মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

দেবীদ্বার রাজামেহারে ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাংচুর আহত ১

মোঃ বিল্লাল হোসেন, দেবীদ্বার : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২, ১০:৩৮ এএম
দেবীদ্বার রাজামেহারে ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাংচুর আহত ১
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ডের উখারী গ্রামে গত ৩০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১:১৫ মিনিটের সময় স্থানীয় ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নবী মেম্বারের নেতৃত্বে ১২/১৫ জনের একটি একটি সন্ত্রাসী দল বে আইনি জনতাবদ্ধ হয়ে ৪ টি বসত ঘরে হামলা, ভাংচুর ও পুরুষ শূন্য ঘরের দরজায় লাথি দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে একাধিক নারীকে লাঞ্ছিত এবং অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হলে এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে আসলে পরদিন ৩১ ই অক্টোবর সকালে উখারী গ্রামে সরেজমিনে গেলে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের পর চলে আসার পরেই দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ মিনিটের সময় আবারো অভিযুক্ত ৯ নং ওয়ার্ডের নবী হোসেন মেম্বারের নেতৃত্বে মোঃ আবু ইউসুফ, মোঃ জামাল হোসেন, মোঃ আবুল বাশারসহ আরো ৮/১০ জন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জুয়েল মিয়া নামক এক অটোরিক্সা চালককে মরহুম সোবহান কারীর মাদ্রাসার উওর পাশে রাস্তার উপর এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক কাটা রক্তাক্ত জখম করলে স্হানীয় আশেপাশের লোকজন গুরুত্বর আহত অটোরিক্সা চালক জুয়েল মিয়াকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত জুয়েল এর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

আহত অটোরিক্সা চালক জুয়েল মিয়ার স্ত্রী জানান, আমার স্বামীকেসহ আমাকে আরো আগে ও একাধিকবার নবী মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্বে মারধর করেছিল। সেই কারনে আমার স্বামী জুয়েল বাদী হয়ে নবী মেম্বারকে ৩ নং আসামি করে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৪ কুমিল্লায় একটি সি আর মামলা দায়ের করেন। মামলা নং সি আর- ৩৮৭/ ২২ ইং ধারা-১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩৭৯/৩০৭/৩৫৪/১০৯ দঃবি সেই মামলাটি বিজ্ঞ বিচারক ওসি দেবীদ্বার থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি দেবীদ্বার থানার এসআই মোঃ মিজানুর রহমানের কাছে তদন্তাধীন রয়েছে। আমার স্বামীকে মারধর করে আমাদের বসতঘরের সামনে নবী মেম্বার বেড়া দিয়ে আমাদেরকে অবরোধ করে রাখে।নবী মেম্বার প্রভাবশালী আর আমরা গরীব দেখে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এলাকায় নবী মেম্বারের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলতে পারে না।

উখারী গ্রামের একাধিক ভোক্তভোগী, আবুল কালাম (ভুট্রু) ড্রাইভার, জহিরুল ইসলাম, কামাল হোসেন বলেন, নবী মেম্বার এলাকার মাদক কারবারি,জুয়াড়ী ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা। নবী মেম্বারের অত্যাচারে এলাকার নিরীহ জনগণ আজ দিশেহারা‌। ৩০ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে আমাদের বাড়িতে চাঁরটি বসতঘরে হামলা করে ঘর এবং ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে মহিলাদের লাঞ্ছিতসহ ঘরের ভিতরে সজ্জিত অনেক মূল্যবান মালামাল ভাংচুর করেছে। রাতে আমাদের চাঁরটি বসতঘরে হামলা করে ভাংচুর করার পরদিন দুপুরে অটোরিক্সা চালক জুয়েলকে মারধর করে গুরুত্বর রক্তাক্ত করে নবী মেম্বার। এর আগে ও তার বিরুদ্ধে অটোরিক্সা চুরির মামলা ও সন্ত্রাসী মামলাসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। আমরা এই নবী মেম্বারের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিচার চাই।

উখারী গ্রামের শামছুল ইসলাম সর্দার বৃদ্ধ বায়োজৌষ্ঠ ব্যক্তি জানান,গত ১৭ ই আগষ্ট ও ১৮ ই আগষ্ট-২২ ইং তারিখে নবী মেম্বার ও তার বড় ভাই আবু ইউসুফ, আবুল বাশার, মাহাবুব, তুহিন এই পাঁচ জন মিলে চুলাশ বাজারের স্যানিটারী ব‌্যবসায়ী শামছুল ইসলাম সর্দারের দোকানের সামনে স্যানিটারী স্লেপ ও রিং ভাংচুর করলে নবী মেম্বার কে ১ নং আসামি করে ৫ জনের বিরুদ্ধে দেবীদ্বার থানায় একটি নন-জিআর মামলা নং-৮৮/২২ ইং ধারা- ৪২৭/৩২৩/৫০৬ দ্রঃবি রুজু হলে নবী মেম্বারসহ সকল আসামীর বিরুদ্ধে গ্ৰেফতারী পরোয়ানা জারি করেন বিজ্ঞ আদালত। পরে দেবীদ্বার থানা পুলিশ গ্ৰেফতারী পরোয়ানাভুক্ত নবী মেম্বার পালিয়ে গেলেও তার বড় ভাই আবু ইউসুফসহ আবুল বাশার নামক দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করলে আসামীরা জামিনে এসে অটোরিক্সা চালক জুয়েলসহ একাধিক ব্যাক্তিদের মারধর করে কিন্তু নবী মেম্বারের বিরুদ্ধে আইনের দারস্হ হওয়ার পরেও তাকে তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থেকে থামানো যাচ্ছে না।

তাছাড়া ও বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৪ কুমিল্লায় উখারী গ্রামের মৃত রাজ্জাক মাষ্টারের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৪ ই আগষ্ট ২২ ইং তারিখে অভিযুক্ত নবী মেম্বারসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে একটি মারামারির মামলা দায়ের করেন । মামলা নং সিআর – ৩৮৮/২২ ইং ধারা-১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩০৭/৩২৬/৩৭৯/৫০৬ দঃবি অএ মামলাটি বিজ্ঞ আদালত ডিবি কুমিল্লাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি ডিবি কুমিল্লায় তদন্তাধীন রয়েছে ।একই গ্ৰামের মৃত ইয়াছিন মিয়ার পুত্র মোঃ ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে অভিযুক্ত নবী মেম্বার, মোঃ আবুল বাশার, মোঃ জামাল হোসেনসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৪ কুমিল্লায় আরেকটি মারামারির মামলা দায়ের করেন বলে জানা যায়।

তবে ৩১ ই অক্টোবর বিকেলে অভিযুক্ত নবী মেম্বার গংদের বিরুদ্ধে গত ৩০ ই অক্টোবর দিবাগত রাতে উখারী গ্রামের ০৪ টি বসতবাড়িতে হামলা,ভাংচুর, নগদ টাকা লুটপাটের ঘটনায় দেবীদ্বার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ৩১ ই অক্টোবর দুপুর ১২:৩০ মিনিটের সময়ে অটোরিক্সা চালক মোঃ জুয়েল মিয়াকে মারধর বিষয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান জুয়েল মিয়ার বাবা মোঃ জয়নাল আবেদীন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নবী মেম্বারের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, উখারী গ্রামের ০৪ টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর, নগদ টাকা লুটপাটের ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিত্যক্ত বস্তায় বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগজিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৩ পিএম
পরিত্যক্ত বস্তায় বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগজিন

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগজিন উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কটকবাজার এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিবিরবাজার বিওপির আওতাধীন শাহাপুর পোস্টের একটি টহল দল সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কটকবাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একটি পুরোনো প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্র ও ম্যাগজিনের বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে সেগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন, ২ হাজার ৫০০ মানুষের নিরাপত্তায় একজন পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ পিএম
কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন, ২ হাজার ৫০০ মানুষের নিরাপত্তায় একজন পুলিশ

এফএনএস নিজউ, হোম, জেলার সংবাদ, বাংলাদেশ, বিশেষ সংবাদ, অর্থনীতি, বিনোদন, খেলা, বিশ্ব, লাইফস্টাইল, প্রযুক্তি, সংগঠন, ধর্ম, সাহিত্য, মুক্তমত, সম্পাদকীয়, আর্কাইভ,

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জনপদ কুমিল্লায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ১০ মাসে জেলায় ১২০টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য সামনে আসায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সীমিত জনবল, অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত নজরদারির কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা চলছে।

গত কয়েক মাসে ছিনতাইয়ের ঘটনায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম এবং স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এসব ঘটনায় মহাসড়ক ও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মাসে কুমিল্লায় ১২০টি হত্যাকাণ্ড, ৪১৩টি চুরি, ৪০টি ডাকাতি, ১৫টি অপহরণ এবং ৩৮টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে ৪৯৭টি অপমৃত্যুর ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় ৬১টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব পরিসংখ্যান অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির আইন বিভাগের প্রধান ড. নায়ীম আলীমুল হায়দার বলেন, কুমিল্লার মতো জনবহুল ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের উচ্চহার উদ্বেগজনক। কিশোর গ্যাং, অস্ত্রের সহজলভ্যতা, মাদক ও সীমান্ত চোরাচালান, আইন প্রয়োগে দীর্ঘসূত্রতা এবং সামাজিক ও পারিবারিক নজরদারির অভাব অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, আইনের কঠোর ও দৃশ্যমান প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

বিভিন্ন ঘটনার প্রাথমিক তথ্যে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিনতাই, পারিবারিক ও জমিসংক্রান্ত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা এবং আধিপত্য বিস্তারের মতো বিষয় উঠে এসেছে। পাশাপাশি মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, চাঁদাবাজি ও চুরির অভিযোগও রয়েছে। নগর এলাকা থেকে মহাসড়ক পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অপরাধের আশঙ্কায় বিশেষ করে রাতে চলাচল নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, যাত্রী কিংবা চালকের ছদ্মবেশে ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন যানবাহনে অপরাধ সংঘটিত করছে।

 

আলোচনায় তিন হত্যাকাণ্ড

 

চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়িতে আইরিশ হিল হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

র‍্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে বাস থেকে নামার পর তিনি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়েন। যাত্রী ও চালকের ছদ্মবেশে থাকা চক্রের সদস্যরা তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দেওয়ায় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে সড়কে ফেলে দেওয়া হয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছিল।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ওই ঘটনায় মোবাইল ফোন ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আলোচনায় আসে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত করে।

সবশেষ গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লার লালমাইয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে প্রাণ হারায় কুমিল্লা ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায়ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককেন্দ্রিক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ছিনতাইকারী চক্রের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে।

পরপর এসব ঘটনায় মহাসড়ক ও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাসস্ট্যান্ড, অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থান এবং আবাসিক এলাকার আশপাশে নিয়মিত পুলিশি টহল প্রয়োজন। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা কিংবা অন্যান্য যানবাহনে চলাচলকারীরা ছিনতাইকারীদের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় রাতে চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা জরুরি কাজে বের হতেও অনেকে দ্বিধা করছেন।

 

জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশ কম

 

কুমিল্লা জেলায় প্রায় ৬৫ লাখ মানুষের বিপরীতে পুলিশ সদস্য রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন। সে হিসাবে প্রতি ২ হাজার ৬০০ মানুষের বিপরীতে গড়ে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তবে এ হিসাব সামগ্রিক জনসংখ্যার অনুপাতে করা; একজন পুলিশ সদস্যের এককভাবে এত মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি বোঝায় না। পুলিশের দায়িত্ব, কর্মবণ্টন ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজও বিবেচনায় নিতে হয়।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, জেলায় ১৮টি থানা রয়েছে। কুমিল্লা মহানগর এলাকায় একটি মেট্রোপলিটন থানা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৫০০ সদস্য নিয়ে এই থানা গঠন করা গেলে নগরীর অপরাধপ্রবণতা অনেক কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলী আহসান টিটু বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো। দ্বিতীয়ত, অপরাধ সংঘটিত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান ও আন্তরিক ভূমিকা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, কুমিল্লা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হওয়ায় এখানে অপরাধের ঝুঁকি রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে সামাজিক মূল্যবোধেরও সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। সমাজকে এ অবস্থা থেকে বের করে আনতে সময় লাগবে।

 

অপরাধ দমনে তৎপর পুলিশ, দাবি কর্মকর্তার

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) লুৎফুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সতর্ক ও সক্রিয় রয়েছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের আটক করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ১৫ দিনের অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সন্দেহে ২ হাজার ২৯২ জনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে জড়িত নন—এমন ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং অন্যদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে—এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, কুমিল্লা বড় ও সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে অপরাধের ঝুঁকি বেশি। কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত অভিযুক্তদের আটক এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

হোমনায় এম কে আনোয়ারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মোঃ তারিকুল ইসলাম (তারেক)। প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
হোমনায় এম কে আনোয়ারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

এম কে আনোয়ার ছিলেন রাজনীতির তারকা পুরুষ, তাঁর অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করব-মো. সেলিম ভুঁইয়া এমপি

কুমিল্লার হোমনায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং হোমনা-তিতাস আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মরহুম এম কে আনোয়ারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে এ উপলক্ষে মরহুমের কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া।

মরহুম এম কে আনোয়ারের জ্যেষ্ঠ সন্তান মাহমুদ আনোয়ার কাইজার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন। পরে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়ায় অংশ নেন।

স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া এমপি বলেন, এম কে আনোয়ার শুধু হোমনা কিংবা কুমিল্লার ছিলেন না, তিনি ছিলেন জাতীয় রাজনীতির একজন তারকা পুরুষ। সততা, দৃঢ়তা ও আপসহীন নেতৃত্বের কারণে তিনি রাজনীতিতে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তাঁর মতো অভিজ্ঞ, সৎ ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ দেশের সম্পদ।

তিনি বলেন, এম কে আনোয়ার হোমনা, তিতাসসহ বৃহত্তর এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর হাত ধরে এ অঞ্চলের উন্নয়নের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা এগিয়ে নেওয়া বর্তমান নেতৃত্বের দায়িত্ব। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তাঁর রেখে যাওয়া উন্নয়ন-ভাবনা ও অসমাপ্ত কাজগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সেলিম ভুঁইয়া এমপি আরও বলেন, এম কে আনোয়ারের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে তাঁর সততা, দেশপ্রেম ও জনকল্যাণের রাজনীতি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি এলাকার মানুষের জন্য যে কাজ করে গেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। হোমনা-তিতাসের উন্নয়নে তাঁর যেসব স্বপ্ন ও কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আমি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাব।

এ সময় তিনি মরহুমের রাজনৈতিক জীবন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়ায় অংশ নেন।

মরহুম এম কে আনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতি ও প্রশাসনের এক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।

হোমনা-তিতাস ও মেঘনা অঞ্চলের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সাংগঠনিক ভূমিকার সমন্বয়ে তিনি দেশের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা ঘটনা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা তাঁকে হোমনার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহফুজুল ইসলাম, হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক (ভিপি মুকুল), সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, সহসভাপতি মো. শাহ আলম হিমেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা (চেয়ারম্যান) ও মো. সাইফুল ইসলাম (ভিপি রাজা)।

পৌর বিএনপির সভাপতি ছানাউল্লাহ সরকার, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আলহাজ আবদুল লতিফ, উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য মো. আলমগীর সরকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও হোমনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. অহিদুজ্জামান মোল্লা এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাইজুদ্দিন (শাজু)।

এ ছাড়া মরহুমের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

×