মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সবার ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার না হলেও চলবে, তবে ভালো মানুষ হতে হবে : হাসনাত আব্দুল্লাহ

পারভেজ সরকার : প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৯ পিএম
সবার ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার না হলেও চলবে, তবে ভালো মানুষ হতে হবে : হাসনাত আব্দুল্লাহ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, সবার পড়াশোনা করতে হবে না, সবাইকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারও হতে হবে না। তবে কেউ যেন মাদকাসক্ত, দুর্নীতিগ্রস্ত বা খারাপ মানুষ না হয়—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এ প্লাস ও গোল্ড বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “বিদেশে যাও, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হও কিংবা পছন্দের যেকোনো পেশায় যাও—সেটা তোমাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু অপরাধ বা মাদকের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে না। আমাদের চাওয়া একটাই, তোমরা বিপথে যাবে না।”

তিনি বলেন, ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কলেজের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়টাকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে উচ্চশিক্ষার পথও উন্মুক্ত হবে।

নিজের বিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর পুরোনো বিদ্যালয়ে এসে দেখছেন, যেসব শিক্ষক তাদের যৌবনকালে শিক্ষার্থীদের পেছনে শ্রম দিয়েছেন, তারা এখন বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় শিক্ষার্থীদের জন্য উৎসর্গ করা এসব শিক্ষক এবং মা-বাবার প্রতি সবার অপরিসীম ঋণ ও দায়িত্ব রয়েছে।

দেবিদ্বারের কিশোর গ্যাং ও অপরাধ প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “গতকালও দেবিদ্বারের কয়েকজন কিশোরকে গ্যাং কালচার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে স্বনামধন্য বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীও রয়েছে।”

তিনি বলেন, কুমিল্লার পুলিশ সুপার যখন দেবিদ্বারের কোনো ছেলের গ্রেপ্তারের খবর দেন, তখন তিনি লজ্জিত হন। তবে এলাকার কোনো শিক্ষার্থীর ভালো কাজের খবর পেলে সেটিই প্রকৃত গর্বের বিষয় হবে।

অপরাধের বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ভালো কাজের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা সবসময় তার পাশে পাবে। তবে খারাপ কাজ বা অপরাধ করলে কেউ তার ভাই কিংবা নিজের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলেও ছাড় পাবে না। অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তোমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তুমি কী হতে চাও। তুমি প্রজাপতি হবে, মৌমাছি হবে, নাকি ভ্রমর হবে—সেই পথ তোমাকেই নির্ধারণ করতে হবে।”

দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান মজুমদার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সবুর এবং সাবেক শিফট ইনচার্জ জামাল মো. কবীর।

মাদক মামলায় প্রবাসী আহাদকে আসামি, সংবাদ সম্মেলনে দাবি ‘ঘটনাস্থলেই ছিলাম না’

টিপু সুলতান, লাকসাম : প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
মাদক মামলায় প্রবাসী আহাদকে আসামি, সংবাদ সম্মেলনে দাবি ‘ঘটনাস্থলেই ছিলাম না’

মাদক মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে নাম এসেছে প্রবাসী ও ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদের। তবে তার দাবি, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল আহাদ বলেন, মাদক সেবন, কেনাবেচা কিংবা সংরক্ষণের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলায় তার নাম আসায় সামাজিকভাবে হয়রানি ও সম্মানহানির শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

আব্দুল আহাদের দাবি, ঘটনার সময় তিনি একটি দোকানে অবস্থান করছিলেন। সেখানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ তার দাবির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে রয়েছে। তিনি ওই ফুটেজ তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে দিতে প্রস্তুত বলেও জানান।

তবে মামলার এজাহারে ভিন্ন তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

মনোহরগঞ্জ থানার নাথেরপেটুয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলমের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিপুলাসার বাজার এলাকায় মাদক কেনাবেচার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে বিপুলাসার বাজারে মেসার্স বগু মিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্সের সামনে থেকে মো. কাউসার হোসেনকে আটক করা হয়। এ সময় আব্দুল আহাদ পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আটক কাউসারের পরিহিত জিন্সের প্যান্টের পকেট থেকে ৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার ওজন ৫ গ্রাম। পরে কাউসারকে জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল আহাদের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায় এবং তারা দুজন মিলে বিক্রির উদ্দেশ্যে ইয়াবা নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন বলে কাউসার স্বীকার করেছেন এমন দাবি করা হয়েছে এজাহারে।

এ ঘটনায় কাউসার হোসেন ও আব্দুল আহাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০ (ক) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল আহাদ বলেন, “কাউসার আমার পরিচিত ও বন্ধু। তার সঙ্গে পরিচয় থাকার কারণেই আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে আমি মনে করছি। আমি মাদক সেবন করি না এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”

তিনি ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পরীক্ষা এবং স্বাধীন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তের দাবি জানান। অভিযোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়া গেলে মামলা থেকে অব্যাহতির প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন তিনি।

ভ্রমণের গল্পে মুখর জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডার ১১১তম পর্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
ভ্রমণের গল্পে মুখর জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডার ১১১তম পর্ব

বিশ্ব পর্যটন দিবসে কুমিল্লায় ভ্রমণ সাহিত্যের আবেগঘন আসর

 

ভ্রমণ মানেই শুধু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটে যাওয়া নয়; ভ্রমণ মানে অচেনাকে চেনা, অদেখাকে দেখা এবং নতুন মানুষ, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। সেই অভিজ্ঞতা কখনো গল্প, কখনো কবিতা, কখনো স্মৃতি—আবার কখনো হয়ে ওঠে সাহিত্য।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে এমনই ভ্রমণের স্মৃতি, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার গল্পে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল কুমিল্লার ‘জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডা’। আড্ডার ১১১তম পর্বে দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ভ্রমণের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, আনন্দ, বিস্ময় ও উপলব্ধির কথা উঠে আসে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় কুমিল্লা কান্দিরপাড় নিউমার্কেটের চতুর্থ তলায় জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডার অস্থায়ী কার্যালয়ে শুরু হয় বিশেষ এ আয়োজন। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা আড্ডাটি একসময় পরিণত হয় স্মৃতি, গল্প, সাহিত্য ও ভালোবাসায় মোড়ানো এক প্রাণবন্ত ভ্রমণসভায়।

আড্ডার কর্ণধার হালিম আব্দুল্লাহর প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় আমন্ত্রিত অতিথিরা তাঁদের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা, পর্যটনের নানা দিক, ভ্রমণ সাহিত্যের গুরুত্ব এবং মানুষের জীবনে ভ্রমণের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তাঁদের কথায় উঠে আসে দেশের বিভিন্ন জনপদ থেকে শুরু করে দূরদেশের প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাপনের নানা গল্প।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ইউনিটের লেখক ও গবেষক প্রবীর বিকাশ সরকার, সাংস্কৃতিক কর্মী তপন সেনগুপ্ত, ‘লঙ্কায় ভ্রমণ কাণ্ড’ গ্রন্থের লেখক ওয়ালিউল্যাহ রিপন, কুমিল্লা বিউবোর সহকারী প্রধান প্রকৌশলী (অব.) মো. মোখলেছুর রহমান, নাট্য ব্যক্তিত্ব শাহজাহান চৌধুরী, বাসদ জেলা সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মো. আফজল হোসেন, কুমিল্লা সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান মামুন, কুমিল্লা হার্ট কেয়ার ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ কমরেড আনোয়ার হোসেন, ‘নিরাপদ চালক চাই কুমিল্লা’র সভাপতি মো. আজাদ সরকার লিটন, জাতীয় কবিতা পরিষদ কুমিল্লার সহ-সভাপতি শিপন হোসেন মানব, কবি ও গবেষক সরদার মোজাম্মেল, বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ যুব কিশোর সংসদ, কুমিল্লা মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক শ্যামা রানী চক্রবর্তী ও তাঁর মা রাধা রানী বৈষ্ণবী, কমলাঙ্ক সাহিত্য একাডেমির দপ্তর সম্পাদক ভূইয়া তাজুল ইসলাম এবং জনান্তিক নাট্য সংগঠনের নাট্যকর্মী সানজিদা রুমানা প্রমুখ।

শুধু উপস্থিত অতিথিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না আয়োজনটি। ফেসবুকের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাহিত্যপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষও এতে যুক্ত হন। ফলে নিউমার্কেটের ছোট্ট অস্থায়ী কার্যালয়টি মুহূর্তেই যেন ছড়িয়ে পড়ে ভার্চুয়াল জগতের বিস্তৃত পরিসরে।

বিশ্ব পর্যটন দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ভ্রমণ মানুষের দৃষ্টিকে প্রসারিত করে। পরিচিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে নতুন কোনো জনপদ, সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস কিংবা মানুষের জীবনকে কাছ থেকে দেখলে মানুষের ভাবনার জগতও বদলে যায়। সেই দেখা ও অনুভূতি যখন শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, তখন জন্ম নেয় ভ্রমণ সাহিত্য।

আড্ডায় ভ্রমণকে শুধু বিনোদনের বিষয় হিসেবে না দেখে জীবন ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, একজন ভ্রমণকারী কোনো স্থানকে যে চোখে দেখেন, একজন লেখক অনেক সময় সেই একই স্থানকে দেখেন ভিন্ন অনুভূতির আলোয়। ফলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত স্মৃতি হয়ে থাকে না; তা হয়ে উঠতে পারে ইতিহাসের দলিল, মানুষের গল্প কিংবা সাহিত্যের উপাদান।

বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যে উঠে আসে তাঁদের দেখা ও জানা নানা ভ্রমণকাহিনি। কোথাও ছিল প্রকৃতির সৌন্দর্য, কোথাও ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা, আবার কোথাও উঠে আসে মানুষের জীবনসংগ্রাম ও সংস্কৃতির পরিচয়। এসব গল্প শুনতে শুনতে উপস্থিত শ্রোতারাও যেন কিছুক্ষণের জন্য পাড়ি দেন অচেনা কোনো শহর, জনপদ, পাহাড়, সমুদ্র কিংবা সীমান্তের ওপারের কোনো ভূখণ্ডে।

পুরো আড্ডাজুড়ে ছিল প্রাণের উচ্ছ্বাস। কেউ স্মৃতিচারণ করেছেন, কেউ নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন, আবার কেউ কথা বলেছেন ভ্রমণ সাহিত্যের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা নিয়ে। কথার সঙ্গে কথার যোগসূত্রে তৈরি হয় আন্তরিক এক পরিবেশ—যেখানে বয়স, পেশা কিংবা পরিচয়ের ভিন্নতা ছাপিয়ে সবাই মিলিত হন সাহিত্য ও ভ্রমণের ভালোবাসায়।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এ আয়োজনে কথার পাশাপাশি ছিল মিষ্টিমুখ ও চা-আড্ডা। এক কাপ চায়ের উষ্ণতায় জমে ওঠে ভ্রমণের গল্প; মিষ্টির স্বাদে আরও মধুর হয়ে ওঠে সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মিলনমেলা। আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে আয়োজনটি হয়ে ওঠে আপনজনের সঙ্গে বসে গল্প করার মতোই স্বতঃস্ফূর্ত ও আন্তরিক।

‘জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডা’র ১১১তম পর্ব তাই শুধু একটি সংখ্যা পূরণের আয়োজন হয়ে থাকেনি। বিশ্ব পর্যটন দিবসে এটি হয়ে উঠেছে ভ্রমণ, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানুষের হৃদয়ের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির এক সুন্দর প্রয়াস।

ভ্রমণ মানুষকে দূরে নিয়ে যায়, আবার কখনো সেই দূরত্বই মানুষকে নিজের আরও কাছে ফিরিয়ে আনে। অচেনা পথের গল্প বলতে বলতে মানুষ খুঁজে পায় নিজের ভেতরের আরেক পৃথিবীকে। আর সেই অনুভূতি যখন সাহিত্যিকরা শব্দে বন্দি করেন, তখন পথের ধুলো, নদীর স্রোত, পাহাড়ের নীরবতা, সমুদ্রের গর্জন কিংবা কোনো অচেনা মানুষের হাসিও হয়ে ওঠে সাহিত্যের অংশ।

কুমিল্লার মাটিতে অনুষ্ঠিত জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডার এবারের আসর যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—পথ শেষ হয়ে যায়, ভ্রমণ শেষ হয় না; কোনো কোনো ভ্রমণ পথের শেষে গিয়ে সাহিত্যের পাতায় নতুন করে শুরু হয়।

কিছু গল্প, কিছু স্মৃতি আর আবারও একসঙ্গে বসার প্রত্যাশা নিয়ে শেষ হয় প্রাণের এ আড্ডা। জোড়া শালিক সাহিত্য আড্ডার ১১১তম পর্ব তাই কুমিল্লার সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিমণ্ডলে ভ্রমণ সাহিত্যের এক আন্তরিক ও স্মরণীয় সন্ধ্যা হয়ে রইল।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও ‘গুপ্ত লীগ’ নিয়ে ছাত্রদলের জিরো টলারেন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৭ পিএম
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও ‘গুপ্ত লীগ’ নিয়ে ছাত্রদলের জিরো টলারেন্স

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও দলীয় কর্মসূচিতে ‘গুপ্ত লীগ’ সদস্যদের অনুপ্রবেশের অভিযোগের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদল। একই সঙ্গে একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে নিজের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি ও জেলা আইন ছাত্র ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহসিন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. মহসিন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। তার দাবি, ওই সময় গড়ে ওঠা বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ডে বর্তমানে সাধারণ মানুষও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদল কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

মহসিন আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কিছু ব্যক্তি কৌশলে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি এসব বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

নিজের বিরুদ্ধে ছড়ানো তথ্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ছাত্রদল নেতা মহসিন বলেন, ওয়ার্ড ছাত্রদলের দায়িত্বে থাকার সময় তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। সম্প্রতি তাঁর একটি মিছিলের ছবিকে কেন্দ্র করে এক কিশোর গ্যাং সদস্যের উপস্থিতি দেখিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মহসিনের দাবি, ওই যুবক মিছিলে কীভাবে এসেছেন বা তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। ওই যুবকের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততাও নেই বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান মহসিন।

সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রোমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন আরমানসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

×