চট্টগ্রাম কারাগারের ‘গলার কাঁটা’ জঙ্গি জাবেদ
দুর্ধর্ষ জঙ্গি জাবেদ ইকবাল। ইতোমধ্যে ১৯টি মামলায় জেএমবির চট্টগ্রাম বিভাগীয় এ সামরিক কমান্ডারের যাবজ্জীবনসহ ২৪৩ বছর সাজা হয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে মিশ্র বন্দিদের সঙ্গে জাবেদকে রাখা নিরাপদ নয় বলে আগেই কারা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। এর পর থেকে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুরের বিশেষ হাইসিকিউরিটি কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া প্রায় এক বছর ঝুলে আছে। সম্প্রতি জঙ্গিদের ৬৪ ও ১০ সেল থেকে নিষিদ্ধ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় চাপ বেড়েছে। ২৪ ঘণ্টা তার ওপর দু’জন কারারক্ষী নজর রাখছেন। এর পরও স্বস্তি নেই। এ জন্য বড় ধরনের অঘটন এড়াতে জাবেদকে দ্রুত স্থানান্তর করা দরকার বলে মনে করছেন কারা কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, চট্টগ্রাম কারাগারে জাবেদসহ ৪৪ জঙ্গি এবং ৫ হাজার ৪৫৬ সাধারণ বন্দি রয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাজাপ্রাপ্ত ও স্পর্শকাতর বন্দি হলেন কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল এলাকার আবদুল আউয়ালের ছেলে জাবেদ। ঢাকা থেকে জঙ্গি ছিনতাই ঘটনার মধ্যেই জাবেদের সেলে যোগাযোগ স্থাপনের নিষিদ্ধ বস্তু পাওয়া যায়। এর পর থেকে তার ওপর ২৪ ঘণ্টা দু’জন কারারক্ষী নজর রাখছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম কারাগার মিশ্র হওয়ায় ঝুঁকি রয়েই গেছে। এক বছর ধরে ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও প্রশাসন থেকে অনুমতি চাওয়া হলেও স্থানান্তরের অনুমতি পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার এমরান হোসেন মিঞা সমকালকে বলেন, ‘জঙ্গি জাবেদ কারাগারের ৬৪ সেলে বিশেষ নজরদারিতে আছে। তার নামে চট্টগ্রামে আর কোনো মামলা নেই। কয়েদি হিসেবে বন্দি। আমি এখানে আসার আগেই তাকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলেই তাকে কাশিমপুরে পাঠানো হবে।’
সংশ্নিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম কারাগারে জাবেদসহ ৪৪ দুর্ধর্ষ জঙ্গি বন্দি রয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জেএমবির সদস্য চার, জেএমবি হাজতি ৯, কয়েদি তিন, নব্য জেএমবি সাত, শহীদ হাজমা ব্রিগেডের ১১, হুজি দুই ও আনসার আল ইসলামের আট সদস্য আছে। জঙ্গি ছাড়া বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় কারাগারে বন্দি আছে ৫ হাজার ৪৫৬ জন।
১৯৯৬ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার গঠনের পর জঙ্গিবাদে জড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী জাবেদ ইকবাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সে জেএমবির সঙ্গে যুক্ত হয়। ২০০৫ সালে সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার পর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটিতে জাবেদের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা হয়। ২০০৬ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার মামলায় প্রথম তার ২০ বছর কারাদণ্ড হয়। এর পর থেকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি, হালিশহর, খুলশী, ডবলমুরিং, পাঁচলাইশ, বাকলিয়া, পাহাড়তলী, কক্সবাজার সদর থানা, রাঙামাটি সদর থানার ১৯ মামলায় মোট ২৪৩ বছর কারাদণ্ড হয়েছে। এ ছাড়া আটটি মামলায় তাকে ২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও সাত বছর ৯ মাস কারাদণ্ড দেন আদালত।

















