কুবি উপাচার্যের গাড়ি অবরোধ করে ছাত্রলীগের হট্টগোল
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় © ফাইল ফটো
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দাবি না মানায় উপাচার্যের গাড়ি অবরোধ করে হট্টগোল করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এসময় প্রায় ১০ মিনিট ধরে গাড়ি আটকে রাখেন তারা। ছাত্রলীগ উপাচার্যের বিভিন্ন কাজকে অযৌক্তিক বললেও ছাত্রলীগের সকল দাবিকে ‘অন্যায় দাবি’ করেন উপাচার্য।
জানা যায়, এদিন দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিভিন্ন দাবিতে উপাচার্যের সাথে কথা বলতে কার্যালয়ে যায় ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল ২য় ছাত্রী হলের কাজ সম্পন্ন, রমজানের মধ্যেই শিক্ষার্থীদেরকে সেখানে উঠানো, নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে পানির সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যার দ্রুত সমাধান করা। তবে সেখানে উপস্থিত একজন শিক্ষক জানান, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নিয়োগ-টেন্ডারসহ নানা দাবি নিয়ে করেন উপাচার্যের কাছে। উপাচার্য তাদের দাবি না মানায় একপর্যায়ে হট্টগোল করেন তারা।
পরে উপাচার্য নিজ বাংলো তে যেতে গাড়ি উঠলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্যের গাড়ি আটকে দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপরই উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন তারা। উপাচার্য সাবেক প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জামাত-শিবির মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ করতে থাকেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ। প্রায় ১০ মিনিট গাড়ি আটকে রাখার পর উপস্থিত শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরে গাড়ি ছেড়ে দেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
উপাচার্য অধ্যাপক ড এ. এফ. এম. আবদুল মঈন এসব বিষয়ে বলেন, ছাত্রলীগ কিছু অন্যায় দাবি নিয়ে এসেছিল। আমি এসব দাবি মানতে পারবো না বলায় তারা আমার গাড়ি আটকে রাখে।
উপাচার্যের কাছে ছাত্রলীগ কী দাবি করেছে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, মেয়েদের নতুন হলের (নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা হল) কাজ শেষ করে রমজানের মধ্যেই শিক্ষার্থীদেরকে সেখানে উঠানো, নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে পানির সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম আমরা। তবে উপাচার্য আমাদের দাবি শুনে রাগারাগি করে বেরিয়ে গেলে বিভিন্ন হল সভাপতি-সেক্রেটারির সাথে কথা কাটাকাটি হয়।
তবে উপাচার্য বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, মেয়েদের হলের সমস্যা হলে কোনো মেয়ে শিক্ষার্থী কেন সেখানে উপস্থিত ছিল না। তারা মূলত কিছু অন্যায় দাবি নিয়ে এসেছে।
অন্যায় দাবিগুলো কী ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো সবাই জানে। আমার বলার দরকার নেই। তাদের দাবি ন্যায় হলে তারা লিখিত দেয়নি কেন।
তবে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বলেন, আমরা কোনো অন্যায় দাবি নিয়ে যাইনি। আমরা রোববারই সকল দাবি লিখিতভাবে দিবো।














