বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

চান্দিনায় সুদের টাকা না পেয়ে বৃদ্ধকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:১২ পিএম
চান্দিনায় সুদের টাকা না পেয়ে বৃদ্ধকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

Oplus_131072

google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার চান্দিনায় সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আলী আকবর নামের এক বৃদ্ধকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। সোমবার সকালে চান্দিনা উপজেলার রসুলপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে আটটা থেকে বেলা এগারোটা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তাঁকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। বিকেলে নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রসুলপুর গ্রামের আবুল কালাম ও তাঁর ছেলে বোরহান উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সুদের ব্যবসা করে আসছেন। দুই বছর আগে আলী আকবর তাঁর ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য বোরহানের কাছ থেকে সত্তর হাজার টাকা ঋণ নেন। বোরহান সুদসহ এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সোমবার সকালে আকবরকে ধরে নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

 

আলী আকবরের ছেলে ইব্রাহীম খলিল জানান, তাঁর বাবা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য কিছুদিন সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু বোরহান সেই সময় না দিয়ে তাঁর বাবার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। তিনি বলেন, “কার কাছে এই ঘটনার বিচার চাইব?”

 

নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাত দশটার দিকে চান্দিনা থানার পুলিশ রসুলপুর এলাকা থেকে বোরহানকে আটক করে। চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাবেদ উল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বোরহান একাই ওই বৃদ্ধকে নির্যাতন করেছেন। তবে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

চৌদ্দগ্রামে ২২টি পূজা মন্ডপে ১৩ হাজার ২শ’ কেজি চাল বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
চৌদ্দগ্রামে ২২টি পূজা মন্ডপে ১৩ হাজার ২শ’ কেজি চাল বিতরণ

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ২২টি পূজা মণ্ডপের অনুকূলে প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে মোট ১৩ হাজার ২শ কেজি চাল বিতরণ করা হয়েছে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এর অর্থায়নে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সকল পূজা মন্ডপের সভাপতিদের মাঝে অনুদানের এ চাল বিতরণ করা হয়।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহাদাৎ হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা সভাপতি জিএম তাহের পলাশী।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহায়তায় চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. লতিফুর রহমান, সহকারী প্রোগ্রামার তাহমিদ শাকিল, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু প্রমোদ রঞ্জন চক্রবর্তী, সেক্রেটারি মাস্টার অনীল চন্দ্র দেবনাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক বলরাম কর্মকার সহ উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপের নেতৃবৃন্দ।

সোনারগাঁয়ে ৯ বছরের শিশুকে যৌ*ন নির্যাতনের অভিযোগ, মাদ্রাসাশিক্ষক কা*রা*গা*রে

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২০ পিএম
সোনারগাঁয়ে ৯ বছরের শিশুকে যৌ*ন নির্যাতনের অভিযোগ, মাদ্রাসাশিক্ষক কা*রা*গা*রে

Oplus_131072

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মোশাহিদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মসলন্দপুর এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

গ্রেপ্তার মোশাহিদুল ইসলাম হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার বড়াইল গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। তিনি মসলন্দপুর দারুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে মাদ্রাসার ভেতরে ওই শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক মোশাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে রোববার বিকেলে শিশুটির মা বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়রা রোববার রাতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে সোনারগাঁ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, শিশুটির মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দেবীদ্বারে ১৫ বছর পর দিনমজুর হ*ত্যা মামলায় আরেক দিনমজুরের যা*ব*জ্জী*ব*ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম
দেবীদ্বারে ১৫ বছর পর দিনমজুর হ*ত্যা মামলায় আরেক দিনমজুরের যা*ব*জ্জী*ব*ন

কুমিল্লার দেবীদ্বারে দিনমজুর মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলায় আব্দুল মজিদ নামে অপর এক দিনমজুরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর দেড়টায় কুমিল্লার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাউদ হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে। নিহত মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের সেকান্দর বাদশার ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৮ নভেম্বর কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে কৃষিকাজের জন্য ১৫ থেকে ২০ দিনের চুক্তিতে মোশাররফ হোসেন ও আব্দুল মজিদকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন দেবীদ্বার উপজেলার নবীয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা কামাল।

এর তিন দিন পর, ২১ নভেম্বর সকালে মোশাররফ ও মজিদ দুটি কোদাল নিয়ে নবীয়াবাদ বিলের একটি টমেটোখেতে কাজ করতে যান। পরে মোস্তফা কামাল লোকমুখে জানতে পারেন, মোশাররফের মাথা ও মুখে গুরুতর রক্তাক্ত জখমসহ তাঁর মরদেহ পড়ে রয়েছে। ওই সময় ঘটনাস্থলে আব্দুল মজিদকে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আবু জাহের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল মজিদকে গ্রেপ্তার করেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মামলাটি কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ তৃতীয় আদালতে বিচারার্থে পাঠানো হয় এবং আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন। পরে আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা মুক্তি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগম (স্বপ্না)।

×