বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

‘শান্তিরক্ষীর ডায়েরি’

মো. মনিরুজ্জামান : প্রকাশিত: বুধবার, ১ মার্চ, ২০২৩, ৬:৪৮ পিএম
‘শান্তিরক্ষীর ডায়েরি’
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

যশোর জেলার এক নিভৃতপল্লীতে স্কুলমাস্টারের ঘরে আমার জন্ম। বেড়ে ওঠাও নিত্যদিনের আটপৌঢ়ে পরিবেশে, শান্ত-সুনিবিড় আলো-হাওয়ায়। আমি লেখক নই, কোনোকালে লেখক হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ, অতি ক্ষীণ। সংগত কারণেই প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে কেন এই প্রয়াস। সে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টাই এখানে।

আমার ছোট্ট এ জীবনে গর্ব করার মতো খুব একটা কিছু নেই। ছোটবেলায় বা একটু বড় হয়েও নিজ পরিমণ্ডলে মোটামুটি ভালো ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলাম। বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম, যদিও বিজ্ঞান সাধনা সে অর্থে করা হয়ে ওঠেনি তেমন একটা। বাবা-মা, পরিবার-পরিজন ভাবতেন, বিজ্ঞানী না হোক বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিংবা তালেবর কিছু একটা হবেই তাদের ছেলে। আমিও এর বাইরে খুব একটা ভাবিনি জীবনের একটা সময় পর্যন্ত। নব্বই দশকের শুরুতে আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে স্বপ্ন দেখছি আমাকে নিয়ে দেখা আমার প্রিয়জনদের স্বপ্নপূরণে কিছু একটা করার, সে সময় আমার পরিবারের ওপর দিয়ে বয়ে গেল সন্ত্রাসের বিভীষিকা।

শারীরিক, আর্থিক, সামাজিক এবং বিশেষভাবে মানসিক নির্যাতনে পর্যুদস্ত হলাম আমি ও আমার পরিবার। চাঁদা না দেয়ায় সন্ত্রাসীরা আমাদের পারিবারিক সম্পত্তিতে প্রকাশ্য দিবালোকে তাণ্ডব চালালো, শারীরিকভাবে আক্রান্ত হলাম আমি এবং আমার ভাই। বিচার তো পেলামই না, এমনকি থানায় মামলা বা অভিযোগও করতে পারলাম না। এখানে-সেখানে ধরনা দিলাম। সবাই আশ্বাস দিলো, সহানুভূতি দেখালো এবং বেলাশেষে তাদের অপারগতা জানালো। বয়সটা অল্প ছিল, সেই অল্প বয়সেই বোধে এলো এই সোসাইটিতে টিকে থাকতে হলে মাস্তান হতে হবে, ভদ্রলোকদের এখানে টিকতে হলে থাকতে হবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে। সন্ত্রাসী-মাস্তানির বাইরে পুলিশের একটু ইজ্জত বা সম্ভ্রম নিয়ে টিকে থাকার সুযোগ আছে, কারণ সাধারণত মাস্তানরা তাদের ঘাঁটায় না।
জীবনের অনেকগুলো বসন্ত পেরিয়ে এসেছি, এখন আর মাস্তান হওয়া সাজে না, আর মাস্তানি তো রক্তেও নেই। আমি সারা জীবনের ভোলেভালে আদমি। সিদ্ধান্ত নিলাম পুলিশ হবো, মাথা উঁচু করে বাঁচবো। যারা নিরীহ মানুষের শান্ত-নিস্তরঙ্গ জীবনে অকারণে অপছায়া ফেলে, অন্যের মাথা যারা অকারণে নিচু করতে চায়, তাদের টুঁটি চেপে ধরবো। পরম করুণাময় আমার সহায় হলেন। আমি নাম লেখালাম বাংলাদেশ পুলিশের খেরোখাতায়। এবং সেই থেকে নিতান্তই সাধারণ এই আমি একটু গর্ব করেই বলি ‘I am a police officer by choice and not by chance’. আমি দেখেশুনে বিষ করেছি পান। দেশে পাঁচ বছর আমার মনের মতো করে পুলিশিং করার পর সুযোগ আসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী হিসেবে যুদ্ধবিধ্বস্ত কসোভোতে শান্তিরক্ষী হিসেবে কাজ করার। স্ত্রী, কন্যা, পরিবার রেখে দুরুদুরু বক্ষে নাম লেখালাম আকাশি-নীল পতাকা আর ব্লু ব্যারেটের শান্তিরক্ষী হিসেবে।

তাবৎ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংস্থা জাতিসংঘ, আর জাতিসংঘের সবচেয়ে কোর একটিভিটি হচ্ছে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম। সেই কার্যক্রমে একজন ফ্রন্টলাইনার শান্তিরক্ষী হিসেবে কাজ করা এখনো পর্যন্ত আমার জীবনের অন্যতম গর্বের বিষয়। কিন্তু একটুও সহজ ছিল না সেই জার্নি। যুদ্ধাবস্থার দেশ, বৈরী প্রকৃতি ও পরিবেশ, পরিবার বিচ্ছিন্নতাসহ নানা টানাপড়েনের তিনশ’ পঁয়ষট্টি দিনের প্রতিটি দিনই ছিল দারুণ রঙিন, ঘটনাবহুল। জাতিগত দাঙ্গা, যুদ্ধ-উত্তর দেশ গঠনের নানা আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, যুদ্ধদেশের মানবিক বিপর্যয়, অ্যাডভেঞ্চার, থ্রিল, যুদ্ধদেশে ব্যক্তিমানুষের যাপিত জীবনের ক্লাইমেক্স সবই প্রত্যক্ষ করেছি। পুলিশিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জিং একটি পেশায় জড়িত থাকলেও আমার ভেতরেই আমি টের পাই কুল কুল করে বয়ে যাওয়া আশৈশব এক বৈরাগী মন। আমি আমার দিব্যচক্ষুতে প্রত্যক্ষ করেছি যুদ্ধদেশের কঠিন বাস্তবতা, এঁকে ফেলেছি স্মৃতির এপিসোডে। আমি আগেই বলেছি- আমি লেখক নই, একেবারেই নই, বড়জোর একজন স্টোরি টেলার, গল্পকথক। অনেকটা খেয়ালের বশেই মিশন জীবনের গল্পগুলো কয়েকটি পর্বে বিক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেছিলাম নিজের ফেসবুক ওয়ালে। সাধারণ এই আমিকে বোধ হয় বড্ড মায়া করেন, ভালোবাসেন কিছু অসাধারণ মানুষ। সেসব অগণিত সুহৃদের অনেকেরই মনে দাগ কাটে আমার ওয়ালের এসব সাতসতেরো সাতকাহন। তারা আমাকে অনুরোধ করতে থাকেন- ‘শান্তিরক্ষীর ডায়েরি’ শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে লেখা গল্পগুলোকে মলাটবদ্ধ করার। পেশায় আমি পুলিশ অফিসার। ভেতরে একটু-আধটু বিবাগী মন থাকলেও আমি বাস্তবতা বুঝি। বড় বড়, জ্ঞানীগুণী মানুষের আত্মচরিত বা কথকতা মানুষ সময়, পয়সা নষ্ট করে পড়ে, তা থেকে শিক্ষা নেয়। কিন্তু আমারটা কেন পড়বে? কী আছে এতে? নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করতে থাকি। নিজের ওয়ালে এসব আগডুম-বাগডুম লিখতে লিখতেই অলেখক এই আমার গড়ে ওঠে একটি পাঠকশ্রেণি। তারা আমাকে ক্রমাগত তাগাদা দিতে থাকে বই প্রকাশের অনুরোধ করে। পাঞ্জেরী প্রকাশনীর কর্ণধার সুলেখক কামরুল হাসান শায়ক তাদেরই একজন। আমার অতিপ্রিয়, এই সুহৃদের অনুরোধেই মূলত বই আকারে ‘শান্তিরক্ষীর ডায়েরি’র গোড়াপত্তন হয়। পুলিশের চাকরির কর্মব্যস্ত দিনলিপিতেও হঠাৎ আসা কোনো অলস দুপুর, বিষণ্ন বিকেল কিংবা হঠাৎ ঘুমভাঙা মধ্যরাতে আমার ফেলে আসা দিনগুলো আমাকে দারুণভাবে অনুরণিত করে। আমাকে আমি যতটুকু চিনি, তাতে বুঝি আমি একজন স্মৃতিকাতর মানুষ। শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি এখনো আমাকে ভীষণ নাড়া দেয়। আমার ভাবনাটা এমন যে, যদি বেঁচে থাকি তো আমার যাপিত জীবনের স্মৃতিচারণই হবে আমার অবসরের অন্যতম অনুষঙ্গ। অবসরে আমিই পড়বো আমার ফেলে আসা দিনগুলোর, আমার যাপিত জীবনের খণ্ডচিত্র।

‘শান্তিরক্ষীর ডায়েরি’ প্রকাশের জন্য অযুত কৃতজ্ঞতা পাঞ্জেরী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কামরুল হাসান শায়ক ও তার সহকর্মীদের। একুশের বইমেলা সামনে রেখে একেবারেই তড়িঘড়ি করে এর প্রকাশনা। এই স্বল্প সময়ে বইটির সম্পাদনার জন্য পাঞ্জেরী প্রকাশনীর নিলাদ্রি নিলয়কে জানাই অকুণ্ঠ অভিবাদন।
বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে আমার দুঃখ-সুখের, দুর্যোগ-দুঃসময়ের সাথী আমার স্ত্রী ইডেন কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাছিমা সুলতানাকে। শান্তিরক্ষী হিসেবে আমার নিযুক্তিতে তিনি যারপরনাই আনন্দিত হয়েছিলেন। কঠিন সেই দিনগুলোতে ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ ভুলে হাসিমুখে সামলেছেন আমাদের সন্তান ও পরিবারকে। বইটি প্রকাশের এই মাহেন্দ্রক্ষণে খুব মনে পড়ছে আমার পরলোকগত মায়ের কথা, মিশনের দিনগুলোতে যিনি প্রতিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতেন তার শান্তিরক্ষী পুত্রের কথা শোনার জন্য। পরম করুণাময় তাকে শান্তিতে রাখুন। আমার ব্যক্তিগত বন্ধু-বান্ধব, সুহৃদ, শ্রদ্ধাভাজন প্রিয়জনরা বিগত কয়েক বছরে আমার টাইমলাইনে শান্তিরক্ষীর ডায়েরি হিসেবে লেখালেখিগুলোকে একত্রিত করে বই আকারে প্রকাশে বারবার অনুরোধ করেছেন, নানাভাবে উৎসাহ দিয়েছেন। তাদের কারণেই বই হিসেবে ব্যক্তিগত ডায়েরির এ আত্মপ্রকাশ। তারা উৎসাহ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বইটি প্রকাশিত হবে জানতে পেরে প্রকাশনার আগেই বিপুল পরিমাণ প্রি সেল অর্ডারের মাধ্যমে আমাকে এবং প্রকাশককে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে ও কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করেছেন। কসোভো মিশনের শীতার্ত দিনগুলোতে হৃদয়ের উষ্ণতায় আমাকে প্রাণবন্ত রেখেছেন দেশ-বিদেশের নানা জাতি-ধর্মের সহকর্মীরা। তাদেরও স্মরণ করি পরম শ্রদ্ধায়। কসোভো মিশনে কর্মকালে আমার কন্যা প্রিয়ন্তীর বয়স ছিল বছরখানেক, একইভাবে সুদান মিশনে থাকাকালে আমার পুত্র আলিফ ছিল সদ্যজাত। আমার মিশনে থাকার কারণে আমার প্রিয়ন্তী ও আলিফ তাদের বাবার আদর থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের জন্যও আমার অনিঃশেষ শুভাশিস। কেন জানি, আজ ভীষণ মনে পড়ছে আমাদের অকালপ্রয়াত শিশুপুত্র জীবনকে, যার আঠারো দিনের জীবনের আঠারোটি দিনই কেটেছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে, ইনকিউবেটরে বা নিজের ছোট্ট দেহটিতে নানা রঙের নল লাগিয়ে। সে কখনো জানতেও পারেনি, কে সে, তার বাবা কে, তার মা কে। সে কখনোই হয়তো জানবে না কতোটা দুঃখ নিয়ে তার বাবা-মা তাকে স্মরণ করে।
নবীন লেখক হিসেবে আমি আমার অনাগত সব বিদগ্ধ পাঠকের স্নেহাশীষ কামনা করি। আমি মানুষটা ছোট হতে পারি কিন্তু লেখনীর ক্যানভাসটি বিশালায়তন, যাকে ফুটিয়ে তোলার সামর্থ্য হয়তো আমার নেই। সেই অর্থে এটি আমার সৃষ্টিশীল প্রথম প্রকাশনা। যাবতীয় ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। বইটি ২০০৫-০৬ এর প্রেক্ষাপটে লেখা। স্মৃতিনির্ভর এই লেখনীতে স্থান, কাল, পাত্র, নাম, ব্যক্তি কিংবা ঘটনায় ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে, সেজন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাই সবার কাছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এ লেখনীর মূল উপজীব্য হলেও কোথাও কোথাও কল্পিত প্লট বা ঘটনার অনুষঙ্গের মিশ্রণ যে হয়নি, সেটি হলফ করে আজ আর বলতে পারি না। ক্ষমা চাই সেজন্যও।

অনাগত দিনের সব পাঠক, প্রকাশনা-সংশ্লিষ্ট সবাইকে, আমার যেসব সহকর্মী আমাকে ও বই প্রকাশে নানাভাবে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন তাদের সবার প্রতিও আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমার দীর্ঘদিনের অনুজ সহকর্মী এএসআই ফারুককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই অফিস আওয়ারের বাইরে টাইপসহ যাবতীয় সহযোগিতার জন্য। আপনাদের মূল্যবান মতামত বা পরামর্শ পেলে পরবর্তী কোনো প্রকাশনায় ত্রুটি-বিচ্যুতি বা অসঙ্গতিগুলোকে অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করবো- এ কথা বলেই বিদায় নিতে চাই। পরম করুণাময় আমাদের সবার সহায় হোন।

লেখক : মো. মনিরুজ্জামান, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার), ডিআইজি, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট, বাংলাদেশ পুলিশ।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম
দেবীদ্বারে ন্যায় বিচারের দাবীতে মানববন্ধন; ওসি ও এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই। পুলিশি হয়রানির আতঙ্কে আমার স্ত্রী হাসনা বেগম (৫৬) হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। অর্থের অভাবে আমার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। প্রতিপক্ষের টাকার গরমে থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয় নাই। আসামীরা সহজে জামিন পেতে এবং মামলা থেকে খালাস পেতে নিলাফুলা-জখম দেখিয়ে নিজ মনগড়া এজাহার লিখে আমার ছেলের স্বাক্ষর নিয়ে মামলা রুজু করে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সংলগ্ন সড়কে আয়োজিত মানববন্ধন চলাকালে নিহত হাসনা বেগমের স্বামী আব্দুল আজিজ এসব কথা বলেন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাছ ধরার সময় তর্কাতর্কি কেন্দ্র করে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নবী নেওয়াজ সহ বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং একই ঘটনায় থানা পুলিশের যোগসাজশে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে আব্দুল আজিজ আরো বলেন, প্রতিপক্ষের মামলা গ্রহণ করে আমাদের হয়রানি করে। ওই মামলার তদন্তে ৬ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী অজয় চক্রবর্তী বাড়িতে এসে আমার ছেলে (মামলার বাদী) আল আমিন ভ্যান চালিয়ে মামলা চালাতে পারবে না বলে, মামলা তুলে নিয়ে মিমাংসায় চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন, বয়স হলে দাত এমনিতেই পড়ে যাবে, তাদের কথা-বার্তায় আমার স্ত্রী সন্তানদের গ্রেফতার আতঙ্কে হার্ট এটাকে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ৯ অক্টোবর কু.মে.ক হাসপাতালে মারা যান।

মো. শাহজালাল বলেন, আক্তার হোসেনের ছেলে শুভ বাড়ির পাশে আমাদের একটি গর্ত সিচে মাছ ধরছিল, ঐসময় একই বাড়ির মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ট্রাক্টর চালক নবী নেওয়াজ (৩৮) শুভর মাছগুলো ফেলে দেয়। এ নিয়ে শুভ ও নবী নেওয়াজের মধ‍্যে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর বিকেলে নবী নেওয়াজ ৬টি সিএনজি যোগে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসী প্রায় ৫০/৬০ জন নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালায়।
আবদুল আজিজের ছেলে গুরুতর আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী তাদের কাছে হাত জোর করে-আব্বা ডেকেও রক্ষা পায়নি, আমার ছেলে শুভ তার বাবাকে আর না মারতে প্রাণ ভিক্ষা চায়, তাকেও কুপিয়ে গুরতর আহত করে, আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারে, আমি আমার স্বামী ও সন্তানের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে গেলে ওরা আমাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমার স্বামী তাদের মারধরে ঘরে পয়খানা- প্রশ্রাব করে দেয়। তারা আমার স্বামীর নিচের চোয়ালের তিনটি দাত ভেঙ্গে ফেলে, কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়। আমার স্বামীর পায়ের অংশে কাটায় ৩৮ টি সেলাই দিতে হয়, ৩টি দাত ফেলে দিলেও এসব কথা মামলায় উল্লেখ করেনি। মামলায় ফুলা জখম দেখিয়েছে। অর্থাভাবে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছিনা, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অসুস্থ‍ স্বামী কাজে যেতে পারছেনা, তাই আজ প্রায় একমাস আমরা মানুষের সহায়তায় অর্ধাহার অনাহারে আছি। ভবিষ‍্যৎ কি হবে জানিনা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কাজী লোকমান হোসাইন, মোঃ আউয়াল খাঁন, মোঃ শাহজালাল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভুক্তভোগী পরিবার থেকে আব্দুল আজিজ, শাহিনা বেগম, কামরুল হাসান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, মাছ ধরা নিয়ে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডায় বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারকে মারধর, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাংচুর এবং লুটপাট করে নিঃস্ব করে দিয়েছে নবী নেওয়াজ, আব্দুল কাদের,দুলাল মিয়া, রাকিব@সাগর ও মো: ওমরসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা। অতি দ্রুত আসামী পক্ষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান। তাদের দাবী না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ার দেন।

এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার এজাহার ওনারা লিখে এনেছেন। আমরা মামলা রেকর্ড পূর্বক আসামী আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি, বিজ্ঞ আদালত যদি আসামীকে জামিন দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। মামলার এজাহারে যদি দাঁত পরার বিষয় বা অন্য কোন গুরুতর জখমের কথা বাদ পরে থাকে তদন্তে এড করে দেওয়া যাবে সমস্যা নেই। তাছাড়া মারামারির ঘটনায় কাউন্টার মামলা হয়, যা অপর পক্ষ করেছে।

×