মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয় প্রয়োজন ঐক্য – আহমেদ আবু জাফর

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ পিএম
শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয় প্রয়োজন ঐক্য – আহমেদ আবু জাফর
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

“শুধুমাত্র কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ,ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বারে উপজেলা প্রশাসনের সভা কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি,বাংলাদেশ-এর উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব‍্যে- বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি,বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর ওই বক্তব‍্য দেন।

তিনি বলেন, “ শুধুমাত্র কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।” আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশ প্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার-এর সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ- এর কুমিল্লা জেলা শাখা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।

অন‍্যান্যদের মধ‍্যে বক্তব‍্য রাখেন, সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন, মোঃ আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়। দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার দেবীদ্বার প্রতিনিধি, এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার দেবীদ্বার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার দেবীদ্বার প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের দেবীদ্বার প্রতিনিধি একেএম মিজানুর রহমান কাউছার, ডাঃ প্রতিনিধি মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন, এডভোকেট আনিসুর রহমান।

এছাড়াও পোগ্রামের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী, গিতা পাঠ করেন ভজন সাহা। এসময় সম্মিলিত ভাবে জাতীয় সংগীত ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত প্রদর্শিত হয়।

সভায় দেবীদ্বার উপজেলা শাখা গঠন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ এবং সাংবাদিকদের ঐক্য ও অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভা শেষে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি আহমেদ হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবের নাম ঘোষণা করা হয়।

কুমিল্লায় চোলাই মদের রমরমা কারবার, ধ্বংস হচ্ছে দরিদ্র পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
কুমিল্লায় চোলাই মদের রমরমা কারবার, ধ্বংস হচ্ছে দরিদ্র পরিবার

শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলায় মদ তৈরির অভিযোগ, নেশার ছোবলে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি

অভাবের সংসার, দিনমজুরের সামান্য আয়, স্ত্রী-সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সংগ্রাম—তারপরও সেই আয়ের একটি অংশ চলে যাচ্ছে নেশার পেছনে। চোলাই মদ পান করে কেউ হারাচ্ছেন কর্মক্ষমতা, কেউ জড়িয়ে পড়ছেন পারিবারিক কলহে, আবার কারও মদ্যপ আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। এমন পরিস্থিতিতে কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা ও টিক্কাচর এলাকার হাড্ডিখোলায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ ঘিরে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় বাস্তবতায় দেখা যায়, মদ্যপ অবস্থায় কিছু ব্যক্তি স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং পারিবারিক অশান্তির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিশুদের ওপরও। যে পরিবারগুলো এমনিতেই আর্থিক সংকটে দিন কাটায়, তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয় নেশার এই অভ্যাস।

 

নিজেরা পান, আবার বিক্রিও করেন

 

স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলা এলাকায় চোলাই মদ তৈরির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ নিজেদের ব্যবহারের জন্য মদ তৈরি করলেও অন্য একটি অংশ তা বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারজাত করে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের কথা বলে তৈরি করা মদের পাশাপাশি বিক্রির জন্যও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মদ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব মদের উপাদান ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হচ্ছে বলেও স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়। তবে উৎপাদন ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণের মতো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।

 

অল্প টাকার নেশা, বড় ক্ষতি সংসারে

 

চোলাই মদের সহজলভ্যতা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। অল্প টাকায় মদ কিনে পান করার পর অনেকে কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ কাজে যেতে পারেন না, কেউ উপার্জিত অর্থ পরিবারের প্রয়োজনের বদলে নেশায় ব্যয় করেন। এর ফলে সংসারে অভাব বাড়ে, সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

একজন মানুষের নেশার কারণে যখন স্ত্রী-সন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তখন সেটি আর ব্যক্তিগত অভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়।

 

অপরিচ্ছন্ন মদে মৃত্যুঝুঁকি

 

চোলাই মদে বিষাক্ত মিথানল বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান থাকলে তা অন্ধত্ব, গুরুতর অঙ্গহানি এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি হওয়া মদ নিরাপদ—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। শুধু গন্ধ, স্বাদ বা রং দেখে মদের বিষাক্ততা নির্ধারণ করা যায় না।

স্থানীয়ভাবে চোলাই মদ পান করে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ। হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মদপানের পর অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন সময়ে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছেন; তাঁদের মধ্যে অসচ্ছল ব্যক্তিও রয়েছেন। তবে কতজন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জরুরি।

 

বন্ধ হবে কবে এই অবৈধ কারবার?

 

এলাকাবাসীর উদ্বেগ হলো, চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রি চলতে থাকলে একদিকে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে, অন্যদিকে পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলাও চলতে থাকবে। এ পরিস্থিতিতে শুধু মদ পানকারীকে দোষারোপ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; এর উৎপাদন ও বিক্রির উৎসও শনাক্ত করা প্রয়োজন।

শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কোথায় মদ তৈরি হচ্ছে, কীভাবে তা বিক্রি হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

পাশাপাশি মদে আসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পরামর্শ ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ নেশার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা যেমন জরুরি, তেমনি তাঁদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চোলাই মদের কারবার বন্ধ করা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়; এটি দরিদ্র মানুষের জীবন রক্ষা, পরিবারের শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেশার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচানোর লড়াই। এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, নিয়মিত নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা।

পরিত্যক্ত বস্তায় বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগজিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৩ পিএম
পরিত্যক্ত বস্তায় বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগজিন

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগজিন উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কটকবাজার এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিবিরবাজার বিওপির আওতাধীন শাহাপুর পোস্টের একটি টহল দল সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কটকবাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একটি পুরোনো প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্র ও ম্যাগজিনের বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে সেগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন, ২ হাজার ৫০০ মানুষের নিরাপত্তায় একজন পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ পিএম
কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন, ২ হাজার ৫০০ মানুষের নিরাপত্তায় একজন পুলিশ

এফএনএস নিজউ, হোম, জেলার সংবাদ, বাংলাদেশ, বিশেষ সংবাদ, অর্থনীতি, বিনোদন, খেলা, বিশ্ব, লাইফস্টাইল, প্রযুক্তি, সংগঠন, ধর্ম, সাহিত্য, মুক্তমত, সম্পাদকীয়, আর্কাইভ,

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জনপদ কুমিল্লায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ১০ মাসে জেলায় ১২০টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য সামনে আসায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সীমিত জনবল, অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত নজরদারির কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা চলছে।

গত কয়েক মাসে ছিনতাইয়ের ঘটনায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম এবং স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এসব ঘটনায় মহাসড়ক ও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মাসে কুমিল্লায় ১২০টি হত্যাকাণ্ড, ৪১৩টি চুরি, ৪০টি ডাকাতি, ১৫টি অপহরণ এবং ৩৮টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে ৪৯৭টি অপমৃত্যুর ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় ৬১টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব পরিসংখ্যান অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির আইন বিভাগের প্রধান ড. নায়ীম আলীমুল হায়দার বলেন, কুমিল্লার মতো জনবহুল ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের উচ্চহার উদ্বেগজনক। কিশোর গ্যাং, অস্ত্রের সহজলভ্যতা, মাদক ও সীমান্ত চোরাচালান, আইন প্রয়োগে দীর্ঘসূত্রতা এবং সামাজিক ও পারিবারিক নজরদারির অভাব অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, আইনের কঠোর ও দৃশ্যমান প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

বিভিন্ন ঘটনার প্রাথমিক তথ্যে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিনতাই, পারিবারিক ও জমিসংক্রান্ত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা এবং আধিপত্য বিস্তারের মতো বিষয় উঠে এসেছে। পাশাপাশি মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, চাঁদাবাজি ও চুরির অভিযোগও রয়েছে। নগর এলাকা থেকে মহাসড়ক পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অপরাধের আশঙ্কায় বিশেষ করে রাতে চলাচল নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, যাত্রী কিংবা চালকের ছদ্মবেশে ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন যানবাহনে অপরাধ সংঘটিত করছে।

 

আলোচনায় তিন হত্যাকাণ্ড

 

চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়িতে আইরিশ হিল হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

র‍্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে বাস থেকে নামার পর তিনি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়েন। যাত্রী ও চালকের ছদ্মবেশে থাকা চক্রের সদস্যরা তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দেওয়ায় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে সড়কে ফেলে দেওয়া হয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছিল।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ওই ঘটনায় মোবাইল ফোন ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আলোচনায় আসে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত করে।

সবশেষ গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লার লালমাইয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে প্রাণ হারায় কুমিল্লা ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায়ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককেন্দ্রিক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ছিনতাইকারী চক্রের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে।

পরপর এসব ঘটনায় মহাসড়ক ও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাসস্ট্যান্ড, অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থান এবং আবাসিক এলাকার আশপাশে নিয়মিত পুলিশি টহল প্রয়োজন। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা কিংবা অন্যান্য যানবাহনে চলাচলকারীরা ছিনতাইকারীদের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় রাতে চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা জরুরি কাজে বের হতেও অনেকে দ্বিধা করছেন।

 

জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশ কম

 

কুমিল্লা জেলায় প্রায় ৬৫ লাখ মানুষের বিপরীতে পুলিশ সদস্য রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন। সে হিসাবে প্রতি ২ হাজার ৬০০ মানুষের বিপরীতে গড়ে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তবে এ হিসাব সামগ্রিক জনসংখ্যার অনুপাতে করা; একজন পুলিশ সদস্যের এককভাবে এত মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি বোঝায় না। পুলিশের দায়িত্ব, কর্মবণ্টন ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজও বিবেচনায় নিতে হয়।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, জেলায় ১৮টি থানা রয়েছে। কুমিল্লা মহানগর এলাকায় একটি মেট্রোপলিটন থানা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৫০০ সদস্য নিয়ে এই থানা গঠন করা গেলে নগরীর অপরাধপ্রবণতা অনেক কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলী আহসান টিটু বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো। দ্বিতীয়ত, অপরাধ সংঘটিত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান ও আন্তরিক ভূমিকা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, কুমিল্লা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হওয়ায় এখানে অপরাধের ঝুঁকি রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে সামাজিক মূল্যবোধেরও সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। সমাজকে এ অবস্থা থেকে বের করে আনতে সময় লাগবে।

 

অপরাধ দমনে তৎপর পুলিশ, দাবি কর্মকর্তার

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) লুৎফুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সতর্ক ও সক্রিয় রয়েছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের আটক করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ১৫ দিনের অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সন্দেহে ২ হাজার ২৯২ জনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে জড়িত নন—এমন ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং অন্যদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে—এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, কুমিল্লা বড় ও সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে অপরাধের ঝুঁকি বেশি। কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত অভিযুক্তদের আটক এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

×