শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দশকের অপেক্ষার অবসান! চাকরি ফিরে পেয়ে গ্রামে ফিরলেন মিরাজ, মাকে স্যালুটে আবেগঘন মুহূর্ত

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ পিএম
দশকের অপেক্ষার অবসান! চাকরি ফিরে পেয়ে গ্রামে ফিরলেন মিরাজ, মাকে স্যালুটে আবেগঘন মুহূর্ত

দীর্ঘ ১৯ বছরের আইনি লড়াই, অপেক্ষা ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে চাকরি ফিরে পেয়েছেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের ষোলপাড়া গ্রামের সন্তান মো. মিরাজ উদ্দীন আহমেদ সরকার। চাকরিতে পুনর্বহালের পর ছয় মাসের কঠোর রিফ্রেশার ও ফিটনেস প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে গ্রামে ফিরেছেন তিনি। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।

মরহুম সাবেক সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার মো. রিয়াজ উদ্দীনের সন্তান মিরাজ উদ্দীনের গ্রামে ফেরাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ছেলেকে আবারও কর্মজীবনের মর্যাদায় ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁর মা। এ সময় মিরাজ উদ্দীন নিজের অর্জিত সম্মাননা ও সফলতা মায়ের চরণে উৎসর্গ করেন এবং তাঁকে স্যালুট জানান। মা-ছেলের এই আবেগঘন মুহূর্ত উপস্থিত স্বজন ও এলাকাবাসীর হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

দীর্ঘ ১৯ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর চাকরি পুনর্বহালের সুযোগ পাওয়ায় মিরাজ উদ্দীন ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, মিরাজ উদ্দীনের এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণের একটি দৃষ্টান্ত। ১৯ বছর পর তাঁর এমন প্রত্যাবর্তন ষোলপাড়া গ্রামের মানুষের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়।

পরিবারের সদস্যরা বলেন, দীর্ঘ উনিশটি বছর তাঁদের পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আজকের এই প্রত্যাবর্তন তাঁদের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তাঁরা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

ছয় মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে পুনরায় দেশসেবায় আত্মনিয়োগের সুযোগ পেয়ে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন মিরাজ উদ্দীন আহমেদ সরকার। পাশাপাশি তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

আনন্দযাত্রা থামল মৃত্যুর মিছিলে, কুমিল্লার বাস দুর্ঘটনায় নি*হ*ত ২

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
আনন্দযাত্রা থামল মৃত্যুর মিছিলে, কুমিল্লার বাস দুর্ঘটনায় নি*হ*ত ২

আনন্দ আর উচ্ছ্বাস নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও তাঁদের স্বজনেরা। কারও চোখে ছিল সমুদ্র দেখার স্বপ্ন, কারও মনে ছিল শিক্ষা সফরের আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হলো বিষাদে। চট্টগ্রামের কেরানীহাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায় কুমিল্লার বুড়িচংয়ের একটি মাদরাসার শিক্ষা সফরের বাস। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় মাদরাসার সহকারী অধ্যাপকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বাসচালকসহ অন্তত ৩০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে চট্টগ্রামের কেরানীহাটের নবনির্মিত রেলক্রসিং সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল সুন্নিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক সোহানা আফরোজ (৪৫) এবং মাদরাসাটির অধ্যাপক নাদিরা আফরোজ মেঘলার স্বামী ও দৈনিক রূপসী বাংলা পত্রিকার ম্যানেজার মো. ইসরাফিল আলম (৫৫)।

মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মফিজুল ইসলাম ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মো. জাকির হোসেন দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে বার্ষিক শিক্ষা সফরের উদ্দেশ্যে দুটি বাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কক্সবাজারের পথে রওনা হন। বাস দুটি বুড়িচং সদর থেকে যাত্রা শুরু করে। শনিবার ভোরে কেরানীহাটের নবনির্মিত রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ৩০ জন।

দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনেন। পরে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাদরাসার অধ্যাপক নাদিরা আফরোজ মেঘলা, শিক্ষক মাওলানা তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া ও তাঁর স্ত্রী-সন্তান, আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মো. জাকির হোসেন, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে সামিয়া আক্তার নিহা, শিক্ষক আতিকুর রহমান, অধ্যাপক রাসেল, অফিস সহকারী আলাউদ্দিন, তাঁর স্ত্রী সুইটি আক্তার ও মেয়ে, দপ্তরি শাহজালাল, আয়া সেলিনা আক্তার এবং শিক্ষক রুনা লায়লা ও তাঁর স্বামীসহ ৩০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর বুড়িচংয়ের বাকশীমূল এলাকায় পৌঁছানোর পর মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে শিক্ষা সফর ঘিরে ছিল আনন্দ ও প্রত্যাশা, সেই সফরেই এমন প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছার দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছে এবং নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে।

তবে কী কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

দৈনিক কুমিল্লার ডাক পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

ইউএনওর খামখেয়ালিপনায় রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধার!

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ এএম
ইউএনওর খামখেয়ালিপনায় রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধার!

Oplus_131072

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় রাষ্ট্রীয় সম্মান বা গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের (৭৮) দাফন সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষীপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আব্দুস সাত্তারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও উপজেলা প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই তার দাফন সম্পন্ন হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ঢাকায় ছেলের বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আব্দুস সাত্তার। সেখানে প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মহালক্ষীপাড়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছাতে বিকেল সাড়ে ৫টা পেরিয়ে যায়।

এ ঘটনায় আক্ষেপ প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের ভাই শাহজাহান বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম আমার ভাইকে শেষ সম্মানটুকু জানিয়ে চিরবিদায় দিতে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। আমরা আজ লজ্জিত, যে মানুষটি ৯ মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করল, সে তার প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেল না।”

স্থানীয় আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিষয়টি বেদনাদায়ক। সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া না গেলেও অন্তত প্রশাসনের লোক এসে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে যেতে পারত। কিন্তু তাও করা হয়নি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সহযোদ্ধার এমন অমর্যাদা সহ্য করার মতো নয়।”

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের জন্য তারা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের জানান, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়ার নিয়ম নেই।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, “আমরা গার্ড অব অনারের জন্য পুরো এক পিকআপ পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পুলিশ লাইন থেকেও বিউগলের সুর বাজানোর জন্য দল এসেছিল। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত না থাকায় পুলিশ একা গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। তবে আমরা জানাজায় অংশ নিয়েছি।”

অন্যদিকে, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নী ইসলাম বলেন, “সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া হয় না। তারপরও আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু ঢাকা থেকে লাশ আনা নিয়ে দ্বিধা ছিল। মাগরিবের পর কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, তাই দেওয়া সম্ভব হয়নি।”

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে প্রশাসন ও পুলিশের প্রস্তুতি থাকার কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত কেন গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হলো না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

×