বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

বরুড়ার শাকপুর ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, অপসারণ চায় বিভিন্ন পক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১২:০২ পিএম
বরুড়ার শাকপুর ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, অপসারণ চায় বিভিন্ন পক্ষ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শাকপুর ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ কে এম ইউসুফের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার স্থানীয় এলাকাবাসি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-শিক্ষকগণ এবং অভিভাবকরা। বিগত ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর অনেকটা প্রভাব খাটিয়ে তিনি অধ্যক্ষ পদে আসীন হন। অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেওয়া, শিক্ষক-কর্মচারি-অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণ, পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি নেয়া এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিরোধীতা করাসহ নানা অভিযোগ উঠে অধ্যক্ষ এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী আবুল কালাম পাটোয়ারি, সাইফুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ ও আবুল কালাম জানান, বিগত স্বৈরাচার সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠভাজন হওয়ায় এ কে এম ইউসুফকে অবৈধ উপায়ে সকল প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই নিয়োগ দেন তৎকালিন সংসদ সদস্য নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল। তৎকালিন এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী (নজরুল) এর সহযোগিতায় অস্ত্রের মুখে ইসলামি আরবি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ও এলাকার মানুষদের বাধ্য করে বিশাল নিয়োগ বাণিজ্যের বিনিময়ে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ইন্টারভিউর দিনে মারধর করা হয় গভর্নিং বডির সদস্য মাস্টার মোঃ আশরাফ উদ্দিন ভূইয়া ও ছাদেক হোসেন খন্দকারকে। পরে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। ইন্টারভিউ’র দিনে নিয়োগ বোর্ডের ২ জন সদস্য জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মোঃ গোলাম মোস্তফা ও সহকারী শিক্ষক (গণিত) মোঃ জাকির হোসেন নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন না। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে উপাধ্যক্ষ ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ না করে জুনিয়র প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের বিষয়ে উপাধ্যক্ষ ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মোঃ গোলাম মোস্তফা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিট পিটিশনের রায়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন হয়েছে মর্মে রায় প্রদান করা হয়। নিয়োগ রেজুলেশনে গভর্নিং বডির সদস্যদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘অস্ত্রের মুখে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে বাধ্য করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে অধ্যক্ষ পদে এ কে এম ইউসুফের নিয়োগটি সম্পূর্ণ অবৈধ বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, অধ্যক্ষ এ কে এম ইউসুফের কর্মকান্ডের কারণে মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে অধ্যক্ষের নেতিবাচক ব্যবহারের কারণে মাদ্রাসাটি আজ ধ্বংসের মুখোমুখি। পরীক্ষার ফি, ফরম ফিলাপ ফি, রেজিঃ ফি, মার্কসীট ও সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অধ্যক্ষ মোটা অংকের টাকা নেন, যার পরিমাণ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক বেশী । গরীব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা টাকা দিতে না পারায় তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন এই অধ্যক্ষ। অনেক শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা দিতে না পেরে মাদ্রাসা ত্যাগ করেছে। নাজমুল হাসান নামের এক সাবেক শিক্ষার্থী তার ফাযিল (বি.এ) পরীক্ষার সনদের জন্য অধ্যক্ষের নিকট গেলে তিনি তাকে অনেক গালমন্দ করেন। সনদের জন্য টাকা নিয়েও তার সনদ দেননি, বরং দেখে নিবেন বলে হুমকি ধমকি দেন। ফলে নাজমুল হাসানের সনদ না থাকার কারণে চাকুরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এতে তার অনেক ক্ষতি হয়েছে।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দশম শেণির শিক্ষার্থী মুজাহিদ হাসান, আরিফুর রহমান ও ফাযিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আবু তালেব জানান, শাকপুর ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ.কে.এম ইউসুফ স্যার বিগত জুলাই মাসে দেশ ব্যাপী সংগঠিত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সরাসরি বিরোধিতা করেছেন। এমনকি বিগত সময়ে মাদ্রাসার নানা অনুষ্ঠানে তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের পক্ষে বিভিন বক্তব্য দিয়েছেন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারীদের তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনভাবে শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানাতে কঠোরভাবে নিষেধ করেন। মাদ্রাসার কোন শিক্ষক-শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের মতামত কিংবা সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ না করলে তিনি নানাভাবে তাদের সাথে অসদাচরণ করেছেন। ছাত্রীরা প্রয়োজনে অধ্যক্ষের কাছে গেলে ছাত্রীদের তিনি অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে বিতাড়িত করেন এবং অসদাচরণ করেন। অধ্যক্ষ মাদ্রাসার মসজিদে নামাজ পড়েন না। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুজাহিদ একদিন অধ্যক্ষকে মাদ্রাসা মসজিদে যোহরের নামাজ আদায় করতে বলায় তিনি এ ছাত্রের উপর ক্ষেপে যান এবং তাকে মাদ্রাসা হতে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবেন বলে হুমকি দেন।

স্থানীয় সূত্র ও আরো কিছু অভিযোগের মাধ্যমে জানা যায়, মাদরাসার অধ্যক্ষ এ কে এম ইউসুফ অত্র প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আয়-ব্যয়ের কোন হিসাব প্রদান করেননি। শিক্ষক-কর্মচারীরা হিসাব চাইলে অধ্যক্ষ বলতেন, শিক্ষক কর্মচারীরা হিসাব চাওয়ার কোন অধিকার নাই এবং হিসাব দেওয়া যাবে না। সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ তাকে বলেন তুই কে হিসাব চাওয়ার ? তুই কাজের বদলা বলে মারধর করার জন্য চেয়ার থেকে ওঠে তেড়ে আসেন এবং বলেন তুকে চাকরি ছাড়া করবো । শিক্ষক কর্মচারীগণ অভ্যান্তরীণ অডিট কমিটি করার জন্য প্রস্তাব করলে তিনি উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন এবং বলেন আমি যা বলবো, তাই শিক্ষক কর্মচারীগণ মানতে হবে। অধ্যক্ষ সাহেব যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত কোন টাকা ব্যাংকের জেনারেল ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে নিজেই খরচ করে ভাউচার পাশ করেন। স্থানীয় কোন দাতাদের অনুদানের টাকা গ্রহণ করে রশিদ প্রদান করেন না। এক দুটি ছাড়া আয়ের কোন রশিদ কাটেন নি। অধ্যক্ষ যোগদানের পর থেকে কোন উপকমিটি গঠন করেন নি এবং বার্ষিক আয় ব্যয়ের কোন বাজেট তৈরী করেন নি। অধ্যক্ষ সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে নিয়ম বর্হিভূতভাবে ক্লাস রুটিন তৈরী করে শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে দেন। শিক্ষকগণ কারিকুলাম অনুযায়ী ক্লাস রুটিন তৈরী করে অধ্যক্ষকে প্রদান করলে তিনি তা প্রত্যাখান করেন। নতুন কারিকুলামে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি ক্লাস ২০২৪ সালের শুরু থেকে এই পর্যন্ত হচ্ছে না,যার প্রমাণ ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেণিওয়ারী দরখাস্ত রয়েছে । এ অধ্যক্ষ যোগদান করার পর থেকে শিক্ষক কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে অশোভন আচরণ করার কারনে অনেক ছাত্র-ছাত্রী মাদরাসা ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায়। শিক্ষক কর্মচারীগণ তাঁর এহেন আচরণে খুবই অসন্তুষ্ট । ফরম ফিলাপ ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, পরীক্ষার ফি, নির্ধারিত বেতন ফি থেকে অতিরিক্ত টাকা অধ্যক্ষ ধার্য্য করেন যা সরকারি বিধির পরিপন্থী। এই কারনে অনেক ছাত্র/ছাত্রী মাদরাসায় আসা বন্ধ করে দিয়েছে। সহকারী অধ্যাপক (বাংলা) নাজমা আক্তারকে রুটিনে চতুর্থ শ্রেণিতে ক্লাস দেওয়ায় নাজমা আক্তার মাধ্যমিক স্তরে ক্লাস দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে অধ্যক্ষ তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং রাস্তার টোকাই ও বাদুরনি বলে গালমন্দ করেন। বাংলা প্রভাষক রাবেয়া আক্তারকে অফিসে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষ বলেন- চাকুরি করতে হলে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে দিতে হবে অন্যথায় চাকুরি করতে পারবানা ৷ এতে রাবেয়া আক্তার অস্বীকৃতি জানালে অধ্যক্ষ তাকে বলেন তুমি রেন্ডি পাড়ার মহিলা, তোকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে মাদরাসা থেকে বের করে দিবো। ইংরেজি প্রভাষক নাজমুন নাহার আখি মনি যানজটের কারনে মাদরাসায় আসতে একটু দেরি হওয়ায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে গেলে তাকে স্বাক্ষর করতে না দিয়ে তার শরীরে হাজিরা খাতা ছুড়ে মারেন এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। সিনিয়র সহকারী শিক্ষক অনিলচন্দ্র সরকারকে অধ্যক্ষ বলেন হিন্দু শিক্ষক টাউট বাটপার ৷ সরকারের মাথা খারাপ মাদ্রাসায় হিন্দু শিক্ষক নিয়োগ দেয়। সহকারি অধ্যাপক মলিন কৃষ্ণ তালুকদারের নিকট চাঁদা চাইলে তিনি দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অধ্যক্ষ তাকে অযোগ্য বলেন। এ সময় তিনি তার সার্টিফিকেট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করেছেন বললে অধ্যক্ষ বলেন সার্টিফিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছন থেকে কুড়িয়ে এনেছেন। সহকারী মৌলভী কোহিনুর আক্তারের সাথে অধ্যক্ষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তিজনক অশালিন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেছেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় ৩ মাস শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রাখা হয়, যা বিগত মাস থেকে চালু করা হয়।

এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারি অধ্যাপক মাওলানা নজরুল জানান, অধ্যক্ষ সাহেবকে অবৈধ উপায়ে এখানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছের মানুষ হওয়ায় কোন নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করেই তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি যা বলেন তা এখানেই নিয়মে পরিণত হয়। ১৬ অক্টোবর অধ্যক্ষের অপসারণ চেয়ে আন্দোলন করায় অধ্যক্ষ সাহেব বাইরে থেতে সন্ত্রাসী এনে ছাত্রদের মারধর করান এবং ছাত্রীদের ওড়না ধরে টানাটানি করান। উনার অত্যাচারের মাত্রা সীমাহীন। উনার অপকর্মের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, অতি: জেলা প্রশাসক (শিক্ষা), মাদ্রাসা অধিদপ্তর বরাবর অভিযোগ করেছি। কিন্তু এখনো কোন সমাধান হয়নি।

শাকপুর ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ কে এম ইউসুফ জানান, আমার বিরুদ্ধে আণীত অভিযোগ মিথ্যে । কিছু শিক্ষক দুর্ণীতি করতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনেছে। এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দ শামসুল তাবরীজ। উনার নির্দেশমত আমরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছি।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দ শামসুল তাবরীজ জানান, এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে কোন বিষয় নিয়ে কোন্দল থাকতে পারে। ফলে এ বিষয়গুলো নিয়ে সবাই বিচলিত। এখানে অনেক অনিয়ম ছিল। আমি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এসব অনিয়মগুলো দূর করার জন্য কাজ করেছি। অনেকটা অনিয়ম দূর হয়েছে। সকল অনিয়ম দূর করে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সঠিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে আমরা কাজ করছি।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×