বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

৩৮১ কিলোমিটার মহাসড়ক নিয়ন্ত্রণে ১৬ স্পিডগান

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ মার্চ, ২০২৩, ২:০২ পিএম
৩৮১ কিলোমিটার মহাসড়ক নিয়ন্ত্রণে ১৬ স্পিডগান
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ফরিদপুরে সব সড়কেই যানবাহন চলাচল বেড়েছে প্রায় পাঁচগুণ। সে অনুপাতে বাড়েনি জনবলসহ অন্য সাপোর্ট। ফলে মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনার হার। এ পরিস্থিতিতে মামলা দিয়েও গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না পুলিশ।

হাইওয়ে পুলিশের মাদারীপুর রিজিয়নে থানা, ফাঁড়ি ও ক্যাম্প রয়েছে সাতটি; যার মাধ্যমে আটটি মহাসড়কের ৩৮১ কিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রতিটি স্টেশনে দুটি করে মোট ১৬ স্পিডগান রয়েছে এসব মহাসড়কের গতি নিয়ন্ত্রণে। হাইওয়ে পুলিশের দাবি, মামলা দিয়েও কমানো যাচ্ছে না অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা। কর্মকর্তারা বলছেন, গতি কমাতে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যবসা জনসচেতনতা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

ফরিদপুরে অবস্থিত মাদারীপুর হাইওয়ের রিজিয়নের দায়িত্বরত পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ রিজিয়নের অধীনে এন-৮, এন-৮০৫, এন-৮০৪, এন-৭, এন-৮০৬, আর-৭১০ ও আর-৮৬০ মহাসড়কের ৩৮১ কিলোমিটার মসহাসড়ক রয়েছে। এর মধ্যে এক্সপ্রেসওয়েও অন্তর্ভুক্ত।

রিজিয়নের পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সহকারী পুলিশ সুপারের দপ্তরসহ আটটি থানা, ফাঁড়ি ও ক্যাম্পে আগে থেকেই মোট জনবল রয়েছে ২৬৫ জন। এর মধ্যে পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন ৬০ জন আর ১৫ জন রয়েছেন প্রধান কার্যালয়ে প্রেষণে।

পুলিশ স্টেশনগুলোর মধ্যে পাংশা হাইওয়ে থানায় সর্বনিম্ম ২১ জন এবং ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় সর্বোচ্চ ৩৪ জন কর্মরত আছেন। বেশিরভাগ থানায়ই একজন ওসি, একজন সার্জেন্ট ও একজন এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। শুধু এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তাই দুর্ঘটনাজনিত মামলার তদন্ত করতে পারেন।

জানা গেছে, গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার পর এসব মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল বেড়েছে তিন থেকে পাঁচগুণ। যদিও ব্যস্ততা বাড়লেও এসব পুলিশ স্টেশনগুলোতে বাড়েনি জনবলের সংখ্যা। এমনকি আটটি স্টেশনে মাত্র দুটি করে স্পিডগান থাকায় এবং জনবল বৃদ্ধি না করায় একাধিক চেকপোস্ট পরিচালনা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এসব স্টেশনের অধীনে সর্বনিন্ম শিবচর হাইওয়ে থানার অধীনে ২৮ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে; যার উভয় প্রান্ত বিবেচনায় ৫৬ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার অধীনে ৭৮ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে।

মাদারীপুর হাইওয়ের রিজিয়নের পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম শেয়ার বিজকে বলেন, মহাসড়কে যান চলাচলে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা থাকলেও, অনেক চালকই তা মানছেন না। তিনি জানান, ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এ রিজিয়নের অধীনে চেকপোস্ট বসিয়ে আট হাজার ৯২টি মামলা রুজু করা হয়। এর মধ্যে তিন হাজার ৪৯২টি মামলা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো সংক্রান্ত। এত মামলা রুজু করার পরও বেপরোয়া গতি থামানো যাচ্ছে না কেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সচেতনতার অভাবের পাশাপাশি মালিক-কর্তৃপক্ষের দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্টান্ডে পৌঁছানোর চাপই দায়ী। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমেই মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, মাদারীপুর রিজিয়নের অধীনে ২০২২ সালের ২৫ জুন থেকে ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত ২২২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু নিয়মিত মামলা হয়েছে ৩৭টি। এসব দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৬৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৩০৭ জন।

মাদারীপুরে শিবচরে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে গতিসীমা লঙ্ঘন করায় দুর্ঘটনার পর মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫৬টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করেছে হাইওয়ে পুলিশ। শিবচর হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গতিসীমা লঙ্ঘন করায় গত মাসে ২৮৪টি ও জানুয়ারিতে ৩১৫টি মামলা করা হয়।

গত ১৯ মার্চ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় খুলনা থেকে ঢাকাগামী এমাদ পরিবহনের একটি বাস রাস্তার পাশে খাদে পড়ে অন্তত ১৯ জন নিহত ও ২০ জন আহত হন।

পরে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। কমিটি বুধবার প্রতিবেদন দিয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কামাল উদ্দিন বিশ্বাসের কাছে ১৪ দফা সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব কুমার হাজরার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য বেপরোয়া ড্রাইভিং এবং অনুপযুক্ত যানবাহনকে দায়ী করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চালকের কাছে মাঝারি আকারের গাড়ি চালানোর লাইসেন্স থাকলেও তিনি বৃষ্টির মধ্যে ভারী যানবাহন চালাচ্ছিলেন। পল্লব কুমার বলেন,

বিআরটিএ গোপালগঞ্জ গত বছরের ১৭ নভেম্বর বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে এমাদ পরিবহনের বাসের নিবন্ধন স্থগিত করে এবং চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি গাড়িটির মেয়াদ শেষ হলেও নিয়ম লঙ্ঘন করে সড়কে চলাচল করে।

দাউদকান্দিতে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে জোরালো আলোচনা

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১১ পিএম
দাউদকান্দিতে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে জোরালো আলোচনা

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধ, চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি দমন এবং জননিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় এসব বিষয় গুরুত্ব পায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।

সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধ, চাঁদাবাজি, চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় বক্তব্য দেন দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক নাহিদ আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান, দাউদকান্দি মডেল থানার প্রতিনিধি, দাউদকান্দি পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. মোখলেসুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বায়জিদ আহমেদ এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন চৌধুরী।

এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান আবুল হাসেম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ কে শামসুল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সভায় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বাংলাদেশ- এর দেবীদ্বার উপজেলা শাখার ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি আহমেদ হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বারে উপজেলা প্রশাসনের সভা কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি,বাংলাদেশ-এর উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার-এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা। দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ- এর কুমিল্লা জেলা শাখা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।

কমিটির অন‍্যান‍্য সদস‍্যরা হলেন, সহ সভাপতি – ময়নাল হোসেন ( ভিপি) দৈনিক মুক্ত খবর। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রুহুল আমিন হাজারী-দৈনিক জবাবদিহি। সাংগঠনিক সম্পাদক: জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব। সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক: এম এ হালিম দৈনিক বাংলার আলোড়ন। দপ্তর সম্পাদক: মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা। অর্থ বিষয়ক সম্পাদক: ডা. মো. শাহিন। প্রচার এবং প্রকাশনা সম্পাদক: এ কে এম মিজানুর রহমান (কাউছার) দৈনিক ঢাকা নিউজ। তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক: শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন। আইন বিষয়ক সম্পাদক: এডভোকেট, মো আনিছুর রহমান খান । সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক: ডা. শাহ জালাল।শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক: মো. রুহুল আমিন- সহকারী প্রধান শিক্ষক পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক: আবুল কালাম আজাদ। দৈনিক দিন প্রতিদিন। মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেল: মো: বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার। জরুরী সহায়তা ও চিকিৎসা বিষয়ক ডা. মাসুদ হাছান। নির্বাহী সদস্য: আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রানের বাংলাদেশ। আব্দুল আলিম ফেইস দ্যা পিপলস নিউজ। সাধারণ সদস্য: এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা। রাসেল সরকার দৈনিক মানব জমিন। মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না। ডাঃ প্রতিনিধি মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন।

অন‍্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা শাখার সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন, মোঃ আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, আমাদের দেবীদ্বার পএিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এটিএম সাইফুল ইসলাম মাসুম। বিজয় টিভির দেবীদ্বার প্রতিনিধি এনামুল হক।
এছাড়াও পোগ্রামের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী, গিতা পাঠ করেন ভজন সাহা। এসময় সম্মিলিত ভাবে জাতীয় সংগীত ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত প্রদর্শিত হয়।

কুমিল্লায় চোলাই মদের রমরমা কারবার, ধ্বংস হচ্ছে দরিদ্র পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
কুমিল্লায় চোলাই মদের রমরমা কারবার, ধ্বংস হচ্ছে দরিদ্র পরিবার

শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলায় মদ তৈরির অভিযোগ, নেশার ছোবলে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি

অভাবের সংসার, দিনমজুরের সামান্য আয়, স্ত্রী-সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সংগ্রাম—তারপরও সেই আয়ের একটি অংশ চলে যাচ্ছে নেশার পেছনে। চোলাই মদ পান করে কেউ হারাচ্ছেন কর্মক্ষমতা, কেউ জড়িয়ে পড়ছেন পারিবারিক কলহে, আবার কারও মদ্যপ আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। এমন পরিস্থিতিতে কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা ও টিক্কাচর এলাকার হাড্ডিখোলায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ ঘিরে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় বাস্তবতায় দেখা যায়, মদ্যপ অবস্থায় কিছু ব্যক্তি স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং পারিবারিক অশান্তির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিশুদের ওপরও। যে পরিবারগুলো এমনিতেই আর্থিক সংকটে দিন কাটায়, তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয় নেশার এই অভ্যাস।

 

নিজেরা পান, আবার বিক্রিও করেন

 

স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলা এলাকায় চোলাই মদ তৈরির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ নিজেদের ব্যবহারের জন্য মদ তৈরি করলেও অন্য একটি অংশ তা বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারজাত করে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের কথা বলে তৈরি করা মদের পাশাপাশি বিক্রির জন্যও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মদ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব মদের উপাদান ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হচ্ছে বলেও স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়। তবে উৎপাদন ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণের মতো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।

 

অল্প টাকার নেশা, বড় ক্ষতি সংসারে

 

চোলাই মদের সহজলভ্যতা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। অল্প টাকায় মদ কিনে পান করার পর অনেকে কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ কাজে যেতে পারেন না, কেউ উপার্জিত অর্থ পরিবারের প্রয়োজনের বদলে নেশায় ব্যয় করেন। এর ফলে সংসারে অভাব বাড়ে, সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

একজন মানুষের নেশার কারণে যখন স্ত্রী-সন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তখন সেটি আর ব্যক্তিগত অভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়।

 

অপরিচ্ছন্ন মদে মৃত্যুঝুঁকি

 

চোলাই মদে বিষাক্ত মিথানল বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান থাকলে তা অন্ধত্ব, গুরুতর অঙ্গহানি এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি হওয়া মদ নিরাপদ—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। শুধু গন্ধ, স্বাদ বা রং দেখে মদের বিষাক্ততা নির্ধারণ করা যায় না।

স্থানীয়ভাবে চোলাই মদ পান করে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ। হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মদপানের পর অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন সময়ে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছেন; তাঁদের মধ্যে অসচ্ছল ব্যক্তিও রয়েছেন। তবে কতজন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জরুরি।

 

বন্ধ হবে কবে এই অবৈধ কারবার?

 

এলাকাবাসীর উদ্বেগ হলো, চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রি চলতে থাকলে একদিকে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে, অন্যদিকে পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলাও চলতে থাকবে। এ পরিস্থিতিতে শুধু মদ পানকারীকে দোষারোপ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; এর উৎপাদন ও বিক্রির উৎসও শনাক্ত করা প্রয়োজন।

শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কোথায় মদ তৈরি হচ্ছে, কীভাবে তা বিক্রি হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

পাশাপাশি মদে আসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পরামর্শ ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ নেশার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা যেমন জরুরি, তেমনি তাঁদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চোলাই মদের কারবার বন্ধ করা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়; এটি দরিদ্র মানুষের জীবন রক্ষা, পরিবারের শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেশার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচানোর লড়াই। এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, নিয়মিত নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা।

×