বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বিশুদ্ধ পানির সংকট!

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০২৩, ৭:১৮ এএম
বিশুদ্ধ পানির সংকট!
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

লক্ষ্মীপুরের গ্রাম-গঞ্জের বেশিরভাগ লোকজন এখনো অগভীর এবং স্যালো টিউবয়েলের পানি পান করছে। যাতে আর্সেনিক এবং আয়রনের উপস্থিতি রয়েছে। এছাড়া জেলার উপকূলীয় এলাকার টিউবওয়েলগুলো থেকে উঠছে নোনা পানি। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশিরভাগ বাসিন্দারা এখনো সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আর্সেনিকযুক্ত ও আয়রনযুক্ত পানি পান করছে তারা।

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাসিন্দারাও পানি নিয়ে দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। শুধুমাত্র পৌর শহর বা এর আশেপাশে পৌর কর্তৃপক্ষ পানি সরবরাহ করলেও শহরের অদূরের গ্রাম এবং পৌরসভার বর্ধিত অংশে এখনো পৌঁছাতে পারে সুপেয় পানির লাইন। আবার পৌরসভার কোন এলাকায় পানি সরবরাহ লাইন থাকলেও সেখানে ঠিকমতো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না পানি। ফলে ওইসব এলাকার বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে অগভীর নলকূপ কিংবা স্যালো টিউবওয়েলের পানি পান করছে। যাতে আর্সেনিক এবং আয়রন দুটোই রয়েছে।

অন্যদিকে গভীর নলকূপের পানি নিরাপদ হলেও জেলার বাসিন্দাদের চাহিদা অনুযায়ী যা একেবারেই অপ্রতুল্য। শুধুমাত্র বিত্তশালী ও জনপ্রতিনিধিদের আস্থাভাজনরাই গভীর নলকূপের সুবিধা পেয়ে থাকে। অন্যদের ভরসা আর্সেনিক ও আয়রনযুক্ত পানি। আবার দুর্গম চরগুলোতে নোনা পানির আধিক্য থাকায় সেখানকার বাসিন্দারা সুপেয় পানির জন্য দুর্ভোগে পড়েন। এতে পানি বাহিত রোগাক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে জেলার বাসিন্দারা।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের অগভীর ও স্যালো টিউবওয়েলগুলোতে আর্সেনিক নিয়ে একটি জরিপ চালায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। এতে আর্সেনিকের ভয়াবহতা উঠে এসেছে। জেলার সদর উপজেলার পৌরসভা এবং ১৮ টি ইউনিয়নের ৩৯ হাজার ৯৫৭ টি অগভীর এবং স্যালো টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিং পরীক্ষা করা হয়। যারমধ্যে ১৬ হাজার ৯ ৩৭ টি অগভীর নলকূপ ও স্যালো টিউবওয়েলে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ইউনিয়ন থেকে আড়াই হাজার টিউবওয়েলের নমুনা পানি সংগ্রহ করে জনস্বাস্থ্য অধিদফতর। জরিপে সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের কাঠালী গ্রামে আনুপাতিক হারে আর্সেনিকের উপস্থিতি কম পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বেশি আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে ভবানীগঞ্জ এবং দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নে। পৌর এলাকার ২০২৩ টি নলকূপের পানি পরীক্ষা করে ৭২৫ টিতেই আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

আর্সেনিকযুক্ত টিউবওয়েলের পানি রান্নার কাজে ব্যবহার এবং পান করা থেকে বাসিন্দাদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও সুপেয় পানির বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে ওইসব টিউবওয়েলের পানিই পান করছে। আবার প্রায় বেশিরভাগ অগভীর নলকূপে আয়রনের প্রভাব রয়েছে। বাধ্য হয়েই অনেকেই সেই আয়রনযুক্ত পানিই পান করছে।

লক্ষ্মীপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর বলছে, আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনে একটি প্রকল্প ছিল। এতে সদর, রামগঞ্জ এবং রায়পুর উপজেলাতে ২০০৯ সাল নাগাদ ৩৫ হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ইউনিয়নে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ চলছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার টুমচর এবং ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে ‘সমগ্র বাংলাদেশে পাইপ লাইনে পানি সরবরাহ প্রকল্প’ এর আওতায় দুটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদক গভীর নলকূপের সাহায্যে ইউনিয়নের ৫ কিলোমিটার এলাকার আড়াইশ পরিবারকে সুপেয় পানি সরবরাহ করা যাবে। এছাড়া তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের জন্য ‘মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে সাড়ে ৩শ পরিবারকে এবং পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে ৭০০ পরিবারকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবার করা হবে।

এছাড়া যেখানে আয়রনের পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে, সেখানে আয়রন শোধনের জন্য পরিবেশ বান্ধব ওয়াটার ডিসাইলেশন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় জেলার সদর উপজেলায় ৬৫ টি এবং রামগতিতে ১৪ টি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। তবে পাইলট প্রকল্পকে মূল প্রকল্পে আনা হলে উপকারভোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল।

এদিকে জেলার উপকূলীয় এলাকা রামগতি এবং কমলনগরে অগভীর টিউবওয়েলে আয়রন এবং লবনের উপস্থিতি রয়েছে ব্যাপক হারে। রামগতির পৌরসভা (আলেকজান্ডার) ও চর বাদাম ইউনিয়নে গভীর নলকূপ স্থাপন করেও পাওয়া যাচ্ছে না সুপেয় পানি। তবে উপজেলার পৌর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সুপেয় পানির সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ‘সারাদেশের ৩০ পৌরসভায় পানি সরবরাহ প্রকল্প’ এর আওতায় আলেকজান্ডারে একটি পানির ট্যাংক স্থাপন করা হচ্ছে। মেঘনা নদীর খুব কাছাকাছি হওয়ায় ওই এলাকার মাটির তলদেশে সুপেয় পানির অভাব থাকায় প্রকল্প এলাকা থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে চর আলগীতে চারটি উৎপাদক নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকেই আলেকজান্ডারে অবস্থিত ট্যাংকে পানি নিয়ে আসা হবে। ওই ট্যাংক থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পৌরবাসীকে সুপ্রেয় পানির যোগান দেওয়া হবে।
চাহিদার তুলনায় নগন্য অগভীর নলকূপ ।

লক্ষ্মীপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে সুপেয় পানির জন্য নানা প্রকল্প এবং গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও জেলার বাসিন্দাদের চাহিদা অনুযায়ী তা একেবারে অপ্রতুল্য। এছাড়া এসব প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র বিত্তশালী এবং জনপ্রতিনিধিদের আস্থাভাজনরাই ভোগ করতে পারে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক গভীর নলকূপের বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সাধারণ জনগণ এসব সুবিধার বাহিরে থাকে। সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের থেকেও কয়েকগুণ বেশি অর্থের বিনিময়ে নিতে হয় গভীর নলকূপ। আবার পৌর এলাকার নিজস্ব উদ্যোগে গভীর নলকূপ স্থাপনে রয়েছে পৌরসভার নানা প্রতিবন্ধকতা। ফলে পৌর এলাকাসহ জেলার অধিকাংশ মানুষ আর্সেনিক এবং আয়রনযুক্ত পানিই পান করছে।

আর্সেনিক ও আয়রনযুক্ত পানির ভয়াবহতার কথা জানিয়ে সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করা মানে বিষ পান করা। এ পানি পান করলে হৃদরোগ, চর্মরোগ, এলার্জি ও স্কিন ক্যান্সারসহ জটিল রোগাক্রান্ত হবে। এছাড়া পানিতে আয়রনের মাত্রা বেশি থাকলে চুল পড়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, গভীর নলকূপে আর্সেনিক থাকে না। তবে আমাদের চাহিদার তুলনায় গভীর নলকূপ একেবারে নগন্য। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে গেল ৪ অর্থবছরে জেলার প্রতিটি উপজেলাতে ২৬ টি করে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। ‘সমগ্র বাংলাদেশে পানি সরবরাহ প্রকল্প’ এর আওতায় কিছু কিছু ইউনিয়নে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবার করা হবে। সুপেয় পানির চাহিদার তুলনায় এসব প্রকল্পের সুবিধাভোগীর সংখ্যাও একেবারে কম বলে স্বীকার করেন তিনি।

দাউদকান্দিতে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে জোরালো আলোচনা

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১১ পিএম
দাউদকান্দিতে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে জোরালো আলোচনা

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধ, চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি দমন এবং জননিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় এসব বিষয় গুরুত্ব পায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।

সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধ, চাঁদাবাজি, চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় বক্তব্য দেন দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক নাহিদ আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান, দাউদকান্দি মডেল থানার প্রতিনিধি, দাউদকান্দি পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. মোখলেসুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বায়জিদ আহমেদ এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন চৌধুরী।

এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান আবুল হাসেম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ কে শামসুল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সভায় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বাংলাদেশ- এর দেবীদ্বার উপজেলা শাখার ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি আহমেদ হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বারে উপজেলা প্রশাসনের সভা কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি,বাংলাদেশ-এর উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার-এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা। দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ- এর কুমিল্লা জেলা শাখা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।

কমিটির অন‍্যান‍্য সদস‍্যরা হলেন, সহ সভাপতি – ময়নাল হোসেন ( ভিপি) দৈনিক মুক্ত খবর। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রুহুল আমিন হাজারী-দৈনিক জবাবদিহি। সাংগঠনিক সম্পাদক: জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব। সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক: এম এ হালিম দৈনিক বাংলার আলোড়ন। দপ্তর সম্পাদক: মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা। অর্থ বিষয়ক সম্পাদক: ডা. মো. শাহিন। প্রচার এবং প্রকাশনা সম্পাদক: এ কে এম মিজানুর রহমান (কাউছার) দৈনিক ঢাকা নিউজ। তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক: শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন। আইন বিষয়ক সম্পাদক: এডভোকেট, মো আনিছুর রহমান খান । সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক: ডা. শাহ জালাল।শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক: মো. রুহুল আমিন- সহকারী প্রধান শিক্ষক পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক: আবুল কালাম আজাদ। দৈনিক দিন প্রতিদিন। মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেল: মো: বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার। জরুরী সহায়তা ও চিকিৎসা বিষয়ক ডা. মাসুদ হাছান। নির্বাহী সদস্য: আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রানের বাংলাদেশ। আব্দুল আলিম ফেইস দ্যা পিপলস নিউজ। সাধারণ সদস্য: এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা। রাসেল সরকার দৈনিক মানব জমিন। মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না। ডাঃ প্রতিনিধি মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন।

অন‍্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা শাখার সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন, মোঃ আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, আমাদের দেবীদ্বার পএিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এটিএম সাইফুল ইসলাম মাসুম। বিজয় টিভির দেবীদ্বার প্রতিনিধি এনামুল হক।
এছাড়াও পোগ্রামের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী, গিতা পাঠ করেন ভজন সাহা। এসময় সম্মিলিত ভাবে জাতীয় সংগীত ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত প্রদর্শিত হয়।

কুমিল্লায় চোলাই মদের রমরমা কারবার, ধ্বংস হচ্ছে দরিদ্র পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
কুমিল্লায় চোলাই মদের রমরমা কারবার, ধ্বংস হচ্ছে দরিদ্র পরিবার

শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলায় মদ তৈরির অভিযোগ, নেশার ছোবলে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি

অভাবের সংসার, দিনমজুরের সামান্য আয়, স্ত্রী-সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সংগ্রাম—তারপরও সেই আয়ের একটি অংশ চলে যাচ্ছে নেশার পেছনে। চোলাই মদ পান করে কেউ হারাচ্ছেন কর্মক্ষমতা, কেউ জড়িয়ে পড়ছেন পারিবারিক কলহে, আবার কারও মদ্যপ আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। এমন পরিস্থিতিতে কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা ও টিক্কাচর এলাকার হাড্ডিখোলায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ ঘিরে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় বাস্তবতায় দেখা যায়, মদ্যপ অবস্থায় কিছু ব্যক্তি স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং পারিবারিক অশান্তির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিশুদের ওপরও। যে পরিবারগুলো এমনিতেই আর্থিক সংকটে দিন কাটায়, তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয় নেশার এই অভ্যাস।

 

নিজেরা পান, আবার বিক্রিও করেন

 

স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলা এলাকায় চোলাই মদ তৈরির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ নিজেদের ব্যবহারের জন্য মদ তৈরি করলেও অন্য একটি অংশ তা বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারজাত করে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের কথা বলে তৈরি করা মদের পাশাপাশি বিক্রির জন্যও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মদ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব মদের উপাদান ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হচ্ছে বলেও স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়। তবে উৎপাদন ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণের মতো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।

 

অল্প টাকার নেশা, বড় ক্ষতি সংসারে

 

চোলাই মদের সহজলভ্যতা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। অল্প টাকায় মদ কিনে পান করার পর অনেকে কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ কাজে যেতে পারেন না, কেউ উপার্জিত অর্থ পরিবারের প্রয়োজনের বদলে নেশায় ব্যয় করেন। এর ফলে সংসারে অভাব বাড়ে, সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

একজন মানুষের নেশার কারণে যখন স্ত্রী-সন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তখন সেটি আর ব্যক্তিগত অভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়।

 

অপরিচ্ছন্ন মদে মৃত্যুঝুঁকি

 

চোলাই মদে বিষাক্ত মিথানল বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান থাকলে তা অন্ধত্ব, গুরুতর অঙ্গহানি এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি হওয়া মদ নিরাপদ—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। শুধু গন্ধ, স্বাদ বা রং দেখে মদের বিষাক্ততা নির্ধারণ করা যায় না।

স্থানীয়ভাবে চোলাই মদ পান করে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ। হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মদপানের পর অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন সময়ে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছেন; তাঁদের মধ্যে অসচ্ছল ব্যক্তিও রয়েছেন। তবে কতজন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জরুরি।

 

বন্ধ হবে কবে এই অবৈধ কারবার?

 

এলাকাবাসীর উদ্বেগ হলো, চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রি চলতে থাকলে একদিকে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে, অন্যদিকে পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলাও চলতে থাকবে। এ পরিস্থিতিতে শুধু মদ পানকারীকে দোষারোপ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; এর উৎপাদন ও বিক্রির উৎসও শনাক্ত করা প্রয়োজন।

শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কোথায় মদ তৈরি হচ্ছে, কীভাবে তা বিক্রি হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

পাশাপাশি মদে আসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পরামর্শ ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ নেশার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা যেমন জরুরি, তেমনি তাঁদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চোলাই মদের কারবার বন্ধ করা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়; এটি দরিদ্র মানুষের জীবন রক্ষা, পরিবারের শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেশার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচানোর লড়াই। এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, নিয়মিত নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা।

×