শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

লাকসামে কলেজ অধ্যক্ষের ভয়ংকর জালিয়াতি: ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্থলে অন্যদের এমপিওভুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জুন, ২০২৩, ১:৪৯ পিএম
লাকসামে কলেজ অধ্যক্ষের ভয়ংকর জালিয়াতি: ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্থলে অন্যদের এমপিওভুক্তি
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার লাকসামের নুরুল আমিন মজুমদার ডিগ্রি কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষকের স্থলে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য ব্যক্তিদেরকে এমপিওভুক্তি করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মো.মাহবুুবুল আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগে জানা গেছে- প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই অধ্যক্ষ রেজুলেশন, নিয়োগ-যোগদানপত্র এবং অন্যান্য কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে এই ঘটনা করেছেন। এছাড়া অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আমিনুল ইসলাম নামে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হওয়া এক ব্যক্তির কাছে কাছ ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবিরও অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৮ মে প্রতিষ্ঠানটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হন মো.আমিনুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি। ওই সময়ে কলেজটির ডিগ্রি শাখার এমপিও ছিলো। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নন-এমপিও শিক্ষক হিসেবে বিনা বেতনে পাঠদান চালিয়ে গেছেন আমিনুল। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৯ সালে স্থগিত হওয়া সেই এমপিও চালু হয়। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর বিনা বেতনে পাঠদান দেওয়া সেই আমিনুলের স্থলে এমপিওভুক্তির জন্য কলেজ অধ্যক্ষ নাম প্রেরণ করেন মোশাররফ হোসেন নামে অন্য একজনের। ২০১৪ সালের ওই নিয়োগ পরীক্ষায় আমিনুলের সঙ্গে তৃতীয় হওয়া মোশাররফ এমপিওভুক্তির আগে কখনোই আসেননি কলেজে। একই ধরণের ঘটনা ঘটেছে ডিগ্রি শাখার ইংরেজী বিষয়ের প্রভাষক নুরুজ্জামানের ক্ষেত্রেও। আমিনুলের মতোই প্রথম হওয়া নুরুজ্জামানের পরিবর্তে এমপিওভুক্তি হয় মো.শহিদুল ইসলাম নামে অন্য একজন। যদিও শহিদুল ২০১৪ সালের নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণই করেননি।

এসব ঘটনায় অভিযুক্ত কলেজের অধ্যক্ষ এবং অনিয়ম করে এমপিওভুক্ত হওয়া শিক্ষকদের বিচার চেয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরসহ অন্তত ১৫টি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন সেই মো.আমিনুল ইসলাম। অভিযোগকারী আমিনুল চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার দেবকরা গ্রামের আবদুল অদুদের ছেলে। অভিযোগের সঙ্গে প্রতিটি ঘটনার প্রমাণাদিও দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আমিনুল ২০১৪ সালের ৮ মে নুরুল আমিন মজুমদার ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে (নন-এমপিও) প্রভাষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে বিনা বেতনে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল বর্তমান অধ্যক্ষ ড. মাহবুুবুল আলম যোগদান করেন। স্নাতক পর্যায়ে কোন শিক্ষার্থী পাস না করায় ২০০৮ সালের মে মাসে ডিগ্রি পর্যায়ে কলেজটির এমপিও বন্ধ হয়ে যায় যার। এরপর বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হলে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে ফের এমপিও চালু হয়। অধ্যক্ষ পদে যোগদানের পর থেকে তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমিনুলকে কলেজের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করতে নির্দেশ দেন। এর কারণ জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আমিনুলকে বলেন- আপনার পরির্বতে মোশাররফ হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আপনি যদি এমপিওভুক্ত হতে চান- তাহলে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। আপনি না দিলে মোশাররফ সেটা দিতে রাজি।
আমিনুল বলেন, সেদিন টাকা দিতে না পারায় অধ্যক্ষ আমাকে কলেজ থেকে জোর করে বের করে দিয়েছিলেন। এরপর নানা জায়গায় চেষ্টা করেও আমি আর চাকরি ফিরে পাইনি। তিনি ঘুষের বিনিময়ে আমার সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষায় তৃতীয় হওয়া মোশাররফকে এমপিওভুক্ত করেছেন রজুলেশন, নিয়োগ ও যোগদানপত্র এবং অন্যান্য কাগজ পত্র জালিয়াতি করে। একই দুর্নীতি হয় ইংরেজী বিষয়ের প্রভাষক নুরুজ্জামানের ক্ষেত্রেও। নুরুজ্জামানের পরিবর্তে ইংরেজী বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে মো.শহিদুল ইসলামকে এমপিও ভুক্ত করান অধ্যক্ষ। যদিও শহিদুল মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণই করেননি। আর ২০১৪ সালে মাধ্যামিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর প্রজ্ঞাপন জারি করেছিলো নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী যদি যোগদান না করেণ- তাহলে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ব্যক্তির এমপিও করা হবে না। কেননা এখানে টাকা লেনদেনের সম্ভবনা থাকে।

আমিনুল আরো বলেন, দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের জাল-জালিয়াতির কারণে অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেনের ২০২০ সালের ১ মার্চ এবং শহিদুল ইসলামের ২০১৯ সালের ১ মে এমপিওভুক্তি হয়েছে। জালিয়াত অধ্যক্ষ এমনভাবে হাজিরা খাতা ও অন্যন্য কাগজপত্র তৈরি করেছেন যেন আমি আর নুরুজ্জামান ২০১৪ ওই কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত হইনি । নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না যে মোশাররফ হোসেনকে নিয়োগ দেখানো হয়েছে- তিনি ২০১৪ সাল থেকে ২০২০ সালের কলেজ এমপিওভুক্তি পর্যন্ত চান্দিনার রেদোয়ান আহমেদ ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের নন-এমপিও প্রভাষক হিসেবে চাকরি করেছেন। সেখানে তিনি নিয়মিত কলেজ হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতনও গ্রহণ করেছেন। এরই মধ্যে অবৈভভাবে নিয়োগ হওয়ায় শহিদুল ইসলাম জেল-জরিমানার ভয়ে এমপিওভুক্তির মাত্র ৫ মাসের মাথায় শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করে চলে যান।
প্রতারণায় অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেনের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হয়েছি এবং চান্দিনার কলেজে কোন চাকরি করিনি। এছাড়া সেখান থেকে কোন বেতনও উত্তোলন করিনি। আপনি বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে কথা বলুন।

তবে মোশাররফ হোসেন চান্দিনার ওই কলেজ থেকে নন-এমপিও শিক্ষক হিসেবে টাকা উত্তোলন করেছেন এবং নিয়োগ পরীক্ষায় তৃতীয় হয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন নুরুল আামিন মজুমদার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুুবুল আলম।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, কলেজের একটি পক্ষ ইন্দন দিয়ে আমিনুলকে দিয়ে এসব অভিযোগ করাচ্ছে। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। কলেজ পরিচালিত হয় গভর্নিং বডির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের আলোকে। অধ্যক্ষ সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন মাত্র। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। কলেজের অগ্রগতি ও উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×