সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সেই ‘সবুজ সংকেত’ আর জ্বলল না

কামাল উদ্দীন : প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২, ৬:৫৪ এএম
সেই ‘সবুজ সংকেত’ আর জ্বলল না
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লায় বিএনপির সাংগঠনিক বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে আলোচনায় ছিলেন দলের দুই বহিস্কৃৃত নেতা মনিরুল হক সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সার। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দুই জনই দল থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন। বলা হয়েছিল, সমাবেশের আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁদের দলের ফিরিয়ে নেওয়ার ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছেন। তাঁরা মঞ্চে উঠবেন-এমন গুঞ্জনও ছিল দলীয় ফোরামে। সমাবেশের আয়োজকদের ধারণাও ছিল তাই। কিন্তু সেই সবুজ সংকেত আর আসেনি। তাই মঞ্চেও তাঁদের স্থান হয়নি।

ফলে কুমিল্লায় একটি সফল সমাবেশ আয়োজনে বড় ভূমিকা রাখলেও দলে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো স্পষ্ট বার্তা না পাওয়ায় হতাশ এ দুই নেতা এবং তাঁদের অনুসারীরা। তবে বেশি বেকায়দায় সাক্কু।

দলের ফেরার আশায় সমর্থকদের নিয়ে শনিবার সমাবেশের দিনেও মাঠে ছিলেন বহিস্কৃৃত দুই নেতা। সাক্কু ছিলেন মাঠের পূর্ব পাশের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মুক্ত মঞ্চে; আর নিজাম ছিলেন কর্মীদের সঙ্গে সমাবেশ মঞ্চের সামনে। বিএনপি নেতাকর্মী বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তাঁদের দলে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি দুই ধারায় বিভক্ত। বর্তমানে এ দুই ইউনিটে বিএনপির মূলধারার নিয়ন্ত্রক হিসেবে আছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। অপর পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) দুইবারের সাবেক মেয়র সাক্কু। গত জুনের সিটি নির্বাচনের সময় বহিস্কার হওয়ার আগে তিনি ছিলেন দক্ষিণ জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অপর মেয়র প্রার্থী নিজাম ছিলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। তিনি হাজি ইয়াছিনের শ্যালক।

বিএনপির স্থানীয় প্রবীণ নেতারা জানান, বিএনপি নেত্রী রাবেয়া চৌধুরী ও সাবেক মন্ত্রী (প্রয়াত) কর্নেল (অব.) আকবর হোসেনের বিরোধের মধ্য দিয়ে ১৯৮৭ সালে কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ বিএনপিতে প্রথম কোন্দলের সূত্রপাত। ২০০৬ সালে আকবর হোসেন মারা যান। সাক্কু আকবরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। নানা ঘটনার পর ২০০৯ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলনে সাক্কু দলের শীর্ষ পদ পাননি। ওই সম্মেলনে রাবেয়া চৌধুরী সভাপতি ও হাজি ইয়াছিনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সাক্কুকে দেওয়া হয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ। এর পর থেকে কমিটি গঠন নিয়ে সাক্কু ও ইয়াছিনের গ্রুপিং চরম আকার ধারণ করে।

এর পর থেকে একাধিক সংসদ নির্বাচন, যুবদলের সম্মেলন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন, দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি, হরতাল, মিছিল-সমাবেশে তাঁরা এক মঞ্চে বসেননি।

২০১২ সালে কুসিকের প্রথম নির্বাচনে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে নাগরিক সমাজের ব্যানারে প্রথম এবং ২০১৭ সালে বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হন সাক্কু। গত জুনের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে সাক্কু ও নিজাম উভয়েই পরাজিত হন। বিজয়ী হন নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত।

সাক্কু ও তাঁর সমর্থকরা পরাজয়ের জন্য নিজামকে দায়ী করেন। সদ্য ঘোষিত দক্ষিণ জেলা ও মহানগরী বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে ইয়াছিন গ্রুপের প্রাধান্য দেখা গেছে। এতে সাক্কুর অনুসারীদের কোণঠাসা করার অভিযোগ ওঠে। তাই দলে বিরোধ ও টানাপোড়েন আরও তীব্র হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সমাবেশ ঘিরে উভয় গ্রুপে সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কাও করেছিল দলের তৃণমূল। তবে সম্মেলন ছিল নিরুত্তাপ।

সাক্কু বলেন, ‘বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে ১১ নভেম্বর থেকে সমাবেশের দিন পর্যন্ত কাজ করেছি। ছুটে গিয়েছি মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড ও উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে। দুই দিন আগে থেকে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা কর্মীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। সমাবেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠের এক পাশে কর্মীদের নিয়ে অবস্থান করেছি।’ দলে ফেরার বিষয়ে সাক্কু বলেন, ‘আমি দলের বাইরে নই। শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়াকে ভালোবেসে এ দলে আছি; ভবিষ্যতেও থাকব। সমাবেশের তারিখ ঘোষণার পর দলের মহাসচিব বলেছেন মাঠে কাজ করতে। তাই করেছি। কখন দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে- এ নিয়ে ভাবছি না। এটা দলের সিদ্ধান্তের বিষয়।

নিজামের সঙ্গে বিরোধ প্রসঙ্গে সাক্কু বলেন, ‘তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধ তেমন একটা নেই। এসব বিরোধ জাতীয় নির্বাচনের আগে শেষ করা সম্ভব। কিন্তু এ পরিবারের সঙ্গে এখন আমার ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে। তাদের হিংসা, শক্রতা ও বিরোধিতার কারণে আমি সিটি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি। আমার মনে হয়, নৌকাকে নিশ্চিত বিজয়ী করতেই চুক্তিবদ্ধ হয়ে নিজাম প্রার্থী হয়েছিলেন। না হলে আমি নিশ্চিত বিজয়ী হতাম।’
নিজাম বলেন, ‘দল থেকে বহিস্কৃৃত হলেও সমাবেশ সফল করতে মাঠে কাজ করেছি। সমাবেশের দিন হাজার হাজার কর্মীর জন্য পানি ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেছি। সাক্কুর সঙ্গে বিরোধ প্রসঙ্গে নিজাম বলেন, ‘সাক্কু দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৭ সালে দলীয় প্রতীকে মেয়র হয়ে দলকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। পা ছুঁয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম করেছেন। দলীয় কোনো সভা-সমাবেশে অংশ নেননি। দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ কমিয়ে দেন। তাই আগেই তাঁকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যপদ থেকে বহিস্কার করা হয়।

সাক্কুর বিপরীতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীর অনুরোধে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি; সাক্কুকে পরাজিত করতে নয়।’ কায়সার আরও বলেন, ‘দলের প্রতি আস্থা থাকলে সাক্কু আগাম মনোনয়ন নিয়ে দর কষাকষি করতে জাপা চেয়ারম্যানের অফিসে যেতেন না। মিডিয়ায় এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে।’ দলে ফেরা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও পলিসির বিষয়। হয়তো সময় লাগবে।’
গ্রুপিং প্রসঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মোস্তাক মিয়া সমকালকে বলেন, নেতাকর্মী ঐক্যবব্ধ- কুমিল্লার সমাবেশই তাই প্রমাণ করেছে। সমাবেশ সফল হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুই গ্রুপে বিরোধ থাকলে তো মাঠে পিটাপিটি হতো; রক্ত ঝরত। ইয়াছিন ও সাক্কু গ্রুপে হয়তো সামান্য মতবিরোধ থাকতে পারে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামীতে নির্বাচন হলে এসব মতবিরোধ শেষ করে নিতে পারব ইনশাআল্লাহ।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

×