শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্লাইওভারের নিচে বাঁশের বেড়া, ভাড়ায় পার্কিং—রেইসকোর্সে কার দখলে জনসাধারণের জায়গা?

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫১ পিএম
ফ্লাইওভারের নিচে বাঁশের বেড়া, ভাড়ায় পার্কিং—রেইসকোর্সে কার দখলে জনসাধারণের জায়গা?
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

জনসাধারণের চলাচলের জায়গা। অথচ সেই জায়গাই বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে গাড়ি ও মোটরসাইকেল পার্কিং। অভিযোগ উঠেছে, পার্কিংয়ের নামে সেখান থেকে আদায় করা হচ্ছে নিয়মিত ভাড়াও। কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স ফ্লাইওভারের নিচের অংশ ঘিরে এমন অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কার অনুমতিতে এবং কীভাবে দখলে গেল এই জায়গা?

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্লাইওভারের নিচের একটি অংশ বাঁশ দিয়ে ঘিরে সেখানে মোটরসাইকেল ও গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপর বিভিন্ন যানবাহন থেকে পার্কিং বাবদ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জনসাধারণের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি বা জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রেইসকোর্স এলাকার এই পথটি নিরাপদে চলাচলের জন্য অনেক পথচারী নিয়মিত ব্যবহার করেন। কিন্তু ফ্লাইওভারের নিচের অংশ ঘিরে পার্কিং তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলে বিড়ম্বনায় পড়ছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, ইষ্টার্ন প্লাজা কর্তৃপক্ষ ফ্লাইওভারের নিচের ওই অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছে এবং সেখান থেকে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি জায়গাটি জনসাধারণের চলাচলের অংশ হয়ে থাকে, তাহলে সেটি বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে পার্কিং বানানোর অনুমতি কে দিয়েছে? আর যদি কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকে, সেই অনুমতির ভিত্তি কী এ নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে জায়গাটি ব্যবহারের ফলে অনেকেই বিষয়টিকে যেন স্বাভাবিক হিসেবেই মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিবাদ করতে গেলেও নানা কারণে সাধারণ মানুষ পিছিয়ে আসছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ইষ্টার্ন প্লাজা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শন করে ফ্লাইওভারের নিচের জায়গাটির মালিকানা, ব্যবহার ও পার্কিং পরিচালনার বৈধতা যাচাই করুক। একই সঙ্গে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল হয়ে থাকলে তা দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এখন প্রশ্ন একটাই রেইসকোর্স ফ্লাইওভারের নিচের এই জায়গাটি আসলে কার, আর কার অনুমতিতে সেখানে চলছে পার্কিং?।

চৌদ্দগ্রামে ৭৬ কেজি গাঁজা উদ্ধারের দাবি, এজাহারে ১৬ কেজি—বাকি ৬০ কেজি গেল কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৫ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ৭৬ কেজি গাঁজা উদ্ধারের দাবি, এজাহারে ১৬ কেজি—বাকি ৬০ কেজি গেল কোথায়?

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৭৬ কেজি গাঁজা উদ্ধারের দাবি করে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, অভিযানের সময় একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ৩৮টি পোটলায় বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং চালক ও তার সহযোগীকেও আটক করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, পরে অর্থের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং উদ্ধার করা গাঁজার বড় একটি অংশ থানায় জমা দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লিটন চাকমার দাবি, মাদক কারবারিরা পুলিশের গাড়ি দেখে গাঁজার চারটি থলে ফেলে পালিয়ে যায়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কাভার্ড ভ্যান আটক করে ৭৬ কেজি গাঁজা উদ্ধারের যে দাবি করা হচ্ছে, তার সঙ্গে তার বক্তব্যের মিল নেই।

দুই পক্ষের এই ভিন্ন বক্তব্যের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে—২৫ সেপ্টেম্বরের ওই অভিযানে প্রকৃতপক্ষে কত কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছিল, কোথা থেকে উদ্ধার হয়েছিল এবং মামলার এজাহারে ১৬ কেজি গাঁজা কেন উল্লেখ করা হলো?

ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ওইদিন সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে পুলিশের একটি দল নোহা গাড়ি নিয়ে চৌদ্দগ্রামের সিতলিয়া রাস্তার মাথা এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যানকে ধাওয়া করে আটক করে। পরে কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি চালানো হয়।

সূত্রগুলোর দাবি, কাভার্ড ভ্যান থেকে প্রায় দুই কেজি ওজনের ৩৮টি পোটলায় মোট ৭৬ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। এ সময় কাভার্ড ভ্যানের চালক ও তার সহযোগীকেও আটক করা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে ওইদিন রাতে এসআই লিটন চাকমা বাদী হয়ে যে মামলা দায়ের করেন, সেখানে ১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে নোয়াবাজার মহাসড়কের পাশের এলাকা উল্লেখ করা হয়। সেখানে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি বস্তায় করে ১৬ কেজি গাঁজা ফেলে পালিয়ে যায় বলেও উল্লেখ রয়েছে।

ফলে এজাহারের তথ্যের সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বর্ণনার পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ৭৬ কেজি উদ্ধারের দাবি সত্য হলে বাকি ৬০ কেজি গাঁজা কোথায় গেল—এ প্রশ্নের উত্তরও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রগুলোর আরও দাবি, অভিযানের সময় কাভার্ড ভ্যানের চালক ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়েছিল। পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া গাঁজার একটি বড় অংশ থানায় জমা না দিয়ে সরিয়ে ফেলার অভিযোগও উঠেছে এসআই লিটন চাকমার বিরুদ্ধে।

গোপন সূত্রের বরাতে আরও দাবি করা হয়েছে, কথিত ৭৬ কেজি গাঁজার মধ্যে প্রায় ৬০ কেজি একটি মাদক কারবারির কাছে বিক্রি করা হয়। এর বিনিময়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও সূত্রটির দাবি। তবে এই অর্থ লেনদেনের অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।

সূত্রটির আরও দাবি, ওই অর্থের একটি অংশ থেকে ৬০ হাজার টাকা ‘সোর্স মানি’ হিসেবে দেওয়ার কথা ছিল। পরে সোর্স মানির পরিমাণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সোর্সের সঙ্গে এসআই লিটন চাকমার বিরোধ তৈরি হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা সাক্ষীদের নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এজাহারে সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে তাদের পরিচয় ও ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট চৌদ্দগ্রাম থানার কালিকাপুর ইউনিয়নের বদরপুর এলাকায় পুলিশের একটি অভিযানে ১০০ কেজি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, ওই ঘটনায় এজাহার, জব্দ তালিকা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার মধ্যে উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ নিয়ে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।

এরই মধ্যে ২৫ সেপ্টেম্বরের নতুন ঘটনাকে কেন্দ্র করে চৌদ্দগ্রাম থানার মাদক উদ্ধার ও জব্দ প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কত কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছিল, কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, কারা আটক হয়েছিল, উদ্ধার করা মাদক কোথায় রাখা হয়েছে এবং এজাহারে ১৬ কেজি গাঁজা উল্লেখের কারণ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে এসআই লিটন চাকমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাদক কারবারিরা পুলিশের গাড়ি দেখে হঠাৎ করে গাঁজার চারটি থলে ফেলে চলে যায়।

কাভার্ড ভ্যানের চালকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে চালকের ঠিকানা জানতে চান এবং বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বিব্রত বোধ করেন বলে জানান।

তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার সঙ্গে এসআই লিটন চাকমার বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে জব্দ তালিকা, এজাহার, মামলার নথি, থানায় জমা দেওয়া আলামতের হিসাব, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

মাদক উদ্ধারের মতো গুরুতর ঘটনায় উদ্ধারকৃত আলামতের পরিমাণ ও মামলার নথির মধ্যে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তার ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অর্থ লেনদেন, মাদক আত্মসাৎ ও আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগগুলো সত্য কি না, সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

পদুয়ার বাজার পেরিয়ে ফেনীর পথে প্রধানমন্ত্রী, মহাসড়কের দুই পাশে নেতাকর্মীদের ঢল

ফয়েজ আহমেদ ভূইয়া : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১০ পিএম
পদুয়ার বাজার পেরিয়ে ফেনীর পথে প্রধানমন্ত্রী, মহাসড়কের দুই পাশে নেতাকর্মীদের ঢল

Oplus_131072

ফেনীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে সড়কপথে যাত্রার সময় কুমিল্লার পদুয়ার বাজার অতিক্রম করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে ফেনীর উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে অনেককে ঢোল-বাদ্য বাজাতেও দেখা যায়।

সকাল থেকেই মহাসড়কের উত্তর পাশে বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেন। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর অতিক্রমের সময় তারা স্লোগান ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে অভিবাদন জানান।

 

দাউদকান্দি ও চান্দিনায় ব্যাপক প্রস্তুতি

 

দাউদকান্দি এলাকায় কেন্দ্রীয় বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সংগঠনের সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। সেখানে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

চান্দিনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন।

 

নিমসারে দুই কিলোমিটারজুড়ে অবস্থান

 

মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নিমসার জুনাব আলী কলেজের পূর্বপ্রান্তে কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন।

এ ছাড়া নিমসার জুনাব আলী কলেজ গেট থেকে পশ্চিম দিকে মিল গেট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অবস্থান দেখা যায়। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মো. গোলাম সারোয়ারের পক্ষ থেকে বুড়িচং মোকাম ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক সেখানে জড়ো হন।

এ সময় তারা নিমসার জুনাব আলী কলেজ জাতীয়করণের দাবিও তুলে ধরেন।

 

পদুয়ার বাজার-আলেখারচরে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি

 

পদুয়ার বাজার ও আলেখারচর এলাকায় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও কুমিল্লা মহানগর বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অবস্থান নেন। বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে তারা মহাসড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বেও নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন।

কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমের নেতৃত্বেও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়।

 

সদর দক্ষিণ থেকে চৌদ্দগ্রামেও অবস্থান

 

মহাসড়কের সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম অংশেও বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নেন। চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট এলাকার নেতাকর্মীরাও প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরকে অভিবাদন জানানোর জন্য মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আজকের ফেনী সফরে পরশুরামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

২৫ বছর ধরে মেধার সন্ধানে বরুড়া মুকুন্দপুরের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা, ৩১ অক্টোবর মেধাবৃত্তি পরীক্ষা

বরুড়া প্রতিনিধি: প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৬ এএম
২৫ বছর ধরে মেধার সন্ধানে বরুড়া মুকুন্দপুরের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা, ৩১ অক্টোবর মেধাবৃত্তি পরীক্ষা

একটি ছোট্ট উদ্যোগ কখনো কখনো হয়ে ওঠে প্রজন্ম গড়ার দীর্ঘ প্রত্যয়। কুমিল্লার বরুড়ার মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম যেন তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে ২৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে মেধাবৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করে আসছেন বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। ২০০১ সালে শুরু হওয়া সেই পথচলার ধারাবাহিকতায় এবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬।

মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এবারের মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার সকাল ৯টায় মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের নাম আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে জমা দিতে হবে। পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৫০ টাকা।

৮০ শিক্ষার্থীর জন্য বৃত্তির সুযোগ:
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের পরীক্ষায় চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণি মিলিয়ে মোট ৮০টি বৃত্তি দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১০টি ট্যালেন্টপুল, ১০টি সাধারণ এবং ২০টি করে স্কুলভিত্তিক বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে তাদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

৫০ নম্বরের পরীক্ষায় মেধার মূল্যায়ন:
মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৫০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ মিনিট। এর মধ্যে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ১৫, গণিতে ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান তথা সামাজিক বিজ্ঞানে ১০ নম্বর থাকবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, একটি সুস্থ ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে।

মেধার পাশাপাশি থাকছে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা:
শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবারের আয়োজনে। মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। এতে বালক ও বালিকারা দেশাত্মবোধক গান ও গজল পরিবেশনের সুযোগ পাবে।

আয়োজকদের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীর নাম পাঠানো যাবে। তালিকায় শিক্ষার্থীর নামের পাশাপাশি পিতা-মাতার নাম উল্লেখ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের তালিকা সত্যায়িত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।

২৫ বছরের প্রত্যয় মেধা খুঁজে বের করা:
মুকুন্দপুরের বাসিন্দা তাজিরুল ইসলাম বলেন, মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এ মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এর মূল উদ্দেশ্য বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের শিক্ষাজীবনে উৎসাহ জোগানো।

তিনি বলেন, শুধু ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে দেওয়া নয়, কোনো কারণে যারা পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ার পথে, তাদেরও আবার শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনতে উৎসাহিত করা এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। মেধাবী ও যোগ্য প্রজন্ম গড়ে উঠলে তার সুফল শুধু একটি পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা ছড়িয়ে পড়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিসরেও।

তাজিরুল ইসলাম আরও বলেন, দীর্ঘদিনের এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি করছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশাও রয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের মেধা অন্বেষণমূলক আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য এমন প্রতিযোগিতা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার একটি কার্যকর ক্ষেত্র তৈরি করে।

মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের এবারের আয়োজনের মূল প্রত্যয়—‘মেধার বিকাশে উৎসাহ, শিক্ষার উন্নয়নে অঙ্গীকার।’ ২৫ বছর আগে যে উদ্যোগের বীজ রোপিত হয়েছিল, সময়ের স্রোতে তা এখন স্থানীয় শিক্ষার্থীদের কাছে একটি প্রত্যাশিত মেধা অন্বেষণ কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার আলোয় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নেওয়ার সেই অভিযাত্রায় ৩১ অক্টোবরের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা হয়ে উঠছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

×