বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

পটুয়াখালীতে ব্যবসায়ী অপহরণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২২, ৭:২৪ এএম
পটুয়াখালীতে ব্যবসায়ী অপহরণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

পটুয়াখালীতে ব্যবসায়ী-অপহরণ-জসিমের-চাঞ্চল্যকর-স্বীকারোক্তি ব্যবসায়ী শিবু লাল দাস অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার জসিম। চালক হওয়ায় অপহরণ মিশনে মূলত গাড়ি চালানোর দায়িত্ব ছিল জসিমের। শিবু ও তার চালক মিরাজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দুটি ঘটনার পরপর ঢাকায় ফেরার পথে পটুয়াখালীর লাউকাঠি বা শিয়ালি নদীতে ফেলে দেয়া হয় বলেও জানান তিনি।
পটুয়াখালীর গলাচিপার আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে ২০ কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে ব্যবসায়ী শিবু লাল দাসকে অপহরণ ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে অনুসরণ করছিল অপরহণকারীরা।
পটুয়াখালী শহরে শিবুর বাসা থেকে শুরু করে প্রতিটি সড়ক-মহাসড়ক, গলাচিপার হরিদেবপুর খেয়াঘাট এবং এর পাশেই শিবুর আবাসিক হোটেল, গাড়ি রাখার গুদাম, গ্যারেজসহ সম্ভাব্য সব স্থান দফায় দফায় নজরদারি করেছে অপহরণকারীরা। এমনকি শিবুকে অপহরণ করার পর সম্ভাব্য তিনটি নিরাপদ স্থানও তারা আগে থেকে চিহ্নিত করে রেখেছিল। ঘটনার সপ্তাহখানেক আগেই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য পাঁচটি নতুন মোবাইল ফোন কেনা ছাড়াও ঘটনার প্রায় ২৫ দিন আগে ঢাকা থেকে অন্তত পাঁচজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে পটুয়াখালী আনা হয়েছিল। আর এই পুরো কাজটি পরিচালনা করেছেন ঢাকার এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হান্নানের সহযোগী মামুন ওরফে ল্যাংড়া মামুন নিজে
ব্যবসায়ী শিবু অপহরণ ও উদ্ধারের পাঁচদিনের মাথায় ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া জসিম মৃধা ওরফে বিআরটিসি জসিমের স্বীকারোক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য। তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে ১৭ এপ্রিল রাতে ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে জসিমকে গ্রেপ্তার করে সোমবার দুপুরে পটুয়াখালী নিয়ে আসা হয়। পরে বিকালে পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ক-অঞ্চলের বিচারক আশিকুর রহমান ১৬৪ ধরায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে আদালতের নির্দেশে জসিমকে পটুয়াখালী কারাগারে পাঠানো হয়।
জসিমের স্বীকারোক্তির বরাতে সোমবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র। তথ্য দিয়েছেন অপহৃত ব্যবসায়ী শিবু লাল দাসও। একই আদালতে শিবুর গাড়িচালক মিরাজ হোসেন হাওলাদারের বক্তব্য রেকর্ড করার কথা থাকলেও ইফতারের সময় হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। তবে আগামীকাল একই আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে বলে জানান ব্যবসায়ী শিবু। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার জসিমকে পটুয়াখালী সদর থানায় নিয়ে আসলে সেখানে থাকা ব্যবসায়ী শিবুকে দেখেই অপহরণের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিতে শুরু করেন তিনি। শিবুর সামনেই পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন জসিম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার জসিম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড গলাচিপা এলাকার মৃত সেকান্দার মৃধার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার আবদুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন রুটে সরকারি বিআরটিসি পরিবহনের চালক হিসাবে কাজ করছিলেন। আর গাড়ি চালকের আড়ালে তিনি পেশাদার সন্ত্রাসী এবং ভাড়ায় বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কাজ করতেন।
জসিমের বরাতে ব্যবসায়ী শিবু জানান, ১১ এপ্রিল তাকে অপরহরণ করা হলেও ৪ এপ্রিল নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য পাঁচটি মোবাইল কিনেন অপহরণকারীরা। ফোনগুলো কেনার দায়িত্ব ছিল জসিমের। এ ছাড়া জসিমসহ ঢাকা থেকে আরও পাঁচজনকে আনুমানিক ২০/২৫ দিন আগেই পটুয়াখালী নিয়ে এসেছিলেন ল্যাংড়া মামুন।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার নামই অকপটে বলে দিয়েছেন গ্রেপ্তার জসিম। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, পটুয়াখালী শহরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর ভাই (‘র’ আদ্যক্ষরের) এই ঘটনায় সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং তিনি পুরো ঘটনার মাস্টার মাইন্ড ল্যাংড়া মামুনের খুব কাছের লোক। ঘটনার পর দুইদিন জসিম আর ওই শীর্ষ সন্ত্রাসীর ভাই একসঙ্গে ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তার অবস্থান কোথায় তা জসিমসহ তদন্ত সংশ্লিষ্টরাও জানেন না। চালক হওয়ায় অপহরণ মিশনে মূলত গাড়ি চালানোর দায়িত্ব ছিল জসিমের। শিবু ও তার চালক মিরাজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দুটি ঘটনার পরপর ঢাকায় ফেরার পথে পটুয়াখালীর লাউকাঠি বা শিয়ালি নদীতে ফেলে দেয়া হয় বলেও জানান তিনি। ব্যবসায়ী শিবু বলেন, ‘অপরহণকারীরা যখন টাকার জন্য আমাকে মারধর করছে তখন আমি বারবার বলেছি- এতগুলো টাকা পাব কই? আমার কাছে এত টাকা নাই। ‘কিন্তু একথা শোনার পর তারা আমার ও আমার পরিবারের স্থাবর অস্থাবর সবকিছুর কথা উল্লেখ করতে থাকলে আমি ভিমড়ি খাই। প্রথমে কয়েকজনের কথায় ঢাকা বা খুলনার আঞ্চলিকতার সুর পেলেও যখন আমার সম্পদের কথা বলছিল তখন আমাদের বরিশালের ভাষা শুনতে পাই।’শিবু জানান, এরপর ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘঁষেছে অপহরণকারীরা। যেভাবে দা-বটি ধার দেয়া হয়, অনেকটা সেভাবে। ২০ কোটি টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার বিষয়ে শিবু বলেন, ‘আমি ভয় পেয়ে তখন তাদের বলেছি, লাখ বিশেক টাকা দেয়ার ব্যবস্থা করতেছি আমাকে ছেড়ে দাও।
‘এ কথা বলার পর আমার ওপর টর্চার আরও বেড়ে যায়। তখন তারা বলেছে- টাকা দিবি ২০ কোটি। এক টাকাও কম নয়।’
শিবুর গাড়িচালক মিরাজ বলেন, ‘হাত পা মুখ যখন বাঁধছে তখন চালাকি করে মুখমণ্ডল শক্ত করে রাখি যাতে মোটামোটি শ্বাস নেয়া যায় এবং বাঁধনটি যেন ঢিলা থাকে। যখন হাত বেঁধেছে তখনও হাতটাকে বাঁকা করে রেখেছি যেন রশি ঢিল থাকে। কারণ আমাদের বস্তায় ভরা হবে সেটি বারবার তারা বলছিল। মনে করছিলাম, বস্তায় ভরলে তো মারা যেতে পারি। যদি পারি শেষ চেষ্টা করে নড়াচড়া করার চেষ্টা করবো। সেজন্য এই চালাকি করেছি।’
মিরাজ বলেন, ‘অটোবাইক থেকে নামানোর পর কোনো এক জায়গায় ফেলে রেখে বস্তার মুখ খুলে মাথাটা বের করে রেখেছিল। কিছুক্ষণ পর লোকজনের সাড়া-শব্দ না পেয়ে আমি আমার হাত দুটি বস্তা থেকে বের করি। তাতেও অনেক সময় লেগেছে। এরপর ধীরে ধীরে হাতের আঙ্গুল দিয়ে নাকের উপর থেকে স্কচটেপ ছুটানোর চেষ্টা করেছি। অনেক শক্ত ছিল এবং কপালের সাথে লেগে ছিল এটি। আঙ্গুল দিয়ে খোঁচা মারতে গিয়ে আমার নাকের চামড়াও অনেকখানি উঠে গেছে

দাউদকান্দিতে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে জোরালো আলোচনা

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১১ পিএম
দাউদকান্দিতে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে জোরালো আলোচনা

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধ, চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি দমন এবং জননিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় এসব বিষয় গুরুত্ব পায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।

সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধ, চাঁদাবাজি, চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় বক্তব্য দেন দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক নাহিদ আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান, দাউদকান্দি মডেল থানার প্রতিনিধি, দাউদকান্দি পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. মোখলেসুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বায়জিদ আহমেদ এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন চৌধুরী।

এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান আবুল হাসেম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ কে শামসুল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সভায় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বাংলাদেশ- এর দেবীদ্বার উপজেলা শাখার ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি আহমেদ হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বারে উপজেলা প্রশাসনের সভা কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি,বাংলাদেশ-এর উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার-এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা। দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ- এর কুমিল্লা জেলা শাখা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।

কমিটির অন‍্যান‍্য সদস‍্যরা হলেন, সহ সভাপতি – ময়নাল হোসেন ( ভিপি) দৈনিক মুক্ত খবর। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রুহুল আমিন হাজারী-দৈনিক জবাবদিহি। সাংগঠনিক সম্পাদক: জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব। সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক: এম এ হালিম দৈনিক বাংলার আলোড়ন। দপ্তর সম্পাদক: মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা। অর্থ বিষয়ক সম্পাদক: ডা. মো. শাহিন। প্রচার এবং প্রকাশনা সম্পাদক: এ কে এম মিজানুর রহমান (কাউছার) দৈনিক ঢাকা নিউজ। তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক: শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন। আইন বিষয়ক সম্পাদক: এডভোকেট, মো আনিছুর রহমান খান । সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক: ডা. শাহ জালাল।শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক: মো. রুহুল আমিন- সহকারী প্রধান শিক্ষক পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক: আবুল কালাম আজাদ। দৈনিক দিন প্রতিদিন। মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেল: মো: বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার। জরুরী সহায়তা ও চিকিৎসা বিষয়ক ডা. মাসুদ হাছান। নির্বাহী সদস্য: আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রানের বাংলাদেশ। আব্দুল আলিম ফেইস দ্যা পিপলস নিউজ। সাধারণ সদস্য: এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা। রাসেল সরকার দৈনিক মানব জমিন। মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না। ডাঃ প্রতিনিধি মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন।

অন‍্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা শাখার সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন, মোঃ আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, আমাদের দেবীদ্বার পএিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এটিএম সাইফুল ইসলাম মাসুম। বিজয় টিভির দেবীদ্বার প্রতিনিধি এনামুল হক।
এছাড়াও পোগ্রামের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী, গিতা পাঠ করেন ভজন সাহা। এসময় সম্মিলিত ভাবে জাতীয় সংগীত ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত প্রদর্শিত হয়।

কুমিল্লায় চোলাই মদের রমরমা কারবার, ধ্বংস হচ্ছে দরিদ্র পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
কুমিল্লায় চোলাই মদের রমরমা কারবার, ধ্বংস হচ্ছে দরিদ্র পরিবার

শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলায় মদ তৈরির অভিযোগ, নেশার ছোবলে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি

অভাবের সংসার, দিনমজুরের সামান্য আয়, স্ত্রী-সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সংগ্রাম—তারপরও সেই আয়ের একটি অংশ চলে যাচ্ছে নেশার পেছনে। চোলাই মদ পান করে কেউ হারাচ্ছেন কর্মক্ষমতা, কেউ জড়িয়ে পড়ছেন পারিবারিক কলহে, আবার কারও মদ্যপ আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। এমন পরিস্থিতিতে কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা ও টিক্কাচর এলাকার হাড্ডিখোলায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ ঘিরে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় বাস্তবতায় দেখা যায়, মদ্যপ অবস্থায় কিছু ব্যক্তি স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং পারিবারিক অশান্তির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিশুদের ওপরও। যে পরিবারগুলো এমনিতেই আর্থিক সংকটে দিন কাটায়, তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয় নেশার এই অভ্যাস।

 

নিজেরা পান, আবার বিক্রিও করেন

 

স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলা এলাকায় চোলাই মদ তৈরির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ নিজেদের ব্যবহারের জন্য মদ তৈরি করলেও অন্য একটি অংশ তা বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারজাত করে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের কথা বলে তৈরি করা মদের পাশাপাশি বিক্রির জন্যও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মদ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব মদের উপাদান ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হচ্ছে বলেও স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়। তবে উৎপাদন ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণের মতো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।

 

অল্প টাকার নেশা, বড় ক্ষতি সংসারে

 

চোলাই মদের সহজলভ্যতা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। অল্প টাকায় মদ কিনে পান করার পর অনেকে কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ কাজে যেতে পারেন না, কেউ উপার্জিত অর্থ পরিবারের প্রয়োজনের বদলে নেশায় ব্যয় করেন। এর ফলে সংসারে অভাব বাড়ে, সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

একজন মানুষের নেশার কারণে যখন স্ত্রী-সন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তখন সেটি আর ব্যক্তিগত অভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়।

 

অপরিচ্ছন্ন মদে মৃত্যুঝুঁকি

 

চোলাই মদে বিষাক্ত মিথানল বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান থাকলে তা অন্ধত্ব, গুরুতর অঙ্গহানি এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি হওয়া মদ নিরাপদ—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। শুধু গন্ধ, স্বাদ বা রং দেখে মদের বিষাক্ততা নির্ধারণ করা যায় না।

স্থানীয়ভাবে চোলাই মদ পান করে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ। হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মদপানের পর অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন সময়ে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছেন; তাঁদের মধ্যে অসচ্ছল ব্যক্তিও রয়েছেন। তবে কতজন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জরুরি।

 

বন্ধ হবে কবে এই অবৈধ কারবার?

 

এলাকাবাসীর উদ্বেগ হলো, চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রি চলতে থাকলে একদিকে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে, অন্যদিকে পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলাও চলতে থাকবে। এ পরিস্থিতিতে শুধু মদ পানকারীকে দোষারোপ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; এর উৎপাদন ও বিক্রির উৎসও শনাক্ত করা প্রয়োজন।

শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কোথায় মদ তৈরি হচ্ছে, কীভাবে তা বিক্রি হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

পাশাপাশি মদে আসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পরামর্শ ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ নেশার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা যেমন জরুরি, তেমনি তাঁদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চোলাই মদের কারবার বন্ধ করা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়; এটি দরিদ্র মানুষের জীবন রক্ষা, পরিবারের শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেশার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচানোর লড়াই। এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, নিয়মিত নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা।

×