বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

চৌদ্দগ্রামে কানাইল খাল খনন ও বৃক্ষরোপনের ফলে সুবিধা পাবে স্থানীয় হাজার হাজার কৃষক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:২৫ পিএম
চৌদ্দগ্রামে কানাইল খাল খনন ও বৃক্ষরোপনের ফলে সুবিধা পাবে স্থানীয় হাজার হাজার কৃষক
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ কানাইল খাল খনন ও খননকৃত খালের পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় আড়াই হাজার বৃক্ষের চারা রোপনের ফলে বেশ উপকার পাবে আশেপাশের জমিনের মালিকরা সহ হাজার হাজার কৃষক। বিষয়টি নিয়ে সর্বমহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহ সরকারের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পুকুর-খাল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ধনুসাড়া মিজির ব্রিজ থেকে মুন্সীরহাট ইউনিয়নের সিংরাইশ ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কানাইল খালটি পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৪৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। টেন্ডারে মাধ্যমে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাজটি সম্পন্নের দায়িত্ব পায় দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকার ‘মেসার্স লিবার্টি ট্রেডার্স’ নামীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যার স্মারক নং-৪৬.০২.০০০০.৮৯২.৯৯.০০২.১৮-৪৯৬৬। যথাসময়ে কাজটি সমাপ্ত করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। অফিস কার্যাদেশ অনুযায়ী খাল খনন শেষে খালের পাড়ে ২ হাজার ৪০০ গাছ লাগিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। বর্ষা মৌসুম থাকায় সেসময় খালের পাড়ে রোপনকৃত অনেক গাছই মরে যায়। খালটি এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠ সংলগ্ন হওয়া গরু-ছাগলেও অনেক গাছ নষ্ট করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এরপর সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কুমিল্লা এলজিইডি অফিস থেকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর আরেকটি পরিপত্র জারি করে। পরিপত্র অনুযায়ী খালপাড়ে লাগানো নষ্ট হওয়া বা মরে যাওয়া গাছের স্থলে পূনরায় প্রায় ১০০০টি নতুন চারা গাছ রোপন করার জন্য বলা হয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। গত সপ্তাহে ঠিকাদার ৭-৮শ নতুন চারাগাছ এনে মরে যাওয়া গাছের স্থলে প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ করে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সরেজমিন গিয়ে গাছ প্রতিস্থাপনের সত্যতা পাওয়া যায়। খালপাড়ে লাগানো গাছগুলো বড় হলে খালের পাড়ের মাটি ধরে রাখা সহ মাঠে আসা সাধারণ মানুষের জন্য শীতল ছায়ার ব্যবস্থা করবে। এ গাছগুলোই একসময় দেশের সম্পদে রূপান্তরিত হবে। এছাড়াও সুপরিকল্পিতভাবে খালটি খননের ফলে এলাকার সাধারণ কৃষকরা বোরো মৌসুমে ধান ও ফসল উৎপাদনের সময় যথাযথ পানির চাহিদা পূরণে বেশ উপকার পাবে। যে বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষ এতদিন বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলো। খাল খননের ফলে জনমনে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে। পানি নিয়ে দুশ্চিন্তার বিপরীতে এখন তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

কানাইল খাল খনন প্রকল্পের ঠিকাদার মো. হাসিব জানান, যথাসময়ে খাল খনন কাজ শেষ করে পরিপত্রের আলোকে পাড়ে বৃক্ষরোপন করি। কিছু গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চলতি মাসেই পুনরায় প্রায় ১ হাজার চারা লাগিয়েছি। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কাজেও আমাদের তৎপরতা রয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণের সময় পর্যন্ত আমরা তদারকি করবো।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, সারাদেশে একযোগে খাল খনন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ধনুসাড়া ব্রিজ থেকে সিংরাইশ ব্রিজ পর্যন্ত এ কানাইল খালটি খনন করা হয়। প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ঠিকাদার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে যথাসময়েই খনন কাজটি শেষ করে। খাল খনন কাজে উপজেলা এলজিইডি অফিস ব্যাপক তদারকি করে। কাজ সমাপ্ত হলে এলজিইডি অফিসের প্রতিবেদন সাপেক্ষে ঠিকাদার চ‚ড়ান্ত বিল উত্তোলন করে। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরমধ্যে প্রকল্পের সার্বিক দেখভাল তারাই করবে। বিষয়টি নিয়ে আমরাও তদারকি করছি সবসময়। এরমধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। প্রকল্পের কাজ শেষে নিয়মানুযায়ী ঠিকাদার খালেরপাড়ে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। বৃক্ষরোপনকালীন সময়ে বর্ষা মৌসুম থাকায় এবং গুরু-ছাগলের কারণে বেশকিছু চারাগাছ নষ্ট হওয়া সহ অনেক মরে যায়। বিভিন্ন প্রকল্পেই এমন ঘটনা ঘটে বিধায় এসব প্রকল্পে জামানত হিসেবে ১০ শতাংশ বিল আটকে রাখার বিধান রয়েছে। এরপর আমরা বিভিন্ন ধাপে প্রকল্প তদারকি শেষে চ‚ড়ান্ত প্রতিবেদন দিলে জামানতের টাকা তুলতে পারবে ঠিকাদার। কিছুদিন আগে সরেজমিন এসে দেখলাম কিছু গাছ নাই হয়ে গেছে। পরে আবার পরিপত্র জারি করে ঠিকাদারকে মৃত গাছের জায়গায় নতুন চারাগাছ প্রতিস্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। গত সপ্তাহে ঠিকাদার নতুন করে মরা ও নষ্ট হওয়া গাছের স্থানে প্রায় এক হাজার চারাগাছ প্রতিস্থাপন করে। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের মাঝামাঝিতে শেষ হবে। মেয়াদ শেষ না হওয়া অবধি তদারকি অব্যাহত থাকবে। এরপরও কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে জরুরি ভিত্তিতে বিধি মোতাবেক সমাধান করা হবে। মেয়াদ উত্তীর্ণের পর যাচাই শেষে প্রতিবেদন প্রদান করা হয়। প্রতিবেদনের আলোকে ঠিকাদার জামানত ফেরৎ পাবে। অন্যথায় জামানত বাজেয়াপ্তও হতে পারে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান বলেন, খালের পাড়ে লাগানো গাছগুলোর মধ্যে প্রায় ৫-৬শ’ গাছ মরে গেছে। কিছু গাছ নষ্ট হয়েছে। কিছু গাছ মরে গেছে। নতুন নির্দেশনার আলোকে ঠিকাদার গত সপ্তাহে মরে যাওয়ার গাছের স্থানে নতুন করে আরও ১ হাজার চারাগাছ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এলজিইডি অফিসের পক্ষ থেকে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বাংলাদেশ- এর দেবীদ্বার উপজেলা শাখার ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি আহমেদ হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বারে উপজেলা প্রশাসনের সভা কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি,বাংলাদেশ-এর উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার-এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা। দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ- এর কুমিল্লা জেলা শাখা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।

কমিটির অন‍্যান‍্য সদস‍্যরা হলেন, সহ সভাপতি – ময়নাল হোসেন ( ভিপি) দৈনিক মুক্ত খবর। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রুহুল আমিন হাজারী-দৈনিক জবাবদিহি। সাংগঠনিক সম্পাদক: জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব। সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক: এম এ হালিম দৈনিক বাংলার আলোড়ন। দপ্তর সম্পাদক: মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা। অর্থ বিষয়ক সম্পাদক: ডা. মো. শাহিন। প্রচার এবং প্রকাশনা সম্পাদক: এ কে এম মিজানুর রহমান (কাউছার) দৈনিক ঢাকা নিউজ। তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক: শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন। আইন বিষয়ক সম্পাদক: এডভোকেট, মো আনিছুর রহমান খান । সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক: ডা. শাহ জালাল।শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক: মো. রুহুল আমিন- সহকারী প্রধান শিক্ষক পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক: আবুল কালাম আজাদ। দৈনিক দিন প্রতিদিন। মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেল: মো: বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার। জরুরী সহায়তা ও চিকিৎসা বিষয়ক ডা. মাসুদ হাছান। নির্বাহী সদস্য: আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রানের বাংলাদেশ। আব্দুল আলিম ফেইস দ্যা পিপলস নিউজ। সাধারণ সদস্য: এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা। রাসেল সরকার দৈনিক মানব জমিন। মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না। ডাঃ প্রতিনিধি মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন।

অন‍্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা শাখার সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন, মোঃ আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, আমাদের দেবীদ্বার পএিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এটিএম সাইফুল ইসলাম মাসুম। বিজয় টিভির দেবীদ্বার প্রতিনিধি এনামুল হক।
এছাড়াও পোগ্রামের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী, গিতা পাঠ করেন ভজন সাহা। এসময় সম্মিলিত ভাবে জাতীয় সংগীত ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত প্রদর্শিত হয়।

কুমিল্লায় চোলাই মদের রমরমা কারবার, ধ্বংস হচ্ছে দরিদ্র পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
কুমিল্লায় চোলাই মদের রমরমা কারবার, ধ্বংস হচ্ছে দরিদ্র পরিবার

শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলায় মদ তৈরির অভিযোগ, নেশার ছোবলে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি

অভাবের সংসার, দিনমজুরের সামান্য আয়, স্ত্রী-সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সংগ্রাম—তারপরও সেই আয়ের একটি অংশ চলে যাচ্ছে নেশার পেছনে। চোলাই মদ পান করে কেউ হারাচ্ছেন কর্মক্ষমতা, কেউ জড়িয়ে পড়ছেন পারিবারিক কলহে, আবার কারও মদ্যপ আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। এমন পরিস্থিতিতে কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা ও টিক্কাচর এলাকার হাড্ডিখোলায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ ঘিরে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় বাস্তবতায় দেখা যায়, মদ্যপ অবস্থায় কিছু ব্যক্তি স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং পারিবারিক অশান্তির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিশুদের ওপরও। যে পরিবারগুলো এমনিতেই আর্থিক সংকটে দিন কাটায়, তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয় নেশার এই অভ্যাস।

 

নিজেরা পান, আবার বিক্রিও করেন

 

স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলা এলাকায় চোলাই মদ তৈরির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ নিজেদের ব্যবহারের জন্য মদ তৈরি করলেও অন্য একটি অংশ তা বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারজাত করে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের কথা বলে তৈরি করা মদের পাশাপাশি বিক্রির জন্যও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মদ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব মদের উপাদান ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হচ্ছে বলেও স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়। তবে উৎপাদন ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণের মতো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।

 

অল্প টাকার নেশা, বড় ক্ষতি সংসারে

 

চোলাই মদের সহজলভ্যতা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। অল্প টাকায় মদ কিনে পান করার পর অনেকে কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ কাজে যেতে পারেন না, কেউ উপার্জিত অর্থ পরিবারের প্রয়োজনের বদলে নেশায় ব্যয় করেন। এর ফলে সংসারে অভাব বাড়ে, সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

একজন মানুষের নেশার কারণে যখন স্ত্রী-সন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তখন সেটি আর ব্যক্তিগত অভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়।

 

অপরিচ্ছন্ন মদে মৃত্যুঝুঁকি

 

চোলাই মদে বিষাক্ত মিথানল বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান থাকলে তা অন্ধত্ব, গুরুতর অঙ্গহানি এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি হওয়া মদ নিরাপদ—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। শুধু গন্ধ, স্বাদ বা রং দেখে মদের বিষাক্ততা নির্ধারণ করা যায় না।

স্থানীয়ভাবে চোলাই মদ পান করে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ। হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মদপানের পর অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন সময়ে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছেন; তাঁদের মধ্যে অসচ্ছল ব্যক্তিও রয়েছেন। তবে কতজন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জরুরি।

 

বন্ধ হবে কবে এই অবৈধ কারবার?

 

এলাকাবাসীর উদ্বেগ হলো, চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রি চলতে থাকলে একদিকে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে, অন্যদিকে পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলাও চলতে থাকবে। এ পরিস্থিতিতে শুধু মদ পানকারীকে দোষারোপ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; এর উৎপাদন ও বিক্রির উৎসও শনাক্ত করা প্রয়োজন।

শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কোথায় মদ তৈরি হচ্ছে, কীভাবে তা বিক্রি হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

পাশাপাশি মদে আসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পরামর্শ ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ নেশার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা যেমন জরুরি, তেমনি তাঁদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চোলাই মদের কারবার বন্ধ করা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়; এটি দরিদ্র মানুষের জীবন রক্ষা, পরিবারের শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেশার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচানোর লড়াই। এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, নিয়মিত নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা।

শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয় প্রয়োজন ঐক্য – আহমেদ আবু জাফর

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ পিএম
শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয় প্রয়োজন ঐক্য – আহমেদ আবু জাফর

“শুধুমাত্র কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ,ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বারে উপজেলা প্রশাসনের সভা কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি,বাংলাদেশ-এর উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব‍্যে- বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি,বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর ওই বক্তব‍্য দেন।

তিনি বলেন, “ শুধুমাত্র কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।” আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশ প্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার-এর সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ- এর কুমিল্লা জেলা শাখা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।

অন‍্যান্যদের মধ‍্যে বক্তব‍্য রাখেন, সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন, মোঃ আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়। দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার দেবীদ্বার প্রতিনিধি, এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার দেবীদ্বার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার দেবীদ্বার প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের দেবীদ্বার প্রতিনিধি একেএম মিজানুর রহমান কাউছার, ডাঃ প্রতিনিধি মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন, এডভোকেট আনিসুর রহমান।

এছাড়াও পোগ্রামের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী, গিতা পাঠ করেন ভজন সাহা। এসময় সম্মিলিত ভাবে জাতীয় সংগীত ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত প্রদর্শিত হয়।

সভায় দেবীদ্বার উপজেলা শাখা গঠন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ এবং সাংবাদিকদের ঐক্য ও অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভা শেষে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি আহমেদ হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবের নাম ঘোষণা করা হয়।

×