সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

নির্বাচন বানচালের বিএনপির শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হলো যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৬:২১ এএম
নির্বাচন বানচালের বিএনপির শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হলো যেভাবে
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে যাবে। ১৪ দলের শরিকরাও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেবে। ফলে আওয়ামী লীগ একটি একতরফা নির্বাচনের পথে হাঁটবে—এরকম একটি ষড়যন্ত্রের নীলনকশা তৈরি করেছিল লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। সে অনুযায়ী সব আয়োজনও সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপির নীল নকশা সফল হল না। জাতীয় পার্টি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে ১৪ দলের শরিকরা অসন্তুষ্ট হলেও নির্বাচনে থেকেছে।

 

বিভিন্ন বলছে যে, নির্বাচন থেকে যেন প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সরে যায় সেজন্য শেষ মুহূর্তে বিএনপি এবং তার নিয়ন্ত্রিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নিরন্তর চেষ্টা করছে। কিন্তু এই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

 

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, আওয়ামী লীগের কাছে সুস্পষ্ট ভাবে খবর ছিল জাতীয় পার্টি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে না। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের একাধিক সিনিয়র নেতাকে ডেকে জানিয়ে ছিলেন যে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে থাকবে না। একই বক্তব্য তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অনুষ্ঠানিকভাবে কয়েকজন মন্ত্রীর সাথেও আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি নির্বাচনে থাকল।

 

জাতীয় পার্টি যেন নির্বাচনে না থাকে সে জন্য মোটা অঙ্কের অফার দেওয়া হয়েছিল শীর্ষনেতাদেরকে। এছাড়াও জাতীয় পার্টি

যদি নির্বাচন বর্জন করে তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে বিএনপি ঐক্য করবে। এমনকি জিএম কাদেরকে প্রধানমন্ত্রী করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিএম কাদের বিএনপির প্রস্তাবে সায় দিতে পারেনি।

 

একাধিক কারণে বিএনপির এই নীলনকশা বাস্তবায়িত হল না বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। প্রথমত, বিএনপিকে কেউ বিশ্বাস করতে চাননি। তারেক জিয়ার কথায় আস্থা রেখে কেউ ঝুঁকি নিতে চায়নি। দ্বিতীয়ত, ভারত এবং কয়েকটি বন্ধুরাষ্ট্র জাতীয় পার্টিকে বুঝিয়েছে, জাতীয় পার্টি যদি এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাহলে সেটি জাতীয় পার্টির জন্য ক্ষতিকারক হবে। তৃতীয়ত, জাতীয় পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতারা যারা সমঝোতায় লাভবান হয়েছেন তারা নির্বাচনে না যাওয়াটাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেছে। তাদের মতে, জাতীয় পার্টি এমনিতেই সাংগঠনিক ভাবে অনেক দূর্বল। এরপর যদি তারা নির্বাচনও বর্জন করে তাহলে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। বরং নির্বাচনে গিয়ে বিরোধী দল থাকলে বিএনপির চেয়েও আস্তে আস্তে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার একটা পথ সুগম হবে। সেই সুযোগটা নেওয়াই যুক্তিসঙ্গত।

 

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যেরকম জাতীয় পার্টিতে একগুচ্ছ কর্তৃত্বের অধিকারী ছিলেন জিএম কাদের সেরকম নন। বরং তাকে দলের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করেই চলতে হয়। আর এ কারণেই জিএম কাদেরকে একা বশীভূত করার চেষ্টা করা হলেও বা জিএম কাদেরকে একা কাছে টানা হলেও শেষ পর্যন্ত অন্যান্যদেরকে কাছে টানতে পারেনি বিএনপি। যে কারণে শুধু জিএম কাদেরের ওপর নির্ভরশীলতা থাকার ফলে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা সফল হয়নি।

 

তবে বিএনপি নেতারা মনে করছেন, এখনও তাদের সামনে সুযোগ আছে। অন্যদিকে ১৪ দল যেন নির্বাচনে না থাকে সেজন্য বড় ধরনের অফার দেওয়া হয়েছিল শরিকদেরকে। শরিকরাও অসন্তুষ্ট ছিলেন আসন ভাগাভাগি নিয়ে। কিন্তু শেষপর্যন্ত তারেকের কৌশল পরাজিত হয়েছে। তারেকের ওপর কেউ বিশ্বাস এবং আস্থা রাখতে পারেনি। আর এ কারণেই বিএনপির প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে নির্বাচন বর্জনের পথে হাঁটেনি দলগুলো। এটি বিএনপির রাজনীতির আরেকটি বড় পরাজয়। এর ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ বাধাটুকু কেটে গেল। এখন দেখার বিষয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সরকার করতে পারে কি না।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার : তিনজনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার (জিআর ওয়ারেন্ট) ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আজিজুল মোঃ সম্রাট (২০) চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি জিআর ওয়ারেন্ট থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার মোঃ আনিসুজ্জামান তুহিন (২২) চান্দিনা উপজেলার লেবাস এলাকার মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে। মোবাইল কোর্ট তাঁকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার গমরাহদহ এলাকার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে দিলীপ দাস (১৯) এবং রুহিয়া থানার কানীকশানগাঁও এলাকার সুশীল বর্মনের ছেলে অরূন কুমার বর্মন (১৯)-কে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়। মোবাইল কোর্ট তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত অরূন কুমার বর্মনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

আহসানুজ্জামান সোহেল : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ঘরের সিলিংয়ে পিস্তল-বুলেট, ৫ লাখ টাকায় আসামি ছাড়ার অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর বদরপুর গ্রামের একটি বসতঘরের সিলিং থেকে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুটি বুলেট উদ্ধারের দাবি উঠেছে। গত ২২ আগস্ট রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এএসআই জামালের নেতৃত্বে এ অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযানের সময় একই এলাকার শরীফ, আব্দুল খালেক, রহিমা, সোহেল রানা, বাবু ও তার মা এবং প্রতিবেশী আনিস উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় শরীফ ও বাবুকে সাক্ষী করে পুলিশ মামলা লিপিবদ্ধ করলেও পরবর্তীতে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে সাদেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত রহিমা বেগম জানান, ঘর থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধারের পর বাইরে এসে ছবি তোলার সময় উপস্থিত উৎসুক প্রতিবেশীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেককে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাদেকের ঘরের সিলিং থেকে অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদকের কাছেই তথ্যের উৎস জানতে চান।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে একটি দেশীয় পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

×