন সেলিম ভূঁইয়া। শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি ও আন্দোলনে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁকে শিক্ষক নেতার পরিচিতি এনে দেয়। রাজনৈতিক ও শিক্ষক আন্দোলনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময়ে মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগ করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসন—হোমনা ও তিতাস—থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।

সংসদ সদস্য হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। একই সঙ্গে যে খাতের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি যুক্ত, সেই শিক্ষা খাতের সংসদীয় নজরদারির দায়িত্বও এখন তাঁর কাঁধে।

হোমনা-তিতাসে প্রত্যাশা
সেলিম ভূঁইয়ার নতুন দায়িত্বকে হোমনা-তিতাসের মানুষও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শিক্ষকতা ও শিক্ষক আন্দোলনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষক-কর্মচারীদের সমস্যা সমাধান এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা, শিক্ষক সংকট, শিক্ষার মান, বেসরকারি শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সংসদীয় কমিটির আলোচনায় গুরুত্ব পাবে—এমন প্রত্যাশা শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলের।

কুমিল্লা-২ আসনের একজন শিক্ষক নেতা হিসেবে সংসদে যাত্রা শুরু করে এবার দেশের শিক্ষা খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেলেন অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। ফলে তাঁর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—দীর্ঘ শিক্ষকতা ও আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে কীভাবে সংসদীয় দায়িত্বে কাজে লাগিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা যায়।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন’র সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১০ পিএম
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন’র সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন এর মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নতুন সদস্য অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি বেশ গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করার পাশাপাশি সৃষ্ট যেকোনো সমস্যা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করে দেশ ও জাতির কল্যাণে শিক্ষাখাতে নিরলসভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ একটি হলরুমে এ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন এর আহবায়ক মো. আমির হোসাইন এর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সাংবাদিক মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন এর যুগ্ম আহবায়ক কাজী এমদাদুল হক মাছুম, আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. আবুল খায়ের, মো. ফখরুল ইসলাম মজুমদার, মো. আলমগীর হোসেন, মো. সাইফুল ইসলাম, অ্যাসোসিয়েশন এর সদস্য মাওলানা মো. হাসান, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মো. আব্দুল গণি, মো. আনোয়ার হোসেন, শাহিনুর আক্তার, মো. আহসান উল্যাহ, মো. এনামুল হক, মো. মীর হোসেন, কাজী নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

সভায় সরকারি বিধি-মোতাবেক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ব্যাপারে উপস্থিত সদস্যরা দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন প্রাপ্তির লক্ষ্যে বিধি-মোতাবেক প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সংযুক্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন আবেদন করার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেন সকলে। নিবন্ধন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন কাজে সার্বিক সহযোগিতা সহ সকলে যাতে একযোগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই অ্যাসোসিয়েশন এর যুগ্ম আহবায়ক মো. ওয়াছিম উদ্দিনকে আহবায়ক ও সদস্য সচিব সাংবাদিক মুহা. ফখরুদ্দীন ইমনকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন; মো. আবুল খায়ের, মো. ফখরুল ইসলাম মজুমদার, মো. সাইফুল ইসলাম।

এছাড়াও সভায় অবিলম্বে প্রতিটি ইউনিয়ন কমিটি গঠন সহ অ্যাসোসিয়েশন এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন, অ্যাসোসিয়েশনে অন্তর্ভূক্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ালেখার মানোন্নয়ন, অ্যাসোসিয়েশন মেধা উন্নয়ন বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬ মানসম্মত পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সহ অ্যাসোসিয়েশন সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন বাস্তবধর্মী আলোচ্য বিষয়ের উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন উপস্থিত সদস্যবৃন্দ। আলোচনা সাপেক্ষে সকলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে গৃহিত সিদ্ধান্ত সমূহ শীঘ্রই বাস্তবায়নের জন্য সকলে আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

ফলোআপ

১৫ লাখ টাকায় আপস, বাদী খুশি—একাধিক গুরুতর অভিযোগের পরও বহাল চিকিৎসক!

শাহনাজ বেগম এ্যানি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম
১৫ লাখ টাকায় আপস, বাদী খুশি—একাধিক গুরুতর অভিযোগের পরও বহাল চিকিৎসক!

Oplus_131072

কুমিল্লায় প্রসূতি রোগীর পেটে গজ/কাপড় রেখে সেলাই করার অভিযোগে করা মামলায় বাদী পক্ষ ১৫ লাখ টাকা গ্রহণের পর আপস করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে একই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অতীতেও চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল গ্রুপের রক্ত প্রয়োগ ও নবজাতকের মৃত্যুসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও মামলা থাকার তথ্য সামনে এসেছে। এসব ঘটনার পরও অভিযুক্ত চিকিৎসক বহাল থাকায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে।

২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার রামঘাটলা মিডল্যান্ড হসপিটালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কটপাড়া গ্রামের মজুমদার বাড়ির প্রসূতি মাকসুদা আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় তার পেটে গজ/কাপড় রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। একই সময়ে তার জরায়ু অপসারণ করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

অপারেশনের পর মাকসুদা আক্তার কয়েক মাস ধরে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন। একপর্যায়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তার সমস্যাটি শনাক্ত হয়। পরে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে গজ/কাপড় বের করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

ঘটনার পর মাকসুদার বাবা মো. এনামুল হক মজুমদার বাদী হয়ে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটি সি.আর. ৬৭৩/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলায় চিকিৎসক ডা. নাজনীন জাহান লুবনার বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা ও মেয়ের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগ এনে বিচার দাবি করা হয়।

মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত কুমিল্লার সিভিল সার্জনকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রসূতি রোগীর পেটে গজ/কাপড় রেখে সেলাই করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে চিকিৎসক ডা. নাজনীন জাহান লুবনা ও সংশ্লিষ্ট মিডল্যান্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত অভিযুক্ত চিকিৎসককে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

১৫ লাখ টাকায় আপস

 

এদিকে মামলার বাদী মো. এনামুল হক মজুমদার ১৫ লাখ টাকা গ্রহণের পর অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে আপস করেছেন বলে জানা গেছে। এর ফলে মামলাটি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পথে এগিয়েছে।

অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে বাদী এনামুল হক মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আদালত থেকে তথ্য নেওয়ার কথা বলেন। পরে ব্যস্ততার কথা জানিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন না বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

পুরোনো মামলাতেও আপসের তথ্য

 

অনুসন্ধানে ডা. নাজনীন জাহান লুবনার বিরুদ্ধে অতীতেও চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব মামলার কয়েকটিও পরবর্তীতে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে আপস করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২০২৩ সালের মার্চ মাসে একই মিডল্যান্ড হাসপাতালে রোগীকে ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ার একটি গুরুতর অভিযোগও ওঠে।

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পাঁচথুবী গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হাসিনা আক্তার জরায়ুর সমস্যার চিকিৎসার জন্য মিডল্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তার রক্তের গ্রুপ ছিল ‘ও পজিটিভ’। কিন্তু অস্ত্রোপচারের সময় ভুলবশত তাকে ‘বি পজিটিভ’ রক্ত দেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, ভুল গ্রুপের রক্ত শরীরে প্রবেশের পর হাসিনা আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ৩০ মার্চ হাসিনা আক্তারের স্বামী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ডা. নাজনীন জাহান লুবনাসহ মিডল্যান্ড হাসপাতালের মোট আটজনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

বক্তব্য পাওয়া যায়নি চিকিৎসকের

 

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডা. নাজনীন জাহান লুবনার চেম্বারে একাধিকবার গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তার অবস্থান জানাতে রাজি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে তার মোবাইল ফোনে কয়েক দিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

‘বিএমডিসি ব্যবস্থা নেয়’

 

একাধিক চিকিৎসা-সংক্রান্ত অভিযোগ ও মামলা থাকা সত্ত্বেও সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. জহিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

তিনি জানান, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সাধারণত বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। তবে তিনি কুমিল্লায় নতুন যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। সবকিছু জেনে তিনি জানাবেন বলেও জানান।

প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে

একটি ঘটনায় আদালতের নির্দেশে করা তদন্তে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করার তথ্য, অন্যদিকে অতীতের একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও মামলা—সব মিলিয়ে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রশাসনিক বা পেশাগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

১৫ লাখ টাকার আপসের মাধ্যমে বর্তমান মামলার বিরোধ মিটে গেলেও চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসকের জবাবদিহি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্নগুলো থেকেই যাচ্ছে।

×