রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লায় চক্ষু ডাক্তারের নামে মামলা, ২ লাখ টাকায় আপোষ!

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০২২, ১০:০২ এএম
কুমিল্লায় চক্ষু ডাক্তারের নামে মামলা, ২ লাখ টাকায় আপোষ!
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা সদর উপজেলার শঙ্করপুর এলাকায় অবস্থিত জাতীয় অন্ধকল্যান সমিতির চক্ষু চিকিৎসক সার্জন ডাঃ এম এ মোস্তফা হোসেনের বিরুদ্ধে বিনা রশিদে টাকা নেয়া ও ত্রুটিপূর্ণ অপারেশনের কারনে এক বীর মুক্তি যোদ্ধার চিরতরে দৃষ্টি হারানো এবং মাত্র দুই লাখ টাকায় দফা-রফার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়াও আরো বহু রোগী তার নিকট চোখ অপারেশন করে ক্ষতি গ্রস্থ হয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে কোন প্রতিকার না পেয়ে উল্টো হুমকির মুখে রয়েছেন। আদালতে দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্থ রোগী এক জন বীর মুক্তি যোদ্ধা ও সেনা বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত হাবিলদার। তার নাম আশ্রাফ আলী ‍তিনি গত ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারী সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেন।

মামলার বিবরণে দেখা যায়,কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভূলুইন ইউনিয়নের পরতী গ্রামের বসিন্দা আশ্রাফ আলী বিগত ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর চোখের সমস্যা নিয়ে কুমিল্লা সদর উপজেলার শঙ্করপুরে অবস্থিত জাতীয় অন্ধকল্যান সমিতি ও চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি হলে কর্ব্যরত ডাক্তার এম এ মোস্তফা হোসেন(সার্জন) আলী আশ্রাফকে চক্ষু পরীক্ষা করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা পত্রসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষা করেন এবং ঐ চিকিৎসক রোগীর কাছ থেকে অপারেশনের কথা বলে বিনা প্রমানে ৮ হাজার টাকা নিয়ে চোখের নালীর অপারেশন করে ২৯ অক্টোবর তাকে ছাড়পত্র দিয়ে ছুটি দেয়।
অপারেশন পরবর্তীতে রোগী চোখে না দেখার কারনে একই বছেরের ১ ডিসেম্বর ওই হাসপাতালে একই চিকিৎসকের কাছে আবারো চিকিৎসা সেবা নিতে আসলে তখন ওই চিকিৎসক চোখে আমেরিকার তৈরী ল্যান্স দিয়ে ছানী অপারেশনের কথা বলে আবারো রশিদ ছাড়াই ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেন। পরের দিন ২ ডিসেম্বর রোগীর ডান চোখে ল্যান্স প্রতিস্থাপনের অপারেশন করেন সার্জন মোস্তফা হোসেন। ৩ ডিসেম্বর তাকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়ি চলে যেতে বলেন চিকিৎসক। এ সময় রোগী ডান চোখে কোন কিছু দেখে না বলে জানালে তখন সার্জন ডাঃ এম এ মোস্তফা হোসেন বলেন, আপাতত বাড়ি যান ২/৩ দিন পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। পরবর্তীতে বেশ কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও চোখে দেখার কোন উন্নতি না হওয়ায় ৮ ডিসেম্বর পুনরায় রোগী চিকিৎসকের কাছে চোখে না দেখার কারণ জানতে হাসপাতালে ছুটে আসেন। চোখে একেবারেই না দেখার বিষয়টি তখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানালে তিনি উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের ১০৩ নং কক্ষ থেকে রোগীকে লাঞ্ছিত করে বের করে দেয় এবং একই সাথে অভিযুক্ত চিকিৎসক ভবিষ্যতে আবারো আসলে পুলিশে দেয়ার হুমকী দেয়।মামলার বিবরণে আরো বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্থ রোগী তার অপচিকিৎসার প্রতিকার চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারী দফতরে লিখিত আবেদন করলেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে বাদী হয়ে গত ২২ জানুয়ারী ২০২০ ইং কুমিল্লার আদালতে চিকিৎসক এম এ মোস্তফা হোসেনকে বিববাদী করে একটি মামলা দায়ের করেন। ভুক্ত ভোগী পরিবারের দায়ের করা মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য জেলা সিভিল সার্জনের নিকট পাঠায়। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে রোগীকে পরীক্ষা করায় এবং উক্ত তদন্ত কমিটি আশ্রাফ আলীর দৃষ্টি হারানোর জন্য অভিযুক্ত সার্জন ডা. এম এ মোস্তফা হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে ডাক্তার এমএ মোস্তফা দোষী সাবস্ত হওয়ার পর বাদীকে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করে মাত্র দুই লাখ টাকায় মামলা তুলে নিতে বাধ্য করেন। এ বিষয়ে মামলার প্রধান স্বাক্ষী ও বাদির পুত্র বধু রানু বেগম জানান, আমার শ্বশুরকে গোপনে খবর দিয়ে নিয়ে ঐ এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী আয়েত আলী একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে নেয় আর পরবর্তীতে তারা মাত্র ২ লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা তুলতে বাধ্য করে।
তাছাড়াও কুমিল্লার দেবীদ্বারের ঘোষগড় গ্রামের আরমান হোসেন নামে এক রোগী অনুরুপ ডা. এম এ মোস্তফা হোসেনের নিকট অপারেশন করে ক্ষতি গ্রস্থ হয়ে সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তরে অভিযোগ করে কোন প্রতিকার পায় নি বলে জানায়। আরমান হোসেনের লিখিত অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, ডাক্তার মোস্তফা হোসেন বিনা রশিদে তার নিকট হতে ১০ হাজার টাকা নিয়ে চোখের মাংশ অপারেশনে করে, কিন্তু অপারেশনের পর সে আর চোখে না দেখে আবারো ঐ চিকিৎসকের নিকট ফিরে গেলে সে চিকিৎসক তাকে দূর্ব্যবহার করে রুম থেকে বের করে দেন। একই জেলার মুরাদ নগরের ছালিয়া কান্দির নিলুফা বেগমও চোখে পানি পড়ার কারনে এই মোস্তফা হোসেনের নিকট অপারেশন হয়ে সুস্থ হয় নি, পরে ঐ চিকিৎসকের নিকট জানতে গেলে তার সাথেও খারাপ ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ করেন। পরে তিনিও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে কোন প্রতিকার পায় নি।

বর্তমানে আলেখরচর চক্ষু হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাঃ মাঈনুদ্দিন নামে এক মেডিকেল অফিসারের একটি লিখিত অভিযোগও আশ্রাফ আলীর মামলার নথির সাথে পাওয়া যায়। সেখানে বিবরনে দেখা যায় এই সার্জন মোস্তফা হোসেন শুধু খারাপ অপারেশন করে রোগীদের সাথেই প্রতারনা করে এমন নয়, সে বহিঃবিভাগে ফার্মেসীর ইনচার্জ হওয়ার সুবাধে বিভিন্ন বেনামী কোম্পানীর নিষিদ্ধ ঔষধ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ক্রয় করে জুনিয়র চিকিৎসকদের মাধ্যমে ব্যবস্থা পত্রে লিখতে বাধ্য করে এবং নিজেও লিখে।
এ সকল ঘটনা বিএমডিসি এ্যাক্ট ২০১০ অনুযায়ী সুষ্পষ্ট প্রফেশনাল ইসফেমাস কন্ডাক্ট যা সংশ্লীষ্ট চিকিৎসকের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করার মত অপরাধের সামীল বলে চিকিৎসক সমাজ জানান।

আজম মেম্বারের গ্রেফতারের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিএনপির নির্বাচিত এমপির কাছে মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির আবেদন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৫ পিএম
আজম মেম্বারের গ্রেফতারের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিএনপির নির্বাচিত এমপির কাছে মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির আবেদন

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের বিএনপির মনোনীত নির্বাচিত এমপিআবুল কালামের কাছে সাহাব উদ্দিন আজম মেম্বারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও তাঁর মুক্তির দাবিতে আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সাহাব উদ্দিন আজম মেম্বারের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে ২ নম্বর সরসপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রুদ্রপুর গ্রামে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাহাব উদ্দিন আজম মেম্বার ২ নম্বর সরসপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রুদ্রপুর গ্রামের সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাজনৈতিক কারণে তাঁকে বিভিন্ন সময় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বক্তাদের দাবি, রাজনৈতিক হয়রানির কারণে আজম মেম্বার ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতেও পারেননি।

বক্তারা আরও বলেন, কালাম ভাইয়ের নেতৃত্বে রাজনীতি করতে গিয়ে আজম মেম্বারকে বহু প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক কারণে তাঁকে নিজের বাড়িতেও নিয়মিত থাকতে পারেননি বলে দাবি করেন তারা। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিকেও তারা ষড়যন্ত্রমূলক ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করছেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের বিএনপির নির্বাচিত এমপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজম মেম্বারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তাঁর পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় বক্তারা অবিলম্বে আজম মেম্বারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, হয়রানি বন্ধ এবং তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে স্থানীয় নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এমপির কাছে লিখিত আবেদন জানান এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেন।

রাত আড়াইটায় হোটেল নুরজাহানের সামনে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

কুমিল্লায় স্লিপার কোচে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৯ পিএম
কুমিল্লায় স্লিপার কোচে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা

Oplus_131072

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় একটি স্লিপার নাইট কোচে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো যাত্রী হতাহত হননি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার হোটেল নুরজাহানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজার থেকে নওগাঁগামী ‘শাহ ফাতিহা স্লিপার কোচ’ বাসটি রাত আড়াইটার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকার হোটেল নুরজাহানের সামনে যাত্রাবিরতি দেয়। বাসটি থামার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে।

মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার ফাইটাররা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় কোনো যাত্রী হতাহত হননি।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখছেন।

দেবীদ্বারে হানিট্র‍্যাপ খ‍্যাত লাইলি ইয়াবাসহ গ্রেফতার

মো. বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৭ এএম
দেবীদ্বারে হানিট্র‍্যাপ খ‍্যাত লাইলি ইয়াবাসহ গ্রেফতার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আত্মসাৎ চক্রের কথিত মূলহোতা এবং এলাকায় ‘হানি ট্র‍্যাপ’ খ‍্যাত ও ‘লেডি ডন’ হিসেবে পরিচিত লাইলি আক্তার(৩৫)কে ফের আটক করেছে পুলিশ। তবে এবার ব্ল্যাকমেইল বা চাঁদাবাজির অভিযোগে নয়, ইয়াবা বিক্রয়কালে তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ২ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক সাগর বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেবীদ্বার নিউমার্কেট (রহমানিয়া সুপার মার্কেটের পেছনে) ভাড়া বাসা “আহসান মঞ্জিল” থেকে ইয়াবাসহ লাইলিকে আটক করা হয়।

আটককৃত লাইলি আক্তার(৩৫) উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের ঘোষঘর গ্রামের আব্দুর রশিদ মিয়ার মেয়ে। সে দির্ঘদিন যাবৎ আহসান মঞ্জিলে ভাড়া থেকে এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্রের সহযোগীতায় নারী ও মাদক ব্যাবসার আড়ালে কৌশলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই লাইলী চক্রের প্রধান কাজ।

এর আগে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল ওই একই বাসায় (‘আহসান মঞ্জিল’) অবস্থান করাকালে পর্নোগ্রাফি মামলায় হানিট্রাপ খ্যাত লাইলি আক্তারকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলেও জামিনে এসে একই বাসায় মাদক ব‍্যবসায় জড়িয়ে পরে।

কয়েক মাস পূর্বে উপজেলার জাফরগঞ্জ মাজেদা আহসান মূন্সী বালিকা উচ্চ বিদ‍্যালয়ের শিক্ষক মুকবল হোসেন মাষ্টারের উপর নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে, প্রশাসনের টনক নড়ে। পুলিশ ওই বাসায় আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে টাকার জন‍্য বেঁধে রেখে বেধরক মারধর করা অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করেন। এবং এই ঘটনায় গত ৭ই এপ্রিল মুকবল মাস্টার বাদী হয়ে অভিযুক্ত লাইলি আক্তারকে এজাহারভূক্ত করে এবং অজ্ঞাত ৩ নারী ও ৫ পুরুষের নামে পর্ণোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাইলি আক্তার দীর্ঘদিন ধরে দেবীদ্বারসহ আশেপাশের এলাকায় একটি শক্তিশালী অপরাধ চক্র পরিচালনা করে আসছিলেন। তার মূল কৌশল ছিল প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী পরিবারগুলোকে টার্গেট করা। চক্রের তরুণীদের ব্যবহার করে প্রথমে প্রেমের অভিনয় বা ‘হানি ট্র্যাপ’-এর ফাঁদ পাতা হতো।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক প্রতিবেশী এক ব্যক্তি জানান, লাইলি সে প্রায় ডজনখানেক মামলার বাদী। সে দীর্ঘদিন ধরে মাদকসহ নারী দিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। এবং দেহ ব্যবসার আড়ালে গোপন ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিত্তশালীদের টার্গেট করতেন সে। একই সাথে মাদক চোরা কারবারিতেও বেশ প্রভাব বিস্তার করে। ওই চক্রটি নানা কৌশলে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। এঘটনায় বাসার মালিকের ছেলে এবং লাইলির এক নিকট আত্মীয়ের সেল্টারে প্রকাশ্য অপরাধ সংঘটিত করে আসছে।
লাইলি আক্তার বলেন, আমি ভালো হয়ে গেছি। আমার ছেলে মাদক ব‍্যবসা করে। ছেলে রাতে ঘুমিয়েছিল, তখন তার বন্ধুরা এসে ইয়াবা চাইলে আমি জানালা দিয়ে ইয়াবা দেয়ার সময় কেউ পুলিশ দিয়ে আমাকে ধরিয়ে দেয়।

ইয়াবাসহ হানিট্র‍্যাপ খ‍্যাত লাইলি আক্তার গ্রেফতার’র সংগৃহীত ছবি।

এ ব‍্যপারে এসআই সাগর বড়ুয়া জানান, অভিযানকালে লাইলি আক্তারের দখলে থাকা ১৫ পিস ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রয়ের টাকা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদীসহ তাকে আটক করি।

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, এ নারী খুবই ধুরন্দর চালাক ও প্রতারক, সে জামিনে এসে আবারো মাদক ব‍্যাবসায় জড়িয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়েছে। পূর্বের পর্ণোগ্রাফির মামলাটিও চলমান রয়েছে। এখন এ মামলার সূত্র ধরে তার সহযোগীদের আটকের চেষ্টা করব।

×