বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

৪২ লাখ গ্রাহকের হাজার কোটি টাকা নিয়ে উধাও এমটিএফই

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৩, ১০:১৪ পিএম
৪২ লাখ গ্রাহকের হাজার কোটি টাকা নিয়ে উধাও এমটিএফই
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ফারজানা ইয়াসমিন। গাজীপুরের টঙ্গী চেরাগ আলী এলাকার বাসিন্দা। চলতি বছরের ১০ই মে পাশের বাসার কাকলী বেগমের কাছ থেকে এমটিএফই অ্যাপের বিষয় জানতে পারেন। যে অ্যাপে ২৫ হাজার টাকা ইনভেস্ট করলে মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় করার সুযোগ আছে। এমন কথা শুনে স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয় তার মধ্যে। পরে স্বামীকে না জানিয়ে স্থানীয় এক এনজিও থেকে ২৫ হাজার টাকা লোন নিয়ে কাকলীর মাধ্যমে এমটিএফইতে বিনিয়োগ করেন ইয়াসমিন। বিনিয়োগের পর দুই মাস ভালোই চলছিল। লাভের টাকা বাড়তে বাড়তে দ্বিগুণ হওয়ায় টাকা তোলার চিন্তাও করেননি ইয়াসমিন। দুই মাসে ২৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা হয়ে যায়। কমিশন পেতে ও আয়ের পরিমাণ বাড়াতে নিকট আত্মীয়দের অনেককেই এমটিএফই অ্যাপে যুক্ত করেন।

 

দেড় মাসে ইয়াসমিন প্রায় ১৫ জনকে যুক্ত করেন এ প্ল্যাটফরমে। কিন্তু গত ১৭ই আগস্ট রাতে সকলের টাকা উধাও (স্ক্যাম) করে কানাডাভিত্তিক কোম্পানিটি। এতে নিজের টাকা তো গেছেই অন্যের টাকার চাপে দিশাহারা ইয়াসমিন। শুধু ফারজানা ইয়াসমিন একাই নন, দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ছে এমটিএফই গ্রাহকদের লোভনীয় আশ্বাস দিয়ে ফকির করে পালিয়ে গেছে কোম্পানিটি। কেউ কেউ টাকা খুইয়ে এখন পাগলপ্রায়। চারদিকে আহাজারি। টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক গ্রুপগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে। নাবিল হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, এমটিএফই’র গ্রুপগুলোতে কান্নার রোল পড়েছে। যেন সবাই হাহাকার করছে। টাকা হারিয়ে অনেকে জ্ঞান হারিয়েছেন। সবাই কপাল চাপড়াচ্ছেন। কেউ কেউ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসারদের (সিইও) কাছে কান্নাকাটি করছে। গ্রুপে অনেকে বলছেন, তারা ধারদেনা ও ঋণ করে টাকা ইনভেস্ট করেছেন। কেউ পালের গরু ও জমি বিক্রি করেও এই অ্যাপে ইনভেস্ট করেছে। এখন ঋণের টাকা কীভাবে দেবেন সেই চিন্তা করছেন। এমটিএফই এভাবে প্রতারণা করবে কেউ চিন্তাই করেনি! সিইওরা একদিন বলছিলেন এমটিএফই’র কানাডা সরকার থেকে লাইসেন্স নেয়া আছে। অস্ট্রেলিয়ার ব্রোকার লাইসেন্স নেয়া আছে। তারা টাকা মেরে যেতে পারবে না। কিন্তু এখন গ্রুপ বন্ধ করে সিইওরাই পালিয়েছে। তাদের ফোনও বন্ধ।
জানা গেছে, কানাডিয়ান মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ কোম্পানি (এমটিএফই) বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে ২০২১ সালে। তিন বছরে এমটিএফইতে শুধু বাংলাদেশ থেকেই ৪২ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছেন। প্রাথমিক অবস্থায় এমটিএফই অ্যাপে যুক্ত প্রত্যেকেই ৬১, ২০১, ৫০১, ৯০১ ও ২ হাজার ডলার ডিপোজিট করেন। বেশি টাকা আয় করতে কেউ কেউ ৫ হাজার ডলারের বেশিও ইনভেস্ট করেছেন। এভাবে কোম্পানিটি গ্রাহকদের কাছ থেকে ২ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। ঢাকাসহ সারা দেশে কোম্পানিটির ৪ শতাধিক অফিস রয়েছে। এমটিএফই’র অ্যাপে এসব অফিসের ছবিসহ ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য দেয়া আছে। মূলত দুবাই থেকে মাসুদ আল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি এমটিএফই’র এশিয়া অঞ্চলের দেখভাল করেন। তিনিই এমটিএফই’র কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে ছড়িয়ে দিতেন। তার থেকে পাওয়া তথ্য অন্যান্য গ্রুপের সিইওরা তাদের মেম্বারদের জানাতেন। মেম্বাররা আবার তাদের সদস্যদের জানাতেন।

এমটিএফই মূলত এমএলএম কোম্পানির মতো তাদের কার্যক্রম চালিয়েছে। প্রথম হাত, দ্বিতীয় হাত, তৃতীয় হাত পর্যন্ত আয়ের টাকা ভাগাভাগি হতো। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাংলাদেশে এমটিএফই কোম্পানিটির প্রায় সাড়ে ৩ শতাধিক সিইও আছে। এমটিএফইতে নিজের প্রমোকোড ব্যবহার করে মানুষকে যুক্ত করতে পারলেই এমটিএফই তাকে সিইও হিসেবে প্রমোশন হয়। পরে এমটিএফই কোম্পানি প্রত্যেক সিইওকে প্রতিমাসে ৩ লাখ টাকা বেতন ও ১ লাখ টাকা অফিস ভাড়া প্রদান করে। সিইওদের প্রধান কাজ ছিল বিপুল অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে কোম্পানিতে হাজার হাজার মানুষকে যুক্ত করা। এতে তারা সফলও হয়। সহজেই লাখ লাখ মানুষকে যুক্ত করতে পেরেছে। প্রতিজন সিইওর আন্ডারে প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ মানুষ এমটিএফইতে যুক্ত রয়েছে। প্রত্যেকের আলাদা আলাদা টেলিগ্রাম ও হোয়াটঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে। গ্রুপে সদস্যদের ট্রেডিংয়ের সিগন্যাল দেয়া হতো। সেই সিগন্যাল অনুযায়ী গ্রাহকরা এমটিএফইতে ট্রেড করতো। ওই গ্রুপে এমটিএফই’র নতুন নতুন সুযোগ-সুবিধার কথা জানানো হয়। এই সিইওদের মাধ্যমে টিম গঠন করে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিমাসে ২ থেকে ৩ শতাধিক সেমিনার আয়োজন করা হয়। মূলত অ্যাপে সদস্য বাড়াতেই এই সেমিনার করা হয়। যারা আগে থেকেই অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের মাধ্যমে শত শত মানুষকে এই সেমিনারে আনা হতো। সেমিনার শেষে খাবারেরও ব্যবস্থা করা হতো। ঢাকার সেমিনারগুলো ধানমণ্ডি, গুলশান, বনানী, মোহাম্মদপুর, মহাখালি, উত্তরা, মিরপুরের বিভিন্ন নামিদামি রেস্টুরেন্টে আয়োজন করা হতো। সিইওদের অফিসগুলোও এসব এলাকায়। সেমিনার থেকে সিইওরা সাধারণ মানুষকে ভাগ্য পরিবর্তনের নানা মোটিভেশনাল বক্তব্য দিয়ে উদ্বুদ্ধ করতেন। অনেকে সেমিনার থেকেই অ্যাপ ইনস্টল করে এমটিএফইতে যুক্ত হতেন। ধারদেনা করে ডলার ঢুকাতেন। এবং সদস্য সংগ্রহ করতে নেমে পড়তেন। তাদেরও সিইও হওয়ার স্বপ্ন দেখানো হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমটিএফই’র এক সিইও বলেন, সদস্য বাড়াতে এমটিএফই এমএলএম কোম্পানির মতো কমিশন ব্যবস্থা চালু করে। এতে একজন যুক্ত হলে তার মাধ্যমে যতজন যুক্ত হবে সবার থেকেই মোটা অঙ্কের কমিশন পেতেন প্রথম ব্যক্তি। প্রথম ব্যক্তি এমটিএফইতে ট্রেড করলে তার আয় থেকে একটি অংশ প্রতিদিনই প্রথম হাত, দ্বিতীয় হাত ও তৃতীয় হাত পর্যন্ত কমিশন আকারে দেয়া হয়। এতে যত বেশি সদস্য তত বেশি কমিশন। এই লোভেই অনেকে পাগলের মতো হন্যে হয়ে মেম্বার যুক্ত করতে থাকে। অনেকে কমিশন দিয়েই কোটিপতি হয়েছেন। তবে শুরু থেকে যারা আছেন তারা সবাই লাভবান। নতুন যারা যুক্ত হয়েছেন সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। টাকা ফেরত আনার কোনো রাস্তা নেই। কাস্টমার কেয়ার এখন মেসেজের উত্তর দেয় না।

কোম্পানিটির ওয়াবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, তারা ২০১৬ সালে কানাডা সরকার থেকে সরকারি এমএসবি লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সরকার থেকে ফিনট্রেক লাইসেন্স নেন। এই দুটি লাইসেন্সের পিডিএফ কপি ও ছবি দিয়ে প্রচারণা চালায়। অনলাইনে দেখা যায় এমটিএফই একটি অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফরম। ক্রিপ্টোকারেন্সির অনলাইনভিত্তিক ব্রোকার কোম্পানি ফরেক্স, ইনডেক্স ও কমোডিটিতে ট্রেডের নামে এমটিএফই গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। তবে এসব ব্রোকার হাউজের ওয়েবসাইটকে এমটিএফই তাদের সঙ্গে ট্রেডিং করে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমটিএফই মূলত অর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এআই ট্রেডিংয়ের নামে গ্রাহকদের সঙ্গে ৩ বছর ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন। এই এআই দিয়ে মাঝেমধ্যেই গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের ডলার গায়েব করে দেয়া হতো।

যেভাবে লাপাত্তা এমটিএফই: একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমটিএফই গত ৭ই আগস্ট থেকে টেকনিক্যাল সমস্যা দেখিয়ে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলন সেবা বন্ধ করে দেয়। এরপরে গ্রাহকদের সঙ্গে কাস্টমার সার্ভিসের মাধ্যমে যোগাযোগ করে কোম্পানিটি। পরে কাস্টমার সার্ভিস থেকে জানানো হয় সফটওয়্যার আপগ্রেডের কারণে আপাতত উত্তোলন সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। একটি নোটিশ দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। তবে এরপরে ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের সফটওয়্যার আপগ্রেড শেষ হয়নি। উল্টো ৭ তারিখের আগে গ্রাহকদের উইথড্রো দেয়া সব ডলার রিজেক্ট করে পুনরায় অ্যাকাউন্টে ফেরত নিয়ে যায়। আবার নোটিশ দিয়ে জানানো হয় সফটওয়্যার আপগ্রেডের কাজ নির্বিঘ্নে করতে সকলের লেনদেন বাতিল করা হয়েছে। তবে গত ১৭ তারিখে এমটিএফই তাদের অ্যাপে প্রবেশ বন্ধ করে দেন। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও গ্রাহকরা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এআই বাটন অন করতে পারেনি। পরে ওইদিন রাত ৮টার পরে কোম্পানিটি গ্রাহকদের অনুমতি ছাড়াই এআই বাটন অন করে দেন।

এদিন রাত ১২টার পরে ট্রেডিংয়ের নামে সকলের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দেয়া হয়। উল্টো গ্রাহকদের মূলধনের অর্থের সমপরিমাণ ডলার মাইনাস করে দেখানো হয়। এবং তাদের অ্যাপে জরুরি নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে বলা হয়, গ্রাহকরা এমটিএফই সেবা চলমান রাখতে হলে তাদের মাইনাস ব্যালেন্স পরিশোধ করে আবার ডলার ডিপোজিট করুন। এমনকি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এমটিএফই’র প্রাপ্ত মাইনাস ডলার পরিশোধ না করলে গ্রাহকদের আইনি নোটিশ পাঠানোর হুমকি দেয়া হয়। শুধু বাংলাদেশই নয় এমটিএফই তাদের কার্যক্রম পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়। কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, মালেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, মালদ্বীপ, সৌদি আরব, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, নাইজেরিয়া, ইসরাইল, উজবেকিস্তান, কাজাকিস্তান, কেনিয়া, তানজেনিয়া, রুয়ান্ডা, কঙ্গো, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, ওমান, আইভোরিকোস্ট, ইরাক, ইয়েমেন ও জিবুতিতে তারা প্রতারণা করে প্রায় ৭ কোটি মানুষের কাছ থেকে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার নিয়ে উধাও হয়েছে।

জানতে চাইলে ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ মানবজমিনকে বলেন, এমটিএফই নামের একটি কোম্পানি মানুষের টাকা নিয়ে স্ক্যাম করেছে বিষয়টি আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে কোন নাম্বারে টাকা পাঠিয়েছে সেই নাম্বারে খোঁজ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×