শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আদালত চত্বরে পকেটমার ও হকারদের উৎপাত

মোহাম্মদ গাফফার হোসেন : প্রকাশিত: রবিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৩, ৯:৩৪ এএম
আদালত চত্বরে পকেটমার ও হকারদের উৎপাত
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে আদালত প্রাঙ্গণে যে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা দরকার তা নেই ঢাকার নিম্ন আদালত এলাকায়। উপরন্তু পকেটমার, মাদকসেবী, অবাঞ্ছিত লোকজনের অবাধ আনাগোনা ও হকারদের উৎপাতে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে আদালত চত্বরের নিরাপত্তা। এ ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকা, আদালত প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা ও বিশ্রামাগার না থাকা এবং পর্যাপ্ত টয়লেট সুবিধা না থাকায় বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এদিকে এ ধরনের ভোগান্তি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা।

পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব : আদালত চত্বরে চুরি-ছিনতাইসহ একাধিক অপকর্মের ঘটনা ঘটলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনে প্রবেশে কোনো আর্চওয়ে নেই। এমনিভাবে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদলতের দুটি ভবনের একটিতেও আর্চওয়ে নেই। অপরদিকে চিফ জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও আর্চওয়ে নেই। তবে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রবেশপথে দুটি আর্চওয়ে থাকলেও প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে আর্চওয়ের বাইরে দিয়ে লোকজন অনায়াসে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ভিড়ের মধ্যে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মোবাইল, মানিব্যাগ ও মূল্যবান জনিসিপত্র চুরি ও পকেটমারের ঘটনা ঘটে। মো. বোরহান উদ্দিন নামে এক বিচারপ্রার্থী জানান, তিনি একটি মামলার বাদী। মামলায় হাজিরা দিতে তিনি মহানগর দায়রা জজ আদালতে কয়েক দিন পূর্বে আসেন। কিন্তু আদালতের গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশের সময় তার পকেট থাকা ৫০ হাজার টাকার দামি একটি স্যামসাং মোবাইল চুরি হয়ে যায়। শখের দামি মোবাইলটি পকেটমার নিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক তিনি হতবাক হয়ে যান এবং মানসিকভাবে অনেক কষ্ট পান।

মো. শাহীন আহম্মেদ নামে আরেকজন বিচারপ্রার্থী জানান, তিনি একটি মামলায় বাদী হিসেবে হাজিরা দেওয়ার জন্য গত কয়েক দিন আগে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসেন। আদালতে প্রবেশের সময় তার পকেট থেকে মোবাইল সেটটি চুরি হয়ে যায়। তিনিও তার মোবাইলটি হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে যান। তিনি আদালত অঙ্গনে আরও বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান। সরেজমিন আরও দেখা যায়, আদালতের অভ্যন্তরের রাস্তার দুই পাশে মোটরসাইকেল পার্কিং ও হকাররা বিভিন্ন রকমের ফলমূল ও কাঁচাবাজার বসিয়ে ব্যবসায় ব্যস্ত থাকেন। এ ছাড়া পাগলবেশী, মাদকসেবী ও অবাঞ্ছিত লোকজনের অবাধ আনাগোনায় আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

 

বিশুদ্ধ পানি ও বিশ্রামাগার সংকট : আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের জন্য আদালত প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ষষ্ঠ তলা ভবনে বিচারপ্রার্থীদের জন্য তৃতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ তলায় তিনটি টয়লেট রয়েছে। এ ছাড়া আরও দুটি টয়লেট থাকলেও তা তালাবদ্ধ। অধিকাংশ টয়লেট ব্যবহারে দিতে হয় টাকা। তবে সেখানে এমনই দুর্গন্ধ যে প্রবেশ করাই দুরূহ। আর এসব টয়লেটের পাশ দিয়ে হাঁটাচলা করা অনেক কষ্টের। এ ছাড়া বিচারপ্রার্থীদের জন্য বিশ্রামাগার নেই বললেই চলে। নারী ও শিশু বিচারপ্রার্থীদের জন্য রেবতি ম্যানশনে একটি বিশ্রামাগার থাকলেও সেখানে লোকজন তেমন যায় না।

দিনে ফেরিওয়ালা, রাতে মাদকসেবী ও অবাঞ্ছিত লোকজনের দৌরাত্ম্য : আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী ছাড়াও বহিরাগত লোকজনের আনাগোনা রয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, দিনের বেলায় আদালতে হকারদের রাজত্ব চলে। শতাধিক হকার অবাধে বিচরণ করে। তাদের কেউ কেউ আবার স্থায়ী আসন গেড়েছে। আদালত চত্বরে চা, পান, সিগারেট থেকে শুরু করে ইঁদুর-তেলাপোকা মারার বিষ, শার্ট-কোট-গাউন, মোবাইল সিম নিবন্ধন, জুতা পলিশ, ঝালমুড়ি, আচার, বাদাম, আইসক্রিম, কলা, পেঁপে, শসা, গাজর, আনারস, ডাব, মাছ ও মুরগি সবই বিক্রি হয়। এ ছাড়া রাত হলেই চত্বরে মাদকসেবী ও অবাঞ্ছিত লোকজনের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়।

সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় আদালতপাড়া :

আদালতপাড়ায় পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকার কারণে একটু বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায়। মুষলধারে বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। প্লাবিত হয়ে যায় পুরো আদালত এলাকা। এতে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা পড়েন চরম বিপাকে। এমন পরিস্থিতে হেঁটে চলার মতো অবস্থা থাকে না। রিকশা নিয়ে এক আদলত থেকে অন্য আদালতে যেতে দেখা যায় অনেককে। পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা। আইনজীবী শেখ মাহদী বলেন, রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন হলো বিচার বিভাগ। আদালতের এসব অব্যবস্থাপনা অবশ্যই সংস্কার করা উচিত। প্রায়ই শোনা যায়, কারও মোবাইল ফোন কিংবা মানিব্যাগ পকেটমার নিয়ে গেছে, এমনকি আসামি ছিনতাই হওয়ার ঘটনা পর্যন্ত শোনা যায়! মাদকসেবী এবং অবাঞ্ছিত মানুষের অবাধ চলাফেরার মধ্য দিয়ে এটাই বোঝা যায়, আদালতের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন নয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আইনজীবী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আদালতপাড়ায় বাজার কেন? প্রশাসন কিংবা আইনজীবী সমিতির যৌথ প্রচেষ্টায় বাজারের জন্য আলাদা কোনো স্থান বরাদ্দ দেওয়া যায় কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই। এ ছাড়া আদালতের টয়লেট ব্যবস্থাপনা এতটাই শোচনীয় ও নোংরা যে, পাশ দিয়ে হাঁটতে গেলে দুর্গন্ধে যে কেউই অসুস্থ হয়ে পড়বে। টয়লেট পরিষ্কার রাখার জন্য নিযুক্ত লোকবল না থাকার জন্যই এ চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়। আমার মতে, ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে যে টয়লেট ব্যবস্থাপনা রয়েছে, আদালতপাড়ায় বিচারপ্রার্থীদের জন্য সে রকম ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর স্পোশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদা আক্তার বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত টয়লেট ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বেশ ভোগান্তিতে পড়ে। বয়স্ক, নারী ও শিশুরা যেন আদালতে এসে অসুবিধায় না পড়ে সে বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে।

ঢাকার মহানগর পিপি আবদুল্লাহ আবু বলেন, আদালত চত্বরে হকার ও অবাঞ্ছিত লোকজনের আনাগোনা বন্ধ করতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সর্বোপরি আদালতের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে পকেটমার কিংবা চুরির ঘটনা টুকিটাকি হতে পারে। গণহারে এ ধরনের ঘটনা ঘটার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সার্বক্ষণিক আদালতের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকি। পাশাপাশি আদালত চলাকালে লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, কোতোয়ালির সহকারী পুলিশ কমিশনার, কোতোয়ালির অফিসার ইনচার্জ, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ও আমার তদারকিতে মোট ৪৬ জন পুলিশ সদস্য আদালতের সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকেন। এ ছাড়া রাতেও দুজন অফিসারের নেতৃত্বে মোট ১২ জন সদস্য নিয়োজিত থাকেন। আদালতের চারপাশে তিনটি মোবাইল পিকেট পার্টিও আদালতের নিরাপত্তার কাজে প্রতিদিন নিয়োজিত থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে জানাল পুলিশ, উদ্ঘাটিত জান্নাত হ-ত্যা রহস্য

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জান্নাতকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহত জান্নাতুল তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। জান্নাত নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

যেভাবে নির্জন এলাকায় নেওয়ার অভিযোগ

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন জান্নাত। চালক সুমন মিয়ার সঙ্গে ৩০০ টাকায় ভাড়া ঠিক হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাপথে জান্নাত চালককে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনেন। পরে সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক তাঁকে নির্ধারিত পথ থেকে অন্যদিকে নিয়ে যান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে একটি নির্জন এলাকায় পৌঁছান সুমন।

সেখানে অটোরিকশা থামানোর পর জান্নাত জায়গাটি সম্পর্কে জানতে চান। এটি বাসায় ফেরার পথ নয় বুঝতে পেরে তিনি ভয় পেয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ জানায়, এ সময় জান্নাতকে আটকে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থের চেষ্টা করা হলে তিনি চিৎকার করেন। পরে অভিযুক্ত তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জান্নাত দুর্বল হয়ে পড়েন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ পুলিশের

 

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জান্নাতকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে।

তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

 

আইফোন নিয়ে পালানোর অভিযোগ

Oplus_131072

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘটনার পর জান্নাতের হাতব্যাগ থেকে তাঁর ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন অভিযুক্ত। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন তিনি।

এরপর ভাড়ায় চালিত আরেকটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান বলে পুলিশের ভাষ্য।

 

চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার, উদ্ধার আইফোন

 

পুলিশ জানায়, ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে জান্নাতের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুমিল্লায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মামলার তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

Oplus_131072

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত, নাকি অন্য কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সুমন গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তার চলাচলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে ওই শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাকে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরে সড়কের দিকে চলে যাওয়ার পর আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে মেয়ে তাকে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

একটি মসজিদ, অসংখ্য স্মৃতি, আর দীর্ঘ ৩২ বছরের এক আত্মিক বন্ধন—বিদায়বেলায় আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আঃ রব সাহেব। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কণ্ঠে আজান, নামাজে ইমামতি, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি মসজিদপ্রাঙ্গণে রেখে গেল এক আবেগঘন অধ্যায়।

তাঁর দীর্ঘদিনের সেবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আয়োজন করা হয় বিদায়ী সংবর্ধনার। এ সময় একই সঙ্গে থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের নতুন ইমাম হিসেবে মাওলানা সাইফুল ইসলামকে বরণ করে নেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ, মার্কেট ও মাদ্রাসা উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিউর রহমান রাজিব, কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আব্দুস সালাম মাসুক, সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান রাব্বু, কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্য এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।

দীর্ঘ ৩২ বছরের ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে মাওলানা আঃ রব সাহেবের বিদায় কেবল একজন ইমামের বিদায় নয়; এটি একটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে সাময়িক বিচ্ছেদের মুহূর্ত। তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতি স্থানীয় মুসল্লিদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

অন্যদিকে, নতুন ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলামের আগমনে মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত মুসল্লি ও কমিটির সদস্যরা। বিদায়ী ইমামের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নতুন ইমামের দায়িত্ব পালনে মহান আল্লাহর রহমত ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

×