বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

কুমিল্লায় ৫’শত বছরের পুরনো “বলি নারায়ণ” দীঘি ভরাট করে ভবন নির্মান

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৯, ৯:০৬ এএম
কুমিল্লায় ৫’শত বছরের পুরনো “বলি নারায়ণ” দীঘি ভরাট করে ভবন নির্মান

কুমিল্লা সদর উপজেলার দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের দুর্গাপুর (কৃষ্ণনগর) এলাকার বলিনারায়ন দীঘি। দীঘির তীরসহ ভিতরের বেশ কিছু অংশ মাটি ভরাট করে বানানো হয়েছে বেশ কিছু ভবন। এখনো চলছে দীঘির পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর পাড়ের বিভিন্নস্থানে মাটি ভরাট ও ভবন নির্মানের কাজ।

google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা মানছেনা প্রভাবশালীরা

কুমিল্লায় কোনভাবেই পুকুর বা দীঘি ভরাট বন্ধ করা যাচ্ছেনা। প্রভাবশালীরা কখনো অর্থের কখনোবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুকুর ভরাট করছে নিয়মিত। ফলে বিগত সময়ে একে একে হারিয়ে গেছে একদা ট্যাঙ্কের নগরী খ্যাত কুমিল্লার ঝাউতলা, বাগিঁচাগাও, অশোকতলা, গুধুরপুকুর, চর্থার জিনার পুকুর, রাজগঞ্জ, প্রফেসরপাড়া, নতুন চৌধুরীপাড়াসহ কুমিল্লায় অনেক পুকুর দীঘি ছিল। কালের বিবর্তনে এখন অনেক পুকুরই ভরাট হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আবারো প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক পরিচয়ে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দূর্গাপুর বা কৃষ্ণনগর এলাকায় প্রায় ৫’শত বছরের পুরনো “বলিনারায়ণ” নামের একটি বিশাল দীঘি ভরাট করে বেচাঁ-কেনার পাশাপাশি ভবন নির্মান অব্যাহত রেখেছে। এক্ষেত্রে জেলা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বারবার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর কোন সুফল আনছেনা। ফলে প্রতিদিনই দীঘিটির কোথাও মাটি ভরাট বা ভবন তৈরীর কাজ চলছে।

কুমিল্লা সদর উপজেলার দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের দুর্গাপুর (কৃষ্ণনগর) এলাকার বলিনারায়ন দীঘি। দীঘির তীরসহ ভিতরের বেশ কিছু অংশ মাটি ভরাট করে বানানো হয়েছে বেশ কিছু ভবন। এখনো চলছে দীঘির পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর পাড়ের বিভিন্নস্থানে মাটি ভরাট ও ভবন নির্মানের কাজ।

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের দুর্গাপুর এলাকায় প্রায় ১০ একর আয়তনের বিশাল দীঘিটির অবস্থান। জায়গার নাম দূর্গাপুর বা কৃষ্ণনগর হলেও “বলি নারায়ণ” দিঘীটির নামে কালের বিবর্তনে এই স্থানটি “দীঘিরপাড়” বলেই পরিচিতি হয়ে উঠে সমগ্র জেলায়। কুমিল্লার সদর উপজেলার দূর্গাপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন ট্রাঙ্ক রোডের পাশে বিশাল আকৃতির দীঘির উপস্থিতি সব কিছুকে ছাপিয়ে সুপ্রাচীনকাল থেকেই এলাকাটিকে দীঘিরপাড় হিসেবে পরিচিত করে তোলে।

১০ একর আয়তনের দীঘিটি সুপ্রাচীনকাল থেকেই এই এলাকার পানিয়-জলের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে হাজার হাজার মানুষের সাংসারিক, গৃহস্থালীসহ নিত্য প্রয়োজনের কাজে ব্যবহার হলেও বর্তমানে ভূমি খেকোরা দীঘির চারপাশজুড়ে ভরাটের উৎসবে মেতে উঠেছে। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও সাহস না পাওয়ায় অনেকটা নিরবে চলছে এই ভরাট প্রক্রিয়া। এদিকে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পুকুর ভরাট বন্ধের নির্দেশনার পরও থেমে নেই নির্মান কাজ। দীঘিটি সম্পর্কে সঠিক কোন তথ্য জানা না গেলেও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও ভূমি অফিস সুত্র জানায়, নারায়ন নামের এক হিন্দু জমিদার প্রায় ৫’শ বছর আগে দিঘীটি খনন করেছিলেন প্রজাদের পানি সমস্যা সমাধানে।

হিন্দু অধ্যূষিত এই এলাকার লোকজন বিভিন্ন পূজা, পার্বণ এই দীঘির পাড়েই সম্পন্ন করতো। বিভিন্ন দেবতাকে উৎসর্গ করে বলি হতো পাঠা এই দীঘির পশ্চিম পাড়ে। এভাবে “বলি নারায়ণ” দীঘি নামকরণ হয় বলে অনেকের অভিমত। এলাকায় ঘুরে আরো জানা যায়, স্থানীয়ভাবে জনশ্রুতি আছে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা-পার্বণে অনুষ্ঠান করার আগে দীঘির পশ্চিম পাড়ে নানারকমের সাজসজ্জা করতো। এসময় দীঘি থেকে ভেসে উঠতো বিভিন্ন প্রকারের ব্যবহার্য সামগ্রী। পরবর্তীতে ব্যবহারের পর আবারো দীঘিতে রেখে দিলে তলিয়ে যেতো। স্থানীয় একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্র জানান, দীঘিটির কোন সঠিক ইতিহাস জানা না গেলেও তারা বংশ পরম্পরায় জেনে এসেছেন বিগত ৫/৬ পুরুষ ধরে এই এলাকার পানির প্রধান ও একমাত্র উৎস ছিল দীঘিটি।

যেটা পরবর্তীতে যুগ যুগ ধরে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের পানি সমস্যা মিটিয়ে যাচ্ছিল। বর্তমানে দীঘিটির উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে বাসা-বাড়ি এবং দক্ষিণ পাড় এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মান কাজ চলছে পুরোদমে। জলাশয়, পুকুর বা দীঘি ভরাটে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানছেনা সেটা কেউ। ফলে প্রভাবশালী চক্রটি আর্থিক লাভবান হতে সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে দীঘিটির কোথাও মাটি ভরাট করছে, আবার কোথাও নির্মান করছে ভবন। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ জেলা প্রশাসনের কাছে স্থানীয়রা বেশ কিছু উড়ো চিঠি দিলে জেলা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সরেজমিন এসে মাটি ভরাট বন্ধে স্থানীয় তহসিল অফিসকে নির্দেশনা দেয়।

এর প্রেক্ষিতে গত দু’মাস নির্মান বা মাটি ভরাট বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবারো দিঘীটির উত্তর পাড়ে ভবন নির্মান করছে একটি চক্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সুত্র জানায়, দীঘিটির মালিক বর্তমানে প্রায় ৪১ জন। আর্থিকসহ নানা কারণে মালিক পক্ষের কেউ না কেউ বিক্রি করে দিচ্ছে তাদের অংশ বিশেষ। এরপর নতুন ক্রেতারা ভরাট করে ভবন নির্মানের কাজ করছেন। ভরাট কাজে বিক্রেতারা সহযোগীতা করছে বলে নিরিহ সাধারণ মানুষ এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোন প্রতিবাদও করতে পারছেনা।

এক সময়ের ট্যাঙ্ক এর শহর নামে পরিচিত কুমিল্লায় প্রতিনিয়তই ভরাট হচ্ছে এভাবে একের পর এক পুকুর বা দীঘি। আর এতে পুকুর শূণ্য হচ্ছে জেলার বিভিন্ন এলাকা। সুত্র জানায়, দীঘিটিতে দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয়দের ব্যবহারের পাশাপাশি মাছ চাষ হতো। দীঘিটি বর্তমানে মাছ শুণ্য। সুত্র আরো জানায়, এরইমাঝে দীঘিটির উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ের অনেকটাই অংশ মালিকানা বদল হয়ে গেছে। দক্ষিণ পাড়ে আলেকজান মেমোরিয়াল স্কুল-কলেজ এর নতুন ভবনের কাজ ও বাকী ৩ পাড়ে চলছে ভরাটসহ ভবন নির্মানের উৎসব। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পুকুর, দীঘি, নালা, ডোবা বা জলাশয় ভরাট নিষিদ্ধ হলেও এখানে কেউ সেটা মানছেনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সুত্র আরো জানায়, দীঘিটি ভরাটের খবর পেয়ে প্রশাসনের অনেক কর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে থেমে নেই নির্মান কাজ।

কুমিল্লার অন্যতম বিশাল দীঘিটি ভরাটের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামসুল আলম ২৩ মার্চ বিকেলে কুমিল্লার ডাককে বলেন, ইতিপূর্বে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়ে আলেকজান স্কুল এন্ড কলেজসহ ৫ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আলেকজান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ, আলমগীর হোসেন, খোকন মিয়া, শাহ আলম ও ইয়াকুব আলীকে কারণ দর্শাও নোটিশ করেছিলাম। আমি বিষয়টি আপনার কাছ থেকে শুনলাম। দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

শনিবার (২৩ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, আমি এখনই দীঘি ভরাট বন্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

 

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×