বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

কল্যাণ ও সৌভাগ্যের বার্তা মাহে রমজান

মোঃ আবদুল আউয়াল সরকার: প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৩, ৮:৩৩ এএম
কল্যাণ ও সৌভাগ্যের বার্তা মাহে রমজান
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

রমজান (আরবি: رمضان‎‎ রামাদান, [ভিন্ন রূপ]) হল ইসলামী বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস, যেই মাসে বিশ্বব্যাপী মুসলিমগণ রোজা পালন করে থাকে।[২] রমজান মাসে রোজাপালন ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়তম। রমজান মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ২৯ অথবা ৩০ দিনে হয়ে থাকে যা নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

এই মাসে মুসলমানগণ ধর্ম চর্চার অংশ হিসেবে ভোর থেকে সুর্যাস্তের পর পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার ও যৌনক্রিয়াদি বর্জন করে থাকেন। একে আরবীতে ‘সিয়াম’ বলে; বাংলাদেশে যা মুলতঃ ‘রোযা’ বলে পরিচিত। ইসলামি বর্ষপঞ্জির ১২ টি মাসের মধ্যে শুধুমাত্র এই মাসের নাম কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রহমত, বরকত ও অফুরান কল্যাণ-সৌভাগ্যের বারতা নিয়ে পুণ্য বৈভবে এলো মাহে রমজান। এটি ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার মাস। পরস্পর ভালোবাসার পরাগ ছড়ানোর মাস। বদান্যতার বিভা ও ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হওয়ার মাস। সহমর্মিতা ও সহযোগিতার আলো ছড়ানোর মাস। অমূল্য রতন তাকওয়া অর্জনের মাস এবং আল্লাহপ্রেমে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হওয়ার মাস। ক্ষমা-মার্জনা ও অনুকম্পায় সিক্ত হওয়ার মাস।
রমজানের রোজা হিজরি দ্বিতীয় সালে ফরজ হলেও রোজার ইতিহাস কিন্তু বেশ প্রাচীন। মুসলমানদের আগেও অন্যান্য ধর্মে রোজার বিধান প্রচলিত ছিল। আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। নিঃসন্দেহে তোমরা (এ রোজার মাধ্যমে) মুত্তাকি (খোদাভীরু) হতে পারবে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৩)
রোজার গুরুত্ব আল্লাহর কাছে এত বেশি যে অন্যান্য আমলের সাওয়াব আল্লাহ তাআলা নির্দিষ্ট পরিমাণে দেবেন। কিন্তু রোজার সাওয়াব দেবেন অগণিত-অসংখ্য। আল্লাহ নিজ কুদরতি হাতে তা বান্দাদের দান করবেন।
নবী করিম (সা.) বহু হাদিসে মাহে রমজানের রোজার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এক হাদিসে এসেছে—‘যে ব্যক্তি সাওয়াবের প্রত্যাশা ও বিশ্বাস নিয়ে রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী জীবনের পাপরাশি মোচন করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি-মুসলিম)
হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখে এবং এর রাত্রিগুলোতে ঈমান ও ইহতিসাবের (সাওয়াবের প্রত্যাশা ও বিশ্বাস নিয়ে) সঙ্গে ইবাদত-বন্দেগি করে, সে মায়ের গর্ভ থেকে সদ্যোভূমিষ্ঠ সন্তানের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
হাদিস শরিফে আরো উল্লেখ আছে যে রমজান মাস রহমত, বরকত, গুনাহ মাফ হওয়া ও দোয়া কবুলের মাস। এই পবিত্র মাসে ফেরেশতারা মানুষের উদ্দেশে প্রতিদিন বলেন, ‘হে কল্যাণপ্রত্যাশী! আল্লাহ তাআলার কথা স্মরণ করো, তাঁর ইবাদত-বন্দেগিতে রত হও এবং একনিষ্ঠ মনে তাওবা করো। তোমরা এই মাসে যা কামনা করবে ও প্রার্থনা করবে—আল্লাহ তাআলা তা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক হাদিসে আছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন—‘রমজানের প্রতিটি দিন-রাতে অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং প্রত্যেক মুসলমানের একটি করে দোয়া কবুল করা হয়।’ (তারগিব)
রোজাদারের ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেছেন—‘রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মেশকে-আম্বরের সুঘ্রাণ অপেক্ষা অধিকতর পছন্দনীয়।’ (আহমদ-বায়হাকি)
আরেক হাদিসে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন—‘রোজাদারের জন্য দুটি খুশি। একটি ইফতারের সময়। অন্যটি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। (বুখারি ও মুসলিম)
এক হাদিসে আছে, ‘যদি বিনা কারণে কিংবা রোগাক্রান্ত হওয়া ছাড়া কেউ রোজা পালন না করে, তাহলে সারা জীবন রোজা রাখলেও তার ক্ষতিপূরণ হবে না।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ)
রমজান মাসের রোজা মানুষকে যাবতীয় পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি দেয়, মানুষের মন থেকে কুপ্রবৃত্তির প্রভাব দূর করে দেয়। আত্মাকে ধুয়ে-মুছে পূত-পবিত্র করে দেয় এবং হৃদয়কে ঈমানের শাখা-প্রশাখায় ভরিয়ে তোলে। সর্বোপরি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।
রমজানে সংযম ও আত্মত্যাগের অনুশীলন এবং সে সঙ্গে ইসলামভিত্তিক ন্যায়নিষ্ঠা, সত্য ও সততা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করা প্রয়োজন। নৈতিকতা, শালীনতা ও একত্রে ইফতার গ্রহণের মাধ্যমে সহমর্মিতার সদভ্যাস গড়ে তুলে ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক কল্যাণ সাধনের পথ প্রশস্ত করার অনুশীলন করার মাস রমজান। বাঙালি মননে চিরায়ত ইসলামী মূল্যবোধ, চিন্তা-ধারণা, ধর্মবিশ্বাস ও চরিত্র-আদর্শ এবং সর্বগ্রাসী অপরাধপ্রবণতা রোধের অনুশীলনের চেতনা জোরদার করার দারুণ উপলক্ষ তৈরি হয় এ মাসে।
রমজানের সব কল্যাণ, সৌভাগ্য ও মঙ্গলের কথা বিবেচনা করে পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে সকাতর আর্তি জানানো প্রয়োজন, যাতে তিনি আমাদের মাহে রমজানের সামগ্রিক কল্যাণ ও সৌভাগ্য অর্জনের পাশাপাশি রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করার তৌফিক দান করেন এবং তাঁর অফুরান অনুকম্পা, ক্ষমা ও করুণার বারিধারায় আমাদের সিক্ত করেন।
আসলে মাহে রমজানকে যথার্থভাবে উদযাপনের জন্য একটু আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সময়ে রমজান যতই ঘনিয়ে আসত, রমজান নিয়ে তাঁর আগ্রহ, আলোচনা ও আমলের মাত্রা ততই বেড়ে যেত এবং তিনি সাহাবিদের রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিতেন। রমজানের পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করে রমজানকে স্বাগত জানাতে মুমিনদের অপেক্ষার পালা শেষ হতে চলেছে। স্বাগতম মাহে রমজান।

লেখক : চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ, শিক্ষক ও গনমাধ্যমকর্মী।

দাউদকান্দিতে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে জোরালো আলোচনা

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১১ পিএম
দাউদকান্দিতে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে জোরালো আলোচনা

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধ, চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি দমন এবং জননিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় এসব বিষয় গুরুত্ব পায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।

সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধ, চাঁদাবাজি, চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় বক্তব্য দেন দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক নাহিদ আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান, দাউদকান্দি মডেল থানার প্রতিনিধি, দাউদকান্দি পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. মোখলেসুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বায়জিদ আহমেদ এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন চৌধুরী।

এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান আবুল হাসেম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ কে শামসুল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সভায় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বাংলাদেশ- এর দেবীদ্বার উপজেলা শাখার ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি আহমেদ হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বারে উপজেলা প্রশাসনের সভা কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি,বাংলাদেশ-এর উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার-এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা। দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ- এর কুমিল্লা জেলা শাখা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।

কমিটির অন‍্যান‍্য সদস‍্যরা হলেন, সহ সভাপতি – ময়নাল হোসেন ( ভিপি) দৈনিক মুক্ত খবর। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রুহুল আমিন হাজারী-দৈনিক জবাবদিহি। সাংগঠনিক সম্পাদক: জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব। সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক: এম এ হালিম দৈনিক বাংলার আলোড়ন। দপ্তর সম্পাদক: মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা। অর্থ বিষয়ক সম্পাদক: ডা. মো. শাহিন। প্রচার এবং প্রকাশনা সম্পাদক: এ কে এম মিজানুর রহমান (কাউছার) দৈনিক ঢাকা নিউজ। তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক: শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন। আইন বিষয়ক সম্পাদক: এডভোকেট, মো আনিছুর রহমান খান । সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক: ডা. শাহ জালাল।শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক: মো. রুহুল আমিন- সহকারী প্রধান শিক্ষক পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক: আবুল কালাম আজাদ। দৈনিক দিন প্রতিদিন। মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেল: মো: বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার। জরুরী সহায়তা ও চিকিৎসা বিষয়ক ডা. মাসুদ হাছান। নির্বাহী সদস্য: আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রানের বাংলাদেশ। আব্দুল আলিম ফেইস দ্যা পিপলস নিউজ। সাধারণ সদস্য: এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা। রাসেল সরকার দৈনিক মানব জমিন। মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না। ডাঃ প্রতিনিধি মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন।

অন‍্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা শাখার সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন, মোঃ আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, আমাদের দেবীদ্বার পএিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এটিএম সাইফুল ইসলাম মাসুম। বিজয় টিভির দেবীদ্বার প্রতিনিধি এনামুল হক।
এছাড়াও পোগ্রামের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী, গিতা পাঠ করেন ভজন সাহা। এসময় সম্মিলিত ভাবে জাতীয় সংগীত ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত প্রদর্শিত হয়।

কুমিল্লায় চোলাই মদের রমরমা কারবার, ধ্বংস হচ্ছে দরিদ্র পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
কুমিল্লায় চোলাই মদের রমরমা কারবার, ধ্বংস হচ্ছে দরিদ্র পরিবার

শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলায় মদ তৈরির অভিযোগ, নেশার ছোবলে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি

অভাবের সংসার, দিনমজুরের সামান্য আয়, স্ত্রী-সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সংগ্রাম—তারপরও সেই আয়ের একটি অংশ চলে যাচ্ছে নেশার পেছনে। চোলাই মদ পান করে কেউ হারাচ্ছেন কর্মক্ষমতা, কেউ জড়িয়ে পড়ছেন পারিবারিক কলহে, আবার কারও মদ্যপ আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। এমন পরিস্থিতিতে কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা ও টিক্কাচর এলাকার হাড্ডিখোলায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ ঘিরে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় বাস্তবতায় দেখা যায়, মদ্যপ অবস্থায় কিছু ব্যক্তি স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং পারিবারিক অশান্তির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিশুদের ওপরও। যে পরিবারগুলো এমনিতেই আর্থিক সংকটে দিন কাটায়, তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয় নেশার এই অভ্যাস।

 

নিজেরা পান, আবার বিক্রিও করেন

 

স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলা এলাকায় চোলাই মদ তৈরির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ নিজেদের ব্যবহারের জন্য মদ তৈরি করলেও অন্য একটি অংশ তা বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারজাত করে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের কথা বলে তৈরি করা মদের পাশাপাশি বিক্রির জন্যও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মদ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব মদের উপাদান ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হচ্ছে বলেও স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়। তবে উৎপাদন ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণের মতো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।

 

অল্প টাকার নেশা, বড় ক্ষতি সংসারে

 

চোলাই মদের সহজলভ্যতা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। অল্প টাকায় মদ কিনে পান করার পর অনেকে কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ কাজে যেতে পারেন না, কেউ উপার্জিত অর্থ পরিবারের প্রয়োজনের বদলে নেশায় ব্যয় করেন। এর ফলে সংসারে অভাব বাড়ে, সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

একজন মানুষের নেশার কারণে যখন স্ত্রী-সন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তখন সেটি আর ব্যক্তিগত অভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়।

 

অপরিচ্ছন্ন মদে মৃত্যুঝুঁকি

 

চোলাই মদে বিষাক্ত মিথানল বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান থাকলে তা অন্ধত্ব, গুরুতর অঙ্গহানি এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি হওয়া মদ নিরাপদ—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। শুধু গন্ধ, স্বাদ বা রং দেখে মদের বিষাক্ততা নির্ধারণ করা যায় না।

স্থানীয়ভাবে চোলাই মদ পান করে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ। হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মদপানের পর অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন সময়ে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছেন; তাঁদের মধ্যে অসচ্ছল ব্যক্তিও রয়েছেন। তবে কতজন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জরুরি।

 

বন্ধ হবে কবে এই অবৈধ কারবার?

 

এলাকাবাসীর উদ্বেগ হলো, চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রি চলতে থাকলে একদিকে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে, অন্যদিকে পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলাও চলতে থাকবে। এ পরিস্থিতিতে শুধু মদ পানকারীকে দোষারোপ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; এর উৎপাদন ও বিক্রির উৎসও শনাক্ত করা প্রয়োজন।

শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কোথায় মদ তৈরি হচ্ছে, কীভাবে তা বিক্রি হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

পাশাপাশি মদে আসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পরামর্শ ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ নেশার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা যেমন জরুরি, তেমনি তাঁদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চোলাই মদের কারবার বন্ধ করা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়; এটি দরিদ্র মানুষের জীবন রক্ষা, পরিবারের শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেশার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচানোর লড়াই। এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, নিয়মিত নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা।

×