সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

যে পাঁচ কারণে বিএনপিতে আশার আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৩:২৯ পিএম
যে পাঁচ কারণে বিএনপিতে আশার আলো
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

 

বিএনপির আন্দোলনের গতি নাই, নেতারা মাঠে নেই, তৃণমূলে হতাশা। তারপরও তারা অবরোধ এবং নানা রকম কর্মসূচি দিয়েই যাচ্ছে। এই সমস্ত কর্মসূচি নিয়ে দলের মধ্যেই হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এই হতাশার মধ্যেও বিএনপির নেতাকর্মীরা আশায় বুক বেঁধে আছেন। তাদের ধারণা যে, এখনও সবকিছু শেষ হয়নি। এখনও অন্ধকার টানেলের শেষ প্রান্তে আলোর রেখা পাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, সামনে অনেকগুলো ঘটনা ঘটবে, যে ঘটনাগুলোর কারণে বিএনপির আন্দোলন চাঙ্গা হবে এবং এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, তাদের আন্দোলন এই নির্বাচন যেন গ্রহনযোগ্য না হয় এবং এই নির্বাচন যেন স্বীকৃতি না পায় সেই ব্যাপারে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করা। বিএনপির নেতারা মনে করেন, যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন উত্তাপহীন হয়, ভোটার উপস্থিতি কম হয় তাহলে তাদের বিজয় অর্জিত হবে। পাঁচটি কারণে বিএনপি নেতারা আশার আলো দেখছেন।

 

১. জাতীয় পার্টি সরে যাওয়া: জাতীয় পার্টি যদি নির্বাচন থেকে শেষ পর্যন্ত সরে যায় তাহলে এই নির্বাচন আর যাই হোক আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি ৪০ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতি হলেও সেই নির্বাচনের ব্যাপারে জনগণ আগ্রহ দেখাবে না। ফলে এরকম একটি নির্বাচনকে আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা দিতে পারবে না। ফলে বিএনপির একটি নৈতিক বিজয় হবে।

 

২. ভোটার উপস্থিতি: নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি যেমনটি আওয়ামী লীগ মনে করছে বা চেষ্টা করছে। ৪০ শতাংশ বা তার বেশি বিএনপি মনে করছে যে, নির্বাচনে এই ধরনের পরিস্থিতি হবে না। বরং ভোটার উপস্থিতি ১৫ থেকে ২০ শতাংশের বেশি হবে না। বিএনপির নেতারা বিশ্লেষণ করে বলছেন, আওয়ামী লীগের ভোটারদের অর্ধেক ভোট দেবে। নিরপেক্ষ ভোটারদের কেউ ভোট দেবে না। বিএনপিপন্থি লোকেরা কেউ ভোট দেবে না। ফলে মোট ভোটার উপস্থিতি ২০ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা না। নির্বাচনে যদি ৪০ শতাংশের কম ভোট হয় তাহলেও বিএনপি এক ধরনের নৈতিক বিজয় লাভ করবে বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন। এ জন্য তারা অপেক্ষায় আছেন।

 

৩. সারাদেশে আওয়ামী লীগের বিরোধ এবং সহিংসতা: নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সহিংসতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং এই সমস্ত সহিংসতা মেটাতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হিমসিম খাচ্ছে। আর নির্বাচনের প্রচারণার সময় এই সহিংসতা আরও বেড়ে যাবে বলে তারা ধারণা করছে। ফলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যে সহিংসতা এবং নাশকতা হবে তা দু দিক থেকে লাভ হবে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হবে না। দ্বিতীয়ত, জনগণও এই সমস্ত সহিংসতার কারণে ভোটকেন্দ্র বিমুখ হবে। এটি বিএনপির জন্য ইতিবাচক হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

 

৪. অখণ্ড বিএনপি: বিএনপির অনেক নেতা মনে করেন যে, সরকার বিএনপিকে ভাঙার জন্য বহু চেষ্টা করছে। শাহজাহান ওমর তার প্রমাণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনের কেনাবেচার হাঁটে বিএনপির খুব বেশি নেতাকর্মীকে তারা পথভ্রষ্ট করতে পারেনি। এটা তাদের নৈতিক বিজয়। বিএনপি যে এত ঝড়ঝাপটার মধ্যেও টিকে আছে সেটি নিয়ে বিএনপির মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।

 

. শরিক দলগুলোর অবস্থান: বিএনপি মনে করেছিল, অনেক শরিক দল হয়তো শেষপর্যন্ত নির্বাচনের পথে পা দেবে। এ নিয়ে বিএনপির মধ্যেও এক ধরনের শঙ্কা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান ছাড়া আর কেউই সে পথে যায়নি। আর এ কারণেই বিএনপি মনে করছে সামনের দিনগুলোতে নির্বাচনের পরও বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
চান্দিনায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার চার

কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এ অভিযানে চুরি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চান্দিনা থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় মো. নাঈম (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চান্দিনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাশ্বর এলাকার মোস্তফা ও জাহানারা বেগমের ছেলে। তিনি রহিম নেতার বাড়ির পাশে বসবাস করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে শান্ত চন্দ্র দাস (২০), মো. সাকিবুল হাসান (২০) ও মো. জুনাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। শান্ত চন্দ্র দাস চান্দিনা উপজেলার কংগাই মোহনপুর গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের ছেলে। মো. সাকিবুল হাসান একই এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। আর মো. জুনাঈদ উপজেলার কেশরা গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
চান্দিনায় বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. মনির হোসেন (৩১) নামে ওই শিক্ষককে স্থানীয়রা আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে রাখার পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি দোল্লাই নবাবপুর বাজারসংলগ্ন মারকাজুল নূরে মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস আগে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরকে মাদ্রাসাটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে সে মাদ্রাসাতেই থাকত। সেখানে অভিযুক্ত মনির হোসেন আরবি বিষয়ে পাঠদান করতেন।

পরিবারের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত অর্থাৎ ১২ আগস্ট রাতের খাবার শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মনির হোসেন ওই কিশোরকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শরীর ম্যাসেজ করাতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই কক্ষে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়।

ঘটনার পর আতঙ্কে কিশোরটি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। ১২ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে মাকে বিষয়টি জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেনি। পরদিন তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে মোবাইল ফোনে বাবাকে ঘটনার কথা জানায় সে। ১৭ আগস্ট রাতে ছেলের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন মা।

ভুক্তভোগীর মায়ের দাবি, ছেলের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ঘটনার পর টানা তিন দিন তার পায়ুপথ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর প্রবাসী বাবা অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে পরিবারটি স্থানীয়দের বিষয়টি জানালে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে।

সালিশ চলাকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে চান্দিনা থানার পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রাম্য সালিশে বসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ আমার পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে আমরা সালিশে বসি। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।”

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৭ বছরের শিশুর লাশ দাফন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম
ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৭ বছরের শিশুর লাশ দাফন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

Oplus_131072

কুমিল্লার হোমনায় আয়েশা আক্তার নামে সাত বছরের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং উদ্ধারের সময় পরনে কোনো কাপড় না থাকার বিষয়টি মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে এটি হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৭ আগস্ট) কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর গ্রামে। নিহত আয়েশা ওই গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. জাকির হোসেনের মেয়ে।

 

ঝোপের নিচে উলঙ্গ অবস্থায় উদ্ধার

 

স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে একটি দোকানের কাছে খেলাধুলা করছিল আয়েশা। দীর্ঘ সময়েও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচে পায়ের পাতা সমান পানির মধ্যে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্বজনদের দাবি, শিশুটিকে উলঙ্গ অবস্থায় গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির মায়ের দাবি, মেয়ের মুখের ভেতর, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন তারা। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, আয়েশার পরনে জিন্সের প্যান্ট ছিল; কিন্তু উদ্ধারের সময় তার পরনে কোনো কাপড় ছিল না। এই পার্থক্য নিয়েও এলাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

 

চিকিৎসক পুলিশকে জানালেও ময়নাতদন্ত হলো না কেন?

 

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আয়েশা খান জানান, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়ায় তিনি বিষয়টি হোমনা থানা পুলিশকে অবহিত করেন।

তবে এরপরও ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুটির লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়।

 

এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন—শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা চিকিৎসক পুলিশকে জানানোর পরও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হলো না কেন?

 

আরও প্রশ্ন উঠেছে, শিশুটিকে যেখানে পাওয়া গেছে, সেখানে তার পরনে পোশাক না থাকা এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়গুলো পুলিশ কীভাবে মূল্যায়ন করেছে। ঘটনাটি হত্যা না দুর্ঘটনা—তা নিশ্চিত হওয়ার আগেই লাশ দাফন করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কতটা সহজ হবে, সেটিও এখন আলোচনায়।

 

পরিবারের অভিযোগ নেই, তাই কি তদন্তের প্রয়োজন নেই?

 

নিহত শিশুর বাবা মো. জাকির হোসেন বলেন, দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচ থেকে তার মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কারা সেখানে মেয়েকে ফেলে রেখেছে, তা তিনি জানেন না। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তিনি কোনো অভিযোগ করেননি বলে জানান।

তবে শিশুটির কাকা দাবি করেন, আয়েশাকে উলঙ্গ ও গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার দাবি, শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে যথাযথ তদন্তের দাবি জানান।

 

পুলিশের বক্তব্য

 

এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, মৃত শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি সাত বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং অস্বাভাবিক অবস্থায় লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শুধু পরিবারের অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা উচিত ছিল কি না।

শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ময়নাতদন্ত না হওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

 

আয়েশার মৃত্যু হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

×