শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

দলবাজরা সাংবাদিকতা ছাড়ুন – ৩

সাঈদুর রহমান রিমন : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মে, ২০২২, ৮:৩৬ এএম
দলবাজরা সাংবাদিকতা ছাড়ুন – ৩
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

রাজনৈতিক সাংবাদিকতা যেমন নিষিদ্ধ নয়, তেমনি রাজনীতি করে সাংবাদিকতা কিংবা সাংবাদিকতা করে রাজনীতি করাও নিষিদ্ধ হতে পারে না। তবে তার রাজনীতির প্রভাব সাংবাদিকতায় না পড়লেই চলে। কিন্তু যে দেশে রাষ্ট্র, সরকার আর দলকে আলাদা করে দেখা কষ্টকর, সেদেশে রাজনৈতিক দলের নেতা দলীয় প্রভাবমুক্ত সাংবাদিকতা করবেন তা আশা করাও অবান্তর। এক্ষেত্রে দলবাজ মানুষ তার সাংবাদিকতাকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার করে থাকেন। তাছাড়া সাংবাদিক কাম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলেই বেশি সিদ্ধহস্ত তারা। আমি মনে করি, দলবাজির সাংবাদিকতা নৈতিক হলে নিশ্চয়ই দলীয় মুখপত্র প্রকাশের বিধানটি থাকতো না। যারা দলীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি সাংবাদিকতাকেও ধরে রাখতে চান তাদের জন্য দলীয় মুখপত্রে যুক্ত থাকাটাই বেশি যৌক্তিক।
বাংলা ভূখন্ডে ৬১ বছর আগে সাপ্তাহিক সোনার বাংলা এবং ৪৮ বছর আগে দৈনিক সংগ্রাম প্রকাশের মধ্য দিয়ে দলীয় মুখপত্র প্রকাশের সূচণা ঘটে। পরবর্তীতে যুবলীগের মুখপত্র হিসেবে বাংলার বাণী এবং বিএনপির পক্ষে দৈনিক দিনকাল প্রকাশের মধ্য দিয়ে দলীয় মুখপত্রের ব্যাপ্তি ঘটে দেশে। আর বর্তমানে অঘোষিত ভাবে সিংহভাগ পত্রিকাই কোনো না কোনো দলের লেজুরবৃত্তি করে থাকে, যা পাঠকদের সঙ্গে সুক্ষè কারচুপি পর্যায়েই পড়ে। পাশ্ববর্তী ভারতেও পত্রিকা পাঠকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের এহেন কারচুপির নজির নেই। সেখানে পত্রিকার প্রথম পাতার শীর্ষে স্পষ্টভাবে ছাপানো থাকে : ‘বাংলা ভাষায় সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক’ কিংবা ‘দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা’ হিসেবে। কিন্তু বাংলাদেশে ‘প্রচার সংখ্যায় শীর্ষে’ বা ‘সর্বাধিক প্রচারিত’ শব্দটি ছাপা হয় অন্তত আটটি জাতীয় দৈনিকে। এটা পাঠকদের সঙ্গে রসিকতা নাকি প্রতারণা? দলীয় লেজুরবৃত্তির ক্ষেত্রেও অভিন্ন চিত্র বিদ্যমান।
বেশ কয়েকটি সংবাদপত্র সরাসরি দলের মুখপত্র আকারে প্রকাশ করলেও তা পাঠকদের জানিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। অর্থাত নিরপেক্ষতার ভান ধরে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন তারা। এ পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকগণও নিরপেক্ষতার ছদ্মাবরণে দলবাজির সাংবাদিকতায় আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকার সক্ষমতা প্রদর্শণ করে চলছেন।
দলবাজ সাংবাদিকতা নিয়ে শরীফ মুহাম্মদ এর গুরুত্বপূর্ণ লেখাটির সংক্ষিপ্ত রুপটিও বেশ কঠিন। দলবাজ সাংবাদিক। এটা একটা পরিচিতিমূলক শব্দবন্ধ। যে সাংবাদিক দলবাজি করে তার জন্য এবং তাকে এটা বলা হয়। অর্থাৎ তার আসল পরিচয় সাংবাদিক, এর সঙ্গে সে কিছুটা দলবাজিও করে। আরেকটা হচ্ছে, মিডিয়াবাজ দলীয় কর্মি। এই লোকটা আসলে সাংবাদিক না, তার প্রধান পরিচয় হলো সে দলের অন্ধ-কর্মি। তবে দলবাজি করার জন্য সাংবাদিকতার অঙ্গনটাকে সে বেছে নিয়েছে।
সাংবাদিকতায় দলবাজির চর্চাটা আগে থেকেই ছিল। কিছু রাজনৈতিক অন্ধ কর্মি ও টাউট যেন সাংবাদিকতায় ঢুকে গেছে! দলবাজির ‘হক’ আদায় করেই সফল সাংবাদিক হয়ে যাচ্ছে তারা! অপরদিকে যে লোকটা আগাগোড়াই অন্ধ রাজনৈতিক কর্মি, ধান্ধা, পেশা ও জীবিকার ক্ষেত্র হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নিয়েছে, সাংবাদিকতা কেবলই তার ব্যবহারের বিষয়। এক সময় দেশে দল ও রাজনীতির সাথে যুক্ত সাংবাদিক থাকতো, এখন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত অন্ধ রাজনীতিকের ভিড় বেড়ে গেছে। সাংবাদিকতা ও দলবাজির এই বিকৃত বিবর্তন ‘পোকায় খাওয়া সাংবাদিকতা’কে কোথায় নিয়ে ফেলবে সেটাই দেখার বিষয়।
কাজল ভোমরা’র পোস্টে আরো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয় দলবাজ সাংবাদিকতাকে। তিনি বলছিলেন, “সাংবাদিকরা নির্লজ্জ দালালী ছাড়ুন আর দলকানা দালালরা সাংবাদিকতা ছাড়ুন” লিখে অনেক সমালোচনা শুনতে হয়েছিল। তারপর আবারো বলছি, হয় সাংবাদিকতা করুন, নইলে দালালী করুন। দল কানা সাংবাদিকদের কারণে মহান পেশার আজ বারোটা বেজে গেছে। অনেকে এতটাই দলবাজ হয়ে গেছেন যে, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী কালো আইন পাশ হওয়ার পরও মুখে কুলপ এটে বসে থাকেন। অথচ, এ আইন নির্দ্দিষ্ট কোনো দলের সাংবাদিকদের জন্য প্রযোজ্য নয়। বরং সবার জন্যই কালো আইন। আজ যারা চুপ করে আছেন এমন একটা সময় আসবে যখন এ কালো আইন আপনার বিরুদ্ধেই প্রয়োগ করা হবে।
তথ্যমন্ত্রী থাকাবস্থায় হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছিলেন, যারা সাংবাদিকতার নামে লেজুরবৃত্তি করে দলভারি করছেন তারা গণমাধ্যম ছেড়ে যে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিন। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রয়াত সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান তার জীবদ্দশায় ক্ষোভের সঙ্গে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখানে লিখেন: দেশে সুবিধাবাদী সুযোগ সন্ধানী দলকানা অযোগ্য সাংবাদিকরাই পেশার প্রতি মানুষের মর্যাদা নষ্ট করেছে। এসব মেরুদন্ডহীন সাংবাদিকরা কোথাও চাকরি বাকরি না পেয়ে এই পেশায় এসে যোগ্যতা প্রমানে ব্যর্থ হলেও দলবাজি সুবিধাবাদিতায় চাকরিটা করে যাচ্ছে। এদের পাঠক চিনে না। চিনে ক্ষমতার পাপোষ বা কেরানিগন। কেরানি কেরানি মাসতুতো ভাই। দুই দলে বিভক্ত গনমাধ্যমে এসব অযোগ্যদের নিরাপদ আশ্রয় আছে।
ওমর আলী সোহাগের মন্তব্য হচ্ছে, ইত্তেহাদ থেকে ইত্তেফাক এবং মানিক মিয়া। তখন আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসাবেই আনা হয়। যার হকার পর্যন্ত ঠিক করে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত আত্মজীবনী ও বাংলাদেশের সংবাদ পত্রের ইতিহাস তাই বলে। মিজানুর রহমান বলছিলেন, পত্রিকার মালিকগণ যদিও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত। তবুও স্বাধীনভাবে নিরপেক্ষ রিপোর্ট তৈরি করতে বেশিরভাগ সম্পাদকগণই আদেশ জারি করে থাকেন। স্বাধীনভাব আর নিরপেক্ষতা বজায় থাকেনা শুধু মফস্বলেই। কেননা, বহু পাকনা পাকনা টাউট বাটপারেরা রাজনীতির পাশাপাশি একটি পত্রিকার কার্ড পেয়েই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপান্তরিত করতে জাল নকসা আঁকতে থাকে। তার কুৎসিত চরিত্রটি সবার চোখে ধরা খাবার আগেই হয়ে ওঠে প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য কঠিন প্রতিরোধ্য এক শয়তান।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×