মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

বিশুদ্ধ পানির সংকট!

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০২৩, ৭:১৮ এএম
বিশুদ্ধ পানির সংকট!
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

লক্ষ্মীপুরের গ্রাম-গঞ্জের বেশিরভাগ লোকজন এখনো অগভীর এবং স্যালো টিউবয়েলের পানি পান করছে। যাতে আর্সেনিক এবং আয়রনের উপস্থিতি রয়েছে। এছাড়া জেলার উপকূলীয় এলাকার টিউবওয়েলগুলো থেকে উঠছে নোনা পানি। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশিরভাগ বাসিন্দারা এখনো সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আর্সেনিকযুক্ত ও আয়রনযুক্ত পানি পান করছে তারা।

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাসিন্দারাও পানি নিয়ে দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। শুধুমাত্র পৌর শহর বা এর আশেপাশে পৌর কর্তৃপক্ষ পানি সরবরাহ করলেও শহরের অদূরের গ্রাম এবং পৌরসভার বর্ধিত অংশে এখনো পৌঁছাতে পারে সুপেয় পানির লাইন। আবার পৌরসভার কোন এলাকায় পানি সরবরাহ লাইন থাকলেও সেখানে ঠিকমতো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না পানি। ফলে ওইসব এলাকার বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে অগভীর নলকূপ কিংবা স্যালো টিউবওয়েলের পানি পান করছে। যাতে আর্সেনিক এবং আয়রন দুটোই রয়েছে।

অন্যদিকে গভীর নলকূপের পানি নিরাপদ হলেও জেলার বাসিন্দাদের চাহিদা অনুযায়ী যা একেবারেই অপ্রতুল্য। শুধুমাত্র বিত্তশালী ও জনপ্রতিনিধিদের আস্থাভাজনরাই গভীর নলকূপের সুবিধা পেয়ে থাকে। অন্যদের ভরসা আর্সেনিক ও আয়রনযুক্ত পানি। আবার দুর্গম চরগুলোতে নোনা পানির আধিক্য থাকায় সেখানকার বাসিন্দারা সুপেয় পানির জন্য দুর্ভোগে পড়েন। এতে পানি বাহিত রোগাক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে জেলার বাসিন্দারা।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের অগভীর ও স্যালো টিউবওয়েলগুলোতে আর্সেনিক নিয়ে একটি জরিপ চালায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। এতে আর্সেনিকের ভয়াবহতা উঠে এসেছে। জেলার সদর উপজেলার পৌরসভা এবং ১৮ টি ইউনিয়নের ৩৯ হাজার ৯৫৭ টি অগভীর এবং স্যালো টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিং পরীক্ষা করা হয়। যারমধ্যে ১৬ হাজার ৯ ৩৭ টি অগভীর নলকূপ ও স্যালো টিউবওয়েলে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ইউনিয়ন থেকে আড়াই হাজার টিউবওয়েলের নমুনা পানি সংগ্রহ করে জনস্বাস্থ্য অধিদফতর। জরিপে সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের কাঠালী গ্রামে আনুপাতিক হারে আর্সেনিকের উপস্থিতি কম পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বেশি আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে ভবানীগঞ্জ এবং দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নে। পৌর এলাকার ২০২৩ টি নলকূপের পানি পরীক্ষা করে ৭২৫ টিতেই আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

আর্সেনিকযুক্ত টিউবওয়েলের পানি রান্নার কাজে ব্যবহার এবং পান করা থেকে বাসিন্দাদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও সুপেয় পানির বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে ওইসব টিউবওয়েলের পানিই পান করছে। আবার প্রায় বেশিরভাগ অগভীর নলকূপে আয়রনের প্রভাব রয়েছে। বাধ্য হয়েই অনেকেই সেই আয়রনযুক্ত পানিই পান করছে।

লক্ষ্মীপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর বলছে, আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনে একটি প্রকল্প ছিল। এতে সদর, রামগঞ্জ এবং রায়পুর উপজেলাতে ২০০৯ সাল নাগাদ ৩৫ হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ইউনিয়নে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ চলছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার টুমচর এবং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে ‘সমগ্র বাংলাদেশে পাইপ লাইনে পানি সরবরাহ প্রকল্প’ এর আওতায় দুটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদক গভীর নলকূপের সাহায্যে ইউনিয়নের ৫ কিলোমিটার এলাকার আড়াইশ পরিবারকে সুপেয় পানি সরবরাহ করা যাবে। এছাড়া তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের জন্য ‘মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে সাড়ে ৩শ পরিবারকে এবং পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে ৭০০ পরিবারকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবার করা হবে।

এছাড়া যেখানে আয়রনের পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে, সেখানে আয়রন শোধনের জন্য পরিবেশ বান্ধব ওয়াটার ডিসাইলেশন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় জেলার সদর উপজেলায় ৬৫ টি এবং রামগতিতে ১৪ টি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। তবে পাইলট প্রকল্পকে মূল প্রকল্পে আনা হলে উপকারভোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল।

এদিকে জেলার উপকূলীয় এলাকা রামগতি এবং কমলনগরে অগভীর টিউবওয়েলে আয়রন এবং লবনের উপস্থিতি রয়েছে ব্যাপক হারে। রামগতির পৌরসভা (আলেকজান্ডার) ও চর বাদাম ইউনিয়নে গভীর নলকূপ স্থাপন করেও পাওয়া যাচ্ছে না সুপেয় পানি। তবে উপজেলার পৌর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সুপেয় পানির সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ‘সারাদেশের ৩০ পৌরসভায় পানি সরবরাহ প্রকল্প’ এর আওতায় আলেকজান্ডারে একটি পানির ট্যাংক স্থাপন করা হচ্ছে। মেঘনা নদীর খুব কাছাকাছি হওয়ায় ওই এলাকার মাটির তলদেশে সুপেয় পানির অভাব থাকায় প্রকল্প এলাকা থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে চর আলগীতে চারটি উৎপাদক নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকেই আলেকজান্ডারে অবস্থিত ট্যাংকে পানি নিয়ে আসা হবে। ওই ট্যাংক থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পৌরবাসীকে সুপ্রেয় পানির যোগান দেওয়া হবে।
চাহিদার তুলনায় নগন্য অগভীর নলকূপ ।

লক্ষ্মীপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে সুপেয় পানির জন্য নানা প্রকল্প এবং গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও জেলার বাসিন্দাদের চাহিদা অনুযায়ী তা একেবারে অপ্রতুল্য। এছাড়া এসব প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র বিত্তশালী এবং জনপ্রতিনিধিদের আস্থাভাজনরাই ভোগ করতে পারে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক গভীর নলকূপের বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সাধারণ জনগণ এসব সুবিধার বাহিরে থাকে। সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের থেকেও কয়েকগুণ বেশি অর্থের বিনিময়ে নিতে হয় গভীর নলকূপ। আবার পৌর এলাকার নিজস্ব উদ্যোগে গভীর নলকূপ স্থাপনে রয়েছে পৌরসভার নানা প্রতিবন্ধকতা। ফলে পৌর এলাকাসহ জেলার অধিকাংশ মানুষ আর্সেনিক এবং আয়রনযুক্ত পানিই পান করছে।

আর্সেনিক ও আয়রনযুক্ত পানির ভয়াবহতার কথা জানিয়ে সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করা মানে বিষ পান করা। এ পানি পান করলে হৃদরোগ, চর্মরোগ, এলার্জি ও স্কিন ক্যান্সারসহ জটিল রোগাক্রান্ত হবে। এছাড়া পানিতে আয়রনের মাত্রা বেশি থাকলে চুল পড়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, গভীর নলকূপে আর্সেনিক থাকে না। তবে আমাদের চাহিদার তুলনায় গভীর নলকূপ একেবারে নগন্য। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে গেল ৪ অর্থবছরে জেলার প্রতিটি উপজেলাতে ২৬ টি করে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। ‘সমগ্র বাংলাদেশে পানি সরবরাহ প্রকল্প’ এর আওতায় কিছু কিছু ইউনিয়নে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবার করা হবে। সুপেয় পানির চাহিদার তুলনায় এসব প্রকল্পের সুবিধাভোগীর সংখ্যাও একেবারে কম বলে স্বীকার করেন তিনি।

হোমনায় এম কে আনোয়ারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মোঃ তারিকুল ইসলাম (তারেক)। প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
হোমনায় এম কে আনোয়ারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

এম কে আনোয়ার ছিলেন রাজনীতির তারকা পুরুষ, তাঁর অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করব-মো. সেলিম ভুঁইয়া এমপি

কুমিল্লার হোমনায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং হোমনা-তিতাস আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মরহুম এম কে আনোয়ারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে এ উপলক্ষে মরহুমের কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া।

মরহুম এম কে আনোয়ারের জ্যেষ্ঠ সন্তান মাহমুদ আনোয়ার কাইজার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন। পরে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়ায় অংশ নেন।

স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া এমপি বলেন, এম কে আনোয়ার শুধু হোমনা কিংবা কুমিল্লার ছিলেন না, তিনি ছিলেন জাতীয় রাজনীতির একজন তারকা পুরুষ। সততা, দৃঢ়তা ও আপসহীন নেতৃত্বের কারণে তিনি রাজনীতিতে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তাঁর মতো অভিজ্ঞ, সৎ ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ দেশের সম্পদ।

তিনি বলেন, এম কে আনোয়ার হোমনা, তিতাসসহ বৃহত্তর এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর হাত ধরে এ অঞ্চলের উন্নয়নের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা এগিয়ে নেওয়া বর্তমান নেতৃত্বের দায়িত্ব। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তাঁর রেখে যাওয়া উন্নয়ন-ভাবনা ও অসমাপ্ত কাজগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সেলিম ভুঁইয়া এমপি আরও বলেন, এম কে আনোয়ারের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে তাঁর সততা, দেশপ্রেম ও জনকল্যাণের রাজনীতি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি এলাকার মানুষের জন্য যে কাজ করে গেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। হোমনা-তিতাসের উন্নয়নে তাঁর যেসব স্বপ্ন ও কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আমি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাব।

এ সময় তিনি মরহুমের রাজনৈতিক জীবন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়ায় অংশ নেন।

মরহুম এম কে আনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতি ও প্রশাসনের এক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।

হোমনা-তিতাস ও মেঘনা অঞ্চলের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সাংগঠনিক ভূমিকার সমন্বয়ে তিনি দেশের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা ঘটনা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা তাঁকে হোমনার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহফুজুল ইসলাম, হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক (ভিপি মুকুল), সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, সহসভাপতি মো. শাহ আলম হিমেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা (চেয়ারম্যান) ও মো. সাইফুল ইসলাম (ভিপি রাজা)।

পৌর বিএনপির সভাপতি ছানাউল্লাহ সরকার, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আলহাজ আবদুল লতিফ, উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য মো. আলমগীর সরকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও হোমনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. অহিদুজ্জামান মোল্লা এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাইজুদ্দিন (শাজু)।

এ ছাড়া মরহুমের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×