শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

“আনারসের জোয়ারে উত্তাল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ : ইঞ্জিনিয়ার রিপনের বিজয়ের প্রত্যয়ে মুখরিত জনতা”

মনোয়ার হোসেন : প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪, ৪:৩৩ পিএম
“আনারসের জোয়ারে উত্তাল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ : ইঞ্জিনিয়ার রিপনের বিজয়ের প্রত্যয়ে মুখরিত জনতা”
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

আসন্ন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান (রিপন) এর শনিবার  (১৮ মে) বিকেলে বারপাড়া ইউনিয়নে বিজয়পুর এলাকায়  নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হয়।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ জুড়ে আনারস মার্কার গণজোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় উৎসবের আমেজ বয়ে যাচ্ছে। বিজয়পুরে মানুষে মানুষে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল জনসভা স্থল । আবাল বৃদ্ধা বনিতা সবাই আনারস প্রতীকের জনসভায় উপস্থিতি ব্যাপক লক্ষ্যনীয় ছিলো।

জনসভায় ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান (রিপন) বলেন, আজ চারদিকে আনারসের গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, মানুষ আর আপনাদের চায় না। আপনাদের বিদায়ের ঘন্টা বেজে গিয়েছে। মহানগরের ভয় কোনো কাজ হবে না। ২১ তারিখ আনারসে ভোটের মাধ্যমে সকল অপশাসনের জবাব দিবে। মানুষ এখন মুখিয়ে আছে আনারস মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য। জয়ের বিষয়ের শতভাগ আশাবাদী। আ যারা  ক্ষমতায় ছিলো তারা সদর দক্ষিণে কোন উন্নয়ন  করে নাই, দুজন মিলে সদর দক্ষিণ উপজেলা খন্ড খন্ড করে লালমাই নামে উপজেলা করছেন। এই এলাকার মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।

আমি  নির্বাচিত হলে আমার ঘোষিত ২৩ দফা ইশতেহার আপনাদেরকে সাথে নিয়ে একটি একটি করে  বাস্তবায়ন করবো।  আগামী ২১ তারিখ আনারস প্রতীকে ভোট দিয়ে, বিগত ১৫ বছরের সকল অপশাসনের জবাব দিবেন। তারই সাথে  সদর দক্ষিণের সকল স্কুল,  কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদের সকল পকেট কমিটি বিলুপ্ত করবো এবং  সকল প্রকার চাঁদাবাজী  বন্ধ করবো। মাদক এবং সন্ত্রাসমুক্ত করবো, ইপিজেডের বর্জ্য আসা বন্ধ করবো, এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্মুন্নত রেখে শেখ হাসিনা সরকারের স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রা সাথে শামিল করবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, গত ১৫ বছর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান ক্ষমতায় ছিলো, কিন্তু তারা গত ১৫ বছরে তারা কোনো উন্নয়ন করে নাই। তাদের আমলে এলাকায় একফোটা উন্নয়নও হয়নি, হয়নি কোনো  সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হয়নি কোনো নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,অদূরদর্শী, অপরিপক্ক  নেতৃত্বের কারণের এই এলাকার কৃষ্টি কালচার আজ বিলুপ্তির পথে।

তিনি  হুশিয়ারি করে বলেন, নির্বাচনী এলাকায় যারা হোন্ডা এবং ভাড়া করা গুন্ডা নিয়ে মহরা দিচ্ছো, মহানগর থেকে  আমার নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছো, তোমরা ইতিমধ্যে টের পেয়েছো প্রশাসনের ভূমিকা। কয়েকজন গুন্ডা এখন এলাকা ছাড়া। প্রশাসন কঠোর অবস্থানে, এখন থেকে বহিরাগতরা নির্বাচনী এলাকায় ডুকলেই জেল দেওয়া হবে বলে দিয়েছে প্রশাসন।  কুমিল্লা উঠার ভয় দেখাইয়ো না, মনে রাখবা কুমিল্লার পর ঢাকা আছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি আব্দুর রব মজুমদার  তুহিন বলেন , রিপন একজন সৎ এবং যোগ্য ব্যাক্তি। দীর্ঘ ১২ বছর সদর দক্ষিণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,  ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে কাজ করে যাচ্ছে।  সদর দক্ষিণের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপবৃত্তি দিয়ে যাচ্ছে।  তাই আসুন সকল  ২১ তারিখ আনারস মার্কায় ভোট দিয়ে সুশাসনের সুযোগ করে দিবেন সবাই।

অনুষ্ঠানে মনির হোসেন বলেন, আমরা এতোদিন দুঃশাসনের কবলে আছি। আমরা এর থেকে মুক্তি চাই। রিপন ভাই এই সদর দক্ষিণকে সকল প্রকার দুঃশাসন দূর করবে। আসুন ২১ তারিখ আক্তারুজ্জামান রিপন ভাইকে আনারসে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।

স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আখতারুজ্জামান রিপন আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেও গোলাম সারওয়ার ও আব্দুল হাই বাবলুর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে আওয়ামী লীগের অনেক ভোটই রিপনের পক্ষে যাবে। এছাড়া আওয়ামী লীগ ছাড়াও অন্য দল গুলোর সমর্থনের ভোটাররাও রিপনকে বেছে নিতে পারেন।

আখতারুজ্জামান রিপন বলেন, আমি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোথাও কোনদিন আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করিনি। সামাজিকভাবে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে।  তাই আশা করছি দল-মত নির্বিশেষে সবাই আমাকে ভোট দিবে।

উপজেলার ৫৫ টি কেন্দ্রে আগামী ২১ শে মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮৬৮ জন ভোটার এই উপজেলায়। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৯ হাজার ৭০৬ জন ৬৪ হাজার ১৬০ জন। হিজড়া ভোটার আছে দুজন।

এসময় নির্বাচনী সভা গুলোতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

Oplus_131072

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত, নাকি অন্য কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সুমন গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তার চলাচলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে ওই শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাকে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরে সড়কের দিকে চলে যাওয়ার পর আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে মেয়ে তাকে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

একটি মসজিদ, অসংখ্য স্মৃতি, আর দীর্ঘ ৩২ বছরের এক আত্মিক বন্ধন—বিদায়বেলায় আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আঃ রব সাহেব। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কণ্ঠে আজান, নামাজে ইমামতি, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি মসজিদপ্রাঙ্গণে রেখে গেল এক আবেগঘন অধ্যায়।

তাঁর দীর্ঘদিনের সেবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আয়োজন করা হয় বিদায়ী সংবর্ধনার। এ সময় একই সঙ্গে থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের নতুন ইমাম হিসেবে মাওলানা সাইফুল ইসলামকে বরণ করে নেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ, মার্কেট ও মাদ্রাসা উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিউর রহমান রাজিব, কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আব্দুস সালাম মাসুক, সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান রাব্বু, কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্য এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।

দীর্ঘ ৩২ বছরের ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে মাওলানা আঃ রব সাহেবের বিদায় কেবল একজন ইমামের বিদায় নয়; এটি একটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে সাময়িক বিচ্ছেদের মুহূর্ত। তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতি স্থানীয় মুসল্লিদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

অন্যদিকে, নতুন ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলামের আগমনে মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত মুসল্লি ও কমিটির সদস্যরা। বিদায়ী ইমামের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নতুন ইমামের দায়িত্ব পালনে মহান আল্লাহর রহমত ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

নানিকে দেখতে এসে সড়কে মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেলেন আরমান

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
নানিকে দেখতে এসে সড়কে মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেলেন আরমান

নানিকে দেখতে সুদূর সিলেট থেকে কুমিল্লার দেবিদ্বারে এসেছিলেন ২৪ বছর বয়সী আরমান হোসেন। ট্রেন থেকে নেমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে রওনা হয়েছিলেন নানাবাড়ির উদ্দেশে। কিন্তু প্রিয় নানির কাছে পৌঁছানো হলো না তাঁর। গন্তব্যে যাওয়ার আগেই দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় সড়কে ঝরে গেল তরুণ এই প্রাণ। নাতির মরদেহের পাশে বসে ৭০ বছর বয়সী নানি রাবেয়া খাতুনের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে দুর্ঘটনাস্থলের পরিবেশ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন অটো ব্রিকস ফিল্ডের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জগামী যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে কুমিল্লামুখী একটি দ্রুতগতির ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি সড়কে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আরমান। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকও আহত হন।

নিহত আরমান হোসেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের ফখরুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন মোটরসাইকেল মেকানিক। তাঁর নানাবাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি গ্রামে।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, স্বামী ও ছেলেকে হারানোর পর দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় নাতি আরমানই ছিলেন বৃদ্ধা রাবেয়া খাতুনের প্রধান ভরসা। নানির ভরণপোষণের দায়িত্বও পালন করতেন তিনি। নাতিকে হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন ৭০ বছর বয়সী এই নারী।

আরমানের পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর তিন বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে, নাম আরিয়ান। স্ত্রী স্বপ্না সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, ছোট সন্তান ও অনাগত শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

এদিকে দুর্ঘটনার পর কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে সকাল ১০টার দিকে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে আরমানের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নানিকে দেখতে এসে আরমানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবারের স্বজনদের মধ্যে। পেছনে রয়ে গেলেন অসহায় নানি, স্ত্রী, ছোট্ট সন্তান ও পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় থাকা আরেকটি প্রাণ।

×