বুড়িচংয়ে প্রবাসীর বাড়িতে টিনের চাল খুলে চুরি, ৩ মাসে ৬ বার!
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের রুফুদ্দী গ্রামে বাহরাইনপ্রবাসী দিদার হোসেনের বসতঘরের টিনের চাল খুলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের দাবি, গত প্রায় তিন মাসে একই বাড়িতে এ নিয়ে ছয়বার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোরের দল ঘরের টিনের চাল খুলে ভেতরে প্রবেশ করে বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। এ সময় চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার আগেই তারা পালিয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সর্বশেষ ঘটনায় একটি দামি মোবাইল ফোন ও আলমারির চাবি নিয়ে যায় চোরেরা।
দিদার হোসেনের মা মোর্শেদা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চোরেরা ঘরের টিনের চাল খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার করলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় একটি মোবাইল ফোন ও আলমারির চাবি নিয়ে যায়।
দিদার হোসেনের স্ত্রী নিপা আক্তার বলেন, “এ নিয়ে আমাদের বাড়িতে এ পর্যন্ত ছয়বার চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত তিন মাস ধরে চোরেরা পর্যায়ক্রমে আমাদের ঘরে চুরি করে যাচ্ছে। গোয়ালঘর থেকে দুটি ফ্যান, ঘর থেকে ধানের বস্তা, তিন-চারটি দামি মোবাইল ফোন, স্বর্ণের চেইন, নগদ টাকা, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, বারবার চুরির ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রাতে ঘুমাতে গেলেও আবার কখন চোরের দল হানা দেয়, সেই উৎকণ্ঠায় থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক জালাল উদ্দীনসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, একই পরিবারে বারবার চুরির ঘটনায় এলাকায়ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাতের বেলায় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।
তাদের দাবি, এলাকায় চুরি প্রতিরোধে পুলিশের টহল ও তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি পরিবারে কয়েক মাসের ব্যবধানে একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটলেও জড়িতদের শনাক্ত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর পুলিশি তৎপরতার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরেজিত বড়ুয়া বলেন, “এ ধরনের ঘটনার কোনো খবর আমাদের জানানো হয়নি। তারপরও আপনি যেহেতু জানিয়েছেন, আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।”













